ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই হিসাবটি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) এবং মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণকে একসঙ্গে ধরে করা হয়েছে। ফলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে উঠে আসে না।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হিসাব অনুযায়ী, এসপিআরে রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও ব্যবহার হয়। এই দুটি সংখ্যা ভাগ করে প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো, এসপিআরে থাকা অপরিশোধিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিদিনের ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের হিসাবের মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রয়েছে। এগুলো সরাসরি এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ কেবল কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে না। দেশটির নিজস্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত, আমদানি, শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত-সব মিলিয়ে একটি বড় সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দেশটির বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।
একই সময়ে শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। অর্থাৎ দেশটির তেল সরবরাহ একটি চলমান ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন, আমদানি, বাণিজ্যিক মজুত, শোধন ও রপ্তানি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।
এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রধান ভাণ্ডার নয়; এটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ব্যাকআপ ব্যবস্থা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবরোধ বা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।
১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস এসপিআর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। দেশের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে লবণের গুহায় এই মজুত গড়ে তোলা হয়।
২০২০ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল জমা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ এই পরিমাণ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এ সময় বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত তেল ছাড়ার ফলে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমতে সহায়তা করেছিল। তবে এর ফলে কৌশলগত মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর মজুত পুনরায় পূরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।
২০২৬ সালে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যে আবারও কৌশলগত মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়। আইইএর ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল ২০২৬ এসপিআরে ৪১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। অর্থাৎ পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এসপিআরের মজুত প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে এই কমে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহ থেকে একই পরিমাণ তেল শেষ হয়ে গেছে-এমন নয়। একই সময়ে দেশটিতে তেল উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বাণিজ্যিক মজুত ও শোধনাগারের কার্যক্রম চলমান ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উৎপাদন, আমদানি ও বাণিজ্যিক মজুত। দেশটির শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলকে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর অর্থ, এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার বিকল্প নয়।
এসপিআরের মজুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে বাজারে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বরং কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সরকার আগের মতো বড় পরিমাণে জরুরি তেল বাজারে ছাড়তে পারবে না-এটাই মূল ঝুঁকি।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়তে পারে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদন থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির জ্বালানি দামের ওপর তার প্রভাব পড়ে।
জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একপর্যায়ে এসপিআর থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন বাজারকে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো, রপ্তানি কমানো, বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার, শোধনাগারের কার্যক্রম পরিবর্তন অথবা জ্বালানির চাহিদা কমানোর মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
এ ছাড়া বর্তমান এসপিআর কর্মসূচির একটি অংশ তেল বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এসপিআর থেকে অপরিশোধিত তেল নেয় এবং পরে সমপরিমাণ তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ব্যারেল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমানে নেওয়া কিছু তেল ভবিষ্যতে সরকারি মজুতে ফেরত আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কত দিনের তেল রয়েছে- এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য এক জিনিস নয়। এগুলোর উৎপাদন, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহারের হিসাবও আলাদা।
শুধু এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ভাগ করে ১৪ দিনের হিসাব করা তাই বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল এসপিআর মজুতের পাশাপাশি প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।
তবে এসপিআরের মজুত ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে জরুরি তেলের মজুত আগের তুলনায় কম থাকবে।
তাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘১৪ দিনের তেল’ অবশিষ্ট থাকার দাবিটি সঠিক না হলেও, এসপিআরের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য বাস্তব উদ্বেগের কারণ।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম।
উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।
সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।
মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।
মোহাম্মদ সাদিক
আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।
মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।
উৎসবের' আবহ
মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।
পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।
৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।
তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"
'নামটাও মনে থাকে না'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।
মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"
মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।
এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।
স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।
আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।
যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।
সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।
জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।
কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।
"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"