১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন আর তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসন। এর তিনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র), আর বাকি তিনটিতে জামায়াত এগিয়ে আছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপির নেতাকর্মীদের অপকর্ম, আধিপত্য বিস্তার, আচার আচরণে দলটির ইমেজ অনেকাংশে কমেছে। তেমনি জামায়াতের প্রতি সাধারণ ভোটারদের বেড়েছে আগ্রহ।
এক সময়ের বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনগুলো উদ্ধারে মরিয়া হয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজ দল আর উপদলীয় কোন্দলে একদমই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি। বোদ্ধারা বলছেন শেষ মূহুর্তে দলীয় কোন্দল ঠেকাতে না পারলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নওগাঁর ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন, যা ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন পুরুষ ভোটারের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২১ জন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বিএনএফ ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি মূলত: নারী ভোটাররা। ছয়টি আসনেই পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।
জামায়াত এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে সুক্ষ্মভাবে। তাদের নারী কর্মীরা দল বেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৪ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধরাও নিয়ামক শক্তির একাংশ হতে পারে বলে বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন। তাদের মতে দল, মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সন্তানেরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুবাদে জুলাই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।
জুলাই চেতনা যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য এরা দশ দলকেই ভোট দেবে। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিএনপির একাংশের ভোট ছাড়াও নিয়ামক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে টানলেও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্রদের উপরই ভরসা রাখছেন এমনটাই বলছেন তারা।
নওগাঁ-১
জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৬ নওগাঁ-১ আসন। এখানে ভোটের মাঠে লড়ছেন পাঁচজন। তবে লড়াই হবে মূলত: ত্রিমুখী, বিএনপি-স্বতন্ত্র আর জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।
গত নির্বাচনেও তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। দলীয় মনোনয়ন পাবার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন চুড়ান্ত হবার আগে থেকেই তিনিও মাঠে আছেন। এই হেভিওয়েট প্রার্থী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর পর তিন বার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল) প্রার্থী হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির একটি পক্ষ এখনও তার পক্ষে কাজ করছেন-এই অভিযোগে তিন উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির ভোট ব্যাংকে তিনি একটা বড় ফ্যাক্টর।
তবে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সে কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে বর্তমানে কোনো বিভক্তি নেই। ডা: ছালেক চৌধুরী অনেক আগে থেকেই দল থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি প্রার্থী থাকায় ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।’ আর ডা: ছালেক চৌধুরী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি লড়াই করে যাবো। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই আমার অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে চাই।’
এই আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম এগোচ্ছেন ভিন্ন কৌশলে। নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী কালু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। তবে তা জেতার মত পরিস্থিতি তৈরি করতে যথেষ্ঠ নয় বলে অভিমত অভিজ্ঞদের।
নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৫ জন। এর মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ জন, পোরশা উপজেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন ও সাপাহার উপজেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৩ জন। ২০০৮ থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।
নওগাঁ-২
পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ৪৭ নওগাঁ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সামসু্েজ্জাহা খান, জামায়াতের এনামুল হক ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম। এখানে মূলত: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সামসুজ্জোহা খান পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক।
তিনি ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এই আসন আওয়ামী লীগের দখলে যায়। এই হেভিওয়েট প্রার্থী এবার এই আসন পুনরুদ্ধারে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপিতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাঙ্খিত প্রচারণায় না থাকায় বিজয় ছিনিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি নওগাঁ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর। দলীয় কৌশলী শৃঙ্খলে ডোর টু ডোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে এবার তারাই বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন।
তবে সামছুজ্জোহা খান দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এবি পার্টির মতিবুল ইসলামও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এই আসনে মোট ভোটার তিন লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৭৭ জন, নারী এক লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৫৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ দুই জন।
নওগাঁ-৩
মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন আর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৮ নওগাঁ-৩ আসন। সর্বোচ্চ আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনে। এরা হলেন, ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি), মাহফুজুর রহমান (জামায়াত), নাছির বিন আছগর (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মাসুদ রানা (জাপা), কালিপদ সরকার (বাসদ), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (বিএনএফ), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (স্বতন্ত্র)।
এখানে মূলত: লড়াই হবে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি আর জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের মধে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী অন্যদের চেয়ে অনেক গুন এগিয়ে থাকলেও দলীয় দ্বন্দ্বে আশানুরুপ ফল পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ট্যক সো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল অনেক আগে থেকেই মাঠে রয়েছেন। বদলগাছীতে উপজেলা বিএনপি আর মহাদেবপুরে উপজেলা কৃষক দলের ব্যানারে তিনি প্রচার চালান। এই আসনে আরো দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বয়কট, বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট আন্দোলন করেন।
এখন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ধানের শীষের প্রচারে নামলেও তা অনেকটাই লোক দেখানো এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তিনি যাতে বিজয়ী হতে না পারেন সেজন্য তারা গোপনে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথা বলছেন এমনটাও ভাবছেন অনেকে। নিজ দলেই যেন কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলছেন, এবার বিএনপির জোয়ার এসেছে। জনতা বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন।
মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার পিতা জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু ১৯৯১ থেকে এই আসনে পরপর চার বার এমপি নির্বাচিত হন।
এসময় তিনি এলাকায় প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। গত নির্বাচনেও পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পাতানো নির্বাচনে সেবার তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। একারণে মানুষ তাকে জনতার এমপিই মনে করেন। এবারও তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
এছাড়া এখনও বিএনপির একটা অংশ তার জন্য কাজ করছেন। বহিস্কার হবার ভয়ে প্রকাশ্যে কাজ না করলেও আড়ালে তার ভোট করছেন। আঞ্চলিকতার টানেও মহাদেবপুর উপজেলার মানুষ তাকেই বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এদিক থেকে তার ভোটের পাল্লা অনেকটাই ভারি।
বিএনপি আর বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুবাদে শুরু থেকেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাজনক স্থানে। ডানপন্থীদের নানা কার্যক্রমে তারা যুক্ত থেকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। এখন তাদের বৃহৎ নারী দলকে মাঠে নামিয়েছেন। মূলত: এই নারীকর্মীরা ভোটারদের মনের কোণে ঢুকতে সক্ষম হয়েছেন। এরাই হবেন জামায়াত প্রার্থীর জয়ের নিয়ামক শক্তি।
নওগাঁ-৪
মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪৯ নওগাঁ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় জন। এরা হলেন, বিএনপির ডা. ইকরামুল বারি টিপু, জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাকিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন, সিপিবির ডা. ফজলুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফান বেগম ফেন্সি (কলস)।
এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে। তবে নানা কারণে বিএনপিতে বিভক্তির সুযোগ নিয়ে জামায়াত এগিয়ে যেতে পারে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। এখানে বিএনপিতে বিভক্তি থাকায় তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। ডা. ইকরামুল বারি টিপুকে মনোনয়ন দেয়ায় দীর্ঘদিন অন্যরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এতে দলের ভোট ব্যাংকে মারাত্মক চির ধরেছে। তবে ডা. ইকরামুল বারি টিপু বলেন, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিব। ২০০৯ সালে এই দুই প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে। সেবার ডা. ইকরামুল বারি টিপু বিজয়ী হন। তবে ১৯৯১ এর নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদি এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বিএনপির বিভক্তিতে জামায়াতের অবস্থান হয়েছে শক্ত।
এরশাদ আমলে এই আসনে জাতীয় পার্টির কফিল উদ্দিন সোনার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার জাপা, সিপিবি, ও অন্যান্য দলের সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি একাই কলস প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৩ জন ও নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
নওগাঁ-৫
নওগাঁ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৫০ নওগাঁ-৫ আসন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন। এরা হলেন, বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতের এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলুকে গতবারও ধানের শীষ দেয়া হয়েছিল। তিনি ছাড়াও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন।
মনোনয়ন ঘোষণার পর তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এখানে বিএনপির অন্তরদ্বন্দ্বে প্রাণহীন প্রচারণা চলছে বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা। এর সুযোগ নিচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম। জামায়াতে কোন গ্রুপিং না থাকায় দিন দিন তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান নওগাঁ সফর করে ভোটারদের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দু'দলই জিততে মরিয়া। দু'দলের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এই দু'দলই এখন আলোচনায়।
এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১ জন ও নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৪ জন। ভোটকেন্দ্র ১১৮টি।
নওগাঁ-৬
বাংলা ভাই খ্যাত উত্তরের রক্তাক্ত জনপদ আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৫১ নওগাঁ-৬ আসন। এই আসনে এবার পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতের খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি বিআরপি এর আতিকুর রহমান রতন মোল্লা ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবির।
এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক চারদলীয় জোটের গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। পঞ্চম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত: আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর। গতবারও তিনিই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু আলমগীর কবিরের ছোট ভাই হওয়ায় বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে যাবে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। অপরদিকে অতীতের নানা কারণে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকও গড়াতে পারে স্বতন্ত্রের দিকেই। আলমগীর কবির বলেন, ‘আমার লড়াই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই।’ বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় জামায়াতও এগুচ্ছে কৌশলী খেলায়। তারাও জয়ের জন্য আশাবাদী।
এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ জন ও মহিলা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫ টি।
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।
প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।
সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।
রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।
মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।
রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বিবৃতিতে আগামী শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই দিন সকাল ৫টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়।
সংগঠনটি ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান, ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অবরোধ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধের সময় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী ও লাশবাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন ও সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের’ ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে আটকে পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক।
পুলিশ জানায়, এসব পর্যটককে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পথে সাজেক উজো বাজার এলাকায় আসলে অবরোধকারীরা আটকে দেয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপী আটকা পড়েন সাজেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের উপর অবরোধকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এক পর্যায়ে পর্যটক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে পর্যটক ও সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। এসময় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গোলাগুলির ঘটনার পরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
তিনি আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার আগে অবরোধকারীদের এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ৬ সদস্য আহত হন।