• প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন,সিলেটের অঞ্চলের মৌলিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সাংবাদিকেরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার যেসব সমস্যা যে মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত, সেগুলো সমাধানে তিনি কাজ করার আশ্বাস দেন।


সিলেটের দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। এমনকি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়, সে বিষয়েও সরকার উদ্যোগ নেবে।  শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাব-নূর ফাউন্ডেশন আয়োজিত শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকার সহ-সভাপতি তোফায়েল খান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শুধু সিলেট নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়েরাও এ সহায়তার আওতায় আসবে। মেধার বিকাশে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট অঞ্চলে শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশনের পক্ষ শনিবার প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসার জন্যও দেশব্যাপী আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষও এ সহায়তার আওতায় রয়েছেন।


সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


সভাপতির বক্তব্যে নূর ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর বলেন, শিক্ষার প্রসার ও মানুষের কল্যাণের চিন্তা থেকেই নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে শিক্ষার প্রতি তাঁর পরিবারের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর প্রবাসী ভাইয়ের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি জানান, পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকেও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ফাউন্ডেশনের তহবিল এক কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। এ অর্থ ওয়াক্ফভিত্তিক স্থায়ী আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করে এর আয় থেকে প্রতিবছর শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।


সিলেট প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে মুকতাবিস উন নূর বলেন, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৫০ হাজার টাকার অনুদানের মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ভবনটির সম্প্রসারণ ঘটে। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সিলেট প্রেসক্লাবকে সাততলা ভবনে রূপ দেওয়ার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামসুল ইসলাম বলেন, নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা উদ্যোগ সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ও তাঁদের সন্তানদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজকে আলোকিত করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


তিনি বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা এবং তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা ও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বেশি মানুষকে জানানো গেলে শ্রমজীবী পরিবারগুলো উপকৃত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


শামসুল ইসলাম আরও বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিশুর স্বপ্ন নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষা প্রসার, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সিলেট প্রেসক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকার সহ-সভাপতি তোফায়েল খান তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক ও দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করেন। 


তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে অবহেলিত মানুষের দুর্দশা ও বঞ্চনার চিত্র উঠে আসে, যা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সিলেট প্রেসক্লাবের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাবের নেতারা সাংবাদিকদের চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর কল্যাণ তহবিল গঠনের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেক সাংবাদিককে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। তাঁদের চিকিৎসা ও দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি। বক্তারা সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ট্রেনের আসন ও টিকিট সংকট, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে জটিলতা এবং প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা সহজ করার বিষয়েও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সিলেটবাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, সাবেক সহসভাপতি জিয়াউস শামস শাহীন, সহ-সভাপতি ফয়সল আলম, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরোপ্রধান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দৈনিক নয়াদিগন্তের ব্যুরোপ্রধান আব্দুল কাদের তাপাদার, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ফয়ছল আমিন ও প্রেসক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ বক্তব্য দেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য এম এ মতিন। পরে অতিথিকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। অনুষ্ঠানে মোট ১৮ জনের হাতে শিক্ষা সহায়তার অর্থ প্রদান করা হয়।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।


অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।


জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।


বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।


নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।


কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। 


বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। 


বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।


প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।


সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।


রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। 


সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।


আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।


মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।


রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।


এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।


রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।