লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, ওষুধ এবং সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু করার দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমৃদ্ধ লালমনিরহাট।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আবু-আল-হাজ্জাজ এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক দীপক কুমার রায়, সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক রাশেদুর জামান, দেওয়ান বাবু, বীরেন চন্দ্র বর্মণ, নূর নবী, বিধান প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, লালমনিরহাট জেলা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জেলা এবং দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা। জেলার সমৃদ্ধি, জেলার উন্নতি তা বিশেষভাবে জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ধারণ করে। জেলাবাসী যদি পদে পদে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায় তবে সে জেলা পিছিয়ে-পড়া। যখন জনগণ হাসপাতালে চিকিৎসা বঞ্চিত হয় কিংবা ধুকে ধুকে চিকিৎসার অভাবে মুত্যুবরণ করেন এবং বারবার ভুল চিকিৎসায় যখন মানুষ বিপর্যস্ত; তখন কান্না আর অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। আমাদের জেলাবাসী সুচিকিৎসা চায়, তারা নিজ জেলার হাসপাতালেই সেটা চায়। বলাবাহুল্য এই বিষয়টা এই জেলাবাসীর মৌলিক অধিকার।
লালমনিরহাট জেলার সদর হাসপাতাল কার্যত সুচিকিৎসা বলতে যা বোঝায় তা এখনও দিতে সক্ষম নয়। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ঘোষণা দিয়ে ২৫০ শয্যা করা হলেও বাড়েনি যথাযথভাবে এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ লোকবল। সংবাদমাধ্যমে বহুবার প্রকাশিত খবর যে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অবস্থাতেও এই হাসপাতালে ৫০% শতাংশের নিচে জনবল ছিল। কাজেই নতুন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কেবল ভবন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নামমাত্র শুরু হয়েছে। রোগীরা আসলে নতুন ভবনে নতুন বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
আমরা দেখে অভ্যস্ত যে, রোগে যন্ত্রণা নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে রোগীকে দ্রুত হতাশ হয়ে রিলিজ নিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমনকি সাধারণ রোগেও মাঝে মাঝে চিকিৎসা মেলে না। রোগীরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ঠিকঠাক পান না। কতিপয় ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মুশকিলে পড়েন। জরুরি বিভাগ সামলে পুরো হাসপাতাল সমন্বয করা বিরাট বিপদের হয়ে যায়। মাত্র ৮জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কী একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলতে পারে? গভীর রাতে এর মধ্যেও ন্যূনতম চিকিৎসক দিয়ে কী পুরো হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব? তা সম্ভব নয়। এরপরও আছে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, যন্ত্রপাতির অভাব, টেকনিশিয়ানের ঘাটতি, রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদির বিবিধ সংকট। কাজেই রোগীর চিকিৎসাসেবা যেনতেনভাবে হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসার অভাবে কখনো মারাও পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, নয়তো জরুরিভাবে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মূলতঃ সর্বস্তরের মানুষ আজ চিকিৎসাবঞ্চিত।
জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই জেলার সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন চাই, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুচিকিৎসা পেতে চাই।
আরও স্মারকলিপিতে দাবীসমূহে উল্লেখ্য করা হয় যে, ১. শূন্যপদ পূরণ করে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। চক্ষু, ইএনটি, ডেন্টাল সার্জন এবং রেডিওলজি, প্যাথলজি বিভাগে কনসালটেন্ট দিতে হবে। পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ল্যাবরেটরির সকল শাখায় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
২. সেবার মান বাড়াতে ও চিকিৎসা দিতে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, প্যাথলজিক্যাল রিএজেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্টের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা- নিরীক্ষা অবিরাম চালু রাখতে হবে।
৩. জরুরি বিভাগ (Emergency) ও ট্রমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এবং বিভাগগুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া। আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সচল করতে হবে।
৪. রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসোলেশন বেড ইত্যাদি চালু করতে হবে। হাসপাতালে খাবারের সিডিউল উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা যাবে না।
৫. রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার করা।
৬. তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতালের প্রধান হওয়ায় তার নেতৃত্বেই সকল দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কনসালটেন্টকে রাতে কর্তব্যরত এলাকায় থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি কল কনসালটেন্টকে অ্যাটেইন করতে হবে।
৭. হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আরো পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারির সকল পদে নিয়োগ দিতে হবে। অ-অনুমোদিত গাড়ি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে পারবে না।
৮. মনিটরিং কমিটি গঠন এবং নিয়মিত অডিট করতে হবে। রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য চিকিৎসকসহ সকলের আচরণ উন্নত করা। সেবাআকাক্সক্ষী রোগীদেরও হাসপাতালে অবস্থানকালীন সচেতনতা, আচরণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করাতে হবে। রোগী বা নাগরিকদের জন্য কার্যকর আধুনিক তথ্যকেন্দ্র ও অভিযোগ কেন্দ্র এবং হটলাইন চালু রাখা।
উল্লেখ্য যে, উক্ত স্মারকলিপির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের নিকট প্রেরণ করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।
প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।
সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।
রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।
মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।
রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।