সংগৃহীত ছবি
পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে মাস দেড়েক আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জামালপুর সদর উপজেলার মো. আরমান আলী (৩০)। ধারদেনা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটি এজেন্সির মাধ্যমে তিনি রাশিয়া যান। কথা ছিল কোনো কোম্পানির কিংবা নির্মাণশ্রমিকের কাজ পাবেন। কিন্তু দালাল তাঁকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রাণহানির শঙ্কা নিয়ে যুদ্ধশিবিরে দিন পার করছেন আরমান। ইতিমধ্যে যুদ্ধে আহতও হয়েছেন তিনি। এখন যুদ্ধশিবির থেকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
আরমান আলী জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের গোদাশিমলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাড়িতে পাঁচ মাস বয়সী এক সন্তান ও স্ত্রী আছে। গত ৭ মে আরমান রাশিয়ায় যান। এর পর থেকে তিনি রুশ সেনাবাহিনীর হেফাজতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করছেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে আরমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। তাঁদের মুখে হাসি নেই। এখন শুধুই দুশ্চিন্তা। আরমানের যুদ্ধশিবিরে আটকা পড়ার খবরে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় করছেন। সবার মধ্যে দীর্ঘশ্বাস। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি দোলনায় দোল খাচ্ছিল। যুদ্ধশিবির থেকে তার বাবা ফিরতে পারবেন কি না, সে জানেও না।
টিনশেড ঘরের দরজায় বসে কাঁদছিলেন আরমানের মা রেখা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে সংসারের অভাব দূর করতে চেয়েছিল আরমান। কিন্তু এখন প্রতিদিনই আমরা অপেক্ষা করি, ছেলের একটি ফোনকলের জন্য। কই আমার বাবার ফোন তো আসে না। আমার বাবাকে ফেরত চাই।’
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাশিয়ায় যাওয়ার পর আরমানের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ ছিল না। ২৬ মে হঠাৎ আরমান ফোন করে জানান, তাঁকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তের মাঝামাঝি কোনো একটা যুদ্ধশিবিরে আছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি বাঁচার আকুতি জানিয়ে দেশে ফিরতে সহযোগিতা চান। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা আর কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না।
কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পোশাক পরা অবস্থায় আরমানের কান্নাজড়িত একটি ভিডিও দেখতে পান স্বজনেরা। ভিডিওতে আরমানকে বলতে দেখা যায়, তিনিসহ ৩০ জন একসঙ্গে রাশিয়ায় যান। এজেন্সির লোকজন তাঁদের কোম্পানি অথবা কনস্ট্রাকশন সাইটে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু রাশিয়ায় নেওয়ার দুই দিনের মধ্যে তাঁদের রাশিয়ার দুই নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের যুদ্ধের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে আরমানকে বলতে শোনা যায়, ‘রুশ ক্যাম্পে আমাদের তিন থেকে চার দিনের ট্রেনিং দেয়। এরপর ৩০ জনের মধ্যে ১৪ জনকে একটি ক্যাম্পে এবং আমিসহ ১৬ জনকে অন্য একটি ক্যাম্পে পাঠায়। আমাদের মধ্য থেকে পাঁচ থেকে ছয়জনকে ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়। ফ্রন্টলাইনে মাটির নিচে গ্রেনেড থাকে, মাইন পোঁতা থাকে ও ওপরে ড্রোন থাকে। আমাদের ড্রোন দিয়ে কন্ট্রোল করা হয়। মাছের টোপের মতো আমাদের ব্যবহার করা হয়। ডাইনে যাইতে বললে ডাইনে যাইতে হয়, বামে যাইতে বললে বামে যাইতে হয়। এভাবে আমাদের ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। এখন চারজন জীবিত আছি। তবে ড্রোন হামলায় আমরা আহত। আমি বাম হাতে আহত হইছি। আমাদের দুজন এখনো হাসপাতালে আছে।’
ভিডিওর আরেকটি অংশে আরমান বলেন, ‘আমাদের এখন ক্যাম্পে রাখা হইছে। যেকোনো সময় ফ্রন্টলাইনে পাঠায় দিতে পারে। কখন পাঠাবে আমরা জানি না। আল্লাহ ভরসা, আল্লাহই ভালো জানে। আমরা তো ভাষা বুঝি না, কোনো কিছু বুঝি না, বুঝাইয়া বলতেও পারি না। আমাদের যখন যা বলে, তা–ই করতে হয়। ফ্রন্টলাইনে না যেতে চাইলেই আমাদের মারধর করা হয়। মাটির নিচে বাংকারে আটকায়া রাখে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার বাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চা আছে। আমরা তো এই জীবন চাই নাই। আমরা আসছিলাম শুধু ডাল-ভাত খাইয়া বাঁচার জন্য। আমাদের এভাবে বিক্রি করে দিছে। এখন কী করব বুঝতে পারতেছি না। আমাদের রক্ষা করুন, প্লিজ।’
আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উন্নত জীবনের জন্য ছেলেটা প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিল। তাঁকে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তিনি তাঁর ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চান।
আরমানের ছোট ভাই মো. সালমান বলেন, ‘আমার ভাই আগে কাজের জন্য ইরাকে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় চার বছর ছিলেন। তিন বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। দুই বছর আগে বিয়ে করেন। ইরাক থেকে ফেরার পর দীর্ঘদিন কোনো কাজকর্ম ছিল না। সংসারের অভাব দূর করে ভালোভাবে বাঁচার আশায় আবার বিদেশে যান। গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়েছেন। এখন তাঁদের দিয়ে যুদ্ধ করানো হচ্ছে। আমরা জানি না ভাই এখন কোথায় আছে, কেমন আছে, আদৌ বেঁচে আছে কি না। কী করব, কার কাছে যাব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা শুধু চাই, আমার ভাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসুক।’
গাজীপুরের কাশিমপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টুন ও সুতার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার শৈলান এলাকায় কারখানাটির গোডাউনে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কারখানার ওই গুদামে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে ওঠে। গোডাউনে মজুদ থাকা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ও কাঁচামালের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনের লেলিহান শিখা ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ায় কারখানাটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে কাশিমপুর মিনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়।বর্তমানে মোট ৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ খালি কার্টন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে গেছে ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত ১৬ জন হলেন- হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫) আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ডামুরহুদা ও কাপাসডাঙ্গায়। এ ছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, ঢাকার আফতাবনগর এবং মাগুরা সদরের বাসিন্দাও রয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলছে। আজ শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।
সাজেকে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি সাজেকবাসীর দাবির প্রতিও সংহতি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অবরোধ চলাকালে রাঙামাটি শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেতবুনিয়ায় অবরোধকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকালে এ সড়কের খামারপাড়া ও ধর্মঘর এলাকায় অবরোধকারীরা গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানেও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হচ্ছে। ওই সড়কে যানবাহন চলাচল করছে না। অবরোধ চলাকালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
অবরোধকারী তপন চাকমা বলেন, সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই আমরা অর্ধদিবস অবরোধ পালন করছি।
ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হচ্ছে। তবে কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিয়েছে। সাজেকে গোলাগুলির অজুহাতে সাধারণ মানুষের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আমরা সমর্থন করি না। সাজেকবাসীর দাবি ন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন।
উষাতন চাকমা আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর আবার হামলা ও মামলা চালানো হলে এবং সাজেকবাসীর দাবি পূরণ না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়কে কোনো পিকেটার অবস্থান করছেন না।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হচ্ছে। কোথাও সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ও নৌপথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীরা পিকেটিং করছেন।
আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গ্রেপ্তারের পর সামনে আসছে তার একাধিক অপরাধের চিত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল কারওয়ান বাজারই নয়, নিজের এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক কাজ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভবন দখলের মতো নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন এই ছাত্রদল নেতা। ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর জানায়। এরপর আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয়ন ও তার অনুসারীদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
বর্তমানে আদাবর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের ৫০ থেকে ৬০টি ভবনের পানি ও পয়েন্টনিষ্কাশন লাইনের কাজ জোর করে নিজেদের লোক দিয়ে করাতে ভবনমালিকদের বাধ্য করেছেন নয়নের সমর্থকরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল দাবি ও জোরপূর্বক আদায় করা হয়।
৬ নম্বর সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির নালার কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বনামধন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে চাইলে চার-পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িমালিককে হুমকি দেয়া হয়, যা পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। একই সড়কের আরেকটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্য মিস্ত্রি দিয়ে যে কাজ ১০ হাজার টাকায় করা যেত, সেখানে তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন এবং সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে এমব্রয়ডারি কারখানা, ফুটপাতের দোকান এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হতো।
এমনকি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বাবুলের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে নয়ন ও জসিমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। দখল করতে না পেরে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতাকে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
তবে সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান জসিম চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আওতাধীন আদাবর থানা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।কমিটির বিলুপ্ত হওয়া সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ দাবি করেছেন, নয়নকে আদাবরের কথা বলে আটক করলেও পরে কারওয়ান বাজারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তার মতে এক ধরণের চক্রান্ত।
তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতেই নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়নের বিরুদ্ধে আসা আদাবরের অন্যান্য চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও নাম বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম
বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জ্বালানিমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন তিনি। স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সাইবার আইনসহ কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল।
বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। এ সময় এনসিপির দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর মানুষের সমস্যা বেড়েছে, অথচ সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই।
আর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাচ্ছে না।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ জয়পুরহাটে। ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের কালাইয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের এক তরুণীর সিঁথিতে জোরপূর্বক সিঁদুর পরানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ সময় একপক্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ তুললেও অপরপক্ষ তা অস্বীকার করে নিজেদের ওপর হামলার দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালিপাড়া গ্রামে এক তরুণীর সিঁথিতে জোর করে সিঁদুর দিতে চাওয়ার অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং রাতেই তাদের জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত চিচোরন চন্দ্র মালীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন— সুবর্ণা রাণী (৪০), মলিনা রানী (৫৫), গোবিন্দ চন্দ্র মালী (৪৫), জয় চন্দ্র মালী (২৫) ও চিচোরন চন্দ্র মালী (৪৬)। এদের মধ্যে সুবর্ণা রাণী, মলিনা রানী ও গোবিন্দ চন্দ্র মালী হলেন তরুণীর পক্ষের এবং জয় চন্দ্র মালী ও চিচোরন চন্দ্র মালী হলেন অপরপক্ষের লোক।
স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছরের এক তরুণীকে দোলন (১৭) নামের এক যুবক শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছিল। বিষয়টি ওই তরুণী তার পরিবারকে জানায়। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মালিপাড়ায় সালিশ ডাকা হয়। সালিশ চলাকালে দুইপক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধ সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তরুণীর পক্ষের তিনজন এবং যুবকের পক্ষের দুজন আহত হন। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক দোলন বলেন, পল্লবীর সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার কথা বলেছি। এর জন্য পল্লবীর বাবা-মা অন্য লোকজনকে নিয়ে তিনজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। একজনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে, আরও একজনকে মারধর করে আহত করেছে। হামলার সময় বাড়িঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ অনেক মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
তবে তরুণীর বাবা শতুঘোন মালী বলেন, মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। কথা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে দুইপক্ষ তর্কে জড়ালে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের তিনজন আহত হয়। একজনের অবস্থা ভালো না।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।