ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৩:০৫ এএম

টানা ২০ দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির আর কোনো সক্ষমতা নেই বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।


নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা বিজয়ী হচ্ছি, আর ইরান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপক মাত্রায় দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং তা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।


নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এখন সেই কারখানাগুলো ধ্বংস করছি, যেখানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বানানো হয়। পাশাপাশি, তারা যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, তার সরঞ্জাম তৈরির কারখানাগুলোও আমরা গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।’


তবে ইরান যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি নেতানিয়াহু।


এর আগে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার (শূন্যে নামিয়ে আনা) বিষয়ে সম্মত হয়েছিল জানিয়েছিলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল–বুসাইদি। তবে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।


জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলেও তারা বাধা দিচ্ছে।


এদিকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চললেও, সরকার পতনের দাবিতে ইরানিরা রাস্তায় নামবে কি না—তা এখনই বলার সময় আসেনি বলে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু।


তিনি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। সঠিক সময় বেছে নিয়ে তাদেরই রুখে দাঁড়াতে হবে।’


এখন পর্যন্ত যুদ্ধ মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু বলেন, এখানে স্থল অভিযানেরও প্রয়োজন রয়েছে এবং ‘এই স্থল অভিযানের জন্য অনেক ধরনের বিকল্প আমাদের হাতে আছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।


যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে আনার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, সেটিও অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু।


তিনি বলেন, ‘কেউ কি আসলেই মনে করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কী করতে হবে, তা অন্য কেউ বলে দিতে পারে?’



সর্বশেষ সব খবর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশসহ যে কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে আসুক না কেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন। যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী। শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।


ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকে শুরু হয়েছে জনগণনা। ১৬তম জনগণনায় প্রথমবারের মতো এবারই ব্যবহৃত হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি। প্রথমবার নাগরিকদের জন্য থাকছে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার বিশেষ সুযোগও। জনগণনা হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার নিজেদের তথ্য সরকারি পোর্টালে জমা দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে সেই তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিলিয়ে দেখবেন জনগণনার কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকরা।


এদিন জনগণনার আনুষ্ঠানিক সূচনার মঞ্চ থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে এমন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে আলাদা কিছু করছে না।


অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ বা প্রতিবেশী দেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।


তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’


এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

ভারতের রাজস্থানের জয়সলমেরে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি এসইউভির সংঘর্ষে এক মেজর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই সেনা কর্মকর্তা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


পুলিশের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জয়সলমের শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে থাইয়াত সেনা এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় তিন সেনা কর্মকর্তা এসইউভিটিতে করে সেনা ঘাঁটিতে ফিরছিলেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।


দুর্ঘটনার পর তিন সেনা কর্মকর্তাকেই দ্রুত সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মেজর হামজা আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হামজা আরিফের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক মাস আগে। দুর্ঘটনায় আহত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান ও লেফটেন্যান্ট অভিনব রাঠোর বর্তমানে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কাছের সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পাইপলাইন সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ এক বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাইপলাইনটি লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মিসরের বুক চিরে ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে।


ইরান ও তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতেও লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি পণ্য উত্তর দিকে রপ্তানির জন্য মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন এত দিন নিরাপদ রুট হিসেবে ভরসা জুগিয়েছে।


ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি নীল নদের অববাহিকায় অবস্থিত মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গত বুধবার ট্যাংকার দুটিতে ওই হামলা চালানো হয়। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং সুয়েজ খালে সরাসরি হামলার কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় উদ্বেগ যোগ করেছে।


পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এমএসটি মারকুই’-এর জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ ও ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করেও তেল পরিবহন এখন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে।’


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এ রুট দিয়ে বলতে গেলে কোনো ট্যাংকারই চলাচল করছে না। এ যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব তাদের বেশির ভাগ তেল লোহিত সাগর এবং দেশটির ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে শুরু করে। হুতিদের নতুন হুমকি ও হামলার কারণে ট্যাংকারগুলো এখন এই বাব আল-মানদেব তথা লোহিত সাগরের রুটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে।


বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইনের দিকে উত্তরমুখী চলাচলকারী সৌদি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হলো, এডেন উপসাগর হয়ে দক্ষিণ দিকের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে জাহাজগুলোকে।


২০ জুলাই লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ওই পাইপলাইন দিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। হুতিদের হুমকির পর জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।


জাহাজ চলাচলের গতিবিধি নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য, সুয়েজের ভূমধ্যসাগর প্রান্তের পোর্ট সাইড নোঙরখানায় প্রায় ৩০টি জাহাজ জড়ো হয়েছে। অথচ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও এ সংখ্যা ছিল ২০টির কাছাকাছি।


জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভোর্টেক্সা’-এর জর্জ মরিস বলেন, লোহিত সাগরে তেলবোঝাই করার পর ট্যাংকারগুলোর উত্তর দিকে; অর্থাৎ সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্টত বেড়েছে। আর এর মূল কারণ হুতিদের নতুন হুমকি (বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি)।


কেপলারের তথ্য বলছে, বাব আল-মানদেব দিয়ে দক্ষিণমুখী রুটে (এশিয়ার দিকে) তেলের প্রবাহ এখনো সচল থাকলেও তা চলতি মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জুনে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে বোঝাই করা তেলের ৮১ শতাংশ যেখানে দক্ষিণে গিয়েছিল, সেখানে জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশে। অনেক ট্যাংকার বাব আল-মানদেব সম্পূর্ণ এড়িয়ে চললেও চীনের মালিকানাধীন জাহাজসহ কিছু ট্যাংকার হুতিদের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে যাতায়াত করছে।


জর্জ মরিস জানান, হুতিদের হামলা আর নজরদারি এড়াতে এ দক্ষিণমুখী ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিজেদের অবস্থান লুকানোর চেষ্টাও বাড়ছে। ফলে ‘ট্র্যাকার’ বা অবস্থান শনাক্তকরণ যন্ত্র বন্ধ করে চলাচলকারী ট্যাংকারের সংখ্যা এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।


তবে মিসরে দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার ঘটনার মানে এ নয় যে সুয়েজ খাল এখনই কোনো তাৎক্ষণিক হুমকিতে পড়েছে, এমনটাই মনে করেন ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি’-এর আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের প্রধান অ্যালি ব্লেকওয়ে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাজার এখন পর্যন্ত সুয়েজ খালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি বা আশঙ্কা তৈরি করেনি।’


এ ড্রোন হামলার পরও গতকাল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মূলত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার খবরের দিকেই ব্যবসায়ীদের মূল নজর ছিল, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সামগ্রিক এ পরিস্থিতি নিয়ে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


বাজারে তেল পৌঁছানোর পথ আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হচ্ছে


ইরান হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ট্যাংকার অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো জ্বালানি রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।


অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় ইয়ানবু থেকে তেল বোঝাই করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজও পড়তে পারে।


হুতিরা এরই মধ্যে দেখিয়েছেন, তাঁদের ড্রোন ও রকেটের পাল্লার মধ্যে সুয়েজ খাল অঞ্চলও রয়েছে। তাঁরা একাধিকবার ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছুড়েছেন। যদিও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সেগুলো ভূপাতিত করার সুযোগও বেশি।


জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক দর নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস’-এর এলএনজি মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র বলেন, শুধু এ একটি কারণেই এখন জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যেতে পারে। মিসরে সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমাকারীরা সুয়েজ খালের জন্য বাড়তি “যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম” দাবি করতে পারেন।’ অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান এখনো (সুয়েজ নিয়ে) সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি দেয়নি।


একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সুয়েজ খালের কাছাকাছি মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোয় চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে শিপিং কোম্পানিগুলো।


যদিও মিসরের ভেতরে এ হামলাকে সুয়েজ খালের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের সাবেক বোর্ড সদস্য ওয়ায়েল কাদ্দুর বলেন, ‘খালটি সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।’


এ হামলার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল।


জর্জ মরিস বলেন, ‘জুনে এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ১৫ শতাংশই ইয়ানবু থেকে এসেছে। এ সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো বড় প্রভাবের মুখে পড়বে। বাব আল-মানদেবের বদলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সময় দ্বিগুণেরও বেশি লাগে। ফলে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় এক মাস বাড়তি লাগছে।’


অন্যান্য কারণেও সুয়েজ খাল দিয়ে বিশাল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বেশ জটিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিচের অংশ অনেক বেশি গভীর বা ভারী হওয়ায় তারা পুরোপুরি তেলবোঝাই অবস্থায় সুয়েজ খাল পার হতে পারে না। ফলে এ জাহাজগুলোকে প্রথমে সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল খালাস করতে হয়। এরপর ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর সেই তেল আবার জাহাজে তুলতে হয়।


হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বর্তমান সংকটে সুয়েজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্নের প্রভাবও হবে ব্যাপক।


সামুদ্রিক নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র‍্যান্সলেম বলেন, ‘সুয়েজ খাল অঞ্চলের যেকোনো স্থানে হামলা হলে যুদ্ধঝুঁকির বিমার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নও বদলে যাবে।’


ক্লেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, ‘সুয়েজ খালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে পড়বে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তার প্রভাব খুব দ্রুত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চললেও জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরার।


বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।


প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, এখন পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারের কাজ চলছে।


তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জীবিত কাউকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।


এর আগে বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক ছিলেন।


এদিকে জ্যেষ্ঠ খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ জানান, শক্তিশালী বিস্ফোরণে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিবদমান অঞ্চলে জারি করা হয়েছে কারফিউ। খবর আলজাজিরার।


মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন শাহ। তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে অস্থিরতার কালো মেঘ দূর করতে হবে।


কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চ স্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ শুরু হয়।


পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালালে দুই ব্যক্তি নিহত হন বলে জানান পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে । পরে বৃহস্পতিবার কারফিউ চলাকালেও পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়।


নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।


প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকার, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম সবার প্রতি তার আহ্বান, ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।


তিনি ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে জননিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

লেখিকা তসলিমা নাসরিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩০ পিএম

দীর্ঘ ১৯ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ফিরলেন আলোচিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর লেখিকাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্বাগত জানান তার অনুরাগী এবং বেশ কিছু সংগঠনের প্রতিনিধিরা।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সেক্যুলার মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য নামের দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে কলকাতায় ফিরেছেন লেখিকা। ওই দুই সংগঠনের নেতৃত্ব ওসমান মল্লিক এবং মোহিত রায় ছাড়াও এনসিপি দলের পক্ষে শিউলি সাহা এবং তসলিমার অনুরাগীদের একাংশ তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।


শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমাকে সংবর্ধনা জানানোর অনুষ্ঠান রয়েছে। পরদিন রোববার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিতে একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা।


এর আগে ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনী বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় তীব্র বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাকে রাতারাতি শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিল।


জানা গেছে, ২০০৭ সালের নভেম্বরে তীব্র আন্দোলনের মুখে কড়া নিরাপত্তায় তসলিমা নাসরিনকে তড়িঘড়ি করে রাজস্থানের জয়পুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে একটি হোটেলে তিনি অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করেন। তবে খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় কট্টরপন্থি সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে, যার ফলে তিনি মাত্র কয়েকদিন পরই জয়পুর ছাড়তে বাধ্য হন। অত্যন্ত গোপনীয়তায় তাকে নয়াদিল্লিতে এনে একটি সরকারি সেফ হাউসে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল। এই সময়টা কার্যত তার জন্য গৃহবন্দিত্বের মতো ছিল, যেখানে বাইরের কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ করার অনুমতি ছিল না।


পরে প্রবল বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে ২০০৮ সালের ১৯ মার্চ তিনি ভারত ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। ভারত ছেড়ে তিনি প্রথমে তার নাগরিকত্ব থাকা সুইডেনে চলে যান। এরপর নিরাপত্তা ও সাহিত্যিক কাজের সুবিধার্থে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছুকাল অবস্থান করেন।


২০০৯ সালের প্রথম দিকে প্যারিস শহর কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ আবাসনের সুযোগ দিলে তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের একটি বড় অংশ তিনি প্যারিসে বসবাস করেন এবং সেখানে বসেই ইউরোপের বিভিন্ন সাহিত্য সভায় যোগ দেন।


পশ্চিমবঙ্গে ফেরার তীব্র ইচ্ছা থেকে তিনি ২০১১ সালে আবারও ভারতে ফিরে আসেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে কলকাতায় তার ঢোকার অনুমতি মেলেনি। তবে ভারত সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে নয়াদিল্লিতেই পরবর্তীতে নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে একের পর এক মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগাররা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে ভারতে তার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তচিন্তা বিষয়ক সংগঠন ‘সেন্টার ফর ইনকোয়ারি’-এর সহায়তায় তিনি জীবন রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানে বেশ কিছু মাস কাটান।


উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর ইউরোপ-আমেরিকায় থাকলেও, তসলিমা সবসময়ই বাংলা সংস্কৃতির টানে কলকাতার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু ২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার পথ বন্ধ ছিল।

সর্বশেষ সব খবর