হরমুজ প্রণালি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় বার্তার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা দিয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের এক ফাঁকে বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন তাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে সাত দিনের এই সময়সীমা গণনা শুরু হতে পারে। তবে শর্ত হল, ওয়াশিংটনকে তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং আরও কিছু নির্দিষ্ট দাবি পূরণ করতে হবে।
ইরানের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। মাঝে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা হলেও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় আবার তা বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে উচ্চ যুদ্ধঝুঁকির বীমা খরচ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রণালিটি বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ আছে। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নতুন করে ইরানের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার খবরে আবার এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের মাঝের এই জলপথ আবার উন্মুক্ত করতে বৃহস্পতিবার তেহরানের সাতদিনের পরিকল্পনায় কি আছে তা বিস্তারিত ব্যাখা করেছে আল জাজিরা।
গতকাল শুক্রবার আল জাজিরা এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, নিউ ইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই পরোক্ষ যোগাযোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিন্তু যুদ্ধ সাত মাসে পা দিলেও তা বন্ধে দুই দেশের মধ্যে কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা আল জাজিরাকে বলেছেন, অবিলম্বে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইরান এখনও গত জুনে হওয়া একটি চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী এগোতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরনো ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় ইরান এবং ওমানকে প্রধান ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
যদিও দুই দেশের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ খুলতে ওই সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যায়। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ আছে দাবি করা যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করাকে যে কোনো আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বানাতে চায়।
যদিও ইরান আগেই স্পষ্ট করেছিল, হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং মার্কিন হামলার সমাপ্তির নিশ্চয়তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা পারমাণবিক কর্মসূচির মত বৃহত্তর কোনো শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না।
কি আছে ইরানের প্রস্তাবে
আব্বাস আরাঘচি নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। যদি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হয়, তাহলে সপ্তমদিনের শেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা ফের শুরু হবে।
তাদের পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ না দিলেও আরাঘচি বলছেন, এই প্রস্তাবের পরিকল্পনার সঙ্গে গত ১৭ জুন হওয়া সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে মিল আছে। তারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরদিন থেকেই এই সময়সূচি শুরু হতে পারে, এবং সাত দিন পর প্রণালীটি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
ফলে গত জুনে হওয়া সমঝোতা চুক্তিতে থাকা পরিকল্পনাগুলো আবার আলোচনায় এসেছে। ওই চুক্তিতে ছিল, ইরান পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য কোনো টোল বা মাশুল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে; যা ছিল মূলত শান্তি আলোচনার জন্য বরাদ্দ করা সময়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হবে, তা ওই চুক্তিতে অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল।
আরাঘচি স্পষ্ট করেননি যে নতুন প্রস্তাবেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না। এমনকি সাত দিনের সময়সূচি শুরু হওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, উভয় পক্ষ কীভাবে সেই পদক্ষেপগুলো যাচাই করবে, কিংবা হরমুজ প্রণালি খোলার পর জাহাজ চলাচলের জন্য কী ধরনের নিয়ম কার্যকর হবে, সে সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যে পরিকল্পনাই দেওয়া হোক, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরান আগে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তারা হরমুজ প্রণালিকেই তাদের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।
“হরমুজ প্রণালি হল ইরানের চূড়ান্ত রেড লাইন বা অতিক্রমণীয় সীমানা। ইরানিরা যুদ্ধের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না, তাই প্রণালির নিয়ন্ত্রণই তাদের অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র উপায়। আমি মনে করি না তারা এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসবে।”
জুন মাসের চুক্তিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কারণ ইসরায়েল হামলা চালিয়ে লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। এতে ইরানি তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন ছাড় এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যোগাযোগ আবার শুরুর বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুতসহ অন্যান্য জটিল বিষয়গুলোকে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল।
আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি তাদের আগের মডেলটিকেই অনুসরণ করছে। এর মাঝে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু করা অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
“তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব ইস্যুকে আলাদা আলাদাভাবে না দেখে, সবকিছুকে একটি একক প্যাকেজ হিসেবে ধরে আলোচনা করতে চায়।”
ইরানের নতুন প্রস্তাব কি যুক্তরাস্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে
মার্কিন নাগরিকরা যখন জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন জাতিসংঘের মত বৈশ্বিক মঞ্চে ইরানের এই প্রস্তাব দেওয়াকে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক চাল’ মনে করছেন কানিংহাম।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ বন্ধে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটিই হয়ত শেষ সুযোগ বলে বর্ণনা করছে তেহরান। এভাবে ইরান মূলত তেল ও গ্যাসের দাম এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির একটি পদ্ধতি।
কানিংহাম বলছেন, ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালিটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম এই অঞ্চলের বাইরেও বহুগুণ বেড়েছে, যা দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক তাগিদ দিচ্ছে।
এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আবার খোলার চুক্তি ট্রাম্পকে ভোটারদের কাছে যাওয়ার আগে জ্বালানির দাম কমানোর একটি সুযোগ দিতে পারে; যা নির্বাচনের আগে তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে।
যদিও ট্রাম্প এই নির্বাচনি হিসাবটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান মূলত নভেম্বরে তার রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে কেমন ফল করে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ভোটের পরেই চুক্তি হবে। না হলে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ফলে এই প্রশ্নটি থেকেই যায় যে, কম জ্বালানি মূল্যের সম্ভাবনা কি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের প্রস্তাবিত আলোচনার শর্তাবলী মেনে নিতে রাজি করানোর জন্য যথেষ্ট কিনা?
কানিংহাম সন্দেহ প্রকাশ করেন, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে মূল সমস্যাটি আগের মতোই রয়ে গেছে, কারণ ইরানের প্রস্তাবটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।