• প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের  রূপগঞ্জে মুজিবুর রহমান নামে এক যুবদল নেতা ও হরি আনন্দ নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকায়  যুবদল নেতা মজিবুর ও আওয়ামী লীগ নেতা হরিনন্দ সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী বাধা দেন। পরে হরি আনন্দ তাদের হুমকি ধামকি প্রদান করে। মজিবুর রহমান রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। 


স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকায় বেশকিছু সরকারি জমি রয়েছে। এ সকল সরকারি জমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ নেন রাশেদুল ইসলাম নামে স্থানীয় বাসিন্দা। সরকারি জমিটি জোরপূর্বক দখল করতে যুবদল নেতা মজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা হরি আনন্দ ঘর নির্মাণ করতে যায়। এসময় রাশেদুল ইসলামসহ স্থানীয় বাধা প্রদান করলে মজিবুর রহমান ও হরি আনন্দ সহ তাদের লোকজন তাকে হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এমনকি মুঠোফোনে ঘর নির্মাণে আবার বাধা প্রদান করলে সে রাশেদুল ইসলামকে হত্যার পর গুম করে শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দিবে বলে হুমকি দেন। এতে করে রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জমি মাপার আমিন বলেন, আমি নকশা অনুযায়ী মেপে দেখেছি এটি সরকারি জমি। 


  এ ব্যাপারে রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমি মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য সরকারি জমিটুকু বরাদ্দ আনি। যেখানে হতদরিদ্র ও এতিম ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করবে। কিন্তু সেই জমিটিতে ঘর নির্মাণ করে দখলের পায়তারা চালাচ্ছে মজিবুর রহমান নামে এক বিএনপি নেতা ও হরি আনন্দ নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা। আমি বাধা প্রদান করতে গেলে যুবদল নেতা মজিবুর রহমান আমাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। 


এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মজিবুর রহমান বলেন, যে জমিটিতে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি সরকারি জমি নয়।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি যেহেতু জানলাম সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৬ পিএম

সিলেটের জৈন্তাপুরে জনসভা শেষ করে নগরীতে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বহন কারীতে গাড়িতে হামলা ও ঢিল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দলটির আহবায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে একটি ভিডিও সহ পোস্ট দেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। 


তিনি লিখেন, ‘তারেক রহমান, আমাকে রক্তাক্ত করে আপনি একটি ভয়াবহ ভুল করেছেন। আপনি সন্ত্রাসের পথে গেলেন। জৈন্তাপুর পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে…’ এরপর রাত ১১টা ১১ মিনিটে একই ভিডিওসহ পোস্ট দেন নাহিদ ইসলাম। 


তিনি লিখেন, ‘সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন আহত হন।’দুটি পোস্টেই চলতি গাড়ির ভিতর থেকে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে গাড়ির কাঁচ ভাঙা দেখা যায় এবং গাড়ির অভ্যন্তরে দুইজন ব্যক্তির রক্তাক্ত হাত দেখা যায়। তবে কারো চেহারা দেখা যায়নি। 


এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় তাদের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এনসিপির গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ পুলিশ প্রটোকলের মধ্যে তাদের গাড়িগুলো উপজেলার শেষ সীমানায় পার্শ্ববর্তী থানার প্রটোকলে তুলে দিয়ে এসেছি। এ সময় যদি তাদের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটতো, তাহলে তারা অবশ্যই আমাদের অবগত করতেন কিংবা গাড়ি হাসপাতালে নেয়ার জন্য থামাতেন। কিন্তু সেরকম কিছু ঘটেনি।’


এদিকে,সিলেটের জৈন্তাপুরে জনসভা শেষে নগরীতে ফেরার পথে হরিপুর এলাকায় এনসিপির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ২জন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে পুলিশ। 


জৈন্তাপুর থেকে নগরীতে ফিরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আজকে আমাদের তিনটি প্রোগ্রাম ছিল। স্টেজ থেকে নেমে গাড়ি কয়েক মিনিট ক্রস করার পর বিকট একটি শব্দ হয়। আমাদের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গিয়েছে, বড় একটি ইট পড়েছে, আমার হাতে ইটের আঘাতের দাগ আছে। মাথায় পড়লে মাথা ফাটতো নিশ্চিত।’ তিনি বলেন, “আজকে ইশরাক উস্কানি দিয়েছেন, রাশেদ খান উস্কানি দিয়েছেন। আমি জীবন নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি, আমি নিরাপদ নয়। তবে আমি দলকে বলে দিয়েছি যে তারেক রহমান আজকে রাজনৈতিক ভাবে একটি মস্তবড় ভুল করেছেন।’ 


তিনি আরো বলেন, “শেখ হাসিনা আমাদের রিমাণ্ডে নিয়েছিলো। তাকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়েছি। তারেক রহমান আপনি মস্তবড় ভুল করেছেন, এজন্য আপনাকে কাফফারা দিতে হবে। এমন কাফফারা যা আপনি এক্সপেক্ট করবেন না। আপনি আমাকে পার্সোনাল রক্ত ঝরিয়েছেন। আপনি আমার বয়সে বড়, ছোট ভাইয়ের রক্ত প্রতিশোধ নিবে। আপনার থেকে আমি পার্সোনালি রক্তের প্রতিশোধ নিবো।’


“যার আসনে গিয়েছিলাম, তাকে বলেছিলাম, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সালাউদ্দিন সাহেবকে বলেছিলাম নিরাপত্তার শঙ্কার কথা, তিনি বলেছেন যে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না। ঠিক আছে, মারা যাবো।" 


পুলিশের অস্বীকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার পিছনে এএসপির গাড়ি ছিল, সামনে পুলিশের গাড়ি ছিল। পাশে মোটরকেড ছিল। এখনো গাড়ি ভাঙা আছে, ইট আছে, আঘাত আছে। আমরা আশা করবো যে পুলিশ ভাইয়েরা তাদের চরিত্র পরিবর্তন করবে। আমরা এসপিকে জানিয়েছি, পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আদালতে বা কোথাও যাবো না, এটাকে পার্সোনালি নিলাম।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১২ পিএম

বগুড়ার কাহালুতে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।


বিস্তারিত আসছে...


  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ এএম

দিনাজপুরের বিরলে তরুণ সমাজকে মাদক ও অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।



শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে বিরল সরকারী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদক ও মোবাইলভিত্তিক জুয়ার আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।


তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই ক্রীড়াচর্চা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


বিশেষ অতিথি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের নয়, একটি পরিবার ও সমাজের জন্যও হুমকি হয়ে ওঠে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি তরুণদের মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি।


সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন।


বিরল ও বোচাগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসারই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা (পিপিএম), জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বখতিয়ার আহমেদ কচি, বিরল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক।


উদ্বোধনী ম্যাচে বিরল উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২-১ গোলে হারায় নীলফামারী অভিনন্দন ফুটবল একাডেমি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে নীলফামারী দলের আল আমিন ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।


এছাড়া গোলদাতা খেলোয়াড়দেরও পুরস্কৃত করা হয়।


পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।


আয়োজকদের আশা, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের খেলাধুলামুখী করে তুলবে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগ ও স্ট্যাটাসের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) কলেজে  আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় বক্তব্য দেন গভর্নিং বডির সভাপতি মো. বজলুর রশিদ সিকদার।


লিখিত বক্তব্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলেজে চুরি, চাঁদাবাজি, নিয়মবহির্ভূত অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং আর্থিক অনিয়মের যেসব অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষাকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা এবং অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়।


বক্তারা আরও বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পরিবর্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার শিক্ষা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও তারা মন্তব্য করেন।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘তারেক রহমানের কাছে এত বড় গ্যাংস্টার বাংলাদেশে আছে। কি নাই তার কাছে? জিকে গউসের মত অস্ত্র আছে, আব্বাস সাহেবের মত অস্ত্র আছে, বুলু সাহেবের মত অস্ত্র আছে, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র‌্যাংকিংয়ে কম? কারো কারো কাছে মাদক, কারো কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের সাহেবের ছেলেরা এক জায়গায় বসা, খসরু ভাই আছে। এগুলো র‌্যাংকিং করলে ইতালির যেকোনো মাফিয়াকেও হার মানাবে।’ শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথাগুলো বলেন। 


কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশে যা  করতেছে, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য লজ্জার। তিনি রাজনীতির সংস্কৃতিকে অসংস্কৃত ও সহিংসতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, তার রাজনীতি করা ইচ্ছা নাই। ইতালিতে বড় বড় মাফিয়া গ্যাং থাকে না উনি সেই গ্যাংবাজি করছেন। তাহলে উনি বলে দিক যে, আমি আজকে থেকে গ্যাংবাজি করব, আমি রাজনীতি করব না।  রাজনীতিতে গ্যাংবাজি করার কি দরকার?  


আপনি কি ভয় পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভয় তো পাবোই। এত বড় গ্যাংস্টার বাংলাদেশে আছে। কি নাই তার কাছে? জিকে গউসের মত অস্ত্র আছে, আব্বাস সাহেবের মত অস্ত্র আছে, বুলু সাহেবের মত অস্ত্র আছে, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র্যাংকিংয়ে কম? কারো কারো কাছে মাদক, কারো কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের সাহেবের ছেলেরা এক জায়গায় বসা, খসরু ভাই আছে। এগুলো র্যাংকিং করলে ইতালির যেকোনো মাফিয়াকেও হার মানাবে।’


তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের এই ধরনের মাফিয়াগুলাকে ছেড়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসের রাজত্ব ছেড়ে দিয়েছে। আমার তো ভয় পাওয়া, মানুষও ভয় পাইতেছে, সবাই আমরা ভয় পাইতেছি । আমরা একটা টেরর রাজ্যে আসছি। মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পাটওয়ারী বলেন, ‘মামলায় হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ আনা হলেও সেসবের কোনো সত্যতা নেই। 


তিনি বলেন, আমি যে মামলাগুলো দেখেছি, সেখানে অনেক ইন্টারেস্টিং বিষয় লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে আমরা হামলা করেছি, হয়রানি করেছি, ছিনতাই করেছি। এসব কতটুকু সত্য, সেটা দেশবাসী দেখেছে।


মামলায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে আইফোন ছিনতাই হয়েছে। সেটি কি জি কে গাউসের আইফোন, নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? এসব অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক।’


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন বাদাম এলাকার ভিছারটেকের হাজী কালু মিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার এক শিক্ষক কর্তৃক দুই শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।


গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক হলেন মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ঘোষবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মকবুল হোসনে এবং মাতা রহিমা খাতুন। তিনি টঙ্গীর বাদাম এলাকার মুদাফা হাজী কালু মিয়া মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


এ ঘটনায় নির্যাতিত এক শিশুর পিতা রুবেল আহমেদ দূর্জয়, পিতা আব্দুল হামিদ, মাতা মনোয়ারা বেগম, সাভার উপজেলার ডেন্ডাবর এলাকার বাসিন্দা, টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজ ভোর প্রায় ৪টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার  দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুই শিশুশিক্ষার্থীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শিশু দুটি তাদের পরিবারের সদস্যদের জানালে তা দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাজারো মানুষ মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতের দিকে কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মাদ্রাসা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 


স্থানীয় বিএনপির টঙ্গী পশ্চিম থানা সভাপতি আসাদুজ্জামান (বিপি আসাদ) উপস্থিত থেকে জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ, এসআই শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। 


এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, স্পর্শকাতর এবং সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের। শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। কেউ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার দায়িত্বে থাকলেই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করি। প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চলবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।


ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের সঙ্গে এমন জঘন্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সাহস কেউ না পায়। 


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।