• প্রকাশ : শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১২:১০ পিএম

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের রিটার্নিং কর্মকতা ও সহকারি রিটার্রি কর্মকর্তা কারা থাকবেন তাও চুড়ান্ত করা হয়েছে।

সিলেটের রির্টানিং ও সহকারি রির্টানিং অফিসার যারা

সিলেট ১ঃএই আসনে রির্টানিং অফিসার হিসেবে দায়িকত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯নং ওয়ার্ডে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন সিলেচের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)। এছাড়া ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯,২০ ও ২১নং ওয়ার্ডে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন সিলেট নির্বাচন অফিসের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা সাইদুর রহমন এবং ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সিলেট ২ঃ বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট ২ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

সিলেট ৩ঃ সিলেট সিটির ২৮, ২৯ ,৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নং ওয়ার্ডের পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন সিটি ওয়ার্ড ও দক্ষিণ সুরমার দায়িত্বে থাকবেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নির্বাহী অফিসার। সেই সাথে থাকবেন ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সিলেট ৪ঃ কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সিলেট ৫ঃ কানাইঘাট, জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন। আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন কানাইঘাট, জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সিলেট ৬ঃ বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

মৌলভীবাজার ১ : বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার-১ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

মৌলভীবাজার ২ : কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

মৌলভীবাজার ৩ : সদর ও রায়জনগর উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার ৩ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

মৌলভীবাজার ৪ : শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

হবিগঞ্জ ১ : নবীগঞ্জ ও বাহুবল নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসন। এ আসনে এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন বাহুবল ও নবীগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

হবিগঞ্জ ২ :আজমেরিগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন আজমেরিগঞ্জ ও বানিয়াচং সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

হবিগঞ্জ ৩ :হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

হবিগঞ্জ ৪ : চুনারুঘাট ও মাধবপুর নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

সুনামগঞ্জ ১ : ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

সুনামগঞ্জ ২ : দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন দিরাই ও শাল্লা উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

সুনামগঞ্জ ৩ : জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

সুনামগঞ্জ ৪ : সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

সুনামগঞ্জ ৫ : ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৫ আসন। এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার।

বিষয় : সিলেট




ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।


থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।


ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।


সংসদ সদস্য, তাঁর পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।


একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।


পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’


ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’


মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’


ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’


ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’


নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তাঁর সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’


ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ তুলে ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।


অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।


জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।


বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।


নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।


কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। 


বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। 


বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।


প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।


সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।


রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।