ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকারের এক পার্সেন্ট জমিও ছাড় দেওয়া হবে না। যারা সরকারি জমি দখল করে রেখেছে, তাদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা হবে। একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছিল কিন্তু বেচা হয়নি। এখন বাংলাদেশীদের দোযখের পথে নিতে চায়। দেশে যখন আমরা চেষ্টা করছি সকলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের উন্নতি সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে তখনই একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারো বাংলাদেশের নতুন করে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চায়।
২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানাগার উপকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য সাবমারসিবল পাম্প বিতরণ, পৌর শিশু পার্কের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এ সরকার রাতের ভোটের সরকার নয়, এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। তারেক রহমানের সরকার ১৮ কোটি মানুষের নির্বাচিত সরকার। সরকারের ১ ইঞ্চি জমিও কোন দখলদারের আয়ত্বে থাকতে দেয়া হবে না। সরকারি জমি উদ্ধার করে আমরা জনগণের কাজে সরকারি কাজে ব্যবহার করব। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও কাজ করার অনীহা একদিনে ঠিক করা যাবে না।
বাংলাদেশ যখনই স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যায় তখনই পলাতক স্বৈরাচাররা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসব আরেকদল বলে বোর্ডে সরকার পতন করে ফেলবে। এসব বলে কোন লাভ হবে না। আপনারা যে রাজপথের ভয় আমাদের দেখাচ্ছেন আমরা সেই রাজপথ থেকে সংসদে ও মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি।
এ সরকার যখন যাত্রা শুরু করে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শুরু করেছিল। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পেশ করার সাহস দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকা বাজেটের বরাদ্দ রেখেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, আজকে রূপগঞ্জের মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। তাদের ঠকানো হচ্ছে। নিরীহ এসব মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া একশ্রেণীর লোকেরা সরকারি জমিগুলো দখল করে রেখেছে। আজকে ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার মাঠ নেই। ঐসব সরকারি জমি উদ্ধার করে খেলাধুলার জন্য মাঠ তৈরি করার দাবি জানান তিনি।
তারাবো পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, রুপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান হুমায়ুন, সহ-সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, আশরাফুল হক রিপনসহ রূপগঞ্জ থানা ও তারাবো পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার রাতে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ে নিহত। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহণ আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় নাশকতা, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীরনগর ও রসুলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন মো. হাসিবুল ইসলাম (২২), মোহাম্মদ হোসাইন (৩০), লিয়াকত সিকদার (২৪) ও মো. আজাহার সিকদার (১৯)। তারা কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলাবাদ ও মীরনগর এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাবা দেলোয়ার হোসেন (৩২) ও তার দুই বছর বয়সি মেয়ে ওয়াসিফার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী। এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া হাইওয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশের এসআই জাহেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসকর্মীদেরও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এসআই জাহেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধারে তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলাম। পথে দুর্বৃত্তরা আমাদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক ও এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত। ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদককে দায়ী করে ওই পোস্ট দেয়া হয়। তবে ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামের আইডি থেকে পোস্ট দুটি করা হয়। একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবে।’
এর কিছুক্ষণ পর অন্য আরেকটি পোস্টে লেখা হয়, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’।
জানা গেছে, আরিফুর রহমান গত প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরেই বসবাস করে আসছিলেন। এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে বিষয়টি এতদিন পারিবারিক সীমারেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার জামালগঞ্জের ইউএনও শিল্পী রাণী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড শান্ত।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে তার তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল। এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান স্ত্রীসহ সেই কেক কাটার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে তার বাসা থেকে বের হয়েই ফেসবুকে বিতর্কিত সেই পোস্টগুলো দেন এসিল্যান্ড।
ইউএনও আরও জানান, বাসা থেকে বের হয়ে এমন পোস্ট দেয়ার পাশাপাশি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এসিল্যান্ড। তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং ইউএনওর তিন বছরের মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এছাড়া রাস্তায় যাকেই পেয়েছেন, তার সঙ্গেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টটি দেখে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়াসহ অনেকেই দ্রুত এসিল্যান্ডের বাসায় যান। ওসি জানান, সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার স্ত্রীর পরামর্শে একটি ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়। কিন্তু ওষুধটির পাওয়ার কম থাকায় তিনি শান্ত হচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ইনজেকশন খোঁজা হলেও তা স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি। বাসার ভেতর তীব্র অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকায় রাত ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও পরিজনদের উপস্থিতিতে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পরবর্তীতে সিলেটে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
ফেসবুক পোস্টে নিজের নাম উল্লেখ করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন তা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।’
মিয়া গোলাম পরোয়ার
ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। নির্বাচনে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের চেষ্টা হলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আয়োজনে জেলা স্কুল বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিল মারতে সহযোগিতা করলে কিংবা ভোট গণনার সময় দাঁড়িপাল্লার বান্ডেলে ধানের শীষ দিয়ে গণনা করলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখতে হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে, যেন তিনি পালাতে না পারেন।’
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আমরা ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না কাউকে করতেও দেব না।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ বিএনপি শেষ করতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। সারের অভাবে তাদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয়স্বজনদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট মাসেই বিএনপি সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। তাদের মাথা ঠিক নেই। ‘এরা এখন জ্বরের মধ্যে ভাবীকে মা বলে ডাকে।’ তার অভিযোগ, সারা দেশে লুটপাটের হাট বসিয়েছে বিএনপি।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মতো একটি আসন নিতে গিয়ে যেন সরকার বেকায়দায় না পড়ে।’
জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিরোধী দলে থেকেও যে উন্নয়ন করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে যে উন্নয়ন হয়নি, তার চেয়েও বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দীন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।
মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতাররা। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পুরোনো মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে আখাউড়া থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতেই আতিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাবেদ উল ইসলাম।
গ্রেফতাররা হলেন— আইড়ল গ্রামের বাসিন্দা শাহ কামালের ছেলে নাঈম (২৩), একই মহল্লার বাসিন্দা বাদল মিয়ার ছেলে জুবাইদ (২০), মোসলেমের ছেলে সায়েম (২০) ও মৃত নাগর মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান (৪২)।
পুলিশ জানায়, আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল গ্রামে নবনির্মিত ও পুরোনো দুটি মসজিদে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গ্রামের দুপক্ষ পৃথকভাবে দুটি মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
আইড়ল পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মো. মুজিবুর রহমান, নাজির হোসেন ও মালু মিয়া যুগান্তরকে জানান, নামাজ শেষে নতুন মসজিদের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পুরোনো মসজিদটি ভেঙে ফেলেন। এর আগে নতুন মসজিদপন্থীরা পুরোনো মসজিদের পূর্বপাড়ার বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
ওসি জাবেদ উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারদের দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ কে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। একই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে দায়ের করা হত্যা মামলার দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্ত ও দাবি তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের কোনো ইজতেমা, দাওয়াতি বা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সাদপন্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা দুটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অবিলম্বে চার্জশিট দাখিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, এ বিষয়ে যদি সরকারের ওপর কোনো ধরনের অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয় কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তবে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমি, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।
সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসির সঙ্গে বাদানুবাদের ঘটনায় কোনো মামলা হলে প্রধান আসামি হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে তার এ-সংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রুমিন ফারহানা এ প্রতিক্রিয়া জানান।
লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে গত ২৩ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি সম্মান রেখে তিনি অপেক্ষা করছেন, এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসির বিরুদ্ধে কী ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ার জেরে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা। এছাড়া রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন।
এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের চোর।’