• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ এএম

সিলেটে 'সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব' শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ, সিলেটের উদ্যোগে রবিবার বিকেলে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এর আয়োজন করা হয়।উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ সিলেটের সভাপতি ও সিংহবাড়ির সন্তান জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক ও লেখক সঞ্জয় কুমার নাথ ও বচিক শাশ্বতী ঘোষ সোমার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেটের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সম্মানিত বিশেষ অতিথি ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, রাজেশ ভাটিয়া ও দৈনিক আগামীর সময়ের আবাসিক সম্পাদক আহমেদ নুর।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপিস্থিত ছিলেন সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, উত্তরা ব্যাংকের অব. জি.এম, সমাজসেবী নিরেশ চন্দ্র দাশ, বিশিষ্ট লেখক-গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, গবেষক-সাংবাদিক সুমন কুমার দাশ, গল্পকার জামান মাহবুব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অব. পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুন চন্দ্র পাল, তথ্য চিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, অব. শিক্ষয়িত্রী শিলা সাহা, অধ্যাপক অনবীর রায়, এপেক্সিয়ান জিডি রুমু, কবি সুমন বনিক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জ্যোতিমোহন বিশ্বাস, সাংস্কৃতিকজন কৃষ্ণা তালুকদার কনিকা, কবি পুলিন রায়, এ্যাডভোকেট ফণী ভূষণ সরকার, লেখক বিনয় ভূষণ তালুকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক ম্যানেজার দীপক দাশ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জয়তী ঘোষ লোনা, শাবিপ্রবির সহকারী রেজিস্ট্রার অসিত কুমার সূত্রধর, অধ্যাপক কিরিটি পাল, সহকারী অধ্যাপক ইন্দ্রজিত রায়, অব. শিক্ষক নরেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ প্রাণদীশ দেব, সমাজ হিতৈষী রামাকান্ত গুপ্ত রুপু, সংগীত শিল্পী বিমান তালুকদার, চলন্তিকা প্রিন্টার্সের ম্যানেজার মোঃ আব্দুর রহিম, সংগীত শিল্পী মিনাক্ষী ভট্টাচার্য্য, সুমন চন্দ্র তালুকার, অপূর্ব কুমার দাস, আব্দুল হাই, শিপ্রা রানী নাথ, চম্পা রায়, নীলকণ্ঠ দাস ও শংকরী দাস প্রমুখ। সিংহবাড়ির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রভাতী সিংহ মজুমদার, পরমা সিংহ মজুমদার। এছাড়া সিলেটের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেটে অবস্থান করেছিলেন। এসময় তিনি নগরের চৌহাট্টাস্থ ঐতিহ্যবাহী সিংহবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, যা সিলেটবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়।


অনুষ্ঠানের সভাপতি জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন বলেন, কবি নজরুলের সিলেট আগমন শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কবির স্মৃতি, সাহিত্য ও সংগীতচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, 'বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ইতিহাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান চিরস্মরণীয়। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অগ্নিঝরা বাণী তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা আজও সমাজকে আলোকিত করছে। তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, দ্রোহ, মানবমুক্তি ও চেতনার কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


বক্তারা আরও বলেন, “১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কবির সিলেট আগমন এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে সিংহবাড়িতে তাঁর অবস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা আজও মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। সেই ইতিহাস ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব আয়োজন করা হয়েছে।


তারা বলেন, 'বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, অসহিঞ্চুতা ও সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্যে নজরুলের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাঁর রচনা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ন্যায়বোধ, ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ইতিহাস নতুনভাবে আলোচনায় আসবে।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে কবির বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরা হবে বলেও জানান তারা। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্ব শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। উদ্বোধনী সংগীত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর পরিবেশিত হয় নজরুল সংগীত । এতে দলীয় ও একক পরিবেশনায় অংশ নেন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সিলেট। শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হিমাংশু বিশ্বাস, সুকোমল সেন ও বিজন কুমার রায়। এছাড়া ললিতকলা একাডেমি, সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন, বিপ্রদাশ ভট্টাচার্য । সঙ্গীত নিকেতন সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন প্রদীপ দে। এ পর্বে আরও পরিবেশিত হয় ‘সুর ও বাণী, সিলেট এবং 'সুরের ভুবন, সিলেট'-এর পরিবেশনা। 


পরিচালনায় ছিলেন পদ্মীনী ইমন ও মনোজ কান্তি ভট্টাচার্য মান্না। নজরুল সংগীতের একক পরিবেশনায় অংশ নেন ডা. বর্ষা মজুমদার পাপড়ি ও অরুনিমা দাশ, আনন্দলোক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন জ্যোতি ভট্টাচার্য্য, পরিচালক চারুবাক এবং সুকান্ত গুপ্ত পরিচালক শ্রুতি । দলীয় নৃত্যে অংশ নেয় 'নৃত্যরথ'। পরিচালনায় ছিলেন পপি দাশ। নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন ললিত মঞ্জুরী। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন, জ্যোতির্ময় ধর সৌরভ, কী-বোর্ডে সুদীপ চক্রবর্তী এবং অক্টোপ্যাডে সুদীপ পাল, তবলায় প্রসেন রায়। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। এ পর্বে পরিবেশিত হয় স্বরচিত বন্ধনা। পরিবেশনায় ছিলেন, সিংহবাড়ির সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম প্রবাসী ড. শর্মিলা সেন ঊর্মি, একমাত্র কন্যা আনন্দী সেন ও একমাত্র পুত্র অনিরুদ্ধ সেন। তবলায় সহযোগিতা করেন ঊর্মির স্বামীর ড. অরিজিৎ সেন দীপ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সকলকে জলযোগে আপ্যায়িত করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে সিংহবাড়িতে কবি নজরুল শতবর্ষ স্মারক উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সরাসরি নজরুলের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন করুণ দাস কিরণ। অনুষ্ঠানে অতিথি ও শিল্পীদের উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।


এদিকে,সিলেটে কবি নজরুলের আগমন ও সিংহবাড়িতে অতিথেয়োতা গ্রহণের শতবর্ষ স্মরণোৎসবকে সামনে রেখে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন আয়োজকরা। বিকেল ৫টায় সিলেট নগরের জিন্দাবাজারস্থ হোটেল গোল্ডেন সিটির করফারেন্স কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


এ সভায় স্মরণোৎসবের আয়োজক উপেন্দ্র-বীণাপানি স্মৃতি পরিষদের সভাপতি জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন সাংবাদিকদের উদ্দেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘সিংহবাড়ি’ তেমনই এক স্মৃতিধন্য স্থান, যেখানে পদধূলি পড়েছিল বাংলা সাহিত্যের দুই মহাতারকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের। তাঁদের আগমন কেবল একটি পরিবারের গৌরব নয়; এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে ধারণ করে আমার পিতা-মাতার নামে গঠিত ‘উপেন্দ্র-বীণপাণি স্মৃতি পরিষদ’ কর্তৃক আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’। 


সিংহবাড়ির সঙ্গে কবি নজরুলের সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি জানান, গভীর মানবিকতাতেও ভরপুর হৃদয় নিয়ে ১৯২৬ সালে অসুস্থ অবস্থায় তিনি যখন সিলেটে অবস্থান করেছিলেন, তখন সিংহবাড়ির সদস্যদের আন্তরিক সেবা ও ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই সম্পর্কের উজ্জ্বল সাক্ষী হয়ে আছে সিংহবাড়ির কন্যা লীলাবতী মজুমদারের উদ্দেশ্যে তাঁর লেখা হৃদয়ছোঁয়া কবিতা। 


তিনি বলেন, আমার আপন জ্যেঠ্তুতো বোন লীলাবতী মজুমদারের সুরেলা কণ্ঠে গান শুনে কাজী নজরুল ইসলাম বিমোহিত হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক কবি লিখেছিলেন-‘তোমার কণ্ঠে বাঁধিয়াছে নীড় সুরের দেশের পাখি-সুরেশ্বরের হস্তে বাঁধুক তোমার সুরের রাখী।

উষসীর বাণী এনেছো বহিয়া আকুল কণ্ঠে পুরে ফুলঝুরি সম তৃষিত ধরায় পড়–ক তাহাই ঝরে।

হেম-গিরি তলে কাঁদে যে নিঝর প্রকাশের পথ খুঁজি, তোমার কণ্ঠে শুমরিছে আজো তারি আকুলতা বুঝি!


'সিলেটে সিংহবাড়িতে কবি নজরুল: শতবর্ষ স্মরণোৎস'- আয়োজন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এ মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন গদ্যলেখক ও শিক্ষক সঞ্জয় কুমার নাথ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকা শিলা সাহা, শিক্ষিকা শ্বাশতী ঘোষ সোমা, জয়তী ঘোষ লুনা প্রমুখ




ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।


থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।


ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।


সংসদ সদস্য, তাঁর পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।


একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।


পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’


ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’


মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’


ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’


ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’


নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তাঁর সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’


ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ তুলে ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।


অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।


জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।


বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।


নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।


কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। 


বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। 


বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।


প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।


সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।


রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।