পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া এই সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানের সেনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির উপায় খোঁজার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
ইরানের প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সব বাস টার্মিনাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রশাসন ও পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফয়জাবাদ এবং চঙ্গি নম্বর ২৬ সহ প্রধান টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম মধ্যরাতের আগেই স্থগিত করা হয়, যা পেজেশকিয়ানের ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’ সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
রেড জোন বন্ধ থাকার কারণে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) মঙ্গলবারের সমস্ত বিচারিক কার্যক্রম বাতিল করে কর্মকর্তাদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে জেলা আদালতগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া ক্যাবিনেট ডিভিশনের পক্ষ থেকে রেড জোনের ভেতরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরবর্তী পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেড জোনের সব স্বায়ত্তশাসিত ও অধীনস্থ দপ্তরে ছুটি ঘোষণা করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সিনেট, জাতীয় পরিষদ, অর্থ ও পররাষ্ট্রসহ জরুরি সব মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংকগুলো এই আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।
এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ট্রেইলসহ শহরের সব জনপ্রিয় হাইকিং রুট জনসাধারণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান বৈঠক ও মধ্যস্থতা
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যার ঠিক আগেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে, ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর অধীনে ‘লেক লুসার্ন সামিট’ নামে পরিচিত এই আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দরকষাকষি শুরু হয়।
এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধাবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মূল সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে একটি রূপরেখায় সম্মত হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকের রিজোর্টে অনুষ্ঠিত এই মার্কিন-ইরান বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে পাকিস্তান ও কাতার। বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
লেক লুসার্ন সম্মেলনের মাধ্যমে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেল এবং লেবানন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সৌদি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান কমান্ডার হিসেবে এখন থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখভাল, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ-সমন্বয় এবং অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।
গত জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এতে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে আসছিল।
সৌদি আরবের জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবু এই জলপথের কাছে অবস্থিত। গত মাসের শেষ দিকে ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলা চালায় হুতি। এর পরপরই নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যোগ দিতে সম্মতি জানায়। সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোটের সদস্য দেশগুলো হলো–বাংলাদেশ, বাহরাইন, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন।
বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমুখী পণ্য লোহিত সাগর ও এর আশপাশের নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
ন্যাটো ধাঁচের প্রতিরক্ষা চুক্তি সই সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। গতকাল শুক্রবার মুসলমানদের পবিত্রতম নগরী মক্কায় আয়োজিত এক শীর্ষ সম্মেলনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে এই প্যাক্টটি সামরিক জোট ন্যাটোর মূল সনদের আদলে তৈরি করা হয়েছে। চুক্তির প্রধান শর্ত হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে আক্রান্ত দেশকে রক্ষায় বাকিরা সমন্বিতভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকবে। তবে যৌথ বিবৃতিতে এই চুক্তির অধীনে প্রত্যেকে কী ধরনের প্রতিশ্রুতি বা বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি।
এই চুক্তিকে বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার কারণে আঞ্চলিক কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের একটি চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক দ্য জার্মান মার্শাল ফান্ডের তুর্কি আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারসিকলি। তিনি বলেন, তুর্কি সামরিক প্রযুক্তি, সৌদি আরবের আর্থিক সামর্থ্য এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সামরিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এক শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
তেহরানের সতর্কতা
এই যৌথ চুক্তির আত্মপ্রকাশের পরপরই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজাই বলেন, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে কেবল একটি কাগজের চুক্তি সই করে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশের কাছে ধরনা না দিয়ে সৌদি আরবের উচিত তাদের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা।
এদিকে, আঙ্কারা এবং জোটের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র স্পষ্ট করেছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা কিছু বলেছেন, ভারত সরকার তা অনুমোদন করে না। আজ শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত (ডিউলি কনস্টিটিউটেড) সরকারের বিরুদ্ধে, তা ভারত সরকার অনুমোদন করে না।
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন। ওই আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আপত্তির কথা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল। এ কথাও বলেছিল যে ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে তা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সেই আপত্তির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ওই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো লেনাদেনা নেই।
কিন্তু বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও ওই অনুষ্ঠান হয়। হাসিনা অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রশ্নের উত্তরও দেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারতের মাটিতে হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এরপর বিষয়টি নিয়ে আজ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়াল বলেন, ‘ওই আয়োজন শুরুর আগেই ওই বিষয়ে আমরা আমাদের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম। সেই কথা আরও একবার বলেছি। আয়োজনটি ছিল একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার উদ্যোগ। তাতে সরকারের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, তার কোনো কিছুই ভারত অনুমোদন বা সমর্থন করে না।’
আগের দিনও এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল ঠিক এ কথাই বলেছিলেন। তবে আজ তিনি ওই বক্তব্যের সঙ্গে বাড়তি সংযোজন করে বলেন, ‘বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা অনুমোদন (এনডোর্স) করে না।’ একই কথা তিনি ইংরেজির পর হিন্দিতেও বলেছেন।
নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেছিলেন, বাংলাদেশ দ্রুত আরেকটা পাকিস্তান হতে চলেছে। আজকের ব্রিফিংয়ে তাঁর সেই বক্তব্য উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, ওই অভিযোগ ভারত অনুমোদন করে কি না এবং বাংলাদেশের অবস্থা ভারতের কাছে কতটা উদ্বেগের। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের যেকোনো ঘটনা বা গতিবিধির ওপর সর্বদা তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। ভারত তার রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়। যেকোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি অনুযায়ী উচিত পদক্ষেপ নেয়।’ সজীব ওয়াজেদর অভিযোগ অনুমোদন বা সমর্থন করা বা না করা নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য করেননি।
ছবি : সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে নবম শ্রেণির এক ছাত্র তার দাদা-দাদিকে গুলি করে মেরে স্কুলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে, তাতে প্রাণ গেছে আরো পাঁচজনের।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারী শিক্ষার্থী নিজেও মারা গেছে। তবে সে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার সকালে ব্যাংককের কাছে ননতাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার ‘দেবসিরিন ননতাবুরি স্কুলে’ এ ঘটনার পর আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষক একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোশাল মিডিয়ায় আসা ছবিতে দেখা যায়, একজন আহতকে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আরেকজনকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসাকর্মী।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার কথা বলেছেন থাইল্যান্ড পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান।
ননতাবুরির প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান দেচরাপি কংডি জানান, হামলাকারী বন্দুকধারী ছিল নবম শ্রেণির ছাত্র। থাইল্যান্ডে এই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স ১৪ বছরের কাছাকাছি হয়ে থাকে।
থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত জানান, স্কুলে হামলা করার আগে ওই শিক্ষার্থী। বাড়িতে নিজের দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
হামলায় ব্যবহৃত নাইন মিলিমিটার বোরের পিস্তলটি ছিল তার দাদার, তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন।
এরপর স্কুলে হামলার ঘটনায় যে পাঁচজন মারা গেছেন, তারাও সবাই শিক্ষক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্কুলে হামলা চলাকালে থাই পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে এক জরুরি বার্তায় বলা হয়, “ভবনের ভেতরে যারা আটকে আছেন, সবাই নিরাপদে লুকিয়ে থাকুন, দরজা-জানালা শক্ত করে বন্ধ করুন এবং উদ্ধারকারী দল না পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”
পরে পুলিশ সতর্ক করে জানায়, হামলাকারী স্কুলের কম্পিউটার রুমে অবস্থান করছে।
১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলেন, প্রথমে তিনি গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ বা কোনো কিছুতে জোরে ধাক্কা দেওয়ার আওয়াজ বলে মনে করেছিলেন।
“প্রথমে আমি ভাবিনি এটা বন্দুকের গুলি। টানা অনেকগুলো শব্দ হল–ব্যাং, ব্যাং, ব্যাং। কিছুক্ষণ থেমে আবার শুরু হল।”
ভয়াবহ এই ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
তিনি বলেছেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, এমন ঘটনা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমাদের দেশে কীভাবে এটা ঘটল! এ কারণেই সরকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা অনুমোদন করে না।”
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের কাছে অস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি হলেও দেশটিতে অস্ত্র আইন বেশ কঠোর। অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তার পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ব্যাংককের একটি ফুড মার্কেটে গুলিতে ৫ জন নিহত হন।
এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের স্কুলে ঢুকে গুলি চালালে এক শিক্ষক ও এক ছাত্রী গুলিবিদ্ধ হন, যার মধ্যে শিক্ষক পরদিন হাসপাতালে মারা যান।
দেবসিরিন স্কুল থাইল্যান্ডের অত্যন্ত নামকরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সারা দেশে যার শাখা রয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, ১৮৮৫ সালে থাই রাজা চুলালংকরন এর মূল শাখাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের বহু শীর্ষ কূটনীতিক, অ্যাথলেট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী চার বছরের মধ্যেই ইউরোপে কিছু স্বল্প দূরত্বের রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। নতুন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর ইউরোনিউজের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণকে আরও পরিবেশবান্ধব করবে। এতে আমদানি করা জেট জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বাড়ায় এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যেসব রুটে চলতে পারে
ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এতে ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ স্বল্প দূরত্বের আকাশপথে এ ধরনের বিমান চালানো সম্ভব হতে পারে।
সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—
লন্ডন–ডাবলিন
এথেন্স–সান্টোরিনি
বার্সেলোনা–ইবিজা
নিস–কর্সিকা
রোম–সার্ডিনিয়া
এসব রুটের অনেকগুলোই দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় ট্রেনের বিকল্প নেই। তাই সেখানে বৈদ্যুতিক বিমান কার্যকর হতে পারে।
কবে আসবে?
জার্মানির স্টার্টআপ ভ্যারিডিয়ন ৯ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট ৯০ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রান্সের অরা অ্যারো ১৯ আসনের হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০২৯ সালের শেষ দিকে এর অনুমোদন পাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরিবেশের জন্য কতটা ভালো?
বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলার সময় কার্বন নিঃসরণ করে না এবং শব্দ ও বায়ুদূষণও কমায়। তবে এগুলো চার্জ দিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, তবেই পরিবেশগত সুবিধা সবচেয়ে বেশি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কম দূরত্বের আকাশপথে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ কমানোও প্রয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামের ২৫টি জেলায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইতোমধ্যেই তাপদাহ ও দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত। এর মধ্যেই আরও এক বড় দুসংবাদ শোনাল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে জলবায়ুর রূপ বদলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া তৈরি করতে যাচ্ছে দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব ‘এল নিনো’।
জাতিসংঘের এই আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপদাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে যেখানে আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তা এল।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ‘এল নিনো শুধু যে আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে তা নয়, এটি এখন আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে এবং উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি তো কেবল শুরু। এল নিনো যত শক্তিশালী হবে, আগেই জ্বলতে থাকা এই পৃথিবীর অবস্থা ততটাই ভয়াবহ রূপ নেবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থাপনাকে ওলটপালট করে দেবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা একলাফে অনেক বাড়িয়ে দেবে।
মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এবার এল নিনোর প্রভাব এক হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত জলবায়ু রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। তিনি সরাসরি কয়লা, তেল এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির (ফসিল ফিউয়েল) ব্যবহার ও নতুন প্রকল্প সম্প্রসারণকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন এবং এগুলো অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় সব স্থলাঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যেতে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওপর দিয়ে।
সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এল নিনোর ওপর নজর রাখা হলেও কেবল পূর্বাভাস দিয়ে বিপদ রোখা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোকে সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু পূর্বাভাস দুর্ঘটনা থামাতে পারে না, মানুষই পারে তা প্রতিরোধ করতে। আজ আমরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামীকালের পরিণতি কেমন হবে।’
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে যখন এই এল নিনো তার চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের হিসাবগুলো নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা