নিজেদের ঠিক করা শর্ত পূরণ হলেই ‘যুদ্ধের ইতি’ টানবে ইরান
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান বলেছে, নিজেদের ঠিক করা শর্ত পূরণ হলেই ‘যুদ্ধের ইতি’ টানবে।
মার্কিন প্রস্তাব সম্বন্ধে অবগত এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাষ্ট্র-মালিকানাধীন প্রেস টিভির সঙ্গে কথোপকথনে এ কথা বলেছেন।
তিনি ওয়াশিংটনের প্রস্তাবকে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ আখ্যা দিয়েছেন।
“ইরান তখনই যুদ্ধের ইতি টানবে যখন তারা চাইবে এবং যখন তাদের শর্তগুলো পূরণ হবে,” ওই ইরানি কর্মকর্তা এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা, এনডিটিভি।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মোকাবেলা এবং তেহরানের নিজেদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিনিদের ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ অব্যাহত রাখতে চায় ইরান, ভাষ্য ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তার।
গত এক বছরে দুইবার যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নামে ইরানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, উভয় ক্ষেত্রেই অর্থপূর্ণ কোনো সংলাপে জড়ানোর কোনো ধরনের আগ্রহ ওয়াশিংটনের ছিল না। দুইবারই আলোচনা চলাকালে ইরানের ওপর হামলা হয়; সেসব উদাহরণ টেনে সাম্প্রতিক প্রস্তাবের ব্যাপারে তেহরান নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
এদিকে বুধবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, তারা উপসাগরে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতটি বন্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
তার এ মন্তব্যে মনে হচ্ছে, ইরানের দেওয়া শর্ত মেনে নিলে আলোচনার টেবিলে বসতে তেহরানের দিক থেকে খানিকটা আগ্রহ এখনও অবশিষ্ট আছে, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এ খবর চাউর হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট তেহরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তারা যদি ‘পরাজয়’ না মেনে নেয় তাহলে ‘আরও কঠোর’ হামলা হবে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ বন্ধে তাদের পাল্টা ৫ শর্তও হাজির করেছে।
এগুলো হল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞ’ পুরোপুরি বন্ধ হওয়া, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেন কোনো সামরিক পদক্ষেপ না হয়, তা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির সুস্পষ্ট ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা দেওয়া, অঞ্চলজুড়ে সব ফ্রন্ট ও সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
যুদ্ধ বন্ধ চাইলে এগুলোর পাশাপাশি জেনিভা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তেহরান যেসব শর্ত দিয়েছে সেগুলোও মানতে হবে, বলেছে ইরান।
ওই আলোচনার কয়েকদিনের মাথায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায় এবং তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যা করে বসে।
ইরানের প্রতিক্রিয়ার আগে পাকিস্তানের দুই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার প্রস্তাবে থাকা বিভিন্ন শর্ত, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিলুপ্তি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা আছে বলে জানান।
ইরান সংলগ্ন এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়।
মধ্যস্থতার কাজে নিয়োজিত মিশরের এক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সহায়তা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা আছে।
যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে তেহরানের দেওয়া বিধিনিষেধ বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং শিগগিরই এই অবস্থার পরিবর্তন না ঘটলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের এমন কৌশলগত পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক চাপে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে তারা এখন হরমুজ প্রণালি সংশ্লিষ্ট ইরানি উপকূল এবং ইরানের রপ্তানি হাব খার্ক দখলে স্থল সেনা পাঠানোর কথা ভাবছে বলে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধ এরই মধ্যে ইরানে দেড় হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েল এখন পর্যন্ত লেবাননে দুই সেনাসহ তাদের ২০ নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এর বাইরে ১৩ মার্কিন সেনা এবং ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীর ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে আরও কয়েক ডজন সামরিক-বেসামরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।