গ্রিন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পুনর্মিলনী
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রিন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের “পুনর্মিলনী ও আলোচনা অনুষ্ঠান ২০২৬”। সবুজায়নে শক্তি ও শ্রমিক ঐক্যে মুক্তির প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও গভীর ভাবনাচিন্তার আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ।
গ্রিন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, টঙ্গী-গাজীপুর-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস ও সিএফএলআই-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিলস উপদেষ্টা পরিষদ এর সম্মানিত সদস্য এএএম ফয়েজ হোসেন, বিলস নির্বাহী পরিষদ সদস্য পুলক রঞ্জন ধর ও নার্গিস জাহান, পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন, উপ পরিচালক ইউসুফ আল মামুন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন টঙ্গী সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা তামান্না ইসলাম, শিক্ষক এএসএম জাকারিয়া, জিয়ারুল হক, সংস্কৃতিকর্মী শেকানুল ইসলাম শাহী, সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অলিদুর রহমান অলি, গ্রিন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর সদস্য শাজাহান সিরাজ, সখিনা আক্তার, এম এ সালাম, মোরশেদ আলম, কাউসার, মাসুদ মন্ডল সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিলস এর প্রোগ্রাম অফিসার জাকিয়া বেগম নীলিমা ও গ্রিন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর সদস্য আল আমিন শ্রাবণ । বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নগুলো একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। শ্রমিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেই একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনা পর্বের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মাঝে ভিন্নমাত্রার আবেগ ও প্রেরণার সঞ্চার করে। সাংস্কৃতিক দল ‘চারণ’ এর সংগীত ও লোকজ উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম, আশা ও স্বপ্নের গল্প।
অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের মাঝে নতুন করে ঐক্য, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে যা ভবিষ্যতে শ্রমিক আন্দোলন ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের দেবীগঞ্জ উপজেলা সাধারন সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায়।
সম্প্রতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভিডিও ভাইরাল নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে পঞ্চগড়ে সনাতনীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০১ আগস্ট) দুপুরে সচেতন সনাতন ধর্মালম্বীদের আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক সনাতনী নারী পুরুষ অংশ নেন। শনিবার বেলা ১২ টার দিকে প্রথমে জেলা বিএনপি কার্য্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে সনাতনীরা মিছিলটি পঞ্চগড় সেনালী ব্যাংকে গিয়ে আবার সেখান থেকে পঞ্চগড় সিনেমা হল সড়ক হয়ে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবে শেষ হয়।
পরে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের হল রুমে সনাতনী নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের দেবীগঞ্জ উপজেলা সাধারন সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায় বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সারাবাংলাদেশের সনাতনীদের একান্ত আস্থাভাজন নেতা প্রতিমন্ত্রীর সুনাম ক্ষুন্ন এবং তার জনপ্রিয়তা নিয়ে ষড়যন্ত্র করে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে সনাতনী নারীর সাথে তথ্যপ্রুযুক্তি দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সনাতনীদের মানহানি করা হচ্ছে। আমরা সনাতনীরা এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই সেই সাথে এই ভিডিও তৈরির সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তীর আওতায় আনার দাবী জানায়।
আশা সিমেন্ট: স্বপ্নযাত্রায় নব দিগন্ত
বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ট্রিপল টেস্টেড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড সিমেন্ট আশা সিমেন্ট বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে এ উপলক্ষে নোয়াখালী মাইজদীর নোয়া কনভেনশন সেন্টারে “আশা সিমেন্ট: স্বপ্নযাত্রায় নব দিগন্ত” শীর্ষক প্রোডাক্ট লঞ্চিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আশা সিমেন্টের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মো. সজিবুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, আশা সিমেন্টের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মেহেরাজুল ইসলাম, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মাইন উদ্দিন হাসান জুয়েল এবং নোয়াখালী অঞ্চলের রিজিওনাল হেড মো. মুহাইমিনুন হক।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা, ডিলার, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আশা সিমেন্ট দেশের নির্মাণ খাতে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের গ্রাহকদের কাছে উন্নতমানের সিমেন্ট ও নির্ভরযোগ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশন, ব্যবসায়িক মতবিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র্যাফেল ড্র এবং অতিথিদের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা ছিল। পুরো অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আশায় গড়ি আগামী” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণসামগ্রী ও সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে আশা সিমেন্ট।
তৃণমূলে ভালো খেলোয়ার তৈরি হলে, একদিন তারাই জাতীয় দলে খেলবে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো।
তিনি বলেন, ক্রীড়া একটি শক্তি। ক্রীড়াই মাদক ও সন্ত্রাস থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে পারে। তাই বর্তমান সরকার খেলাধূলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। ফুটবল বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। তৃণমূলে ভালো খেলোয়ার তৈরি হলে, একদিন তারাই জাতীয় দলে খেলবে। তাই তরুণদের খেলাধূলার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান ইলেন ভূট্টো।
শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি চায়না মাঠে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি নলছিটি চায়না মাঠ সংস্কারের জন্য নগদ দুই লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা করেন। এ ঘোষণায় খুশি স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা।
এমপি পুরো সময় উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন। ফাইনাল খেলায় অংশ নেয় বরিশালের মোস্তফা ফুটবল একাডেমি ও নলছিটি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা দল। খেলায় ২-০ গোলে বরিশাল মোস্তফা ফুটবল একাডেমি দল বিজয়ী হয়। পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের মাঝে রঙিন টেলিভিন ও ট্রফি তুলে দেন সংসদ সদস্য ইলেন ভূট্টো। নলছিটি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান হেলাল, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা ছালু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদুল হক সহিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ, সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত করিম মিশু, সাবেক কাউন্সিলর সরোয়ার হোসেন তালুকদার, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল কবীর মিঠু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা ও যুবদলনেতা হাসিবুল হাসান সবুজ উপস্থিত ছিলেন। শতশত ফুটবল প্রেমী খেলাটি উপভোগ করেন।
গাজীপুরে শুরু হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’
শহুরে জীবনে গৃহপালিত ও পোষা প্রাণীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে গাজীপুরে শুরু হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা। জেলা শহরের হাক্কানী সোসাইটির আবেদ প্লাজায় স্থাপিত এই বেসরকারি ক্লিনিকটি আজ শনিবার সকালে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।
উদ্বোধন পরবর্তী এক সুধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, আধুনিক নগরায়ণের যুগে পোষা প্রাণী শুধু শখ নয়, অনেকের পরিবারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে তাদের সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। গাজীপুরে অ্যাপোলো পেট ক্লিনিকের এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রাণীপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাবে এবং পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক ও মিরার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও রেডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আতাউর রহমান, এনটিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার নাসির আহমেদ, গাজীপুর বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং মিরার এগ্রো লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কাজী মো. মাহফুজুল হক হীরক।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ চিকিৎসকের সমন্বয়ে এখানে পোষা প্রাণীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাদান, সার্জারিসহ যাবতীয় চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করা হবে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে দরিয়ানগর সৈকত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম অক্ষর সৌভিক রায় (৩১)। তিনি খুলনা সদর উপজেলার বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে। একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।
জানা গেছে, শনিবার সকালে ৯ জন বন্ধু খুলনা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। দুপুরে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় অক্ষর সৌভিক রায় প্যারাসেইল থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৩০০-৪০০ ফুট উঁচু থেকে হঠাৎ নিচে ছিটকে পড়েন: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে অক্ষর শৌভিক তাঁর বন্ধুদের নিয়ে দরিয়ানগর সৈকতে যান। এরপর ২ হাজার টাকায় টিকিট কেটে আকাশে ওড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। দুপুর ১২টার সময় তাঁকে প্যারাসেইলিংয়ে বেঁধে আকাশে ওড়ানো হয়। প্যারাসেইলিং ৩০০-৪০০ ফুট ওঠার পর হঠাৎ শৌভিক রায় নিচে বঙ্গোপসাগরে ছিটকে পড়েন। কিছুক্ষণ পর প্যারাসেইলিং কর্মচারীরা সাগরের পানি থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শৌভিকের সঙ্গে বেড়াতে আসা একজন যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যারাসেইলিং থেকে যখন শৌভিক সমুদ্রের পানিতে ছিটকে পড়ছিলেন, তখন উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। দরিয়ানগরে কোনো লাইফগার্ড চোখে পড়েনি। একটি স্পিডবোট তখন শৌভিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, ততক্ষণে সব শেষ।’
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় সমুদ্রে পড়ে ওই পর্যটক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সহেল বলেন, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শৌভিককে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, দরিয়ানগর এলাকায় মো. ফরিদের মালিকানাধীন ওই প্যারাসেইলিংয়ে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও পরে আবার চালু করা হয়।
দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ আলম বলেন, প্যারাসেইলিংয়ের সময় হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান শৌভিক। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন: দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজন ও সফরসঙ্গীদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় স্বজনরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিচালিত প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা মান, সরঞ্জামের সক্ষমতা এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহত পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বৈরী পরিবেশে প্যারাসেইলিং পরিচালনা এবং পর্যটকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্যারাসেইলিং করা হচ্ছিল: বৈরী পরিবেশের কারণে তিন দিন আগে দরিয়া নগরসহ সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মো. আ মান্নান। তিনি বলেন, সব ধরনের প্যারাসেইলিং বন্ধ ছিল। এর মধ্যে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্যারাসেইলিং করা হচ্ছিল। আজ এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, যা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্যারাসেইলিং করার জন্য প্রশাসন থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সৈকতের ১১৫ কিলোমিটার এলাকায় কোনো লাইফগার্ড-ডুবুরি নেই: সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি সি-সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, শহরের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্টের পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে নিরাপত্তার জন্য ২৭ জন লাইফগার্ড কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু কলাতলী থেকে দক্ষিণ দিকে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার সৈকতে কোনো লাইফগার্ড কিংবা ডুবুরি থাকে না।
বাঞ্ছারামপুরে জামায়াতের গণমিছিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখা।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিলটি বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের বড়বাজার, প্রতাপগঞ্জ বাজার ও মোল্লাবাড়ি স্টিল ব্রিজ অতিক্রম করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আবুল বাশার বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সংগ্রাম চলমান রয়েছে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শামীম নুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ নকিবুল হুদা। তিনি বলেন, “অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও পৌর আমীর মো. আলাউদ্দিন সাদি, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুফতি কামালউদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. এনামুল হক, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. সাইদুর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
কর্মসূচি শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে গণমিছিলে শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।