রাস্তার নামে খাস জমি লীজ নিয়ে সেটিকে ব্যক্তিগত দখলে রাখা এবং বহুতল ভবনের মালিক হয়েও ১৩ শতাংশ জমি লীজ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর নগরীর আবু শামীম গংএর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা বলেন সরকারি জমি রাস্তা হিসেবে লীজ নিয়ে সেখানে দেয়াল ও লোহার গেট নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে জমিটি বর্তমানে অভিযুক্তের দখলে। সেই জমি বন্ধ থাকায় আশেপাশের বেশ কয়েক পরিবারের মানুষকে জীর্ণশীর্ণ সরু পথ ও মানুষের বাড়ির উঠান দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
এ নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী শাহিনুর খাতুন বলেন, জুন মাসের ৭ তারিখ হঠাৎ কিছু ছেলেরা এসে ঘর-দুয়ার ভেঙে দেয়। কোনো সরকারি লোক ভেঙে দেয়নি। রাস্তার জন্য ঘর সরাইছি, রাস্তা তো আমরা পাইনি।
আরেক স্থানীয় ভুক্তভোগী বলেন, একদিন দেখি মাহিগঞ্জ থেকে তফসিলদার আসছে, এডিসি আসছে। তারা এসে পরিস্থিতি দেখতেছে আর জিজ্ঞাসা করতেছে, রাস্তার কথাই বলছে। তখন আমি বলি স্যার, রাস্তায় যদি হয় তাহলে গেট লাগানো কেনো।
উক্ত জমির এস. এ. রের্কড অনুযায়ী রংপুর জেলার আলমনগর মৌজায় জে.এল. নং ৯৬, এস.এ. খতিয়ান নং ১৭৯৭ এ ৩৭৪৩ দাগের ৫শতক এবং ৩৭৪৬ দাগের ৫২ শতক মোট ৫৭ শতকের মূল মালিক সেলিনা বেগম। যিনি একজন অবাঙ্গালীনি এবং বিগত স্বাধীনতা যুদ্ধে তার জমি পতিত অবস্থায় ফেলে রেখে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেলে রাষ্ট্রীয় বিধি মোতাবেক উক্ত ৫৭ শতক জমি পরিত্যাক্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে বিভিন্ন সময় সেই জমি জেলা প্রশাসন রংপুর থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে লীজ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত আবু শামীম, তার মা মৃত আফরোজা বেগমের পরিবার তারাও এই মোট জমির ১৩ শতাংশের লীজ গ্রহণকারী। তারা তাদের জমির সামনের আংশে থাকা বাকি দুই শতক জমি লীজের আবেদন করলে তৎকালীন জেলাপ্রশাসক তার আবেদন বাতিল করেন। লীজ আবেদন বাতিল করলে আফরোজা বেগম বাদি হয়ে জেলা প্রশাসক ও শাহিনুর খাতুনের নামে উর্দ্ধতন জজ আদালত, সদর, রংপুরে শাহিনুর খাতুনের টিনের চালা অপসারণ ও খাস দখলের মামলা করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার জবাব দেওয়া হয়। সেই মামলায় বাদীপক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ এ মামলাটি খারিজ করে দেন। জবাবে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট উল্লেখ করেন বাদিনী আফরোজা বেগমের আরজীর অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন কারণ পরিত্যাক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী শহরের গৃহহীন অসচ্ছল পরিবারকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এক সনা মেয়াদি লিজ প্রদান করা হয়। যেহেতু বাদিনি সচ্ছল ও একাধিক বহুতল ভবনের মালিক গৃহহীনকে লিজ প্রদানের উদ্দেশ্যে বাদিনীর লিজ বাতিল করা হয়।
লীজের অনুমোদন বাতিল হলেও পরে কৌশলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে ২ শতক খাস জমি লীজ নেওয়া হয়। শর্ত ছিল, জমিটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু লীজ পাওয়ার পর সেখানে দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেন আবু শামীম গং। এতে আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ অন্যের বাড়ির উঠান ও সরু গলিপথ ব্যবহার করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন স্থানীয় কামরুল হাসান টিটু এবং আলমগীর হোসেন অপু । সেই দায়েরকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, রংপুর মহানগর রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসের অধীন আলমনগর মৌজা, জে.এল. নং-৯৬, এস.এ খতিয়ান নং-১৭৯৭-এর ৩৭৪৩ ও ৩৭৪৬ দাগভুক্ত মোট ০.৫৭ একর সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তির মধ্যে ০.১৩ একর জমি (এপি কেস নং-৪/৮৫-৮৬) আবু শামীম, পিতা মৃত ওয়াজেদ আলী, নিজ নামে, বেনামে এবং ভাই-বোনদের নামে বেআইনিভাবে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ভূমিহীনরা সরকারি জমির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং তাদের উচ্ছেদ, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আলমনগর মৌজার এস.এ খতিয়ান নং-১৭৯৭-এর ৩৭৪৩ ও ৩৭৪৬ দাগে ২৫.৫ শতক জমির মালিকানা দাবি করে আবু শামীমের মা মৃত আফরোজা বেগম ১২ আগস্ট ২০১৪ তারিখে সহকারী জজ আদালত, সদর, রংপুরে অন্য মামলা নং-১৫৫/১৪ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি জমি দখলের উদ্দেশ্যে ওই মামলা করা হয়েছিল।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর, রংপুর ১০ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে স্মারক নং-৮৩২ এর মাধ্যমে মাহিগঞ্জ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তৎকালীন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান ৪ মে ২০১৬ তারিখে স্মারক নং-১২১ এর মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে আফরোজা বেগমের পরিবারকে একাধিক বহুতল ভবন ও জমিজমার মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এপি কেস নং-৪/৮৫-৮৬-এর আওতাভুক্ত একই জমি নিয়ে আবু শামীমের করা উচ্ছেদ মামলা নং-০৮/২০১৫ তদন্ত শেষে ১৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে জেলা প্রশাসক খারিজ করে দেন এবং মোছা. শাহিরুন বেগমের লিজ পুনর্বহাল করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর পর আবু শামীম একই জমি ও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবারও উচ্ছেদ মামলা নং-০১/২০২৩ দায়ের করেন, যেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগেও এক ব্যক্তির আবেদনের পর মৃত আফরোজা বেগম ও তার ছেলে আবু শামীমের নামে দেওয়া লিজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী আরো বলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় লীজ বাতিলের পর আবারও লীজ পান।
স্থানীয় ও অভিযোগকারীদের দাবি বেআইনিভাবে খাস জমি লীজ গ্রহণ, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ব্যক্তিগত দখলে নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়। রাস্তা বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ পুরো এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় অভিযোগকারী জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আবু শামীম ও তার স্বজনদের নামে, বেনামে প্রাপ্ত কথিত বেআইনি লিজ বাতিল করে সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি প্রকৃত ভূমিহীন ও যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বিধি অনুযায়ী লিজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিচিল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কোন অদৃশ্য শক্তিতে সরকারি লীজের রাস্তা নিজের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাবহার করছেন এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।আর অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্মে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অর্ধশত পরিবার।
‘দ্য সি প্রিসেন্স’ আবাসিক হোটেলে আগুন
কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে ‘দ্য সি প্রিসেন্স’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় হোটেলটিতে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পরপরই তারা সবাই নিরাপদে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে হোটেলটির নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পার্কিং এলাকার জেনারেটরসহ বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে জানান, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুতই নিকটবর্তী ফায়ারসার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট সেখানে উপস্থিত হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধারণা করা হচ্ছে জেনারেটরের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে, তবে কেউ হতাহত হননি।
দ্য সি প্রিসেন্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের জানান, আমাদের যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে। কর্মীদের দক্ষতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, পর্যটকেরা নিরাপদে আছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) উখিয়ার ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্ট নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১০ পর্যটক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।
থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।
ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।
সংসদ সদস্য, তাঁর পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।
পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’
ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’
মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’
ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’
নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তাঁর সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’
ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ তুলে ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।