ছবি : সংগৃহীত
পদ্মা পাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যে শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিদিন ভিড় করতেন হাজারও পর্যটক ও দর্শনার্থী, সেই ঘাটেই এখন দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ঘাটের প্রবেশ মুখে মাত্র আধা কিলোমিটার পথের ব্যবধানে দুই দফা টোল আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা রীতিমত বয়কটের ডাক দিয়েছেন ‘শিমুলিয়া ঘাট’। অন্যদিকে পর্যটকদের অনাগ্রহে গত দুই সপ্তাহে ঘাট এলাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে বলে দাবি স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। এতে ভাটা পড়েছে বাণিজ্যিক সব কার্যক্রমে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিমুলিয়া ঘাটে মাত্র আধা কিলোমিটার পথের ব্যবধানে পরপর দুই স্থানে বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। সম্প্রতি টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে আসা চার পর্যটককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজনদের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে বুধবার (২৯ জুলাই) লৌহজংয়ে গিয়ে ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাওয়া চৌরাস্তা হয়ে শিমুলিয়া ঘাটের দিকে কিছুদূর এগিয়ে গেলেই ফেরিঘাটের একদম প্রবেশ পথে হাতের ইশারায় থামানো হচ্ছে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন কিংবা পিকনিকের জন্য আসা যাত্রীবাহী বাস। এরপর সেসব যানবাহনকে ঘিরে ধরছে লাঠি হাতে থাকা ৪-৫ জন, পরে পর্যায়ক্রমে চালকরা দিচ্ছেন নগদ অর্থ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই পরপর দুইবার টাকা দিতে হচ্ছে যানবাহন চালক ও পর্যটকদের।পদ্মা পাড়ে আগত দর্শনার্থীদের অভিযোগ, পর্যটকদের বিআইডব্লিউটিএ লোগো সম্বলিত হলুদ ও আকাশী রঙের একটি টোকেন ধরিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নেয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা করে দুইবারে ৬০ টাকা। আর প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন থেকে বিনা রশিদের মাধ্যমে শুধু গাড়ির নম্বর নোট করেই নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে দুইশ-আড়াইশো কিংবা তিনশো টাকা পর্যন্ত।
এ সময় দেখা গেছে, অনেক যানবাহন চালক টাকা আদায়ের রশিদ দিতে বাধ্য করেছেন ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের। তবে আদায়কৃত অর্থের সমপরিমাণ টাকার সংখ্যা উল্লেখিত রশিদ দিতে পারেননি কেউ।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর রশিদের মাধ্যমে এসব টাকা তুলছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি নয় এই চক্রের সদস্যরা। তাদের দাবি, ইজারাদার হাজী আলমগীরের নেতৃত্বে এসব টোল আদায় করা হচ্ছে।
এদিকে একইদিন সরেজমিনে আরও দেখা যায়, একসময় ঘাট এলাকায় যেখানে বিকেল হলেই জমে উঠতো মানুষের ভিড়, পরিবার-পরিজন আর বন্ধুদের নিয়ে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসতেন দূর-দূরান্তের মানুষ, সেই শিমুলিয়া ঘাটেই এখন দেখা দিয়েছে পর্যটক সংকট।
আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা হলে অভিযোগ করেন, অতীতে পদ্মা পাড়ে প্রবেশ করতে কোনো যানবাহনকেই দফায় দফায় টোল দিতে হয়নি। শুধু ঘাট এলাকায় কোন যানবাহন পার্কিং করলে সেই ক্ষেত্রে সামান্য কিছু টাকা টোল দিতে হতো। কিন্তু এখন ভিন্ন চিত্র। ফলে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, একই এলাকায় এত অল্প দূরত্বে বারবার টোল আদায় কেন? কিসের ভিত্তিতে এত টাকা নেয়া হচ্ছে?
স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, দ্বৈত টোল আদায়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রমে। হোটেল ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই সপ্তাহে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটলেও এখন ঘাটে শুনশান নীরবতা। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের।
তবে বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিনিময়ে শিমুলিয়া ঘাটটি ইজারা দেয়া হয়েছে আলমগীর হোসেন নামের স্থানীয় এক ঠিকাদারকে। এরপর থেকেই দৈনদশা দেখা দিয়েছে ঘাট এলাকায়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত টোলের কারণে যদি পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে শুধু ব্যবসা নয়, শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজধানীর আরামবাগ থেকে পরিবার নিয়ে পদ্মা পাড়ে বেড়াতে আসা ভুক্তভোগী দর্শনার্থী সুমনা আক্তার জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক পাড়ি দিতে গাড়ির টোল দিতে হয়েছে সব মিলিয়ে ১৮০ টাকা। তবে ঘাট এলাকায় মাত্র আধা কিলোমিটার পাড়ি দিতে তাদের দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
ভুক্তভোগী আরেক দর্শনার্থী সাইফুল আলম মজুমদার জানান, দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত আসতে তাকে মহাসড়কে টোল দিতে হয়েছে মাত্র ১০ টাকা। কিন্তু ঘাট এলাকায় ঢুকতেই প্রথমে একবার দিয়েছেন ৩০ টাকা, এরপর আবার কিছু দূর এগিয়ে যেতেই আবার আরও ৩০ টাকা দিতে হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক দাবি করে তিনি বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় একটা এলাকাকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য মাত্রা অতিরিক্ত টোল আদায়সহ নানা রকমভাবে পর্যটক হয়রানি চলছে এখানে। দফায় দফায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের লোকজন মারধর করতে আসে।
এর আগে, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই রাতে টোল আদায়কারীদের সঙ্গে পর্যটকদের বাগবিতণ্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অতিরিক্ত টোলের প্রতিবাদ করায় ইজারাদারের লোকজন কয়েকজন পর্যটকের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪/৫ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সাইফুদ্দিন বেপারী বলেন, মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য আলাদা করে আবার টোল নেয়াটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ঘাট এলাকায় টোলের নামে নারী পর্যটকদেরও হয়রানি করা হচ্ছে নিয়মিত। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ শিমুলিয়া ঘাটে আসা বন্ধ করে দেবে।
ঘাট এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান পিন্টু, শরীফ মোল্লা, আহাম্মেদ দেওয়ানসহ আরও কয়েকজন বলেন, নতুন টোল চালুর পর থেকেই পর্যটক কমতে শুরু করেছে ঘাট এলাকায়। আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদ্মা পাড়ে আগত সাধারণ দর্শনার্থীকে সেবা দেয়ার পরিবর্তে বিআইডব্লিউটিএ এখানে টোল নির্ভর ব্যবসা করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে এ টোল ব্যবস্থা চালু করেছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ যেটাকে চাঁদাবাজি বলছে সেটা চাঁদাবাজি নয়। সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তবে কোন যানবাহন থেকে কি পরিমাণ টাকা নিতে হবে, বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ইজারাদারের বিষয়।
এছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো পার্কিং ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ঘাট এলাকায় যেখানে গাড়ি পার্কিং করবে, সেখানেই তাকে টাকা দিতে হবে।
এদিকে মাত্রা অতিরিক্ত টাকা ও দুই দফা টোল নেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে ইজারাদার আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকেই দুই দফা টোল আদায় করাসহ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যানবাহন পার্কিং করার জন্য টাকা নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা ভ্যাট ট্যাক্সসহ প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। এখন বিআইডব্লিউটিএ আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে, আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
পদ্মার সৌন্দর্য দেখতে আসা মানুষের কাছে শিমুলিয়া ঘাট ছিল স্বস্তি আর বিনোদনের ঠিকানা উল্লেখ করে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, একটি কুচক্রী মহল বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কে দুইবার টোলের টাকা নিচ্ছে। ঘাট এলাকায় পর্যটক হয়রানিসহ নানা অনিয়ম চলছে দাবি করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
তবে বিতর্কের মুখে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাজানা ববি মিতু বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে কাছাকাছি দুটি টোল নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছরই নতুন রাস্তা ব্যবহারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ টোল ইজারা দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খুব কাছাকাছি দুটি টোল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে দুটি পৃথক টোল আদায় কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে দ্বৈত টোল ব্যবস্থা বাতিল, অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।
প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে।
অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।
বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।
গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।
হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়।
গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।
হেমন্ত ঋতু আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।
এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
"নাটক মনুষ্যত্ব ও বিবেককে শাণিত করে” -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নুতন নাট্যকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে এই কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বিশেষ অতিথি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এস, এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলকে মোবাইলে অনলাইনে অযথা সময় নষ্ঠ না করে আলোকিত মানবিক জীবন গড়তে নাটক বা সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া চর্চা বা পাঠ্যাভাষে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।
কর্মশালায় মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা আরণ্যক নাট্য দলের সিনিয়র নাট্য শিল্পী ও মিউজিক ডিরেক্টর পরিমল মজুমদার এ নাটকের মঞ্চে ও ব্যক্তি জীবনে নিজেদের উপযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করছেন।
উন্মুক্ত এ কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য পেশাজীবীসহ ৫০জন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।
দ্রুততম সময়ে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়াচ্ছে নীলফামারীর বিচার বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় একদিনে পৃথক তিনটি মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।গত (২৩ অক্টোবর)নীলফামারীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. রনি ইসলাম ও মো. রাজু নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে জনউপদ্রব সৃষ্টির দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মো. শামীম নামে অপর এক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে যেমন বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। আদালত অপরাধের ধরন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আজ শুক্র/শনি ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যটকদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো বুকিং হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে রুম সংকট। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড়
বৃহস্পতিবার পুজার ছুটি শেষ হলেও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটায়। বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্নয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা সমুদ্রের নোনাজলে গোসল, খেলাধুলা সহ হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাকঁড়ার চর সহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাতার কেটে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন শিশু কিশোর সহ নানা বয়সী ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউবা আবার প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার মোবাইলে কিংবা ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় বন্ধী হয়ে এমন সুখকর মুহুর্ত গুলোকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন। সূর্যোদয় সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বীচ কার্নিভাল উৎসব পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ বলে জানিয়েছেন আগতরা।
বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সড়ক ও বীচ এলাকায় তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন, এলইডি টিভি স্থাপন সহ নানা সাজসজ্জা করা হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে বীচ ফুটবল, বীচ ম্যারাথন, ঘুরি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুথিপাঠ, সাংস্কৃতিক সন্ধা, বাউল গান,পর্যটন বিষয়ক প্রমান্য চিত্র,ভলিবল খেলা, সেলিব্রিটি বীচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো,আতশবাজি সহ নানা আয়োজন করেছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী আরমান আলিফ, হাসান (আর্ক), ঐশি সহ দেশের খ্যতনামা শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও গান পরিবেশন করবেন কার্নিভাল উৎসবে। বীচ কার্নিভাল উৎসব উপভোগ সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীরা রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এ বীচ কার্নিভাল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।বীচ কার্নিভাল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীচ কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। বিশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি, পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, স্থানীয় সাংসদ এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের মিজ সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসি প্রমুখ।
এদিকে কুয়াকাটার ৩ শতাধিকেরো বেশি আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট থাকলেও তা আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় বুকিং ছাড়া এসে রুম সংকটে পরেছেন পর্যটকরা।পর্যটকদের ভীড়কে পুঁজি করে চা ১০ টাকা,ডাব ২৫০ টাকা পিচ,ভ্যান-আটো ভাড়া ইচ্ছেমতো,খাবার হোটেলে অতিরিক্ত খাবার বিল ও আবাসিক হোটেলে বেশি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে অনেক হোটেলের বিরুদ্ধে।
পূজার ছুটি এবং বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিক্রি বেড়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কার্নিভালের দুই দিনে ৩ লাখ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনে কিছুটা রুম সংকট দেখা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এসোসিয়েশন ভূক্ত আবাসিক হোটেল গুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এসোসিয়েশন আওতাভুক্ত নয় এমন হোটেল মোটেল রিসোর্ট অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবার পরামর্শ দেন তিনি।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. ইনস্পেক্টর নাজমুল ইসলাম জানান, আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশ, এসআরবি সহ গোয়েন্দা সদস্য সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি রাখবেন। এছাড়াও সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা রাখতে কুয়াকাটা পৌরসভা সহ ট্রাফিক পুলিশ টহল থাকবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন, পৌর প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক অবস্থা অব্যাহত আছে।কুয়াকাটায় কোন আইন অমান্যকারির ক্ষমা নেই।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, পর্যটকদের উপর কোন অন্যায় আচরন বরদাস্ত করা হবে না। বীচ কার্নিভালের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অতিরিক্ত নজরদারি করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম সহ তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।পর্যটকদের নিরাপত্তায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।