মনোনয়পত্র বাছাই কার্যক্রম চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের তিনটি আসনে প্রার্থীদের মনোনয়পত্র বাছাই কার্যক্রমে ১০ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল শনিবার (০৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলসসহ সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাগণ বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম), কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) এ তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ২৯ প্রার্থীর মধ্যে বাছাই শেষে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
বাতিল ঘোষিত উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) বিএনপির বিদ্রোহি হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও একই আসনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে নবাগত সৈয়দ এহসানুল হুদাসহ বাকি ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন যাচাইবাছাই উপলক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকরা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করে। আজ রবিবার কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার কারণে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় গড়মিলের কারণে হাসনাত কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমার মনোনয়নপত্রও এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় গড়মিলের কারণে বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বাকি সাত প্রার্থীর অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করবেন বলে জানিয়েছেন।
গাজীপুরে শুরু হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’
শহুরে জীবনে গৃহপালিত ও পোষা প্রাণীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে গাজীপুরে শুরু হলো ‘অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা। জেলা শহরের হাক্কানী সোসাইটির আবেদ প্লাজায় স্থাপিত এই বেসরকারি ক্লিনিকটি আজ শনিবার সকালে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।
উদ্বোধন পরবর্তী এক সুধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, আধুনিক নগরায়ণের যুগে পোষা প্রাণী শুধু শখ নয়, অনেকের পরিবারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে তাদের সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। গাজীপুরে অ্যাপোলো পেট ক্লিনিকের এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রাণীপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাবে এবং পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অ্যাপোলো পেট ক্লিনিক ও মিরার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও রেডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আতাউর রহমান, এনটিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার নাসির আহমেদ, গাজীপুর বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং মিরার এগ্রো লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কাজী মো. মাহফুজুল হক হীরক।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ চিকিৎসকের সমন্বয়ে এখানে পোষা প্রাণীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাদান, সার্জারিসহ যাবতীয় চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করা হবে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে দরিয়ানগর সৈকত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম অক্ষর সৌভিক রায় (৩১)। তিনি খুলনা সদর উপজেলার বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে। একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।
জানা গেছে, শনিবার সকালে ৯ জন বন্ধু খুলনা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। দুপুরে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় অক্ষর সৌভিক রায় প্যারাসেইল থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৩০০-৪০০ ফুট উঁচু থেকে হঠাৎ নিচে ছিটকে পড়েন: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে অক্ষর শৌভিক তাঁর বন্ধুদের নিয়ে দরিয়ানগর সৈকতে যান। এরপর ২ হাজার টাকায় টিকিট কেটে আকাশে ওড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। দুপুর ১২টার সময় তাঁকে প্যারাসেইলিংয়ে বেঁধে আকাশে ওড়ানো হয়। প্যারাসেইলিং ৩০০-৪০০ ফুট ওঠার পর হঠাৎ শৌভিক রায় নিচে বঙ্গোপসাগরে ছিটকে পড়েন। কিছুক্ষণ পর প্যারাসেইলিং কর্মচারীরা সাগরের পানি থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শৌভিকের সঙ্গে বেড়াতে আসা একজন যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যারাসেইলিং থেকে যখন শৌভিক সমুদ্রের পানিতে ছিটকে পড়ছিলেন, তখন উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। দরিয়ানগরে কোনো লাইফগার্ড চোখে পড়েনি। একটি স্পিডবোট তখন শৌভিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, ততক্ষণে সব শেষ।’
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় সমুদ্রে পড়ে ওই পর্যটক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সহেল বলেন, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শৌভিককে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, দরিয়ানগর এলাকায় মো. ফরিদের মালিকানাধীন ওই প্যারাসেইলিংয়ে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও পরে আবার চালু করা হয়।
দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ আলম বলেন, প্যারাসেইলিংয়ের সময় হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান শৌভিক। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন: দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজন ও সফরসঙ্গীদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় স্বজনরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিচালিত প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা মান, সরঞ্জামের সক্ষমতা এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহত পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বৈরী পরিবেশে প্যারাসেইলিং পরিচালনা এবং পর্যটকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্যারাসেইলিং করা হচ্ছিল: বৈরী পরিবেশের কারণে তিন দিন আগে দরিয়া নগরসহ সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মো. আ মান্নান। তিনি বলেন, সব ধরনের প্যারাসেইলিং বন্ধ ছিল। এর মধ্যে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্যারাসেইলিং করা হচ্ছিল। আজ এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, যা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্যারাসেইলিং করার জন্য প্রশাসন থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সৈকতের ১১৫ কিলোমিটার এলাকায় কোনো লাইফগার্ড-ডুবুরি নেই: সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি সি-সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, শহরের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্টের পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে নিরাপত্তার জন্য ২৭ জন লাইফগার্ড কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু কলাতলী থেকে দক্ষিণ দিকে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার সৈকতে কোনো লাইফগার্ড কিংবা ডুবুরি থাকে না।
বাঞ্ছারামপুরে জামায়াতের গণমিছিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখা।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিলটি বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের বড়বাজার, প্রতাপগঞ্জ বাজার ও মোল্লাবাড়ি স্টিল ব্রিজ অতিক্রম করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আবুল বাশার বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সংগ্রাম চলমান রয়েছে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শামীম নুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ নকিবুল হুদা। তিনি বলেন, “অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও পৌর আমীর মো. আলাউদ্দিন সাদি, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুফতি কামালউদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. এনামুল হক, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. সাইদুর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
কর্মসূচি শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে গণমিছিলে শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
জামায়াতের গণমিছিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।
আজ শনিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জুলাই চত্বর হতে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন দলের নেতাকর্মীরা।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর সভাপতিত্বে সমাবেশ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য এবং সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারী মোহাম্মদ আরমগীর, সহকারি জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ।
এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শহর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ শামীম, সদর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, সদর সেক্রেটারী এস.এম আদিউল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তাগণ অবিলম্বে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবান এবং জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহব্বান জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে জামায়াত ঘরে থাকবে না বলেও সরকারের প্রতি হুশিয়ারি দেন তারা।
কেক কেটে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম এর ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করলেন অত্র সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আজ শনিবার (১লা আগষ্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল সদরস্থ পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কেক কেটে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম।
এছাড়াও বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্ভোদন করেন তিনি প্রতিমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, সংগঠনের উপদেষ্টা সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তানভীর হাসান খান রুবেল, অত্র সংগঠনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোহিদুল ইসলাম মোহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক, ফরিদ মিয়া, কোষাধ্যক্ষ শারমিন শিমু, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, অনিক সরকার অভি, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক, আসাদ হোসেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বাবুল হোসেন, সদস্য জাহিদুল ইসলাম, আসিফ, জাহিদ বিন সুলতান, তারিকুল ইসলাম শাওন ও মোঃ সিয়াম।
পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ
পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা (মেডিকেল ক্যাম্পেইন) ও ঔষধ বিতরণ করেছে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
আজ শনিবার (০১আগষ্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী আটোয়ারী উপজেলার ধামোরহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৮ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া। এসময় পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস সহ বিজিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বিজিবি নিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে।
মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৪৫০-৫০০ জন দুঃস্থ, হতদরিদ্র ও অসহায় নারী, পুরুষ এবং শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়।