মক্কা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত প্রতিরক্ষা জোট থেকে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে রাশিয়া। ছবি: এএফপি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। এর একটি হলো সীমান্তবর্তী ‘বাফার স্টেট’ বা নিরপেক্ষ অঞ্চলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা। এই অঞ্চলগুলো সাধারণত রাশিয়া ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের মাঝখানে ছিল। ফলে সেগুলো প্রায়ই মস্কোর চেয়ে বরং তাদের প্রতিপক্ষের জন্য বেশি সমস্যা তৈরি করতো। ইউরোপে দীর্ঘদিন এমন বাফার স্টেটের ভূমিকায় ছিল ক্রিমিয়ান খানাত (বর্তমান ক্রিমিয়া)। সতোরো থেকে ১৮ শতকে চীন সীমান্তে এমন ভূমিকায় ছিল জুঙ্গার খানাত (বর্তমানে জিনজিয়াং প্রদেশ)। এ ধরনের বাফার স্টেট বজায় রাখাটা মস্কোর কৌশলগত নীতির একটি কার্যকর দিক হিসেবে আজও বহাল।


এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো- আত্মরক্ষা ও বিবাদমান অঞ্চল দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলা। অর্থাৎ, মস্কো যখন নিজের সীমান্তের কোনো অংশে পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, তখন বাফার স্টেটগুলো প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারবে। এ থেকে রাশিয়া পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।  


বিশ্বে চলমান সংঘাতের প্রথম ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। তখন ক্রিমিয়াকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতে জড়ায়। এটি পরে ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। প্রথম ফ্রন্ট তৈরির পর পশ্চিমারা তাদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আক্রমণ শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরির নমুনা দেখা যাচ্ছে। সেখানে মূল লক্ষ্য হতে পারে চীন।


একপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রবাহিনী এবং অন্যপক্ষে ইরান ও পরোক্ষ সমর্থকদের মধ্যকার শত্রুতা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে প্রবেশ করেছে। রাশিয়া এই ঘটনাপ্রবাহ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, ইউক্রেনীয় ফ্রন্টে তাদের বিপুল সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আপাতত সীমিত।


এই অঞ্চলে মস্কোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে তা যখন অনিশ্চিত, তখনই বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে একটি জোট গড়ে তুলেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোট এরই মধ্যে ‘মুসলিম ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।


এই জোট মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি উল্টে দেবে না। কিন্তু তারপরও উদ্যোগটিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এর সদস্যরা রাশিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তেমনি মস্কোর পশ্চিমা প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টিতে সক্ষম।


অঞ্চলটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটন ১৯৯১ সাল থেকে যে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তা ‘মুসলিম ন্যাটোর’ কারণে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কারণ, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না করে নিজেরাই নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। 


এখানকার আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বলা হয়, ইউরোপ ও চীনে জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় থাকলে তা পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন নিজেই তাদের তৈরি ‘উন্মুক্ত বিশ্ব ব্যবস্থা’র কিছু অংশ পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলছে। এর কারণ হলো, অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে চীন ওয়াশিংটনের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা তুলে নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন মুক্ত বাণিজ্যের বৈশ্বিক কাঠামো বজায় রাখার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি শক্তিগুলোকে (বিশেষ করে চীনকে) নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বেশি অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে।


এ অবস্থায় মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এই জোটের সদস্যদের অভিন্ন স্বার্থ মূলত রাজনৈতিক। তারা একে অপরের প্রভাব ও আঞ্চলিক কর্তৃত্বকে কাজে লাগিয়ে নিজ অবস্থান শক্ত করতে রাজি হলেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার সম্ভাবনা কম। 


ইরান যুদ্ধ থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। কিন্তু গত মার্চ মাসে ইরান যখন সৌদির ভূখণ্ডে হামলা চালায় তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া আসেনি। অন্যদিকে তুরস্ক প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে দূরে থাকছে। 


কেবল সংহতি প্রকাশ বা ঘোষণা দিয়ে একটি টেকসই সামরিক জোট গড়ে তোলা যায় না। ইতিহাস বলছে, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা পরিচালনার জন্য জোটে অন্তত একটি প্রধান বা প্রভাবশালী পরাশক্তির উপস্থিতি আবশ্যক। বর্তমানে কেবল একটি জোট এখানে সফল। সেটি হলো- ন্যাটো। এই জোট গঠনের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র লন্ডন কিংবা প্যারিসের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এর বিনিময়ে তারা ইউরোপীয়দের কাছে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার মর্যাদা পেয়েছে।


পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঐক্য নেই। দুই দেশের সরকারের অগ্রাধিকার ভিন্ন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্য এবং ইরানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা এই দেশগুলোর কোনোটিই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে অন্য দেশের নেতৃত্বের অধীনে সঁপে দিতে রাজি নয়।


রাশিয়ার জন্য এই বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। নতুন জোটের সদস্যরা চাইলে এককভাবে দক্ষিণ ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও সামগ্রিক মুসলিম বিশ্বে মস্কোর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারত। কিন্তু মস্কোর স্বার্থের বিরুদ্ধে তাদের সমন্বিত হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুবই কম।


এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনাও কম। নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একে অপরের সঙ্গে থাকা প্রতিযোগিতামূলক অংশীদারত্বও এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মক্কা চুক্তিটি রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করার চেয়ে বরং আমেরিকার কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে আরও জটিল করে তুলবে। 


জোটটি যখন আঞ্চলিক স্বাধীন নীতি গ্রহণ করতে শুরু করবে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। তাই জোটের সদস্যদের বন্ধু বানানোর প্রয়োজন নেই রাশিয়ার। মস্কো ইউক্রেন ফ্রন্টে মনোযোগ দেওয়ার সময় নতুন জোটের সদস্যরা পশ্চিমাদের ব্যস্ত রাখতে পারলেই রাশিয়ার উদ্দেশ্য সফল হবে।


লেখক: তিমোফেই বোরদাচেভ, রাশিয়াভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ভালদাই ক্লাবের কর্মসূচি পরিচালক




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।


সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।


আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: আল জাজিরা



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।


চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।


মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।


সূত্র: এনডিটিভি


চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।


চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।


চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।


শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।


ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।


আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম। 


উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল। 


দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।


আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।


বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।


সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।


আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।


মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।


মোহাম্মদ সাদিক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। 


এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।


মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।


উৎসবের' আবহ


মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।


পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।


৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।


তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"


'নামটাও মনে থাকে না'


তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।


মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"


মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।


এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।


স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন


বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।


আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।


শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।


যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।


পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।


সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।


শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।


মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে


শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।


জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।


এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।


মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।


কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।


নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।


"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"