ফিলিপ স্নাল। ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ফিলিপ স্নাল। যাকে ধরতে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী ফয়সাল-আলমগীর সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে না কি দেশেই আছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ফিলিপকে ধরলেই। তবে ইতোমধ্যে ফিলিপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে দুই সহযোগীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভুটিয়াপাড়া এলাকা থেকে ওই দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- হালুয়াঘাট উপজেলার ভুটিয়াপাড়া এলাকার ক্লেমেন রিছিলের ছেলে সঞ্জয় চিসিম (২৫) ও একই উপজেলার বিড়ইডাকুনী এলাকার চার্লস রিছিলের ছেলে সিবিরণ দিও (৩৫)।
জানা গেছে, সঞ্জয় চিসিম ও সিবিরণ দিও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ পথে লোক পারাপার চক্রের সদস্য। তারা হাদির ওপর হামলাকারী ব্যক্তিকে হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পার করতে পারে, এমন সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে চার দিন পার হলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী ফয়সাল-আলমগীরের হদিস পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে গুঞ্জন ঘটনার দিন শুক্রবার রাতেই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত ব্যবহার ভারতে পালিয়ে গেছে তারা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর থেকে প্রাইভেট কারযোগে গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। এরপর সেই প্রাইভেটকার থেকে নেমে তারা অন্য আরেকটি প্রাইভেট কারে হালুয়াঘাট উপজেলার ধারাবাজার সংলগ্ন মুন ফিলিং স্টেশন পাম্পের পাশে নিয়ে যায়। গত শুক্রবার রাতে প্রাইভেটকার থামিয়ে ফিলিপ স্নাল নামে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে করে ভুটিপড়া সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায় দুই ব্যক্তিকে। তবে ফিলিং স্টেশন পাশে নির্জন এলাকা হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ধারণা করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে স্টেশনের পাশে নামিয়ে মোটরসাইকেল তুলে নিয়ে যায়। পরদিন শনিবার থেকেই ফিলিপকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে বিজিবি ও পুলিশ। তবে নিরুদ্দেশ ফিলিপ।
কিন্তু মোটরসাইকেল চালক কে ছিলেন, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে আলমগীর ও ফয়সাল ভারতে গিয়েছে নাকি দেশেই রয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি।
জানা গেছে, ভারত সীমান্ত লাগুয়া গাজীর ভিটা ইউনিয়নের বুটিয়াপাড়া দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় ফিলিপের বাড়িতে। বাড়ি থেকেই দেখা যায় ভারতের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের যে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে, এই কাঁটাতারের বেড়ার নিচে কালভার্ট রয়েছে এবং এখানে বড়ো বড়ো সুড়ঙ্গ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সুড়ঙ্গ পথেই পাচার করা হয়েছে ঢাকায় হাদির ওপর হামলাকারী আলমগীর এবং ফয়সালকে।
স্থানীয়রা জানায়, ফিলিপের মাধ্যমে দুইজনকে ভারতে পাচারের কথা এখন সবার মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। গত বুধবার ফিলিপ এলাকায় দেখা গেলেও পর আর তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। তার বাড়ি থেকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ২০০ গজের মধ্যে। তিনি ভারতে আসা যাওয়া করত। তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারি শ্বশুর বাড়ি ও হালুয়াঘাটের ভুটিপাড়া বাবার বাড়ি দুই জায়গাতেই থাকতেন তিনি। তবে এই এলাকায় দিয়ে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক লোকজন ভারতে পালিয়েছে।
ফিলিপ স্নালের ছোট বোন সালচি সনাল বলেন, ‘অসুস্থ মাকে দেখতে শুক্রবার সকালে বাড়িতে আসলেও বিকেলেই চলে যায় ফিলিপ স্নাল। এলাকায় বিল্লাল মেম্বারের সঙ্গে জমি নিয়ে শত্রুতার কারণে আমার ভাইকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে পুলিশকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই সঞ্জয় চিসিমক ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। তাকে ঘর থেকে তুলে পুলিশ জিজ্ঞাসা করার পর তাকে কেন ধরে নিয়ে গেছে জানি না। সে কোনো অপরাধ করলে কী বাড়িতে থাকত। সে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়।’
সার্বিক বিষয়ে ময়মনসিংহ বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হালুয়াঘাটের ধারা বাজার থেকে যে মোটরসাইকেলে করে অপরাধীদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই মোটরসাইকেলটি বুটিয়াপাড়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীরা কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে পালিয়ে গেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ফিলিপকে ধরলেই। কীভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে, কত টাকা লেনদেন হয়েছে, ওপারে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, আদৌ পাচার হয়েছে কি না, তা জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুটিং মিশনে অংশ নেওয়া দুজনসহ মানবপাচারে অংশ নেওয়া ফিলিপকে গ্রেপ্তারে অভিযানের পাশাপাশি সীমান্তে তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিজিবি।’
এর আগে, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) হাদিকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের নেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৬ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক, বর্ডার দিয়ে মানুষ পাচারকারী চক্রের দুজন এবং অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও অন্য এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদক উদ্ধার
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১০৪ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ ১৫০ বোতল সিরাপ জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৭৬ হাজার ২০০ টাকা।
শনিবার, ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন ভান্ডারা ও কারিগাঁও বিওপির সদস্যরা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের আওতায় দিনাজপুরের বিরল এবং ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী তৎপরতা চালানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এসব মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত গড়ে তুলতে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সীমান্ত অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং গোয়েন্দা নজরদারী আরও জোরদার করা হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় ধারাবাহিক নজরদারীর গুরুত্ব সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এ ধরনের অপরাধ স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে নজরদারী জোরদার করার পাশাপাশি মাদকের সরবরাহপথ শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরী।
সাম্প্রতিক এই অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার সীমান্তে বিজিবির তৎপরতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। উদ্ধার করা মাদকের উৎস, সরবরাহপথ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়।
কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো এই সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেসারকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হৃদয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শোকবার্তায় বিসিবি জানায়, তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা হৃদয় ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেস বোলার। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিসিবি।
অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্ত ও অস্থিমজ্জার দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন হৃদয়। তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গত জুলাইয়ে হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় বিসিবি। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও।
নাটোরের লালপুরে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। একই সঙ্গে তাঁরা আগামীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের এমআর মোড়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তাঁরা স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক আলী আজগরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, নাটোর জেলা ছাত্রদলের সদস্য মান্নাফ হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সুরুজ ও নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন বলে জানান। পাশাপাশি আগামীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এ সময় তাঁরা স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু বলেন, তাদের ভুল বুঝতে পেরে দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, এজন্য বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা সিদ্ধান্ত নেবে।
এনসিপি’র রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.কামরুল ইসলাম দর্পণ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক ডা. মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পণ। তিনি ইতিপূর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির নীলফামারী জেলার সদস্য সচিব হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা. মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পণ এলাকায় একজন মানবিক চিকিৎসক এবং সমাজসেবক হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ও দুস্থ মানুষকে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি শিক্ষাও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নাগরিক হাসপাতাল ও ইনসাফ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া তিনি নীলফামারী মডেল কলেজ ও কৃষি কলেজেরও প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি সংবাদ ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে তিনি অনলাইন সাপ্তাহিক 'নাগরিক চিন্তা'-র প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, নীলফামারী জেলায় 'জুলাই যাত্রা' নামের জমকালো ও সফল কর্মসূচির আয়োজন করে তিনি জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার এই নিষ্ঠা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে রংপুর বিভাগের বড় দায়িত্ব প্রদান করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণ অত্যন্ত বিনয়ী, মার্জিত ও সৎ মানুষ হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং আশা ব্যক্ত করেছেন যে, তার দূরদর্শী নেতৃত্বে সাংগঠনিক কাজ আরও গতিশীল হবে।
শুক্রবার রাতে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ে নিহত। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহণ আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় নাশকতা, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীরনগর ও রসুলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন মো. হাসিবুল ইসলাম (২২), মোহাম্মদ হোসাইন (৩০), লিয়াকত সিকদার (২৪) ও মো. আজাহার সিকদার (১৯)। তারা কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলাবাদ ও মীরনগর এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাবা দেলোয়ার হোসেন (৩২) ও তার দুই বছর বয়সি মেয়ে ওয়াসিফার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী। এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া হাইওয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশের এসআই জাহেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসকর্মীদেরও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এসআই জাহেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধারে তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলাম। পথে দুর্বৃত্তরা আমাদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।