সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা

  • প্রকাশ : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ এএম

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।


এর আগে সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা শুক্রবার বিকেলে শিবচরের বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন। সেই অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।


চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিও বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি বলেন, এ দেশের প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের বিশ্বাস করেছেন। এ দেশের সব মানুষ আমাদের বিজয়ী করেছে। এজন্য আমাদের জমা-খরচ দিয়ে রাজনীতি করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। আমি গত কয়েকদিন ধরে ভালোভাবে খেয়াল করেছি, আমাদের কিছু ভাইয়েরা খুব লেখালেখি করছেন এবং খুব কথা বলছেন। তারা অন্য কেউ নয়, তারা শিবচরের বিএনপি ভাইয়েরা। কিন্তু আমি তাদের বলতে চাই, আপনারা কি এটা মনে করেন না— আমি হানজালা নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নেত্রীবৃন্দ কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি, হুমকি-ধমকি দেয়নি। আমি হানজালা এমপি হওয়ার আগে আমার কতটুকু ক্ষমতা ছিল এই শিবচরের মাটিতে, তা আপনারা দেখেননি। তাহলে আপনারা কি মনে করছেন, আমি চুপ করে আছি? আমি শান্তি চাই। আমি শিবচরের প্রত্যেকটা মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি শিবচরের প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমার চুপ করে থাকা মানে আমার কোনো দুর্বলতা নয়। যদি মনে করেন হানজালা চুপ করে থাকা দুর্বলতা, তাহলে সেটা আপনাদের ভুল— আপনার চিন্তায় ভুল আছে। হানজালা চুপ করে থাকা মানে হানজালা শিবচরের মাটিতে শান্তি চায়।


ভিডিও বক্তব্যে আরও শোনা যায়, তিনি বলেন, আমার এক প্রার্থী বক্তব্য দিয়েছেন যে বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করবেন না। আরে আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এ দেশে থাকতে পারবে না। আপনারা রাজনীতি করেন শিবচর উপজেলা নিয়ে, হানজালা রাজনীতি করে পুরো বাংলাদেশ নিয়ে। আপনারা চিল্লাচিল্লি করবেন ক্লাবে-ক্ষেতে, হানজালা চিল্লাচিল্লি করবে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে। তাই আমি শান্তি চাই। আমার চুপ করে থাকা মানে, বারবার বলছি, এটা কোনো দুর্বলতা নয়। আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই। আমি শিবচরে কোনো প্রতিহিংসা বা আধিপত্যের রাজনীতি আগামীতে দেখতে চাই না। এজন্য বলছি, আসুন ভালোবাসা দিয়ে কাজ করি, আসুন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।


এ সংসদ সদস্য তার ভিডিও বক্তব্যে আরও বলেন, আমার জায়গায় যদি আজ অন্য কেউ হতো, তাহলে আপনাদের বাড়িঘরে কাউকে থাকতে দিত না। আমার জায়গায় যদি অন্য কেউ হতো, কাউকে ঠিকমতো চলতে দিত না, বাড়িঘর থেকে বের হতে দিত না। আমি আপনাদের বাকস্বাধীনতা দিয়েছি। আমার নামে লেখালেখি করবেন— আমি সেই স্বাধীনতা শিবচরের মানুষকে দিয়েছি। আগের এমপির বিরুদ্ধে এ দেশের একজনও কলম ধরতে পারেনি। আমি শিবচরের মানুষকে সেই বাকস্বাধীনতা দিয়েছি।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। বর্তমানে উপজেলাজুড়ে এমপি সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, তিনি একজন এমপি হয়ে এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। আমাদের শিবচরে তার এ বক্তব্য নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে।


শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. সোহেল রানা বলেন, শিবচরের বর্তমান এমপি এবং তাঁর পরিবার পাঁচ আগস্টের আগে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে ছিলেন। আসলে তিনি যেটা চাচ্ছেন, তা হলো শিবচরে উগ্রবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটানো। শিবচরে যে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ রয়েছে, তা উত্তপ্ত করার অভিপ্রায় থেকেই তিনি শিবচর বিএনপিকে নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন বলে আমি মনে করি।


মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, আসলে শিবচরে আমি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমার কোনো লোক এ পর্যন্ত কারও সঙ্গে কোনো রূপ খারাপ আচরণ করেনি। এ সুযোগও আমি দেব না। সেখানে বিএনপির লোকজন আমার লোকজনকে হুমকি দেয়। আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়। এরই প্রেক্ষিতে আমি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাটা বলেছি। মূলত বিএনপি বলতে শিবচর বিএনপিকে বুঝিয়েছি। অনেকে আমার বক্তব্য কেটে কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি শিবচরে কোনো অন্যায় রাজনীতি হতে দেব না। সাধারণ মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই চেষ্টাই করে যাব।



সর্বশেষ সব খবর

মাহমুদা মিতু

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০১ পিএম

জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু। আজ শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। 


ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, বিএনপি কথায় কথায় আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে- জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। তারা এগুলো বলে অপমান করতে চায়। এগুলো বলে বলে হাদিকে কিন্তু নিউজ ফিড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 


তিনি বলেন, জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের নিয়েও আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।


সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি বলেন, জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে? ১১ দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল কতক্ষণ বলে? বরং তারা দমায়ে রাখে, যাতে ওরা না বলে। এসব অপমান গায়ে মাখবেন না। 


মাহমুদা মিতু বলেন, জুলাইয়ের ব্যবসা করবেন। বিএনপি যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কী? আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, এটা স্নেহ, মায়া, মমতা, এটা দরদ। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখবো।


বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি এরপর বলেন, যেই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজকে সরকার গঠন করেছেন, তাদের মায়েরা তো আপনাদের কথা বলে না। তারা সংস্কারের কথা বলে, সংবিধান সংস্কারের কথা বলে, পুলিশ কমিশন, গুম কমিশন গঠনের কথা বলে। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই। ভালো রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার লড়াই। 


হাজার বেকার তরুণ ভাইয়ের হাতে চাকরি তুলে দেওয়ার লড়াই। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই নারীর সম্মানের লড়াই। আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। এই পরিবর্তনগুলোই আমরা আনতে চাই। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।


মাহমুদা মিতু বলেন, আপনারা একটা লাঠি দিয়ে বারি দেবেন, একটা চোখ অন্ধ করে ফেলবেন; এগুলোর ভয় করি আমরা? আপনাদের মনে হয়, এই ছেঁচড়া গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে, ওই জিয়া সাইবার ফোর্সের গুন্ডাগুলা লেলিয়ে দিয়ে, নোংরা নোংরা ছবি এডিট করে, নোংরা কমেন্ট করে আমাদেরকে দামিয়ে রাখবেন। আমরা এসব পরোয়া করি না। 


এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও  শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ। 


আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। 


অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব, জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলার আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ পিএম

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। একই সঙ্গে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজও দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে। 


আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে জাফলংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পরে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য রুট পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।


এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জাফলংয়ের পাথর কোয়ারি উচ্চ আদালতের আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অনেকটাই জটিলতা নিরসনের পর্যায়ে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, সিলেট-জাফলং রেললাইন চালু হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রবাসী কর্মসংস্থানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের এক কোটি মানুষকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে গোয়াইনঘাটে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে স্থানীয় যুবকদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে দালালমুক্ত ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।


পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রতিনিধিদল সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আমাদের কারিগরি কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। আমার বিশ্বাস অন্তত পাইলট প্রকল্প হিসেবে হলেও এ বছরের শেষের দিকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার আলো দেখতে পাবো। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে। 


শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প এবং তিস্তার নদী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 


পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুড়ি তিস্তা পূর্নখননে বিগত সরকার ১৩০ কোটি টাকা দিয়ে পাঁচটি গ্রুপে কাজটা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমরা ভুক্তভোগী মানুষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে মামলা প্রত্যাহারসহ বুড়িতিস্তার এই সমস্যার সমাধান করব। 


এছাড়াও তিস্তা নদী তীরবর্তী ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী এলাকার তীব্র নদী ভাঙন পরিস্থিতি দেখে দ্রুত জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের কমিটমেন্ট একটাই, আমরা চাই না কোনো মানুষের একটি বাড়ি, একটি ঘর বা এক ইঞ্চি জমিও নদীতে বিলীন হয়ে যাক।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি তৈরি এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোবিন্দগঞ্জ পুলিশ। এ সময় পর্নোগ্রাফি তৈরিতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের আশিদুল ইসলাম ওরফে রাশিদুলের মেয়ে মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজীপাড়ার খোরশেদ আলমের ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রেজেনা খাতুন সাথী (২৮) এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মামুন অর রশিদ (৩০)।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের পলাতক সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার হীরকপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও প্রচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। 


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঐ বাসায় অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরির সরঞ্জামসহ চারজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। গোবিন্দগঞ্জ থানার (এসআই) উপপরিদর্শক আহসান হাবীব সরকার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬) নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।


এ ঘটনায় জিডিতে সময় উল্লেখ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য গোপনের অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের গাফিলতি হয়নি।


শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের পরিবার তার জীবিত উদ্ধারের দাবি জানায় এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।


পরিবার জানায়, গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন অভিযোগ করেন, জিডিতে নিখোঁজের সময় উল্লেখে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ভিডিও কলে আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। অথচ জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় সে নিখোঁজ হয়েছে। তাহলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কথা বলার পর কীভাবে আগে থেকেই নিখোঁজ দেখানো হলো?”


তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অসঙ্গতি থেকে তাদের সন্দেহ হচ্ছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য গোপন করা হচ্ছে। জিডিকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানান তিনি।


পরিবারের দাবি, তারা ঠাকুরগাঁও থেকে সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ডু (পিয়াস) এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ৪২৭, ট্র্যাকিং নম্বর W703Z3, যা ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে নথিভুক্ত হয়।


পরিবারের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জেলিনের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে কর্মস্থলে কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিডিকারী ধনঞ্জয় কুণ্ডু কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


অন্যদিকে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, আরিফুল্লাহ জেলিন চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এখানে বদলি হয়ে আসেন। কিছুদিন আগে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় ছুটিতে বাড়িতে যান এবং পরে ফিরে এসে বাসায় অবস্থান করছিলেন।


তিনি বলেন, “ফেরার পরদিন সন্ধ্যার দিকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সহকর্মী ও পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরদিনই থানায় জিডি করা হয় এবং বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে জানানো হয়।”


ব্যবস্থাপক আরও বলেন, বিভিন্ন সূত্র ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো চেষ্টা চালায়। জেলিনের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সিলেটের সালুটিকর ও গোয়াইনঘাট এলাকাতেও অনুসন্ধান করা হয়।


তিনি জানান, কয়েকদিন আগে সালুটিকরের একটি ওয়ার্কশপের সামনে থেকে জেলিনের মোবাইল ফোন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ওই ওয়ার্কশপের মালিক থানায় জমা দেন। এরপরও নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি।


জিডিতে বিলম্ব ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ প্রসঙ্গে হাফিজ আহমদ বলেন, “জিডিতে বিলম্বের কোনো সুযোগ ছিল না। রাতে খোঁজাখুঁজির পর পরদিনই জিডি করা হয়েছে। আর মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হয়েছে- এমন কোনো বিষয় জিডিতে নেই।”


নিখোঁজের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে গাফিলতি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো কোনো সলিড ক্লু পাওয়া যায়নি।”


এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ এই কর্মকর্তার কোনো সন্ধান না মেলায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ পিএম

“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নাটোরের লালপুরে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের  উদ্বোধন করা হয়েছে।


শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ​জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।


বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে ​আলোচনা সভা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোঃ মনজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় । এতে উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এসময় ​বক্তারা বলেন, শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পানে উৎসাহিত করতে পরিবার ও সমাজে একটি সহায়কমূলক পরিবেশ তৈরি এবং টেকসই উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ সব খবর