ইমরান খান
এক মাস পর, নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আদিয়ালা কারাগারে তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার পর উজমা খান জানিয়েছেন, ইমরান খানের "স্বাস্থ্য ভালো আছে, আল্লাহকে ধন্যবাদ, কিন্তু তিনি খুব রেগে ছিলেন এবং বলছিলেন যে তাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।"
উজমা খানের মতে, ইমরান খানের সাথে তার সাক্ষাৎ ২০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। তার ভাই তাকে আরও বলেছিলেন যে তাকে 'সারা দিন ঘরে আটকে রাখা হয়, কেবল অল্প সময়ের জন্য ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়েছিল।' মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা কারাগারের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই এর বিক্ষোভের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন উজমা খানকে তার ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। সকালে, ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খানম, নওরীন নিয়াজি এবং উজমা খান যখন আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের জন্য পৌঁছান, তখন সেখানে মোতায়েন পুলিশ অফিসাররা তাদেরকে বাধা দেন।
তবে কিছুক্ষণ পরে, কারা কর্তৃপক্ষ একজন অফিসারকে ইমরান খানের বোনদের কাছে পাঠায় এবং বার্তা দেওয়া হয় যে সাক্ষাতের জন্য উজমা খানের নামে অনুমতি রয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার আগে দাবি করেছিল যে প্রায় এক মাস ধরে তাদেরকে ইমরান খানের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, 'সরকারি কর্মকর্তারা চান না ইমরান খানের বার্তা কারাগারের বাইরে আসুক।' সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের বোন নওরীন খান অভিযোগ করেন যে, "তারা (সরকারি কর্মকর্তারা) একমাত্র যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত তা হলো ইমরান খানের কথা বাইরে আসছে, যে কারণে তারা বৈঠক পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।"
ইমরান খানের বোনেরা জানিয়েছেন, আগে আদালতের আদেশ অনুসারে প্রতি মঙ্গলবার তাদের ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি ছিল, কিন্তু ইমরান খানের সাথে তাদের শেষ দেখা হয়েছিল গত চৌঠা নভেম্বর। মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা কারাগারের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দেন পিটিআই-এর সকল সংসদ সদস্য। যে কর্মসূচি ঘিরে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খান জানান, গত চৌঠা নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ নওরীন খানকে ইমরান খানের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে এবং "তারপর, তারা তাকে কারও সাথে দেখা করতে দেয়নি।" ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা খানও সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, ইমরান খান তার ছেলেদের সঙ্গে, "ফোনেও কথা বলতে পারছেন না।" এমনকি তার ছেলেরা "চিঠিও পাঠাতে পারে না," বলে দাবি করেন তিনি।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন নওরিন খান আরও অভিযোগ করেন, "পাকিস্তানি সরকার ইমরান খানকে নয়ই মে যে ঘটনা ঘটেছিল তার দায় স্বীকার করতে বাধ্য করতে চায়।" "তারা চায় ইমরান খান যেন ওই ঘটনার জন্য, ভাঙচুর চালানোর জন্য এবং নিজের লোকদের গুলি করার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চায়। হয়তো তারা এটাই চায়।"
নওরিন খানের মতে, "ইমরান খান কর্তৃপক্ষকে একটাই উত্তর দিয়েছিলেন যে, তোমাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা উচিত, সেনানিবাসের ভেতরে চেকপোস্ট আছে, সেনাবাহিনীর নজরে না পড়ে বা ক্যামেরায় বন্দি না হয়ে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারবে না।" গত বছর নয়ই মে-র ঘটনার আগে, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীকে এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই-এর সাথে সম্ভাব্য আলোচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "কেউই এমন একটি বিশৃঙ্খল গোষ্ঠীর সাথে কথা বলবে না যারা তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করেছে। এই ধরনের বিশৃঙ্খল গোষ্ঠীর জন্য একমাত্র উপায় হল দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ঘৃণার রাজনীতি ত্যাগ করে গঠনমূলক রাজনীতি শুরু করা।"
সরকার কী বলছে? ইমরান খানকে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি কেবল একটি অভিযোগই নয়, সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ বা বার্তা এই অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেই মনে হচ্ছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভির একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেন, "এমন কোনও আইন নেই যা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে কারাগারে থাকাকালীন সরকার বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেয়।"
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিরুদ্ধে কেবল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই প্রতিবাদ করছে তা নয় বরং মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমবার, পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, "ইমরান খানকে তার নিকটাত্মীয়, সহযোগী বা আইনি দলের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি সরকারের স্পষ্ট করা উচিত। কারণ, পরিবার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ একটি মৌলিক সুরক্ষা।"
অবশ্য গত বেশ কয়েকদিন ধরে, ইমরান খানের অসুস্থতা এবং কারাগারে মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে গুজব ছড়িয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
কেমন আছেন: ইমরান খানকে নিয়ে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে তার বোন নওরীন খান বলেন, "আমি জানি না এই খবর কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল।" তিনি অভিযোগ করেন যে, "ইমরান খানকে জেলে নির্যাতন করা হচ্ছে, তাকে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে এবং এই সবই কারাগারের নিয়ম লঙ্ঘন।" ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খানও বলতে পারছেন না যে এই গুজব কোথা থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আলিমা খান বলেন, "এই গুজবগুলো কোথা থেকে এলো, জেলের ভেতর থেকে কীভাবে এলো? গুজব ছড়ানো ব্যক্তিরা অবশ্যই জেলের কর্মী অথবা প্রতিষ্ঠান।" তিনি দাবি করেন যে "কেউ কেউ আমাদেরকে বলেছে যে তারা মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য পরীক্ষা করছে। আমাদের কোন ধারণা নেই।" তবে, চৌঠা নভেম্বর ইমরান খানের সাথে দেখা করা তার বোন নওরীন খান বলেছিলেন যে তার ভাই "সুস্থ আছেন, নিজের খাবার খাচ্ছেন, ব্যায়াম করছেন এবং নিজেকে সুস্থ হিসেবেই সবার সামনে উপস্থাপন করছেন।" "সেখানে (কারাগারে) খাবার ইমরান খানের নির্দেশ অনুসারেই রান্না করা হয় এবং এটি তার টাকা দিয়েই করা হয়।"
কেন পরিবারের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না: পরিবারের সাথে ইমরান খানকে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, ইমরান খান কারাগারে বসেই অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সামা টিভির একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্বীকার করেছেন যে, "আইন একজন বন্দিকে তার পরিবার এবং আইনজীবীদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়। কিন্তু এমন কোনও আইন নেই যা একজন দণ্ডিত বন্দিকে কারাগারে বসেই সরকার বা জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অনুমতি দেয়।" "এমন কোনও আইন নেই যা একজন বন্দিকে সরকারের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য, রাষ্ট্রদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, আন্দোলন বা অগ্নিসংযোগ করার এবং দর্শনার্থীদের মাধ্যমে এই সমস্ত কিছু চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়," বলেন তিনি।
তবে ইমরান খানের সঙ্গে বাইরের কারো সাক্ষাতের ওপর কে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এ বিষয়ে জানেন না বলেই দাবি করেছেন রানা সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, "এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই জেল কর্তৃপক্ষ আরোপ করেছে।" পাঞ্জাব সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এটা সম্পর্কে অবগত নই।" ইমরান খানের বোন নওরীন খান অবশ্য বলছেন, কারাগারে দেখা করতে গেলে, তিনি এবং ইমরান শুধুমাত্র "কী ঘটছে, কী হবে" এসব বিষয় নিয়ে 'সাধারণ আলোচনা' করেন। তিনি দাবি করেন, ইমরান খানের "টিভি বন্ধ, সংবাদপত্র বন্ধ। কারাগারের নিয়ম অনুসারে, আপনি কোনও বন্দিকে চার দিনের বেশি নির্জন কারাগারে রাখতে পারবেন না।" তিনি আরও বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোনও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা চাইছেন না, বরং "তিনি কেবল বই এবং তার সন্তানদের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করছেন।"
দেশটির আইনে কী বলা আছে: বন্দি অধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন- কারা আইন অনুসারে, বন্দিদেরকে তাদের পরিবার এবং আইনজীবীদের সাথে দেখা করার অনুমতি দিতে হবে। সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রিজনার্স এইড এর প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মুদাসসার জাভেদ বিবিসি উর্দুকে বলেন, "কারাগারের ম্যানুয়াল অনুসারে, রাজনৈতিক বন্দি কিংবা সাধারণ বন্দি, তাদেরকে প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া উচিৎ।" পরিবারের সদস্যদের বন্দির সাথে দেখা করার অধিকার আছে এবং বন্দি তার আইনজীবী কিংবা আইনি পরামর্শকের সাথে দেখা করতে পারেন।"
মুহাম্মদ মুদাসসির জাভেদ বলেন, "কারও অধিকার নেই বন্দিদের সাথে দেখা বন্ধ করার।" তিনি বলেন, "নিরাপত্তার কারণে জেল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে প্রতিদিন বন্দিদের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাও তার দায়িত্ব।" ইমরান খানের বোনেরা বলছেন যে, তাদের ভাইকে পরিবারের সাথে দেখা করতে না দিয়ে 'হয়রানি' করা হচ্ছে। নওরীন খান সতর্ক করে বলেন, "যদি তারা ইমরান খানের সাথে কিছু করে, তাহলে মনে রাখবেন যে তারা পাকিস্তানে বা বিশ্বের অন্য কোনও প্রান্তে থাকতে পারবেন না।"
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম।
উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।
সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।
মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।
মোহাম্মদ সাদিক
আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।
মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।
উৎসবের' আবহ
মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।
পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।
৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।
তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"
'নামটাও মনে থাকে না'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।
মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"
মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।
এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।
স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।
আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।
যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।
সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।
জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।
কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।
"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"