দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় অবস্থিত দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ওসি (তদন্ত)-এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মামলার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, অবৈধ অর্থ আদায় এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যে অভিযোগগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া গেছে, যা বিষয়টির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় ঘুষ ও মামলায় প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে, একই মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকেই পৃথকভাবে অর্থ নেওয়া হয়। পরে যে পক্ষ বেশি অর্থ প্রদান করে, সিদ্ধান্ত সাধারণত তাদের পক্ষে যায় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এমনকি চার্জশিট থেকে আসামির নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে ওসি ও ওসি তদন্তের বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কিত ঘটনা
সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় জানা যায়, একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানির ডিপো দৌলতপুর পিপুলবাড়িয়াতে সেই তামাকের ডিপোতে চাঁদাবাজি ও অনৈতিক সুবিধাভোগের অভিযোগে দৌলতপুরের এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ছেলে শিশির মোল্লাকে আটকে রাখে জেটিআই তামাক কোম্পানি। সেখানে দৌলতপুর থানার কর্মকর্তাগন ওসি ও ওসি তদন্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
অভিযোগ আছে, এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে এবং ওসি তার ব্যাক্তিগত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। এদিকে দৌলতপুর উপজেলার তেলিগান্দিয়া গ্রামে জুয়া বসিয়ে সেই জুয়ার বোর্ড থেকে ওসি দৌলতপুর ও ওসি তদন্ত দৌলতপুর প্রতি রাত কন্টাকে অবৈধ ঘুষ বানিজ্য করে। দৌলতপুর থানাতে জনসাধারন পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য গেলে নির্ধারিত অফিসার নিযুক্ত রয়েছে ওসির। ওসি সেই নিযুক্তকৃত অফিসারের মাধ্যমে দৌলতপুর থানার সকল অফিসারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। থানাতে কোনো মেয়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ নিয়ে গেলে ওসি তদন্ত তার রুমে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্পের মাধ্যমে পরিশেষে অর্থের বিনিময়ে অভিযোগ কপি রিসিভ করে।
সাধারণ মানুষের হয়রানি-স্থানীয়দের অভিযোগ
বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে থানায় ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। অর্থ ফেরত চাইলে অসহযোগিতামূলক আচরণের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ওসি দৌলতপুরকে প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে তিনি বলে, থানাতে এসে টাকা নিয়ে যান। আর কিছু বল্লেই থানাতে যেয়ে কথা বলতে বলেন।
অবৈধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন বৈরাগীরচর ভাদু ফকিরের আস্তানার নিচ থেকে অবৈধভাবে টলিতে করে ফিলিং বালু উত্তোলনের বিষয়ে মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক এক মেম্বার ওসির রুমে গেছিলো সেদিন উক্ত ফিলিং বালু উত্তোলনের জন্য অর্থ গ্রহন করে ওসি দৌলতপুর।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এসব কার্যক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে আরো একাধিক ব্যবসায়ী বলে, ভাই সামনে অনুষ্ঠান থানাতে, দৌলতপুর উপজেলার অফিসারদের নিয়ে প্রোগ্রাম হবে আপনাকে এগুলো, ওগুলো দিতে হবে। আরেকটি বিষয়, আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ-একটি জমির রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা দাবী করেছিলেন টাকা নিলেন ওপেন ডাক-অকশনের জন্য কিন্তু সেটা না করে মনগড়া কাজ করছেন এটা কাম্যনা। তবে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও এখনো তা ফেরত দেওয়া হয়নি। অর্থ চাইলে ওসি দৌলতপুর বলেন, থানাতে এসে টাকা নিয়ে যান। এছাড়া অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ-অর্থের বিনিময়ে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রবিউলের উপর পূর্ব শত্রুতার জেরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
এছাড়া সদ্য সাবেক দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকারের একটি স্ট্যাটাসে পোষ্টে-যেদিন থেকে পুলিশের একটা ডায়লগ বন্ধ হবে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেব! সেদিন থেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
মব জাস্টিস হলো শামিম, পুলিশ বলল অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাবস্থা নিব, মামলা রেকর্ড করব, মরিচায় সেচ্ছাসেবক দলের নেতার বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষন হল, তাও পুলিশ বলছে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাবস্থা নিব। অথচ আমার এলাকায় দুই ভাই জমি নিয়ে মারামারি, পুলিশ আরেক ভাইয়ের ছেলেকেও ধরে এনেছে, সকলে আসল আমাকে বলল সেই ছেলেটা ছিলনা। আমি লোক পাঠালাম, ওসিকে ফোন দিয়ে বললাম ভাই ছেলেটা ছিলনা ও কিছু জানেনা ওকে ছেড়ে দিয়ে, ওর বাপকে আসামি করে চালান দেন। উনি খুব উত্তেজিত হয়ে আমাকে বললেন প্রয়োজনে আমরা পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দিব তবুও ছাড়ব না, বাপ বেটা দুজনকেই আসামি করে চালান দিলেন। বুঝলাম ওসি সাহেবের পারসোনাল ইন্টারেস্ট। ঘটনা ঘটলেই এ্যাকশন নিতে হবে এবং পুলিশের ঘুষ খাওয়া বন্ধের কার্যকারি পদক্ষেপ নিতে হবে, তাছাড়া দেশে সুশাসন সম্ভব না। বেড়ায় ক্ষেত খাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্ধ, বিরক্ত হয়ে উঠছে, দৌলতপুর আবার সন্ত্রাসের আতুড়ঘর হয়ে উঠছে। এর জন্য প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যাক্তি দায়ি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত থানার কর্মকর্তা ওসি বলেন, উপরোক্ত বিষয়ে সব ভিত্তিহীন, যে টাকা গ্রহন সম্পর্কে বলেছেন, কে বলেছেন, আমি জানি, তাকেই বলেন আমার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করুক। উপস্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়ায় স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক প্রত্যাহার, আর্থিক লেনদেন ও মামলার নথি পর্যালোচনা এবং জনগণের গোপন সাক্ষ্য গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।
দৌলতপুর থানাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জনআস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
দৌলতপুর থানার বড় চোর আমি - ওসি আরিফুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।
প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।
সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।
রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।
মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।
রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।