ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ বসছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বিশ্বের কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সম্মেলন ঘিরে ভূরাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নজর কাড়ছে দুই নেতার সরকারি গাড়ি। বাইরে থেকে দেখতে দুটিই রাজকীয় লিমোজিন।
তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এগুলো যেন চলন্ত দুর্গ। পুতিনের জন্য রয়েছে রাশিয়ায় তৈরি ‘অরুস সেনাত’, আর শি জিন পিংয়ের জন্য আনা হয়েছে চীনের ‘হংছি এন৭০১’। দুটি গাড়িই শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে তৈরি।
পুতিনের ‘অরুস সেনাত’
পুতিনের অরুস সেনাত বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় ও সুরক্ষিত সরকারি গাড়িগুলোর একটি। এটি শুধু একটি বিলাসবহুল লিমোজিন নয়; গুলির আঘাত ও বিস্ফোরণ থেকে প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য গাড়িটিকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বিদেশ সফরে গেলে তার নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে অরুস সেনাতও নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিকস সম্মেলনের জন্যও গাড়িটি মস্কো থেকে বিশেষ বিমানে করে দিল্লিতে আনা হয়েছে।
অরুস সেনাত তৈরি করেছে রাশিয়ার অরুস মোটরস। গাড়িটির উন্নয়নের সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনএএমআই, সোলার্স জেএসসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তাওয়াজুন হোল্ডিং যুক্ত ছিল। ২০১৮ সালে এটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। গাড়িটির নকশায় সাবেক সোভিয়েত আমলের জেডআইএস–১১০ লিমোজিনের ছাপ রয়েছে।
গুলি ও বিস্ফোরণ ঠেকানোর ব্যবস্থা
পুতিনের ব্যবহৃত অরুস সেনাতের প্রকৃত নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। তবে গাড়িটিতে ভারী বর্ম, গুলিরোধী কাচ এবং বিস্ফোরণ প্রতিরোধী কাঠামো রয়েছে বলে জানা যায়।
গাড়িটির বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা শুধু গুলির আঘাত ঠেকানোর জন্য নয়, বিস্ফোরণের অভিঘাত থেকেও ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের রক্ষা করার জন্য তৈরি। এ ছাড়া গাড়িটিতে রয়েছে উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি। এর মধ্যে সক্রিয় ক্রুজ নিয়ন্ত্রণ, লেন থেকে গাড়ি সরে গেলে সতর্কবার্তা, ট্র্যাকশন নিয়ন্ত্রণ ও উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা রয়েছে।
সাধারণ ক্রেতার জন্যও অরুস
অরুস সেনাতের একটি বেসামরিক সংস্করণও রয়েছে। তবে সেটির উৎপাদন সীমিত। বছরে প্রায় ১২০টি গাড়ি তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি সংস্করণের তুলনায় সাধারণ সংস্করণে নিরাপত্তাব্যবস্থা কম হলেও বিলাসিতা ও প্রযুক্তির দিক থেকে এটি রাশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গাড়িগুলোর একটি।
শি জিন পিংয়ের ‘হংছি এন৭০১’
পুতিনের অরুসের মতোই সি চিন পিংয়ের হংছি এন৭০১-ও চীনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতীক।
চীনা ভাষায় ‘হংছি’ শব্দের অর্থ ‘লাল পতাকা’। গাড়িটি তৈরি করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এফএডব্লিউ গ্রুপ। ১৯৫৮ সাল থেকে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য হংছি ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরি হয়ে আসছে।
হংছি এন৭০১ প্রায় ৫ দশমিক ৫ মিটার বা ১৮ ফুট দীর্ঘ। এর প্রকৃত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বেশির ভাগই গোপন রাখা হয়েছে।
হংছিতেও ভারী বর্ম
হংছি এন৭০১-এর বহিরাবরণে ভারী বর্ম এবং গুলিরোধী কাচ ব্যবহারের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গাড়িটির বিশেষ চাকা ও টায়ারও হামলার পর চলতে সক্ষম করার জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
গাড়িটির কেবিনে বাইরের রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থের আক্রমণ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য চীনা কর্তৃপক্ষ বা নির্মাতা প্রকাশ করেনি।
চীনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক দশকে এ মডেলের মাত্র প্রায় ৫০টি গাড়ি তৈরি করা হতে পারে। অর্থাৎ এটি সাধারণ বাজারের গাড়ি নয়; মূলত রাষ্ট্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যবহারের জন্যই তৈরি।
বিদেশ সফরে নিজের গাড়ি
আগে বিদেশ সফরে চীনের শীর্ষ নেতারা অনেক সময় আয়োজক দেশের সরবরাহ করা গাড়ি ব্যবহার করতেন। শি জিন পিং সেই রীতিতে পরিবর্তন এনেছেন। এখন তিনি বিদেশ সফরে গেলে নিজের সাঁজোয়া গাড়ি বিমানে করে সঙ্গে নিয়ে যান।
রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সফরেও তার সরকারি গাড়ি সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনেও হংছি এন৭০১ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
দুই গাড়ি, দুই দেশের বার্তা
পুতিনের অরুস সেনাত ও সি চিন পিংয়ের হংছি এন৭০১-দুটি গাড়ির মধ্যেই একটি মিল স্পষ্ট। দুটিই শুধু রাষ্ট্রপ্রধানের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং নিজেদের দেশের প্রযুক্তি, শিল্প সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রদর্শনী।
রাশিয়ার অরুস যেমন পশ্চিমা বিলাসবহুল গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রীয় গাড়ি তৈরির সক্ষমতার প্রতীক, তেমনি হংছি এন৭০১ চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রতিচ্ছবি।
ব্রিকস সম্মেলনে একই শহরে যখন পুতিনের অরুস ও সি চিনের হংছি পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, তখন দুটি গাড়িই যেন দুই পরাশক্তির নীরব কূটনৈতিক বার্তা-নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতায় তারা নিজেদের শক্তি দেখাতে প্রস্তুত।
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।