সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইরানের কট্টরপন্থীরা জোরালো আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এ চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ কিংবা হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য কামরান গাজানফারি বলেন, ‘তারা (ইরানের শাসকগোষ্ঠী) যে বলছে, আমরা জয়ী হয়েছি এবং যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে—এটা স্পষ্টতই মিথ্যা।’
কট্টরপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ভগ্নিপতি এবং রাজানিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেইসাম নিলি সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ‘বিপর্যয়কর আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইরানিদের নীরব না থাকার আহ্বান জানান।
সমালোচনার মুখে ইরানি কর্মকর্তারা পাল্টা জবাব দিয়েছেন। আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি এক অডিও বার্তায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।
মেহদি মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামানোর বিষয়টিও আছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো নতুন অঙ্গীকার করতে বাধ্য করা হয়নি।
ফলে ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ভেতরেই ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ মাত্রায় রূপান্তর করার মতো বিকল্প উপায়ও আছে। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মোহাম্মাদি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির খসড়া থেকে ‘ইরানি ব্যবস্থাপনা’ বাক্যাংশটি বাদ দেওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।
মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির সমালোচকদের বক্তব্য তথ্য ও ব্যাখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, সমালোচকেরা পুরোনো খসড়ার ভিত্তিতে মন্তব্য করছেন বলেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করে থাকা বিভিন্ন জাহাজ দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছোট মালবাহী জাহাজ বলে মনে হচ্ছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির রূপরেখায় এ বিষয়ে মাত্র একটি বক্তব্য আছে। সেটি হলো—ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং কিনবেও না।
মোহাম্মাদি বলেন, ‘এটাই আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি।’
মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানকে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে বেশি সুবিধা দেবে। ওই চুক্তি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছিল।
মোহাম্মাদির মতে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা রাখে।
মোহাম্মাদি বলেন, ‘এবার এমন নয় যে আমরা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেব এবং তারপর তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অপেক্ষায় বসে থাকব। এমন কোনো অলীক আশাবাদ আমাদের নেই। হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা চাইলে যেকোনো সময়, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এটি বন্ধ করে দিতে পারি।’
তবে চুক্তির রূপরেখায় বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থের অর্ধেক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, ‘আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কোনো অর্থ দেবে না। আরব দেশগুলো এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তারা তা দিতে বাধ্য। কারণ, আমরা তাদের চেয়ে শক্তিশালী। তারা এই অঞ্চলে আমাদের ক্ষমতা দেখেছে এবং আমাদের শক্তির জায়গাটা উপলব্ধি করতে পেয়েছে।’
মোহাম্মাদি আরও দাবি করেন, ‘এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, আরব দেশগুলো ইরানের সার্বভৌমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে এবং বিভিন্ন ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।’
ইরানে যাঁরা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সমালোচনা করছেন, তাঁরা মূলত পার্লামেন্টের একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটি পেদারি ফ্রন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আছেন জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির কট্টরপন্থী সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান, প্রভাবশালী ভাষ্যকার ও কায়হান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি।
চুক্তিবিরোধীরা তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভও করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উই উইল নট অ্যাকসেপ্ট’ (আমরা মেনে নেব না) হ্যাশট্যাগ প্রচার শুরু করেছে।
তবে সরকারের সমর্থকেরা বলছেন, পেদারি ফ্রন্ট মূলত যেকোনো ধরনের সমঝোতারই বিরোধী এবং তারা সাধারণ ইরানি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁদের মতে, অধিকাংশ ইরানি বোঝেন যেকোনো পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাধারণত সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না।
এক খোলাচিঠিতে হোসেন শরিয়তমাদারি লিখেছেন: ‘গালিবাফ ও আরাগচির কাছে আমাদের কাছে জানতে চাইতে হবে যে রমজান যুদ্ধের (১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপুর যুদ্ধ) সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াটা কি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার ছিল না? প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়ে কি শত্রুর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ রুদ্ধ করে তাকে প্রায় শ্বাসরোধের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়নি? তাহলে কোন যুক্তি এবং কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এ ভদ্রলোকেরা এমন একটি ভাগ্যনির্ধারক হাতিয়ার ছেড়ে দিতে যাচ্ছেন?’
কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান কার্যত পেদারি ফ্রন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। তিনিও প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।
নাবাভিয়ান প্রশ্ন তোলেন: ‘তাহলে কি ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজও অবাধে চলাচল করতে পারবে? এটি তো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেরই প্রস্তাব। এখন থেকে শুধু সামরিক নয়, ইসরায়েলের সব জাহাজ এবং সব শত্রু দেশের জাহাজও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে।’
চুক্তিবিরোধীদের এতটা স্বাধীনতা দেওয়া নিয়ে ইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে—যদি সরকার এই গোষ্ঠীকে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়, তাহলে চুক্তির সমর্থকদেরও একই ধরনের স্বাধীনতা দিতে হবে। তখন পরিষ্কার হয়ে যাবে যে অধিকাংশ ইরানি জনগণ চুক্তি করার ব্যাপারে সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করে। আর সংখ্যালঘু একটি গোষ্ঠী চিৎকার-চেঁচামেচি করে, রাষ্ট্রীয় রেডিও-টেলিভিশন ব্যবহার করে কিংবা সমাবেশের অপব্যবহার করে তাদের ইচ্ছা সরকার ও জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।
কট্টরপন্থীদের এই সমালোচনা পরোক্ষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে। কারণ, তিনি এই চুক্তিটিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা চুক্তির চেয়ে ভালো বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।
তবে বাস্তবে দুটি চুক্তির সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কারণ, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত আকারের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। আর এ সমঝোতা স্মারকে মূলত যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে যে তিনি একটি ব্যয়বহুল, অস্থিতিশীল এবং কথিতভাবে অবৈধ যুদ্ধের মাধ্যমে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন, যা কূটনৈতিক পথেই অর্জন করা যেত।
ট্রাম্পকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে এই চুক্তিটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার করা চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। ট্রাম্প নিজেই ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। দীর্ঘ প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, আই-২০ সংগ্রহ, আর্থিক নথি, সবকিছু সম্পন্ন করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে ওঠে এফ-ওয়ান স্টুডেন্ট ভিসা।
সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন অনেক আবেদনকারীকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কেউ উদ্বিগ্ন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিয়ে, কেউ আবার দূতাবাসে অতিরিক্ত তথ্য পাঠানোর সঠিক উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার অনেকেই কল সেন্টারে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। এসব সমস্যার সহজ কিছু সমাধান আছে, যা আগে থেকে জানা থাকলে পুরো ভিসা প্রক্রিয়াই সহজ হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল: অ্যানোনিমাস হলেও দিতে হবে তথ্য
নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আবেদনকারীর ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্টের তথ্য। একজন আবেদনকারীকে তার বিগত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার লিংক ডিএস-১৬০ ফর্মে দিতে হবে। এমনকি আপনার কোনো অ্যানোনিমাস জিমেইল থাকলেও।
অনেকেই মনে করেন, যদি কোনো অ্যাকাউন্টে নিজের নাম প্রকাশ না থাকে বা সেটি অ্যানোনিমাস হয়, তাহলে সেটি উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো আবেদনকারী ব্যবহার করেন, সেগুলোর পরিচিতি বা হ্যান্ডেল সঠিকভাবে জানানো উচিত। কোনো অ্যাকাউন্ট অ্যানোনিমাস হলেও সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। কেননা এখানে একজন ভিসা অফিসার দেখতে চান, আবেদনকারী হিসেবে আপনি কোনো তথ্য গোপন করছেন কি না। সাধারণত ইউআরএল লিংক ফর্মে উল্লেখ করতে হয়।
এছাড়াও ভালো মতো জেনে নিন কোন মাধ্যমগুলো এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তালিকায় পড়ছে। সাধারণত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স, পিনটারেস্ট এর আওতায় পড়ে। তারপরেও নিরাপদ থাকার জন্য, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ, ৫ বছরের মধ্যে ডিলেটকৃত যদি কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে, এসব কিছুই আপনাকে সময় নিয়ে ডিএস-১৬০ ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় তথ্যের স্বচ্ছতা ও সত্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনপত্রে বা দূতাবাস থেকে তথ্য চাওয়া হলে ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য যথাযথভাবে দেওয়াই নিরাপদ।
দূতাবাসে তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন ই-মেইল ব্যবহার করবেন
অনেক সময় ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বা পরে দূতাবাস আবেদনকারীর কাছে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চেয়ে ই-মেইল পাঠায়। এ অবস্থায় অনেকেই বিভ্রান্ত হন, উত্তর কি যেকোনো ই-মেইল থেকে পাঠানো যাবে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে?
এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় আবেদনকারী যে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে ভিসার আবেদন করেছেন, সেই একই ই-মেইল ব্যবহার করা। এতে পরিচয় যাচাই সহজ হয় এবং যোগাযোগে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কমে।
অন্যদিকে, অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সেবা পরিচালনাকারী সিজিআই পোর্টালে একটি ফিডব্যাক বা রিকোয়েস্ট অপশন থাকে। যদি দূতাবাসের নির্দেশনা বা স্থানীয় ভিসা সেবার নিয়মে এই পোর্টাল ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় তথ্য বা সমস্যার বর্ণনা সেখানে জমা দেওয়া অধিক কার্যকর একটি উপায় হতে পারে। কেননা অনেক সময় পাঠানো ই-মেইল যান্ত্রিক কারণে না পৌঁছালেও ফিডব্যাক অপশনটিতে এই সুযোগ নেই।
কল সেন্টারে যোগাযোগ না হলে বিকল্প কী
ভিসা আবেদনকারীদের একটি সাধারণ অভিযোগ হলো, কল সেন্টারে বারবার ফোন করেও অনেক সময় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলা যায় না। বিশেষ করে ব্যস্ত মৌসুমে দীর্ঘ অপেক্ষা বা কল সংযোগ না পাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেমন: ইউএস ট্রাভেল ডকসের ওয়েবসাইটে লাইভ চ্যাট সুবিধা রয়েছে। ওয়েবসাইটে আপনার পুরো নাম এবং ই-মেইল দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব।
লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে আবেদনকারীরা সাক্ষাৎকার, নথিপত্র, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কিংবা প্রযুক্তিগত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই ফোনের তুলনায় এটি দ্রুত ও সুবিধাজনক সমাধান দেয়। পাশাপাশি কথোপকথনের লিখিত রেকর্ডও থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে।
মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ে চোর
কপাল মন্দ! মোটরসাইকেল চুরি করে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টার সময় অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশেই একটি দেওয়ালে ধাক্কা লাগে মোটরসাইকেলটির। দুর্ঘটনায় সড়কে ছিটকে পড়েন অভিযুক্ত চোর। সেই সুযোগে ছুটে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে পুলিশে তুলে দেয়। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের কটক জেলার মধুপাটনা থানাসংলগ্ন এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মধুপাটনা থানার আওতাধীন তিনিঘারিয়া নুয়াসাহি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দেওয়ালে ধাক্কা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। ঘটনা দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। এরপর পালানোর সুযোগ না দিয়ে তাকে আটক করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মধুপাটনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন দাবি করেন, আটক ব্যক্তিকে দেখে তাদের মনে হয়েছে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তবে তিনি সত্যিই অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি আগে এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়লো চোর ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ল চোর/ ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসার জন্য আবেদন করার সময় সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনলাইনে প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মটি বি-১ (ব্যবসায়িক) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছে।
ওই কর্মসূচির অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পাইলট কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করতে পারতেন। তবে নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে ৩ আগস্ট নিয়মটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হবে। কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশসহ যে কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে আসুক না কেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন। যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী। শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকে শুরু হয়েছে জনগণনা। ১৬তম জনগণনায় প্রথমবারের মতো এবারই ব্যবহৃত হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি। প্রথমবার নাগরিকদের জন্য থাকছে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার বিশেষ সুযোগও। জনগণনা হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার নিজেদের তথ্য সরকারি পোর্টালে জমা দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে সেই তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিলিয়ে দেখবেন জনগণনার কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকরা।
এদিন জনগণনার আনুষ্ঠানিক সূচনার মঞ্চ থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে এমন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে আলাদা কিছু করছে না।
অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ বা প্রতিবেশী দেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’
এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজস্থানের জয়সলমেরে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি এসইউভির সংঘর্ষে এক মেজর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই সেনা কর্মকর্তা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জয়সলমের শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে থাইয়াত সেনা এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় তিন সেনা কর্মকর্তা এসইউভিটিতে করে সেনা ঘাঁটিতে ফিরছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।
দুর্ঘটনার পর তিন সেনা কর্মকর্তাকেই দ্রুত সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মেজর হামজা আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হামজা আরিফের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক মাস আগে। দুর্ঘটনায় আহত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান ও লেফটেন্যান্ট অভিনব রাঠোর বর্তমানে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কাছের সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পাইপলাইন সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ এক বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাইপলাইনটি লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মিসরের বুক চিরে ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে।
ইরান ও তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতেও লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি পণ্য উত্তর দিকে রপ্তানির জন্য মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন এত দিন নিরাপদ রুট হিসেবে ভরসা জুগিয়েছে।
ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি নীল নদের অববাহিকায় অবস্থিত মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গত বুধবার ট্যাংকার দুটিতে ওই হামলা চালানো হয়। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং সুয়েজ খালে সরাসরি হামলার কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় উদ্বেগ যোগ করেছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এমএসটি মারকুই’-এর জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ ও ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করেও তেল পরিবহন এখন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে।’
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এ রুট দিয়ে বলতে গেলে কোনো ট্যাংকারই চলাচল করছে না। এ যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব তাদের বেশির ভাগ তেল লোহিত সাগর এবং দেশটির ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে শুরু করে। হুতিদের নতুন হুমকি ও হামলার কারণে ট্যাংকারগুলো এখন এই বাব আল-মানদেব তথা লোহিত সাগরের রুটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইনের দিকে উত্তরমুখী চলাচলকারী সৌদি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হলো, এডেন উপসাগর হয়ে দক্ষিণ দিকের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে জাহাজগুলোকে।
২০ জুলাই লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ওই পাইপলাইন দিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। হুতিদের হুমকির পর জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।
জাহাজ চলাচলের গতিবিধি নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য, সুয়েজের ভূমধ্যসাগর প্রান্তের পোর্ট সাইড নোঙরখানায় প্রায় ৩০টি জাহাজ জড়ো হয়েছে। অথচ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও এ সংখ্যা ছিল ২০টির কাছাকাছি।
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভোর্টেক্সা’-এর জর্জ মরিস বলেন, লোহিত সাগরে তেলবোঝাই করার পর ট্যাংকারগুলোর উত্তর দিকে; অর্থাৎ সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্টত বেড়েছে। আর এর মূল কারণ হুতিদের নতুন হুমকি (বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি)।
কেপলারের তথ্য বলছে, বাব আল-মানদেব দিয়ে দক্ষিণমুখী রুটে (এশিয়ার দিকে) তেলের প্রবাহ এখনো সচল থাকলেও তা চলতি মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জুনে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে বোঝাই করা তেলের ৮১ শতাংশ যেখানে দক্ষিণে গিয়েছিল, সেখানে জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশে। অনেক ট্যাংকার বাব আল-মানদেব সম্পূর্ণ এড়িয়ে চললেও চীনের মালিকানাধীন জাহাজসহ কিছু ট্যাংকার হুতিদের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে যাতায়াত করছে।
জর্জ মরিস জানান, হুতিদের হামলা আর নজরদারি এড়াতে এ দক্ষিণমুখী ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিজেদের অবস্থান লুকানোর চেষ্টাও বাড়ছে। ফলে ‘ট্র্যাকার’ বা অবস্থান শনাক্তকরণ যন্ত্র বন্ধ করে চলাচলকারী ট্যাংকারের সংখ্যা এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
তবে মিসরে দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার ঘটনার মানে এ নয় যে সুয়েজ খাল এখনই কোনো তাৎক্ষণিক হুমকিতে পড়েছে, এমনটাই মনে করেন ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি’-এর আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের প্রধান অ্যালি ব্লেকওয়ে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাজার এখন পর্যন্ত সুয়েজ খালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি বা আশঙ্কা তৈরি করেনি।’
এ ড্রোন হামলার পরও গতকাল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মূলত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার খবরের দিকেই ব্যবসায়ীদের মূল নজর ছিল, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সামগ্রিক এ পরিস্থিতি নিয়ে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বাজারে তেল পৌঁছানোর পথ আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হচ্ছে
ইরান হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ট্যাংকার অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো জ্বালানি রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় ইয়ানবু থেকে তেল বোঝাই করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজও পড়তে পারে।
হুতিরা এরই মধ্যে দেখিয়েছেন, তাঁদের ড্রোন ও রকেটের পাল্লার মধ্যে সুয়েজ খাল অঞ্চলও রয়েছে। তাঁরা একাধিকবার ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছুড়েছেন। যদিও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সেগুলো ভূপাতিত করার সুযোগও বেশি।
জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক দর নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস’-এর এলএনজি মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র বলেন, শুধু এ একটি কারণেই এখন জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যেতে পারে। মিসরে সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমাকারীরা সুয়েজ খালের জন্য বাড়তি “যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম” দাবি করতে পারেন।’ অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান এখনো (সুয়েজ নিয়ে) সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি দেয়নি।
একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সুয়েজ খালের কাছাকাছি মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোয় চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে শিপিং কোম্পানিগুলো।
যদিও মিসরের ভেতরে এ হামলাকে সুয়েজ খালের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের সাবেক বোর্ড সদস্য ওয়ায়েল কাদ্দুর বলেন, ‘খালটি সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।’
এ হামলার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল।
জর্জ মরিস বলেন, ‘জুনে এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ১৫ শতাংশই ইয়ানবু থেকে এসেছে। এ সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো বড় প্রভাবের মুখে পড়বে। বাব আল-মানদেবের বদলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সময় দ্বিগুণেরও বেশি লাগে। ফলে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় এক মাস বাড়তি লাগছে।’
অন্যান্য কারণেও সুয়েজ খাল দিয়ে বিশাল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বেশ জটিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিচের অংশ অনেক বেশি গভীর বা ভারী হওয়ায় তারা পুরোপুরি তেলবোঝাই অবস্থায় সুয়েজ খাল পার হতে পারে না। ফলে এ জাহাজগুলোকে প্রথমে সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল খালাস করতে হয়। এরপর ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর সেই তেল আবার জাহাজে তুলতে হয়।
হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বর্তমান সংকটে সুয়েজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্নের প্রভাবও হবে ব্যাপক।
সামুদ্রিক নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র্যান্সলেম বলেন, ‘সুয়েজ খাল অঞ্চলের যেকোনো স্থানে হামলা হলে যুদ্ধঝুঁকির বিমার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নও বদলে যাবে।’
ক্লেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, ‘সুয়েজ খালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে পড়বে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তার প্রভাব খুব দ্রুত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।’