যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৫ মে, ২০২৬, সময় : ১:২৭ এএম

যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা।


গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছেন, তবে এখনো চুক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো আগের প্রস্তাবটি নিয়ে হতাশা প্রকাশের এক দিন পর এ কথা বলেন ট্রাম্প।


গত বৃহস্পতিবার রাতে তেহরান ১৪ দফা প্রস্তাব পাকিস্তানকে পাঠায়। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যে ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, তার পাল্টায় ১৪ দফা প্রস্তাব তৈরি করে তেহরান।


ইরানে যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তেহরান চায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। আর ট্রাম্প চাইছেন ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ বন্ধ করুক। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করে ইরান। পরে ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ শুরু করে। যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেও নৌ অবরোধ চলতে থাকে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের জাহাজে হামলা, আটক এবং বাধা দেওয়ার ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবটিতে কী আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা গ্রহণ করবেন কি না।


ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে কী আছে


ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাবটি মূলত ওয়াশিংটনের দেওয়া ৯ দফা শান্তি পরিকল্পনার জবাব। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রস্তাবের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দুই মাসের একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। ইরানের এই ১৪ দফা পরিকল্পনা মূলত একটি বিস্তৃত শান্তিকাঠামো, যা শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে ইঙ্গিত করছে।


নতুন শান্তি প্রস্তাবে ইরান বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চেয়ে যুদ্ধ অবসানের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চায়। এ ছাড়া তারা ৩০ দিনের মধ্যে সব বিষয় নিষ্পত্তি করতে চায়।


নতুন প্রস্তাবে ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, শতকোটি ডলার মূল্যের জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, সব শত্রুতা বন্ধ (লেবাননসহ) এবং ‘হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।


গত বছরের জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছিল ইরান। দেশটি ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসন না হওয়ার নিশ্চয়তা চায়। ইসরায়েল এর আগে ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় নাশকতা চালিয়েছে।


ট্রাম্প কি এ প্রস্তাব গ্রহণ করবেন


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন, তিনি ইরানের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইরান বাজে আচরণ করলে ওয়াশিংটন নতুন করে হামলা শুরু করবে।


গত শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত আছেন।


কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেও আবার হামলা শুরু করা না–করা প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট আগের মতোই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।


হামলা আবার শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে সেটা আবারও ঘটার সম্ভাবনা আছে।’


ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো অবস্থানে’ আছে। তিনি দাবি করেন, ইরান সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। কারণ, কয়েক মাসের সংঘাত ও নৌ অবরোধে দেশটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন। কারণ, গত ৪৭ বছরে ইরান মানবজাতি এবং বিশ্বকে যে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে, তার জন্য যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি তারা।


কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মুসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের নতুন প্রস্তাবটি না পড়েই বা এর সম্পর্কে পুরোপুরি তথ্য না নিয়েই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।


আগের শান্তি প্রস্তাবগুলোতে কী ছিল


ইরানে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির এক দিন আগে তেহরান একটি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিকের প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানের ১০ দফা ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব’, তবে ‘যথেষ্ট ভালো নয়’।


২৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা ১৫ দফা পরিকল্পনার জবাবে গত ৭ এপ্রিল ইরান এ প্রস্তাব দিয়েছিল।


ওয়াশিংটনের ওই পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ ছিল। তাতে বলা হয়েছিল, এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করবে।


ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য বলছে, প্রস্তাবে নাতাঞ্জ, ইস্পাহান ও ফোরদোতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, ইরানের পক্ষ থেকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার স্থায়ী অঙ্গীকার, ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক অবকাঠামোর সব অংশ পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া, হরমুজ প্রণালি আবারও চালু করা এবং ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো ছিল। এ ছাড়া এতে জাতিসংঘের সেই ব্যবস্থার অবসান করার কথা বলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়।


তবে ইরান এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা বলেছিল, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে। এর পরিবর্তে তারা তাদের ১০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল।


বর্তমানে পরিস্থিতি কী


যুদ্ধবিরতি চলতে থাকলেও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শনিবার বলেছে, হামলার জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। কারণ, আগের চুক্তিগুলো মানার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনীহা দেখেছিল তারা।


গতকাল রোববার আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছে, ‘এটার অর্থ একটাই, তা হলো ট্রাম্পকে এখন অসম্ভব এক সামরিক অভিযান পরিচালনা অথবা ইরানের সঙ্গে একটি খারাপ চুক্তির মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প সুযোগগুলো কমে এসেছে।’


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম গেছে বেড়ে।


ইরানকে চাপ দিতে গত ১৩ এপ্রিল সব ইরানি বন্দরে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেল ও গ্যাস–সংকট আরও তীব্র হয়। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ২৯ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৬৫ ডলারের মতো।


ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে ‘খুব লাভজনক ব্যবসা’ বলার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে।


ট্রাম্প ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা পণ্যবাহী যান দখল করেছি। তেল দখল করেছি। এটি একটি খুব লাভজনক ব্যবসা। কে ভাবতে পেরেছিল যে আমরা জলদস্যুর মতো আচরণ করব! আমরা কিন্তু কোনো খেলা খেলছি না।’


এই মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘জলদস্যুতার এক নিন্দনীয় স্বীকারোক্তি’ বলে আখ্যা দেয়।


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি আল–জাজিরাকে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ট্রাম্পের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে এবং পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করছে।


ত্রিতা পারসি বলেন, ‘আলোচনা চলছিল এবং অবরোধ থাকুক বা না থাকুক, তা চলতে পারত।’


পারসি আরও বলেন, ‘নৌ অবরোধ ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং উল্টো এটি কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।’


তাঁর মতে, নৌ অবরোধ আরোপের আগে ট্রাম্প কূটনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন। যদি তিনি সেই অবস্থায় সময়কে কাজে লাগাতেন, তাহলে ইরানের বিপরীতে তিনি অনেক শক্ত অবস্থানে থাকতেন।


ট্রাম্প জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় একটি নৌ চলাচল বিষয়ক জোট গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ভাবছেন। এর নাম হতে পারে মেরিটাইম ফ্রিডম কন্সট্রাক্ট (এমএফসি)। এর উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।


যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটের মূল কাজ হবে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা, কূটনৈতিক সমন্বয় করা এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।



সর্বশেষ সব খবর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশসহ যে কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে আসুক না কেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন। যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী। শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।


ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকে শুরু হয়েছে জনগণনা। ১৬তম জনগণনায় প্রথমবারের মতো এবারই ব্যবহৃত হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি। প্রথমবার নাগরিকদের জন্য থাকছে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার বিশেষ সুযোগও। জনগণনা হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার নিজেদের তথ্য সরকারি পোর্টালে জমা দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে সেই তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিলিয়ে দেখবেন জনগণনার কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকরা।


এদিন জনগণনার আনুষ্ঠানিক সূচনার মঞ্চ থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে এমন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে আলাদা কিছু করছে না।


অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ বা প্রতিবেশী দেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।


তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’


এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

ভারতের রাজস্থানের জয়সলমেরে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি এসইউভির সংঘর্ষে এক মেজর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই সেনা কর্মকর্তা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


পুলিশের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জয়সলমের শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে থাইয়াত সেনা এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় তিন সেনা কর্মকর্তা এসইউভিটিতে করে সেনা ঘাঁটিতে ফিরছিলেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।


দুর্ঘটনার পর তিন সেনা কর্মকর্তাকেই দ্রুত সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মেজর হামজা আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হামজা আরিফের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক মাস আগে। দুর্ঘটনায় আহত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান ও লেফটেন্যান্ট অভিনব রাঠোর বর্তমানে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কাছের সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পাইপলাইন সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ এক বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাইপলাইনটি লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মিসরের বুক চিরে ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে।


ইরান ও তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতেও লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি পণ্য উত্তর দিকে রপ্তানির জন্য মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন এত দিন নিরাপদ রুট হিসেবে ভরসা জুগিয়েছে।


ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি নীল নদের অববাহিকায় অবস্থিত মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গত বুধবার ট্যাংকার দুটিতে ওই হামলা চালানো হয়। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং সুয়েজ খালে সরাসরি হামলার কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় উদ্বেগ যোগ করেছে।


পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এমএসটি মারকুই’-এর জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ ও ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করেও তেল পরিবহন এখন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে।’


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এ রুট দিয়ে বলতে গেলে কোনো ট্যাংকারই চলাচল করছে না। এ যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব তাদের বেশির ভাগ তেল লোহিত সাগর এবং দেশটির ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে শুরু করে। হুতিদের নতুন হুমকি ও হামলার কারণে ট্যাংকারগুলো এখন এই বাব আল-মানদেব তথা লোহিত সাগরের রুটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে।


বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইনের দিকে উত্তরমুখী চলাচলকারী সৌদি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হলো, এডেন উপসাগর হয়ে দক্ষিণ দিকের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে জাহাজগুলোকে।


২০ জুলাই লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ওই পাইপলাইন দিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। হুতিদের হুমকির পর জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।


জাহাজ চলাচলের গতিবিধি নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য, সুয়েজের ভূমধ্যসাগর প্রান্তের পোর্ট সাইড নোঙরখানায় প্রায় ৩০টি জাহাজ জড়ো হয়েছে। অথচ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও এ সংখ্যা ছিল ২০টির কাছাকাছি।


জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভোর্টেক্সা’-এর জর্জ মরিস বলেন, লোহিত সাগরে তেলবোঝাই করার পর ট্যাংকারগুলোর উত্তর দিকে; অর্থাৎ সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্টত বেড়েছে। আর এর মূল কারণ হুতিদের নতুন হুমকি (বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি)।


কেপলারের তথ্য বলছে, বাব আল-মানদেব দিয়ে দক্ষিণমুখী রুটে (এশিয়ার দিকে) তেলের প্রবাহ এখনো সচল থাকলেও তা চলতি মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জুনে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে বোঝাই করা তেলের ৮১ শতাংশ যেখানে দক্ষিণে গিয়েছিল, সেখানে জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশে। অনেক ট্যাংকার বাব আল-মানদেব সম্পূর্ণ এড়িয়ে চললেও চীনের মালিকানাধীন জাহাজসহ কিছু ট্যাংকার হুতিদের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে যাতায়াত করছে।


জর্জ মরিস জানান, হুতিদের হামলা আর নজরদারি এড়াতে এ দক্ষিণমুখী ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিজেদের অবস্থান লুকানোর চেষ্টাও বাড়ছে। ফলে ‘ট্র্যাকার’ বা অবস্থান শনাক্তকরণ যন্ত্র বন্ধ করে চলাচলকারী ট্যাংকারের সংখ্যা এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।


তবে মিসরে দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার ঘটনার মানে এ নয় যে সুয়েজ খাল এখনই কোনো তাৎক্ষণিক হুমকিতে পড়েছে, এমনটাই মনে করেন ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি’-এর আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের প্রধান অ্যালি ব্লেকওয়ে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাজার এখন পর্যন্ত সুয়েজ খালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি বা আশঙ্কা তৈরি করেনি।’


এ ড্রোন হামলার পরও গতকাল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মূলত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার খবরের দিকেই ব্যবসায়ীদের মূল নজর ছিল, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সামগ্রিক এ পরিস্থিতি নিয়ে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


বাজারে তেল পৌঁছানোর পথ আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হচ্ছে


ইরান হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ট্যাংকার অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো জ্বালানি রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।


অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় ইয়ানবু থেকে তেল বোঝাই করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজও পড়তে পারে।


হুতিরা এরই মধ্যে দেখিয়েছেন, তাঁদের ড্রোন ও রকেটের পাল্লার মধ্যে সুয়েজ খাল অঞ্চলও রয়েছে। তাঁরা একাধিকবার ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছুড়েছেন। যদিও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সেগুলো ভূপাতিত করার সুযোগও বেশি।


জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক দর নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস’-এর এলএনজি মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র বলেন, শুধু এ একটি কারণেই এখন জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যেতে পারে। মিসরে সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমাকারীরা সুয়েজ খালের জন্য বাড়তি “যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম” দাবি করতে পারেন।’ অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান এখনো (সুয়েজ নিয়ে) সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি দেয়নি।


একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সুয়েজ খালের কাছাকাছি মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোয় চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে শিপিং কোম্পানিগুলো।


যদিও মিসরের ভেতরে এ হামলাকে সুয়েজ খালের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের সাবেক বোর্ড সদস্য ওয়ায়েল কাদ্দুর বলেন, ‘খালটি সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।’


এ হামলার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল।


জর্জ মরিস বলেন, ‘জুনে এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ১৫ শতাংশই ইয়ানবু থেকে এসেছে। এ সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো বড় প্রভাবের মুখে পড়বে। বাব আল-মানদেবের বদলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সময় দ্বিগুণেরও বেশি লাগে। ফলে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় এক মাস বাড়তি লাগছে।’


অন্যান্য কারণেও সুয়েজ খাল দিয়ে বিশাল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বেশ জটিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিচের অংশ অনেক বেশি গভীর বা ভারী হওয়ায় তারা পুরোপুরি তেলবোঝাই অবস্থায় সুয়েজ খাল পার হতে পারে না। ফলে এ জাহাজগুলোকে প্রথমে সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল খালাস করতে হয়। এরপর ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর সেই তেল আবার জাহাজে তুলতে হয়।


হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বর্তমান সংকটে সুয়েজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্নের প্রভাবও হবে ব্যাপক।


সামুদ্রিক নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র‍্যান্সলেম বলেন, ‘সুয়েজ খাল অঞ্চলের যেকোনো স্থানে হামলা হলে যুদ্ধঝুঁকির বিমার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নও বদলে যাবে।’


ক্লেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, ‘সুয়েজ খালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে পড়বে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তার প্রভাব খুব দ্রুত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চললেও জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরার।


বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।


প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, এখন পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারের কাজ চলছে।


তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জীবিত কাউকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।


এর আগে বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক ছিলেন।


এদিকে জ্যেষ্ঠ খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ জানান, শক্তিশালী বিস্ফোরণে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিবদমান অঞ্চলে জারি করা হয়েছে কারফিউ। খবর আলজাজিরার।


মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন শাহ। তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে অস্থিরতার কালো মেঘ দূর করতে হবে।


কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চ স্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ শুরু হয়।


পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালালে দুই ব্যক্তি নিহত হন বলে জানান পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে । পরে বৃহস্পতিবার কারফিউ চলাকালেও পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়।


নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।


প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকার, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম সবার প্রতি তার আহ্বান, ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।


তিনি ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে জননিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

লেখিকা তসলিমা নাসরিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩০ পিএম

দীর্ঘ ১৯ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ফিরলেন আলোচিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর লেখিকাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্বাগত জানান তার অনুরাগী এবং বেশ কিছু সংগঠনের প্রতিনিধিরা।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সেক্যুলার মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য নামের দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে কলকাতায় ফিরেছেন লেখিকা। ওই দুই সংগঠনের নেতৃত্ব ওসমান মল্লিক এবং মোহিত রায় ছাড়াও এনসিপি দলের পক্ষে শিউলি সাহা এবং তসলিমার অনুরাগীদের একাংশ তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।


শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমাকে সংবর্ধনা জানানোর অনুষ্ঠান রয়েছে। পরদিন রোববার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিতে একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা।


এর আগে ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনী বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় তীব্র বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাকে রাতারাতি শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিল।


জানা গেছে, ২০০৭ সালের নভেম্বরে তীব্র আন্দোলনের মুখে কড়া নিরাপত্তায় তসলিমা নাসরিনকে তড়িঘড়ি করে রাজস্থানের জয়পুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে একটি হোটেলে তিনি অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করেন। তবে খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় কট্টরপন্থি সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে, যার ফলে তিনি মাত্র কয়েকদিন পরই জয়পুর ছাড়তে বাধ্য হন। অত্যন্ত গোপনীয়তায় তাকে নয়াদিল্লিতে এনে একটি সরকারি সেফ হাউসে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল। এই সময়টা কার্যত তার জন্য গৃহবন্দিত্বের মতো ছিল, যেখানে বাইরের কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ করার অনুমতি ছিল না।


পরে প্রবল বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে ২০০৮ সালের ১৯ মার্চ তিনি ভারত ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। ভারত ছেড়ে তিনি প্রথমে তার নাগরিকত্ব থাকা সুইডেনে চলে যান। এরপর নিরাপত্তা ও সাহিত্যিক কাজের সুবিধার্থে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছুকাল অবস্থান করেন।


২০০৯ সালের প্রথম দিকে প্যারিস শহর কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ আবাসনের সুযোগ দিলে তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের একটি বড় অংশ তিনি প্যারিসে বসবাস করেন এবং সেখানে বসেই ইউরোপের বিভিন্ন সাহিত্য সভায় যোগ দেন।


পশ্চিমবঙ্গে ফেরার তীব্র ইচ্ছা থেকে তিনি ২০১১ সালে আবারও ভারতে ফিরে আসেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে কলকাতায় তার ঢোকার অনুমতি মেলেনি। তবে ভারত সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে নয়াদিল্লিতেই পরবর্তীতে নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে একের পর এক মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগাররা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে ভারতে তার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তচিন্তা বিষয়ক সংগঠন ‘সেন্টার ফর ইনকোয়ারি’-এর সহায়তায় তিনি জীবন রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানে বেশ কিছু মাস কাটান।


উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর ইউরোপ-আমেরিকায় থাকলেও, তসলিমা সবসময়ই বাংলা সংস্কৃতির টানে কলকাতার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু ২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার পথ বন্ধ ছিল।

সর্বশেষ সব খবর