নরসিংদী থেকে গ্রেফতার হওয়া আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, গ্রেফতার আতাউর রহমানের বিষয়ে তিন মাসের আটকাদেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার সকালে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে আতাউর রহমানকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার দুপুরে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অনুরোধে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে টঙ্গী পূর্ব থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে পাঠানো হয় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে।
ওসি মেহেদী হাসান বলেন, আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আটকাদেশ ছিল। ডিএমপি আটকের পর আমাদের কাছে দেয়, এরপর আমরা তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়েছি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে শরীয়তপুরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি সহায়তার অর্থ তুলে দেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন।
এ সময় শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল হক মোল্লা, শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হলেন মোঃ আহম্মেদ রেজা আল মামুন, শরীয়তপুর জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি আলী আজগর কাজী, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. এনামূল হক এনাম, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ), শরীয়তপুর সদর-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত পরিবারগুলো সাময়িকভাবে হলেও উপকৃত হবে।
জব্দ করা নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল
নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের অভিযানে এক লক্ষ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের গণেশপুর বিল থেকে এসব জব্দ করে সেখানেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় এসময় তার সঙ্গে ছিলেন। স্থানীয়রা তাদেরকে সহযোগিতা করেন।
মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়ভাবে "শয়তান জাল" বা "রিং জাল" নামে পরিচিত চায়না দুয়ারী জাল হলো এক ধরণের বিশেষ মাছ ধরার ফাঁদ, যা বাংলাদেশে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি লোহার চারকোনা বা গোলাকার রিং এবং মশারির মতো সূক্ষ্ম সুতার জাল দিয়ে তৈরি একটি দীর্ঘ ক্ষতিকারক ফাঁদ। এই জাল ব্যবহার করায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) বলেন, এক হাজার দুইশ’ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে কাউকে না পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা বা অন্য কোন শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়নি। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
চিপসের প্যাকেটে ‘বোমা’
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি ও বোনের ছেলে ফাহিম।
আহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, সকালে বাসার পাশে বের হন ওই তিনজন। এ সময় নতুন একটি বাজারের ব্যাগ ও কিছু চিপসের প্যাকেট দেখতে পেয়ে তারা সেটি আনতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনই দগ্ধ হয়ে পাশের নদীতে ঝাপ দেন। পরে সেখান থেকে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাকেগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুরে ‘জিনের নির্দেশ’ দাবি করে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টায় মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিমা বেগম (৬৫) উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ওই নারীর মৃত্যু হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দাবি করা হয়, মৃত নারীর ছেলে ও মেয়ের ওপর জিনের আসর হয়েছে। তাদের মাধ্যমে জিনের নির্দেশ এসেছে যে, ওই নারী জীবিত আছেন এবং তাকে কবর থেকে উত্তোলন করতে হবে।
এ দাবির পর শনিবার রাতেই কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। প্রথমে তাকে মেলান্দহে নেওয়া হয়। পরে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারী মৃত বলে নিশ্চিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পুনরায় বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ক্যামেরা বা গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকরা। তবে এই অলৌকিক দাবি ও ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে ২২০ পিস ইয়াবা, ৯ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা সহ এক মাদক কারবারি আটক হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে শহরের শাহ্পাড়ায় অভিযান চালিয়ে মো: রাহেশ (৫৩) নামের ওই মাদক কারবারিকে আটক করে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আটক মাদক কারবারি রাহেশ ঠাকুরগাঁও পৌরসভাধীন শাহ্পাড়া এলাকার মৃত যাদু শেখ এর ছেলে।
সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: হারুন আর রশীদ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো আটক রাহেশ। আজ সকালে গোপন সংবাদে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তার বাসায় অভিযান চালালে ২২০ পিস ইয়াবা, ৯ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা সহ তাকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বহুতল ভবন আর আধুনিক মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষসহ পর্যাপ্ত ল্যাব থাকলেও শিক্ষক সংকটে ভুগছে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে একটি হল জিলা স্কুল ও অন্যটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে এ দু’টি স্কুলেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে আরেক বিষয়ের শিক্ষকের।
এতে ব্যাহত হচ্ছে স্কুল দু’টির শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান। তবে শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ১৯২৭ সালে বরগুনা এম.ই. স্কুল নামে বর্তমানের জিলা স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৩১ সালে মাধ্যমিক, ১৯৩৮ সালে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল এবং সবশেষ ১৯৭০ সালে সরকারি জিলা স্কুল হিসেবে রূপান্তরিত হয়। অপরদিকে জেলায় নারী শিক্ষার জন্য সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যায়ন শেষ করে অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বর্তমানে এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে কর্মরত। তবে বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে স্কুল দুটি। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বাইরের শিক্ষকদের কাছে।
বরগুনা জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে- বরগুনায় ছেলেদের জন্য একমাত্র সরকারি স্কুল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকলেও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দুটি পদই রয়েছে শুন্য। বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত মাত্র ২৫ জন। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষকদের জন্য ৮টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন ২ জন। গণিত শিক্ষকের ৮টি পদের বিপরীতে ৫ জন, ভৌতবিজ্ঞান শিক্ষকের পদ ৬টি পদই শুন্য। সামাজিক বিজ্ঞানে ৪টি পদের বিপরীতে ১ জন, ব্যবসায়ী শিক্ষা পদে ২ জনের বিপরীতে ১ জন শিক্ষক কর্মকর্ত আছেন। এ ছাড়া ইসলাম ধর্ম বিষয়ে ১ জন, শারীরিক শিক্ষায় ১ জন, কৃষি শিক্ষায় ১ জন, চারুকারুতে ২ জন, জীব বিজ্ঞানে ২ জন, ভুগোলে ২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বর্তমানে আইসিটি ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক নেই।
অপরদিকে, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদসহ বাংলা বিষয়ে ৬, ইংরেজিতে ১, গণিতে ১, সামাজিক বিজ্ঞানে ৪, ভৌত বিজ্ঞানে ৩, জীববিজ্ঞানে ৩, ব্যবসায় শিক্ষায় ২, ভূগোল ১, ইসলামি শিক্ষায় ১, চারু ও কারুকলায় ১, শারীরিক শিক্ষায় ১ জনসহ মোট ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এ দুটি স্কুলে ব্যাপক সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের। এতে ক্লাসে পড়া বুঝতে সমস্যা হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্কুল দুটির শিক্ষার্থীদের।
জিলা স্কুলের নমব শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঈশান বলেন- আমাদের স্কুলে ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ২৫ জন শিক্ষক আছেন। এ কারণে একই শিক্ষকদের অনেক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের কঠিন বিষয়গুলোর শিক্ষক নেই। এতে কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী আল হাসনাইন হামী বলেন- আমাদের স্কুলে আইসিটির কোনো দক্ষ শিক্ষক নেই। বাংলার শিক্ষক অথবা ধর্মের শিক্ষক আইসিটির ক্লাস নিচ্ছেন। তাদের থেকে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা লাভ করতে ও তাদের বোঝানোর ধরন সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছি না।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা ইসলাম বলেন- আমাদের একজন শিক্ষক একাধিক বিষয়ে পাঠদান করছেন। এতে আমারা পূর্ণাঙ্গ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ল্যাবটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক না থাকায়। আমরা চাই আমাদের সব বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এ স্কুলে আসুক।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী সাদিকা বলেন- স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি৷ আমাদের বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে পড়তে হয়। কিন্ত স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকলে ক্লাসে বসে আমাদের পড়া বুঝতে কোনো সমস্য হতো না।
শিক্ষক সংকটে এক শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের শিক্ষক মো. আল হাদী দুলাল বলেন- বর্তমানে আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের একাধিক ক্লাস নিতে হয়। আমরা প্রতিদিন সাতটা করে ক্লাস নিই। এই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কারণে আমরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রদের মধ্যে কিছু ঘাটতি থেকে যায়। আমরা শিক্ষকরা পরিশ্রম করি ঠিকই কিন্তু ছাত্রদের কাছ থেকে যে আউটপুট আমরা আশা করি সেটা আসলে কম পাচ্ছি। আর যেহেতু আমাদের সাইন্সের শিক্ষক নেই, সেই ঘাটতি অন্য কোনো শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বর্তমানে আমাদের সাইন্সের রেজাল্ট খুব ভালো হচ্ছে না। আর এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে হয়ে চলে আসছে।
চাকরির গ্রেড সমতায়ন না থাকায় মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকরা থাকছেন না জানিয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রাসেদুজ্জামান বলেন- সারা দেশেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আসলে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলো মেধাবী শিক্ষককদের ধরে রাখতে পারছে না। এর একমাত্র কারণ যথাসময়ে শিক্ষকদের পদ সমতায়ন না করা। আর এ কারণে মেধাবীরা এসেও আবার অন্য বিসিএস চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রমোশনসহ পদ মূল্যায়ন করা হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে আমি মনে করি।
বরগুনা জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন- স্কুলের শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। আমাদের আইসিটি শিক্ষক, কৃষি শিক্ষক ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা শিক্ষক নেই। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষক নেই। অবকাঠামগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছি। সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করানোর চেষ্টা করছি।
বরগুনার ঐতিহ্যবাহী সরকারি এ শিক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষক সংকটের বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার বলেন- স্কুল দুটিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। বিগত ১০ বছর আগে আরও বেশি সংকট ছিল। তবে গত তিন বছরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষক দেওয়ার কথা তা আমরা পাইনি। আর এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষা দেওয়া দরকার তা দিতে পারছি না। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বারবার শূন্য পদের তালিকা চেয়েছে এবং বারবারই দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের চাহিদা পূরণ হয়নি।