ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার কথাও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে হামলার সাফল্য নিয়ে হুথিদের দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য এখানে নেই।
এদিকে, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানান।
অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক হামলাগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কেন দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগেভাগে হামলার সতর্কবার্তা দিতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সৌদি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং এর জেরে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
কারা এই হুথি?
হুথিরা ইয়েমেনের একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলেছে গোষ্ঠীটি।
১৯৯০-এর দশকে উত্তর ইয়েমেনে জায়েদি শিয়া সম্প্রদায়ের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে হুথিদের উত্থান ঘটে। একসময় এই সম্প্রদায় ইয়েমেন শাসন করলেও পরবর্তী সময়ে তাদের ঐতিহাসিক আবাসভূমি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে যায়।
প্রথম দিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে একাধিক গেরিলা যুদ্ধে জড়ায় হুথিরা। প্রতিবেশী সুন্নি-অধ্যুষিত সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের সীমান্ত সংঘর্ষ হয়।
২০১১ সালে আব বসন্তের গণবিক্ষোভের মধ্যে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর উত্তর ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে হুথিরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়াও তারা প্রত্যাখ্যান করে। এ সময় ইরানের সমর্থন নিয়ে গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি তাদের যোদ্ধাদের একটি বড় সশস্ত্র বাহিনীতে রূপান্তর করেন।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয়।
হুথিদের নিজেদের সংগঠনের নাম ‘আনসার আল্লাহ’, যার অর্থ ‘আল্লাহর সাহায্যকারী’। তবে প্রতিষ্ঠাতা নেতা হুসেইন বদরুদ্দিন আল-হুথির নাম থেকেই গোষ্ঠীটি ‘হুথি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়।
সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত কেন?
ইয়েমেনে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল সৌদি আরব। এ কারণে ২০১৫ সালের শুরুতে হুথিদের হটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার পুনর্বহাল এবং রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে।
কিন্তু সেই অভিযান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জোটের সদস্যদেশগুলোর বিমান হামলা এবং বিভিন্ন পক্ষের সংঘর্ষে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।
ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে কোনো পক্ষই চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। হুথিরা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, যেখানে দেশটির অধিকাংশ মানুষ বসবাস করেন।
এ সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ায় গোষ্ঠীটি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তারা।
দীর্ঘ সংঘাতের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে ইয়েমেনের যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে।
লোহিত সাগরে হামলা, বিশ্ববাণিজ্যে চাপ
২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরাইলের গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়ে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করে হুথিরা। একই সঙ্গে ইসরাইল লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তারা।
পরবর্তী সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে হুথিদের হামলা আবারও বাড়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের বন্দর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়।
এতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ এবং মোখা বন্দর শহর দখল করে। বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং ইরানকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই তারা এ পদক্ষেপ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের আশপাশের নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহণকারী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে পরিবহণ ব্যয় ও সময় বাড়ে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সৌদি আরবের গুরুত্ব
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। দেশটির জ্বালানি খাত অর্থনীতির প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ সৌদি আরব থেকে আসে। দেশটির কাছে বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুতের আনুমানিক ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ রয়েছে। সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় অর্ধেক এবং রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে।
ফলে দেশটির তেল স্থাপনা, বন্দর ও পরিবহনব্যবস্থায় বড় ধরনের হামলা হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি অর্থনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
কতটা শক্তিশালী হুথিরা?
ইয়েমেনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে হুথিরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন।
২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে হুথিদের সশস্ত্র সদস্যসংখ্যা এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ বলে অনুমান করা হয়েছিল। তাদের অস্ত্রভান্ডারে ট্যাংক, সাঁজোয়া ও অন্যান্য সামরিক যান, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইয়েমেনের বাইরেও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম। ইসরাইলে পর্যন্ত হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে গোষ্ঠীটি। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনাও তাদের সামরিক সক্ষমতার পরিচয় দেয়।
এ ছাড়া ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থান হুথিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ রয়েছে তাদের।
ইরানের সঙ্গে হুথিদের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ?
ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত আঞ্চলিক বলয়ের অংশ হিসেবে হুথিদের সমর্থন করে। এই বলয়ের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী।
তবে হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ধরন হিজবুল্লাহ বা ইরাকের ওই গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্কের মতো পুরোপুরি এক নয়। হুথিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিজেদের চূড়ান্ত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকার করে না। তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে এবং এ কাজে হিজবুল্লাহও ভূমিকা রাখে। তবে হুথিরা নিজেদের ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করার বিরোধিতা করে। তাদের দাবি, তারা নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করে।
হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো কঠিন কেন?
হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও বিস্তীর্ণ মরুভূমি তাদের লুকিয়ে থাকা এবং অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়।
দ্বিতীয়ত, তাদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে তারা। হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হলেও তাদের সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি।
তৃতীয়ত, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে হুথিরা বিভিন্ন গতি ও ধরনের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে। এতে হামলা শনাক্ত করা এবং সব অস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাদের উন্নত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’, যা দুই ধাপের কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং এতে হাইপারসনিক সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া ‘তুফান’ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ইরানের ‘ঘাদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তিত নাম বলে ধারণা করা হয়।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনের বরাতে আরও বলা হয়েছে, হুথিদের হাতে ‘বুরকান’ ও ‘বদর’ সিরিজের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যেগুলোর উৎস ইরান বলে মনে করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম।
উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।
সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।
মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।
মোহাম্মদ সাদিক
আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।
মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।
উৎসবের' আবহ
মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।
পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।
৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।
তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"
'নামটাও মনে থাকে না'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।
মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"
মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।
এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।
স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।
আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।
যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।
সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।
জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।
কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।
"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"