দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশের পর থেকেই জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এদিকে,ওসির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ আড়াল করতে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 


স্থানীয়দের দাবি, ওই মহলের কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তার অনিয়ম-দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওসি আরিফুর রহমান ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় দায়ের করা অনেক অভিযোগই অর্থ লেনদেন ছাড়া তদন্তের পর্যায়ে এগোয় না এবং নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সেবায় নিয়মিত ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জুয়া, মাদকসহ অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পর একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তাদের মতে, এই মহলটি দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং ব্যক্তিস্বার্থে অভিযোগগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।


এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর একাংশ অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার দ্রুত বদলির আহ্বান জানিয়েছেন।তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে, নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান।


এদিকে সচেতন মহলের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।


দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানায় আগত অভিযোগকারীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ গ্রহণ না করলে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম এগোয় না।


অভিযোগ রয়েছে, থানায় জমা দেওয়া প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে ওসির নির্ধারিত কর্মকর্তার মাধ্যমেই তদন্ত পরিচালিত হয় এবং অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এক হাজার টাকা প্রদান করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী এই টাকার পরিমাণ আরও বাড়ে বলেও জানা গেছে।


গোপন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওসি তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে ঘুষ আদায় করেন। একইভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে প্রায় এক লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তথ্য রয়েছে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের তেলিগান্দিয়া গ্রামের একটি নির্জন এলাকায় মদ, জুয়া, নারী ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ‘জুয়া মাস্টার বাবু’ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে ওসি নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করেন, যার পরিমাণ মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও, এই জুয়া চক্রের সঙ্গে তারাগুনিয়ার নাজমুল মোল্লা নামে এক রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতার তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।


অন্যদিকে, দৌলতপুর থানা এলাকায় তামাকের বিভিন্ন ডিপো থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা ও তার ছেলের মাধ্যমে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে।


দৌলতপুর থানার সামনের মসজিদ মার্কেট সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, মার্কেট নির্মাণের সময় দোকান বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা গ্রহণ করেও তাকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে ওই অর্থের মধ্যে আংশিক ফেরত দেওয়া হয়।


এছাড়া দৌলতপুর থানা চত্বরে জেলা পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) সদস্যদের সঙ্গেও অসদাচরণ এবং তাদের কার্যক্রমে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এদিকে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমানের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ওসি নিজেকে দৌলতপুর থানার সব থেকে বড় চোর বলে দাবি করেছেন। যদিও অডিও ক্লিপের ঐ ভুক্তভোগী নাম বা পরিচয় এখনও জানা যায় নাই। তবে ধারণা করা হচ্ছে ঐ ভুক্তভোগী ওসি আরিফুর রহমানকে কোন একটি কাজের জন্য অর্থ দিয়েছেলন। কাজ না হওয়ার তিনি ওসির কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে ওসি আরিফুর রহমান ঐ ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরৎ দেবার আশ্বাস দেন। যা অপর একটি অডিও ক্লিপ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।সার্বিক বিষয়ে জানতে চাই দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান তা অস্বীকার করে বলেন, আমি আপনার সাথে এই বিষয়ে রাতে কথা বলবো।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।


অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।


জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।


বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।


নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।


কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। 


বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। 


বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।


প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।


সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।


রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। 


সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।


আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।


মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।


রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।


এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।


রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।