ছবি : সংগৃহীত
গবেষণা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মানবদেহের কিছু অংশ ইসরাইলি সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে-এমন অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ অভিযোগ সামনে আসার পর অনেক দাতার পরিবার ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর আল জাজিরার।
নেভাদার বাসিন্দা মরিয়ম ভলপিন প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন এক শিক্ষানবিশ সাংবাদিকের মাধ্যমে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং আরও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দান করা মরদেহ মার্কিন নৌবাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলি চিকিৎসকরাও অংশ নিয়েছিলেন।
এ তথ্য জানার পর মরিয়মের মনে প্রশ্ন জাগে, তার প্রয়াত মায়ের মরদেহও কি একইভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল? ২০২১ সালে মারা যাওয়ার আগে তার মা জ্যানেট ভলপিন নিজের দেহ চিকিৎসা শিক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছিলেন।
শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি অন্তত ৮৯টি মরদেহ একটি যৌথ প্রশিক্ষণ প্রকল্পে সরবরাহ করেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে মার্কিন নৌবাহিনী ও ইসরাইলি চিকিৎসকদের অংশগ্রহণের তথ্যও পাওয়া গেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তৈরির প্রশিক্ষণ
একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন এক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিবরণ পাওয়া যায়, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুতর আঘাতের পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত মরদেহগুলোকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে সেগুলো জীবন্ত মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে। এ জন্য মরদেহে কৃত্রিম তরল সঞ্চালন করা হয় এবং গুলিবিদ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণে আহত হওয়া কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো পরিস্থিতি অনুকরণ করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এসব অবস্থায় জরুরি অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতির অনুশীলন করেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি, এটি বাস্তবধর্মী চিকিৎসা প্রশিক্ষণের অংশ। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মনে করেন, এমন উন্নত পদ্ধতি সাধারণ চিকিৎসা শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি বিশেষায়িত এবং সীমিত ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।
মরদেহের উৎস নিয়ে নতুন প্রশ্ন
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু ইউএসসি নয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের প্রথম ভাগ পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে শতাধিক মরদেহ ইউএসসিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ই সামরিক প্রশিক্ষণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, এটি চিকিৎসা ও শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সামরিক কার্যক্রম নয়।
সম্মতির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দাতাদের সম্মতি নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেহদান সংক্রান্ত নথিতে কোথাও উল্লেখ ছিল না যে মরদেহ বিদেশি সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে।
সমালোচকদের মতে, দাতারা যদি আগে থেকেই এমন ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতেন, তাহলে অনেকেই হয়তো ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন।
ইউএসসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মোহাম্মদ রাদ বলেন, বিষয়টি কেবল মরদেহ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষকে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কিনা, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
ক্ষুব্ধ পরিবারগুলো
অনেক পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, তাদের স্বজনেরা মানবকল্যাণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে দেহদান করেছিলেন। কিন্তু সামরিক সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মসূচিতে সেই দেহ ব্যবহার করা হবে- এমন ধারণা তাদের ছিল না।
জেনিফার গোমেজ নামের এক নারী বলেন, তার নানি চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে অবদান রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের অংশ হওয়ার কথা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
এ ঘটনার পর দেহদান কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সম্ভাব্য দাতাও এখন তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে দাতাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো এবং স্পষ্ট সম্মতি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চললেও জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরার।
বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, এখন পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জীবিত কাউকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
এর আগে বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক ছিলেন।
এদিকে জ্যেষ্ঠ খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ জানান, শক্তিশালী বিস্ফোরণে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিবদমান অঞ্চলে জারি করা হয়েছে কারফিউ। খবর আলজাজিরার।
মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন শাহ। তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে অস্থিরতার কালো মেঘ দূর করতে হবে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চ স্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালালে দুই ব্যক্তি নিহত হন বলে জানান পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে । পরে বৃহস্পতিবার কারফিউ চলাকালেও পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকার, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম সবার প্রতি তার আহ্বান, ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে জননিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
লেখিকা তসলিমা নাসরিন
দীর্ঘ ১৯ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ফিরলেন আলোচিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর লেখিকাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্বাগত জানান তার অনুরাগী এবং বেশ কিছু সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সেক্যুলার মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য নামের দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে কলকাতায় ফিরেছেন লেখিকা। ওই দুই সংগঠনের নেতৃত্ব ওসমান মল্লিক এবং মোহিত রায় ছাড়াও এনসিপি দলের পক্ষে শিউলি সাহা এবং তসলিমার অনুরাগীদের একাংশ তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমাকে সংবর্ধনা জানানোর অনুষ্ঠান রয়েছে। পরদিন রোববার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিতে একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা।
এর আগে ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনী বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় তীব্র বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাকে রাতারাতি শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
জানা গেছে, ২০০৭ সালের নভেম্বরে তীব্র আন্দোলনের মুখে কড়া নিরাপত্তায় তসলিমা নাসরিনকে তড়িঘড়ি করে রাজস্থানের জয়পুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে একটি হোটেলে তিনি অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করেন। তবে খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় কট্টরপন্থি সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে, যার ফলে তিনি মাত্র কয়েকদিন পরই জয়পুর ছাড়তে বাধ্য হন। অত্যন্ত গোপনীয়তায় তাকে নয়াদিল্লিতে এনে একটি সরকারি সেফ হাউসে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল। এই সময়টা কার্যত তার জন্য গৃহবন্দিত্বের মতো ছিল, যেখানে বাইরের কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ করার অনুমতি ছিল না।
পরে প্রবল বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে ২০০৮ সালের ১৯ মার্চ তিনি ভারত ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। ভারত ছেড়ে তিনি প্রথমে তার নাগরিকত্ব থাকা সুইডেনে চলে যান। এরপর নিরাপত্তা ও সাহিত্যিক কাজের সুবিধার্থে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছুকাল অবস্থান করেন।
২০০৯ সালের প্রথম দিকে প্যারিস শহর কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ আবাসনের সুযোগ দিলে তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের একটি বড় অংশ তিনি প্যারিসে বসবাস করেন এবং সেখানে বসেই ইউরোপের বিভিন্ন সাহিত্য সভায় যোগ দেন।
পশ্চিমবঙ্গে ফেরার তীব্র ইচ্ছা থেকে তিনি ২০১১ সালে আবারও ভারতে ফিরে আসেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে কলকাতায় তার ঢোকার অনুমতি মেলেনি। তবে ভারত সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে নয়াদিল্লিতেই পরবর্তীতে নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে একের পর এক মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগাররা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে ভারতে তার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তচিন্তা বিষয়ক সংগঠন ‘সেন্টার ফর ইনকোয়ারি’-এর সহায়তায় তিনি জীবন রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানে বেশ কিছু মাস কাটান।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর ইউরোপ-আমেরিকায় থাকলেও, তসলিমা সবসময়ই বাংলা সংস্কৃতির টানে কলকাতার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু ২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার পথ বন্ধ ছিল।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ নয়াদিল্লির ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে’। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ কথা জানানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংসদীয় কমিটি তাঁদের প্রতিবেদন লোকসভায় উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। এ কমিটির চেয়ারপারসন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর।
‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, সে বিষয়টি জানার পর বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল পার্লামেন্টারি কমিটি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর পর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরও দিল্লিকে একই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
‘ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পাননি শেখ হাসিনা’
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, নানা বিবৃতিও আসছে তাঁর নামে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তিনি সাক্ষাৎকারও দিচ্ছেন।
তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বলেছে, ‘চরম সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ভারতের মানবিক ঐতিহ্য ও সভ্যতাগত মূল্যবোধের অংশ’ হিসেবে শেখ হাসিনাকে সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার যে নীতি ভারত অনুসরণ করে আসছে, তা উল্লেখ করেছে সংসদীয় কমিটি।
পাশাপাশি সুপারিশ করেছে, সে বিষয়ে ভারত সরকার যেন নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক অবস্থান বজায় রাখে। একই সঙ্গে যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।
ছবি : সংগৃহীত
গাজায় নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সম্বলিত একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে ‘একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে তারা। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে হবে। তবে ‘আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ সংস্থা’ এবং সব পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আলজাজিরাকে বলেন, “এই আলোচনা অত্যন্ত কঠিন ও জটিল ছিল। আমরা সম্ভাব্য সেরা এবং বাস্তবায়নযোগ্য একটি ফর্মুলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।”
তবে হামাদ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে হামাস এই চুক্তির কোনো অংশই বাস্তবায়ন করবে না। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পুনর্গঠনের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া।
আলজাজিরা লিখেছে, এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প এই চুক্তিকে গাজার শাসনভার তদারকির জন্য তার গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের একটি ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “অবশেষে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সরকার ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তার জন্য বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”
তিনি আরও লেখেন, “একই সময়ে ইসরায়েল তার কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পাবে এবং গাজা আর কখনও সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।”
চুক্তিতে যা আছে
আলজাজিরা লিখেছে, তাদের হাতে আসা চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, গাজায় একটি ‘ন্যাশনাল কমিটি’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ প্রবেশের মধ্য দিয়ে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ন্যাশনাল কমিটি অস্ত্র ‘তালিকাভুক্ত ও মজুদ’ করার প্রক্রিয়া তদারকি করবে। আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ কমিটি এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো তাতে অংশ নেবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা ফিলিস্তিন-বহির্ভূত কোনো সংস্থার কাছে অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে না এবং গাজায় একমাত্র ন্যাশনাল কমিটিই এসব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রক হবে।
আলজাজিরা লিখেছে, বোর্ড অব পিসের একজন কর্মকর্তা তাদের নিশ্চিত করেছে যে, গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে যাওয়া ন্যাশনাল কমিটির কাছেই হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন অস্ত্র সমর্পণ করবে।
ওই কর্মকর্তা জানান, শুরুতে পুলিশের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করা হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে ভারী অস্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় গাজায় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তবে প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।
যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
ট্রাম্প এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে গত অক্টোবরে তার মধ্যস্থতায় হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর ওই ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি হয়েছিল। তবে ইসরায়েল বারবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১২ শর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের আরও ভূমি ইসরায়েল দখল করে নিয়েছে।
গাজায় মানুষ ও পণ্য চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর ইসরায়েল গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করবে এবং তাদের জায়গা নেবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স, যারা ‘নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর’ সঙ্গে মিলে কাজ করবে।
কায়রোতে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপ
যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে মিশর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই কায়রোতে অবস্থান করছেন হামাস নেতারা।
আলজাজিরা লিখেছে, হামাসের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার তাদের বলেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক’ এবং সামনের দিকে এগোচ্ছে।
মিশরের সম্প্রচারমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি রূপরেখার দ্বিতীয় ধাপের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে মিশর শিগগিরই কায়রোতে আবারও বৈঠকের আয়োজন করবে।
আন্তর্জাতিক বাহিনীর মোতায়েন এবং ন্যাশনাল কমিটির কাজ শুরুর প্রস্তাবটি হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ‘আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে’ বলে আল-কাহেরা নিউজের খবরে বলা হয়। তবে গাজার আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) দাবি করেছে, চুক্তির খবরটি ‘পুরোপুরি সঠিক নয়’। চুক্তির যে খসড়াটি ছড়ানো হচ্ছে, তার শব্দচয়ন নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষক নিদাল আবু জাইদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, চুক্তিতে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দের বদলে অস্ত্র ‘তালিকাভুক্ত ও মজুদ’ করার যে কথা বলা হয়েছে, তার সূক্ষ্ম সামরিক তাৎপর্য রয়েছে।
তিনি বলেন, “সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে তালিকাভুক্ত ও মজুদের কাজটি একটি তৃতীয় পক্ষ করে থাকে। তবে সেই পক্ষ যে শত্রু বাহিনেই হতে হবে, এমন নয়।
“অন্যদিকে নিরস্ত্রীকরণের কাজটি সাধারণত শত্রু বাহিনেই করে থাকে। আর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো কখনোই সেই ধরনের নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না।”
সৌদি আরব ও বাংলাদেশের পতাকা
বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে। এই তিনটি জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণা এলো। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ একসময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। সেখানে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব-লোহিত সাগর-এডেন উপসাগর রুটও বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সৌদি আরব জানায়, জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল।
ইইউর এরই মধ্যে লোহিত সাগরে ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটটির সঙ্গে সেই মিশনের পার্থক্য কী হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
জোটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো-সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস। ফলে জোটে সৌদি আরবসহ মোট সদস্য সংখ্যা ১৪। তবে একই ধরনের নিরাপত্তা স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান এই জোটে যোগ দেয়নি।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ মহড়া
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো বিশ্বাস করে যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। এ কারণে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জোটের আওতায় গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি আরব জোর দিয়ে বলেছে, এই জোটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা