ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা
জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি ভেবেছিলেন, এ ঘোষণা শুনে বড়জোর কেউ কেউ ভ্রু কুঁচকাবেন। তবে এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়া যে এতটা তীব্র হবে এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে এত বিভক্ত মতামত তৈরি হবে, তা ৩৫ বছর বয়সী কাওয়াতা কল্পনাও করেননি। এই মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটিকে ঘিরে এখন জাপানে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্তান জন্মদানের জন্য ছুটি নেওয়া উচিত কি না। এমন এক সময়ে এই বিতর্ক দেখা দিল, যখন দেশটি জন্মহার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।
বিবিসিকে কাওয়াতা বলেন, ‘আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। কারণ, বিষয়টি নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া এত বড় আকার ধারণ করবে, তা আমি ভাবতেই পারিনি।’
স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্তান জন্মদানের সময় ছুটি নেওয়ার জন্য বর্তমানে জাপানে কোনো আইনি কাঠামো নেই। তাই শোকো কাওয়াতা আনুষ্ঠানিকভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যেতে পারছেন না। এর পরিবর্তে, তিনি সাময়িকভাবে নিজের দায়িত্বগুলো সামলাতে উপ–মেয়র শিগেতো নোসেকে বলেছেন।
গত মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে কাওয়াতা তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা আছে। ওই তারিখের আগে দুই মাস এবং পরে আরও দুই মাস তিনি দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। এর মাধ্যমে জাপানের ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র হিসেবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার নজির গড়তে যাচ্ছেন তিনি।
কাওয়াতা বলেছেন, তাঁর কর্মস্থলের সবাই তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত হাজারো পোস্ট এবং ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিওতে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মতামত ও বিতর্ক দেখা গেছে।
অনেকেই কাওয়াতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, সন্তান জন্ম দেওয়া ও লালন-পালন সহজ নয়, আর কাওয়াতা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, জাপানের সমাজ এখনো এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি, যেখানে গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
আরেকজনের মতে, পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাওয়াতা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতে ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত হবেন।
তবে সমালোচকদের মত ভিন্ন। তাঁদের দাবি, জনসেবার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোটা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণ। কেউ কেউ বলেছেন, কাওয়াতা যদি সন্তান নিতে চাইতেন, তাহলে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তা করা উচিত ছিল। আবার কেউ বলেছেন, উচ্চপদস্থ কোনো জনপ্রতিনিধি যদি দীর্ঘ সময়ের ছুটি নিতে চান, তাহলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। অনেকে আবার মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় তাঁর বেতন কমিয়ে দেওয়ারও দাবি তুলেছেন।
তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি কাওয়াতা। এই মেয়র গর্বের সঙ্গে বলেছেন, তিনি তাঁর কাজ ভালোবাসেন। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, এখনই সন্তান নেওয়া এবং পরিবার গড়ে তোলার জন্য তাঁর জীবনের উপযুক্ত সময়।
কাওয়াতা বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার কারণে রাজনীতিকদের সমালোচনা করার অর্থ হলো কার্যত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী, অর্থাৎ সন্তান ধারণে সক্ষমতা থাকা সব নারীকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া।’
হিরোশিমার আকিতাকাতা শহরের সাবেক মেয়র শিনজি ইশিমারুর মতে, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় কীভাবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হবে, তার কার্যকর ব্যবস্থা করাটাই আসল বিষয়।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইশিমারু বলেন, অধিকাংশ মানুষই মাতৃত্বকালীন ছুটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তবে তিনি চান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন একটি গঠনমূলক আলোচনা শুরু হোক, যেন পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না করেই সমস্যাটির কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা যায়।
শোকো কাওয়াতা ৩৩ বছর বয়সে জাপানের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নারী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর স্থানীয় সরকার ও রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
সরকারিভাবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাওয়াতা অবসরে চা–চক্রে অংশ নিতে, কিমোনো পোশাক পরতে এবং বিভিন্ন শিন্তো মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করতে পছন্দ করেন। জাপানে পুরুষ আধিপত্যপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বাধা পেরিয়ে তিনি ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে ১ হাজার ৭২০টি পৌরসভার প্রধানের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ ছিলেন নারী।
দেশটি ইতিমধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। তবে রাজনীতিতে আরও বেশি নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগে জাপান সরকার নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ে।
অনেকের মতে, পুরুষপ্রধান মন্ত্রিসভা এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এ সমস্যার অন্যতম কারণ। এই এলডিপি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ সময় জাপানের শাসনক্ষমতায় আছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাপানের মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথে কয়েকটি বড় প্রতিবন্ধকতা আছে। এর মধ্যে আছে গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের বিষয়, রাজনীতি পুরুষদের কাজ—এমন প্রচলিত ধারণা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি।
জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হলেও লিঙ্গসমতার সূচকে দেশটির অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই নিচের দিকে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৪৬টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ছিল ১১৮তম। লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে এটি জি–৭–ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ।
জাপানে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা আছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নারীরা সন্তান জন্মের নির্ধারিত সময়ের আগে ছয় সপ্তাহ এবং সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহ ছুটি নিতে পারেন। অন্যদিকে বাবারা সন্তানের জন্মের পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চার সপ্তাহের সবেতন ছুটি পাওয়ার অধিকার রাখেন।
সন্তানের বয়স এক বছর হওয়া পর্যন্ত মা–বাবা দুজনই শিশুর দেখাশোনার জন্য ছুটি নেওয়ার অধিকার রাখেন। এ সময় যোগ্য কর্মীরা প্রথম ১৮০ দিন তাঁদের বেতনের ৬৭ শতাংশ এবং এরপর ৫০ শতাংশ হারে ভাতা পান। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মা–বাবা দুজনই যদি ছুটি নেন, তাহলে প্রথম ২৮ দিনের জন্য কিছু পরিবার আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।
উপ–মেয়র শিগেতো নোসে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কোনো নারী মেয়র দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দিলে বাস্তবে সেই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা অনেকেই এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন।’
কাওয়াতার অনুপস্থিতিতে ৬২ বছর বয়সী নোসে মেয়রের সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তিনি সপ্তাহে একবার দূর থেকে কাওয়াতার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
দুই সন্তানের বাবা নোসে বলেন, তিনি নিজে কখনোই পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি। সন্তানদের দেখাশোনার প্রায় পুরো দায়িত্বই তাঁর স্ত্রী পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে আমি খুব ক্লান্ত থাকতাম। রাতে বাচ্চা কাঁদলেও আমি সেটি আমার স্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দিতাম। এখন পেছন ফিরে তাকালে সত্যিই মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে আমার আত্মসমালোচনা করা উচিত।’
তবে সময় বদলেছে বলে মনে করেন নোসে। তাঁর জামাতা বর্তমানে ছয় মাসের ছুটি নিয়ে তাঁর মেয়েকে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের দেখাশোনায় সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটা দেখে আমি খুব আনন্দ পাই। সময় সত্যিই বদলেছে। তাদের এভাবে একসঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে দেখে খুব ভালো লাগে।’
কাওয়াতার মতে, তাঁকে ঘিরে সমালোচনার একটি বড় কারণ হলো সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা। সেটা হলো, জনপ্রতিনিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন ছেড়ে পুরোপুরি জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে।
গর্ভধারণকে ঘিরে এত আলোচনা-সমালোচনা সম্পর্কে তাঁর অনাগত সন্তান ভবিষ্যতে কী ভাববে—এমন প্রশ্নের জবাবে কাওয়াতা বলেন, ‘আমার ধারণা, সে বিস্মিত হবে।’
এই নারী মেয়র আরও বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারীরা একই সঙ্গে কাজ ও পরিবার—দুটিই স্বাভাবিকভাবে সামলাতে পারবেন। তাঁদের যেন আর চাকরি ও পরিবার—এ দুটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।’
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম।
উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।
সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।
মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।
মোহাম্মদ সাদিক
আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।
মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।
উৎসবের' আবহ
মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।
পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।
৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।
তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"
'নামটাও মনে থাকে না'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।
মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"
মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।
এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।
স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।
আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।
যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।
সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।
জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।
কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।
"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"