ছবি : সংগৃহীত
মাত্র এক টাকার একটি বড়ি। দেখতে ছোট, গোলাকার। বাজার থেকে কিনে তাতে দেওয়া হয় লাল বা গোলাপি রঙের প্রলেপ। এরপর সেই বড়িই পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ইয়াবা’ হিসেবে। দামও লাফ দিয়ে বেড়ে যায়—প্রতি পিস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে এটি কোনো ইয়াবা নয়। সস্তা ওষুধে রং করে ইয়াবার আদলে তৈরি করে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। অজানা ওষুধ সেবনে মাদকাসক্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হয়। মাদকসেবীদের আনাগোনাও চোখে পড়ে।
এ ছাড়া নগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, রাজশাহী নিউমার্কেট এলাকা, হরিপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় কৌশলে ইয়াবা এবং ইয়াবার আদলে ওষুধ বিক্রির চক্র গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থানে চক্রগুলো প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি ইয়াবার আদলে তৈরি রং করা মায়াবড়ি (জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি) ও ডুরালাক্স ট্যাবলেট (কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ) বিক্রি করছে। বিশেষ করে কম দামে মাদক পাওয়ার আশায় আসা অনেক তরুণ মাদকসেবী সেখানে ছুটে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াবার আদলে এসব রং করা ট্যাবলেট মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হয়। ট্যাবলেটের গায়ে লাল বা গোলাপি রঙের মার্কার বা সাইনপেনের কালি লাগিয়ে ইয়াবার মতো চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রকৃত ইয়াবা বলে মাদকসেবীদের কাছে তা বিক্রি করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ ও কোষ্ঠকাঠিন্যের এসব ওষুধেও মজেছেন মাদকসেবীরা।
নগরীর আইডি বাগানপাড়ায় গিয়ে রাফিউল ইসলাম নামে এক মাদকসেবীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ঘন ঘন অভিযানের ফলে অনেকে ইয়াবা বিক্রি করছে না। একজনের কাছ থেকে দুই পিস ‘মাল’ (ইয়াবা) নিয়েছিলেন ২৮০ টাকা পিস হিসেবে। পরে খাওয়ার সময় দেখেন, সেগুলো ওষুধ। কারণ, ওই ওষুধ খাওয়ার পর তার পায়খানার বেগ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
সামসুল ইসলাম নামে আরেকজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ‘এটা ইয়াবার মতো রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু এটা মায়া বড়ি রং করে বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে চিকিৎসকদের মতে, মায়াপিল (মায়াবড়ি) কোনো মাদক নয়; এটি একটি যৌগিক মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। মায়াপিলের প্রতি সাদা ট্যাবলেটে রয়েছে ইথিনাইল এস্ট্রাডিওল ০.০৩ মিলিগ্রাম ও লেভোনরজেস্ট্রেল ০.১৫ মিলিগ্রাম। আর বাদামি ট্যাবলেটে রয়েছে ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ ২৮টি বড়ির প্যাকেটে ২১টি হরমোনযুক্ত ও ৭টি আয়রন ট্যাবলেট থাকে।
মায়াপিলের প্রধান কাজ গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা। হরমোনের মাধ্যমে এটি মূলত ডিম্বস্ফোটন বন্ধ বা দমন করে এবং জরায়ুমুখের শ্লেষ্মায় পরিবর্তন এনে শুক্রাণুর প্রবেশ কঠিন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যেও মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক বড়িকে গর্ভধারণ প্রতিরোধের স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই ওষুধটি নারীর বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়, এখন সেটিই মাদকসেবীদের ইয়াবা বলে খাওয়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডুরালাক্স ৫ মিলিগ্রাম সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ওষুধ। এর কার্যকর উপাদান বিসাকোডিল। এটি একটি স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ বা রেচক, যা মূলত কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিছু চিকিৎসা পরীক্ষা বা কোলনের পরীক্ষার আগে অন্ত্র পরিষ্কার করতেও বিসাকোডিল ব্যবহার করা হয়।
ডুরালাক্সের অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত সেবনে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত ব্যবহারে পটাশিয়ামের মাত্রাও কমে যেতে পারে। আর এই ওষুধটি কোনো কারণ ছাড়া ইয়াবা হিসেবে মাদকসেবীরা গ্রহণ করছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শংকর কে বিশ্বাস জানান, ‘ইয়াবা একটি মাদকদ্রব্য। কিন্তু ডুরালাক্স ও মায়াবড়ি মাদক নয়। কিন্তু তারপরও এসব রং মিশিয়ে খেলে বা রোগ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে খেলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
অপরাধ বিশ্লেষক সুব্রত কুমার পালের মতে, সস্তা ওষুধ রং করে ইয়াবার আদলে বাজারজাত করার ঘটনা মাদক ব্যবসার নতুন ও উদ্বেগজনক কৌশল। প্রকৃত মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার হলে কিছু অসাধু চক্র বিকল্প পদ্ধতিতে মাদকসেবীদের চাহিদা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।
এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (উপ-পুলিশ কমিশনার) গাজিউর রহমান জানান, ‘শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর পুলিশ মাদক বিক্রির আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেসব জায়গা থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তবে মায়া বড়ি ও ডুরালাক্স ইয়াবার আদলে বিক্রি করার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ‘ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। মাদককারবারিদের ওষুধ রং করে বিক্রি করা নতুন কৌশল হতে পারে। সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে মাদকের বিষয়ে তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।
প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।
সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।
রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।
মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।
রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বিবৃতিতে আগামী শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই দিন সকাল ৫টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়।
সংগঠনটি ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান, ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অবরোধ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধের সময় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী ও লাশবাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন ও সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের’ ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে আটকে পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক।
পুলিশ জানায়, এসব পর্যটককে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পথে সাজেক উজো বাজার এলাকায় আসলে অবরোধকারীরা আটকে দেয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপী আটকা পড়েন সাজেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের উপর অবরোধকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এক পর্যায়ে পর্যটক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে পর্যটক ও সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। এসময় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গোলাগুলির ঘটনার পরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
তিনি আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার আগে অবরোধকারীদের এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ৬ সদস্য আহত হন।
রংপুর মেডিকেলে আগুন
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগলে ভয়াবহ ধোয়া আর আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় অন্তত ৪০ জন রোগী আহত হয়েছেন। এ সময় পুরো হাসপাতাল জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এদিকে হাসপাতালে বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর কয়েকটি ওয়ার্ডে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলেও নেফ্রোলজি, হৃদরোগ, গাইনি, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড অন্ধকারে। ফলে জরুরি অপারেশন ও সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালের বাইরে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় পড়ে গিয়ে অন্তত ৪০ জন আহত হন।
বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়, হৃদরোগ বিভাগ, প্যাথলজি ওয়ার্ড, চর্ম ও যৌন ওয়ার্ড, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড, নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে রোগীরা প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় তলায় নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী সফিউল আলমকে কোলে করে দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় তার দুই ভাতিজা পড়ে গিয়ে আহত হন। ওই সময় কিডনী রোগী সফিউলও আহত হন। ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জন রোগী তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন। অপরদিকে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ও সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুদের নিয়ে তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে।
গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী মমতাজ বেগম জানান ৫ দিন আগে তার শিশু কন্যার জন্ম হয়েছে। আগুন লাগার খবর শুনে তিনি তার শিশু সন্তানকে নিয়ে নিচে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হন।
এ ছাড়াও লোহার জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি দিয়ে অনেকেই নিচে নামেন। এ সময় পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, বিদ্যুতের শট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।