• প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

তালাকের পরও সাবেক স্বামীর হুমকি ও হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালীর দুমকির এক নারী। প্রাণনাশের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কবির শরিফ তাঁকে প্রায় চার মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় সাইবার আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপসের চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই নারী।


ভুক্তভোগী লিমার অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট বরিশালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কবির শরিফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় এক বছর পর তিনি জানতে পারেন, কবিরের আগের দুই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।


লিমার দাবি, একপর্যায়ে কবির তাঁকে বরিশাল থেকে দুমকির বোর্ড অফিস বাজার এলাকায় নিজের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে নিয়ে প্রায় চার মাস আটকে রাখেন। কক্ষের বাইরে তালা দিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কাজি অফিসের মাধ্যমে কবিরকে তালাকের নোটিশ পাঠান।


এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ লিমার। তাঁর ভাষ্য, তালাকের পর কবির তাঁর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আদালতে মামলা করেন। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া শুরু করেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দুমকি থানায় গেলেও তাঁর অভিযোগ বা জিডি গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।


লিমা আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার জন্য বারবার মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেও রেহাই পাননি। প্রতিবারই তাঁর নতুন নম্বরের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে হুমকি দেওয়া হতো। এ কাজে থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন তিনি।


এদিকে, কবির শরিফ নিজের ফেসবুক আইডিসহ একাধিক আইডি থেকে লিমার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও আপত্তিকর মন্তব্যসহ প্রকাশ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পরিচিতজনদের মোবাইল ফোনে সেসব ছবি ও ভিডিও দেখে সাইবার আদালতের দ্বারস্থ হন লিমা। আদালতের নির্দেশে দুমকি থানায় সাইবার আইনে মামলা নেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব।


তবে লিমার অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ না নিয়ে তাঁকে থানার ওসির কক্ষে বসিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও আসামির সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কবিরের লোকজন তাঁর বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।


গত ১৯ অক্টোবর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান লিমা। পুলিশ সুপারকে না পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে বিস্তারিত অভিযোগ জানান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুমকি থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি।


এরপরও নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি বলে অভিযোগ লিমার। গত ২৪ অক্টোবর মা-কে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত আবেদন করেন তিনি। ডিআইজি তাঁকে আশ্বস্ত করলেও এখনো ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলে দাবি করেন ওই নারী।


তবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সামনে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বা আপস-মীমাংসা করতে চাপ দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের উদাসীনতার অভিযোগও সত্য নয়। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কবির শরিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


লিমার দাবি, তিনি এখন নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ন্যায়বিচার চান। অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা চান তিনি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৭ এএম

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচীতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপির। বিশেষ কারণে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। একই কারণে জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর এ দিবসটি পালন করা সম্ভব হয়নি এবং তৎকালীন সরকারের সময় তাঁদের দিবসটি পালন করতে দেওয়া হয়নি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম তাঁর বক্তব্যে ইতিহাস জানার পাশাপাশি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু ইতিহাস জানলেই হবে না, সেই ইতিহাসের আলোকে কাজ করতে হবে। নিজেদের উন্নত করতে হবে এবং মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে হবে।


এ ছাড়া বক্তব্য দেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ মোকশেদ আলী মঙ্গলিয়া। তাঁরা দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, সামাজিক দায়ীত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রফিকুল ইসলাম।সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় দিবসগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের বিষয় নয়; বরং এসব দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার গ্রহণ করা জরুরী।


তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ—‘বিপ্লব’ ও ‘সংহতি’র তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, বিপ্লব হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা, আর সংহতি হচ্ছে সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নে মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত অবস্থান। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়ীত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, পৃথিবীকে উন্নত করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। একজন শিক্ষক যদি একজন ভালো মানুষ তৈরি করতে পারেন, তাহলে সেই শিক্ষার্থীর মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে একজন ভালো কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বাবা কিংবা মা গড়ে উঠতে পারেন। তাই উন্নত রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই।


তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে হলে দেশের আইন-কানুন জানতে হবে এবং পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সে বিষয়ে সচেতন করতে হবে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করে সবাইকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. হাবিবুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারী দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


বিকেলে জেলা বিএনপির র‌্যালী ও সমাবেশ


অন্যদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিকেল ৪টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।


প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।


সমাবেশে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


সমাবেশ শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি দিনাজপুর শহরের কাচারী রোড, পৌরসভা রোড ও সদর হাসপাতাল রোডসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেল রোডে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।


র‌্যালীতে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোকাররম হোসেন, সহসভাপতি আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদ, মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মোঃ হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, মোঃ খালেকুজ্জামান বাবু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোঃ নাজমুল হুদা জনি, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান বাদশা এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুলসহ জেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, সদস্যসচিব রেজাউর রহমান রেজা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জিনাত আরা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা ডিউটি, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরু এবং জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসু খাঁন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন।


দিনব্যাপী কর্মসূচীতে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, শিক্ষা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

সর্বশেষ সব খবর

ইলিশ মাছ। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ এএম

দেশজুড়ে চাঁদপুরের সুস্বাদু ইলিশের খ্যাতি রয়েছে। এই সুযোগে চাঁদপুরের ইলিশের কথা বলে কিছু অসাধু চক্র ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। এই প্রতারণা বন্ধ করতে অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন।


এ নিয়ে গত বুধবার একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা।


ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদপুর জেলা সুস্বাদু ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ইলিশের সেই স্বাদ অক্ষুণ্ন রাখা, ইলিশের মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জেলার মান সমুন্নত রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসন বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। চাঁদপুর জেলার ইলিশের নাম করে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন এ ধরনের প্রতারণা রোধে অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির জন্য আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যোগ্যতা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-ক) ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করত হবে। পরিশিষ্ট-খ–তে বর্ণিত কাগজপত্র দাখিল করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স নিতে হবে।




জেলা মৎস্য বণিক সমিতি, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের ইলিশের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণা করে আসছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল থেকে নয়জনসহ মোট ১১ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’


জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের ফলে অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে ক্রেতারা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এখন থেকে ইলিশ নিয়ে আর প্রতারণা করার সুযোগ থাকবে না। আমরা অনলাইনে ইলিশ বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

সর্বশেষ সব খবর

নাবিলা নুসরাত (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় নাবিলা নুসরাত (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের বটতলা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নাবিলা বরিশাল সদর উপজেলার বাসিন্দা ডা. মাইনুল ইসলাম শুভর স্ত্রী। তিনি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে প্যাথলজি বিষয়ে এমডি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়নরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঢাকার আদাবর থেকে স্বামী শুভসহ আরও দুই সহকর্মীকে নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসেন নাবিলা। তারা একটি অভিজাত আবাসিক হোটেলে ওঠেন। শনিবার বিকেলে তারা মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার ঘুরতে যান। সন্ধ্যার পর সেখান থেকে ইজিবাইকে কুয়াকাটায় ফেরার পথে বটতলা এলাকায় পৌঁছালে ইজিবাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

এতে নাবিলার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ঝালকাঠির নলছিটিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ঝালকাঠির নলছিটিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ই নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভপিতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু।


সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতীক কুমার কুন্ডু।


বক্তব্য রাখেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো:আনিচুর রহমান (হেলাল) খান, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তৌহিদুজ্জামান সোহাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো:হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রনীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আবু সালেহ, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আকতার, উপজেলা (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী, বীর মুক্তযোদ্ধা রুস্তম আলী খলিফা, নলছিটি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন ও নলছিটি প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মো: শাহাদাত হোসেন মনু।


৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন বক্তারা।


সভায় অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: এনামুল হক, উপ পরিদর্শক (ডিএসবি) মো: আজিজুর রহমান, উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম আতিকুর রহমান সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও  স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

রিশাল বিভাগ সমিতি ঢাকার কার্যকরি পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১০ পিএম

শনিবার (৭ই নভেম্বর) বিকালে মতিঝিল কিচেন ইয়ার্ডে ভিআইপি রুমে বরিশাল বিভাগ সমিতি ঢাকার কার্যকরি পরিষদের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নতুন কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন আয়োজন সিদ্ধান্ত আগামী ২৬ ডিসেম্বর শনিবার নির্ধারণ করা হয়েছে।


উক্ত সভায় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু'র সভাপতিত্ব ও সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুছ ছোবাহান এর সঞ্চালনায় কার্যকরি পরিষদের ২৫ জন কর্মকর্তা ও নির্বাহী সদস্য উপস্থিত ছিলেন ও প্রস্তাবনা পেশ করেন। সভায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর শনিবার সম্মেলন ও নির্বাচনে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারন করা হয় এবং মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একই অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


সভায় শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক এর ১৫৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান শৃঙ্খলার সাথে সুসম্পন্ন হওয়ায় সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয় এবং স্মরনিকা প্রকাশ সহ অনুষ্ঠানের সর্বমোট খরচ ১,৫০,৫৩০ টাকা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীরকে জানাযা ও দাফনে বাধা দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বর্তমান অমানবিক পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবারের পাশে দাড়ানো ও সমিতির পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে ১০,০০০/(দশহাজার) টাকা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


সভায় এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল খারাপ হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করা হয় এবং আগামীতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো করতে সভা থেকে সমিতির সভাপতি সরাসরি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলে পরামর্শ প্রদান করেন এবং অতি শীঘ্রই সমিতির একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে মত বিনিময় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


সভায় প্রতি বছরের মতো আসন্ন শীতে সমিতির মাধ্যমে শীতবস্ত্র/কম্বল বিতরন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং দুঃস্থ মানুষকে শীতবস্ত্র দিতে কম্বল ক্রয়ের জন্য সমিতির সদস্য, উপদেষ্টা ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের নিকট থেকে আর্থিক অনুদানের অনুরোধ জানায় এবং সভাপতি মোবাইল ০১৭১০৯২৯৯৫৭ (বিকাশ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. মো: রুবেল হাওলাদার মোবাইল ০১৭৩০৮৮৭৭৭৭ পাঠাতে অনুরোধ করা হয়। সভায় সমিতির নির্বাচনকে সফল করার জন্য বরিশাল বিভাগের প্রত্যেক উপজেলার প্রতিনিধি নিশ্চিত ও সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি পদস্থ কর্মকর্তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে সভায় গুরুত্ব দেয়া হয়।


সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শওকত ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এড. মো: রুবেল হাওলাদার, সাংবাদিক কায়কোবাদ মিলন, সাংবাদিক বদরুল আলম নাবিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম সুলতান আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন আকন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, আনিসুর রহমান, আসাদুজ্জামান খান, মো: আবুল কালাম, ড. নাঈম হোসেন,খন্দকার আবুজাফর মো: সালেহ, মো: জাকারিয়া মোল্লা, মো: আবদুল মান্নান প্রমুখ।


সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সমিতি ও এলাকার উন্নয়নে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান এবং সমিতির আসন্ন নির্বাচন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করে উপস্থিত কর্মকর্তা ও নির্বাহী সদস্যগনকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্ত আজ শনিবার থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একইসঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ এবং তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব ঘোষণা দেন।

এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের এই সমাবেশে যোগ দেন তিনি।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন সাড়ে সাত হাজার টাকা। এটি বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের মাসিক বেতন আট হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের যোগাযোগের সুবিধার্থে মোবাইল ফোন খরচ বাবদ ১৫০ টাকা মাসে দেওয়া হবে। পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে মহল্লাদার ও দফাদার হিসেবে পরিচিতদের এখন থেকে যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত করা হবে।

প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হবে। গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঁচ বছর পরপর সাইকেল দেওয়ার পরিবর্তে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর নতুন সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। 

সর্বশেষ সব খবর