ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক একাকিত্ব ও শূন্য গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে ইসরায়েলের সামরিক শক্তির পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ দেখেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভাষণ দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি হাতে একটি পেজার ডিভাইস উঁচিয়ে ধরে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পরিচালিত বিতর্কিত ইসরায়েলি অভিযানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
হাততালির আশায় জাতিসংঘে পেজার উঁচিয়ে এমন নাটকীয় পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেও উপস্থিত প্রতিনিধিদের সিংহভাগেরই তোপের মুখে পড়েন নেতানিয়াহু। বক্তব্য শুরু হতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডজন ডজন প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভর্ৎসনা ও ভুয়াধ্বনি দিতে দিতে একযোগে কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান। সে সময় সেশনের স্পিকার চিৎকার করে সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কেবল নিজের দলের অল্প কয়েকজন প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে তাকে সমর্থন জানান।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের তীব্র আত্মপক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি বিশ্বের একাধিক নেতা ও দেশের বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, বিগত তিন বছরে ইসরায়েলি সেনারা সাতটি ফ্রন্টে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়েছে। উপস্থিত অল্পসংখ্যক শ্রোতার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কি নিউ জার্সির আকারের এমন কোনো দেশের কথা জানেন, যা তিন বছর ধরে সাতটি ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে?
বিশ্বনেতাদের ওয়াকআউটের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহু তাদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে থাকা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই হলে যদি আর কোনো ‘নৈতিক কাপুরুষ’ থেকে থাকেন যাদের প্রস্থান বাকি, তবে দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান। তিনি আরও দাবি করেন, শত্রুরা তাদের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও তারা তাদের মহান আমেরিকান বন্ধুদের সহযোগিতায় উল্টো শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এবং ইরানি সেনাবাহিনী ও তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছেন।
ভাষণে বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চরম বিষোদ্গার করেন নেতানিয়াহু, দেশটির শাসনব্যবস্থাকে ‘ঘাতক স্বৈরাচার’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, প্রায় সাত মাস ধরে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ আক্রমণের কারণে তেহরান পরমাণু বোমা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি শপথ করে বলেন, ইসরায়েলকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এবং সমগ্র বিশ্বকে হুমকির মুখে ফেলার জন্য ইরানের ঘাতক স্বৈরাচারকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, তা রক্ষা করেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি তাদের ফাঁকা ডেস্কে নিহত কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানির ছবি প্রদর্শন করে নীরব প্রতিবাদ জানায়। সামরিক হামলা সত্ত্বেও ইরানের সরকার নিজ দেশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং সুয়েজ খালের মতোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নিজের বক্তব্য অব্যাহত রেখে ২০২৪ সালে ব্যবহৃত বিপার বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু উঁচিয়ে ধরা পেজারটি দেখিয়ে বলেন, আপনাদের বিপারগুলোর কথা মনে আছে? আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি, হিজবুল্লাহ এটি নিশ্চিতভাবেই মনে রেখেছে।
উল্লেখ্য, রিপোর্ট অনুযায়ী এই পেজারগুলোতে গোপনীয়ভাবে বিস্ফোরক সেট করে হিজবুল্লাহ সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, যাতে শত শত যোদ্ধা পঙ্গু হওয়ার পাশাপাশি বহু সাধারণ নাগরিকও হতাহত হন।
বক্তব্য চলাকালে নেতানিয়াহু তুরস্কের তীব্র সমালোচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে ‘স্বৈরাচার’ বলে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন তুরস্ক হামাসকে সমর্থন দিচ্ছে। একইভাবে তিনি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হওয়ার অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সেখানকার বহু ইহুদি আর নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন না।
শুধু প্রতিপক্ষই নয়, ঐতিহ্যগত মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অতীত ঔপনিবেশিক ইতিহাস টেনেও কড়া আক্রমণ চালান নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ওপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, তারা ক্ষুদ্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিকতার অভিযোগ তোলে, অথচ ঈশ্বরের দোহাই, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের লোকেরাই তো এই শব্দের উদ্ভাবন করেছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নির্বাচনী প্রচারণার তুঙ্গে থাকা ইসরায়েলে দ্রুত ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কে অতি সংক্ষিপ্ত এই সফর করছেন নেতানিয়াহু, যেখানে কোনো শীর্ষ মার্কিন নেতার সঙ্গে তার বৈঠকের সূচি নির্ধারিত নেই।
সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম।
উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।
সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।
মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।