ছবি- সংগৃহীত
শাসনের সীমানা নির্ধারণের জন্য উনিশ শতকে ব্রিটিশদের তৈরি করা একটি রেখা ২০২৬ সালে এসেও সংঘাতের ক্ষেত্রে পরিণত হলো। ২০২১ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসার পর পাকিস্তানের সঙ্গে এই সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে ৭৪টি। শুক্রবার ৭৫ নম্বর সংঘর্ষকে ‘সম্মুখ বা প্রকাশ্য যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। প্রতিবেশী দুই দেশের বিবাদমান এই সীমান্তের নাম ‘ডুরান্ড লাইন’।
সিআইএর নথির তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯৩ সালে ভারত আর আফগানিস্তানকে ভাগ করতে এই সীমান্ত রেখা তৈরি করে দেন তৎকালীন ব্রিটিশ কর্মকর্তা স্যার মর্টিমার ডুরান্ড। আফগানিস্তানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন শাসক আব্দুর রহমান খান। কিন্তু এতে পশতুন সম্প্রদায় ভিন্ন দুই দেশে বিভক্ত হওয়ায় ‘ডুরান্ড লাইন’ ঘিরে বিতর্ক এখনো টিকে আছে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর ইসলামাবাদ রেখাটিকে স্বীকৃতি দিলেও আফগানিস্তান অস্বীকার করে আসছে।
প্রায় ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তে পাকিস্তানের দুই প্রদেশ বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া। বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত ঘিরে সংঘাতের বড় ধাক্কা সামলাচ্ছেন প্রদেশ দুটির বাসিন্দারা।
পাকিস্তানের দাবি, এই অঞ্চলকেন্দ্রিক জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেয় আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এসব সন্ত্রাসীদের দমন করতেই তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে টিটিপিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ২০২১ সালে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই অস্বীকার করছে কাবুলের বর্তমান প্রশাসন।
উত্তেজনার কেন্দ্রে টিটিপি
আলজাজিরা বলছে, টিটিপি ২০০৭ সালে পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করলেও তালেবানের সঙ্গে তাদের গভীর আদর্শিক, সামাজিক ও ভাষাগত সম্পর্ক আছে। গত কয়েক বছর ধরে খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)’ ও টিটিপি সশস্ত্র হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, তালেবান সরকার এসব হামলার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।
টিটিপির বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলে গত বছরের অক্টোবরে কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। এরপর দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েকদিন সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭০ জন প্রাণ হারান। পরে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা কয়েকদিনের মধ্যে ভেঙে পড়ে।
দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে সংঘাতের শুরুটা হয় ২০২১ সালে। সে বছর আফগানিস্তান থেকে চলে যায় ন্যাটো ও মার্কিন সেনারা। ক্ষমতায় বসে তালেবান। ন্যাটো ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর কাজ করেছেন আফগান বংশোদ্ভূত সামি ওমারি। তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ের বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার আলজাজিরাকে সামি জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ২০২১ সালের পর মোট ৭৫টি সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবারের ঘটনাসহ পাকিস্তান সাত দফায় কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড বলেছেন, দেশ দুটির মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং গত কয়েক মাস ধরে চলা চরম উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ।
থ্রেলকেল্ড বলেন, ‘এর মাঝে আমরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হতে দেখেছি। একের পর এক ওই হামলাগুলোর পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হওয়া এবং পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নেওয়াতে আমি মোটেও অবাক হইনি।’
তালেবান কেন টিটিপিকে থামায় না
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা’ -এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ডে আলজাজিরাকে বলেন, ‘আফগান তালেবান সম্ভবত টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক।’
এর পেছনে দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন পান্ডে। প্রথমত, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সখ্যতা। অন্য কারণটি ‘ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)’ কেন্দ্রিক। এই সংগঠনটি তালেবানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। বিরোধীতা করলে টিটিপি আইএসকেপিতে যোগ দিতে পারে বলে শঙ্কা আছে তালেবানদের মধ্যে।
পার্ল পান্ডে বলেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন হয়েছে যে, আফগান তালেবান যদি টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তবে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি অনিবার্য।
সংঘাত কেন সীমান্তে তীব্র
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তান বিমান হামলা চালালেও আকাশপথে পাল্টা জবাব দিতে পারেনি তালেবান। আলজাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানিয়েছেন, কাবুলের কোনো বিমান বাহিনী নেই। ফলে আন্তঃসীমান্ত হামলার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ সুবিধাজনক অবস্থায় আছে।
পাকিস্তানের বাহিনী কি সীমান্ত অতিক্রম করবে? কামাল হায়দার বলেছেন, এর সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ভারী কামানের গোলা ব্যবহার করে সীমান্তে উভয় পক্ষের ক্রমাগত গুলি বিনিময় চলতেই থাকবে- এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কেন ডুরান্ড লাইনে অস্বীকৃতি
ব্রিটিশদের তৈরি করা এই রাজনৈতিক সীমান্ত রেখা ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সর্বজন স্বীকৃত ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হলে আফগানিস্তান রেখাটিকে সীমানা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
২০১২ সালে প্রকাশিত সিআইএর একটি নথিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের এই প্রত্যাখ্যানের মূল ভিত্তি হলো- ডুরান্ড চুক্তি। এতে ডুরান্ড লাইনকে সীমানা হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। বিষয়টির ব্যাখ্যায় সিআইএর প্রতিবেদনে স্যার ওলাফ ক্যারো নামে এক বিশেষজ্ঞের মন্তব্য যুক্ত করা হয়।
ওলাফ ক্যারোর মতে, চুক্তিটির সময় ডুরান্ড লাইনকে তৎকালীন আফগান শাসক আব্দুর রহমানের শাসনের সীমানা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কারণ পশতুন সম্প্রদায়কে ব্রিটিশরা তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি। তাই তারা এই রেখার মাধ্যমে পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের অঞ্চল থেকে আব্দুর রহমানের কর্তৃত্ব বাদ দিয়ে নিজেদের (ব্রিটিশ) কর্তৃত্ব বিস্তার করতে চেয়েছিল। তাই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এর কোনো গুরুত্ব ছিল না।
ভারতীয় গণমাধ্যম মিন্ট বলছে, তালেবানসহ আফগানিস্তানের পরবর্তী প্রতিটি সরকারই ডুরান্ড লাইনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের যুক্তি, এই রেখাটি জাতিগত পশতুন ও বেলুচ সম্প্রদায়ের মাতৃভূমিকে দ্বিখণ্ডিত করেছে।
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।