সংগৃহীত ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সিন্ডিকেট পরিচালনা, চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং স্বল্প আয়ের চাকরি করেও বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে নানা তথ্য, নথি ও অভিযোগ পেয়েছে প্রতিবেদক দল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোঃ ফয়সাল আহমেদ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ফয়সালের পৈতৃক বাড়ি কিশোরীনগর এলাকায়, যা দৌলতপুর থানার নিকটে অবস্থিত। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া শহরে অবস্থান করছেন। তার নিজের চাকরিও প্রক্সির মাধ্যমে নেওয়া। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বন করে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থী পরিবর্তন, প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফয়সালের ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীসহ নিকটাত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এক স্ত্রীকেও অন্য একজনের মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর কৌশলে স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে অন্যের স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, মেডিকেল কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা, কর অঞ্চল কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাসহ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ফয়সাল সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অনুসন্ধানে জানা যায়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছেন ফয়সাল। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্যের তৎকালীন এপিএস আমজাদ হোসেন রাজু ও পিএস হীরণের মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরেও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন শিক্ষককে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রভাবিত করা হয়। বিনিময়ে প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ পুরো প্রক্রিয়ার মূল সমন্বয়ক ছিলেন ফয়সাল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফয়সালের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পরিচিত একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। মেডিকেল কলেজের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ওই সহযোগীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম প্রতিবেদক দলের হাতে এসেছে, যেগুলো পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় রাজবাড়ীতে কর্মরত এক ব্যাংক কর্মকর্তার নামে ভাড়া নেওয়া একটি বাসায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাকরিপ্রত্যাশীদের রাখা হতো। সেখানে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তুতি ও যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলেও জানা গেছে। স্বল্প আয়ের সরকারি চাকরি করলেও ফয়সালের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৪২টি দোকান সম্বলিত একটি মার্কেট, একাধিক প্লট, জমি, ফ্ল্যাট এবং নিজ নামে বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ও সম্পত্তি রয়েছে তার। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুটি গাড়ি ব্যবহার করেন। তার ড্রাইভার হিসেবে কিবরিয়া নামের একজন কর্মরত রয়েছেন বলেও জানা গেছে। যার বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হবে। অভিযোগ রয়েছে, ফয়সাল এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন। তার তিন স্ত্রী বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। প্রতিটি স্ত্রীর কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার চাকরিজীবনের বয়স প্রায় ১০ বছর এবং মাসিক বেতন আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে এই আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এছাড়া আসন্ন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ কোটিরও বেশি টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে ফয়সালের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একাধিক চেক, স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্তসহ বিভিন্ন নথির কপি প্রতিবেদক দলের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব নথি যাচাই করে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
সাম্প্রতিক কর অঞ্চল নিয়োগ পরীক্ষায় আটক চারজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলায়। তারা ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের চার কর্মকর্তা এবং কয়েকজন শিক্ষকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাই শেষে সেসব বিষয় পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে মোঃ ফয়সাল আহমেদ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ফয়সালের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জামালপুরে ‘জিনের নির্দেশ’ দাবি করে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টায় মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিমা বেগম (৬৫) উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ওই নারীর মৃত্যু হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দাবি করা হয়, মৃত নারীর ছেলে ও মেয়ের ওপর জিনের আসর হয়েছে। তাদের মাধ্যমে জিনের নির্দেশ এসেছে যে, ওই নারী জীবিত আছেন এবং তাকে কবর থেকে উত্তোলন করতে হবে।
এ দাবির পর শনিবার রাতেই কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। প্রথমে তাকে মেলান্দহে নেওয়া হয়। পরে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারী মৃত বলে নিশ্চিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পুনরায় বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ক্যামেরা বা গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকরা। তবে এই অলৌকিক দাবি ও ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে ২২০ পিস ইয়াবা, ৯ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা সহ এক মাদক কারবারি আটক হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে শহরের শাহ্পাড়ায় অভিযান চালিয়ে মো: রাহেশ (৫৩) নামের ওই মাদক কারবারিকে আটক করে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আটক মাদক কারবারি রাহেশ ঠাকুরগাঁও পৌরসভাধীন শাহ্পাড়া এলাকার মৃত যাদু শেখ এর ছেলে।
সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: হারুন আর রশীদ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো আটক রাহেশ। আজ সকালে গোপন সংবাদে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তার বাসায় অভিযান চালালে ২২০ পিস ইয়াবা, ৯ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা সহ তাকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বহুতল ভবন আর আধুনিক মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষসহ পর্যাপ্ত ল্যাব থাকলেও শিক্ষক সংকটে ভুগছে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে একটি হল জিলা স্কুল ও অন্যটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে এ দু’টি স্কুলেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে আরেক বিষয়ের শিক্ষকের।
এতে ব্যাহত হচ্ছে স্কুল দু’টির শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান। তবে শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ১৯২৭ সালে বরগুনা এম.ই. স্কুল নামে বর্তমানের জিলা স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৩১ সালে মাধ্যমিক, ১৯৩৮ সালে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল এবং সবশেষ ১৯৭০ সালে সরকারি জিলা স্কুল হিসেবে রূপান্তরিত হয়। অপরদিকে জেলায় নারী শিক্ষার জন্য সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যায়ন শেষ করে অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বর্তমানে এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে কর্মরত। তবে বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে স্কুল দুটি। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বাইরের শিক্ষকদের কাছে।
বরগুনা জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে- বরগুনায় ছেলেদের জন্য একমাত্র সরকারি স্কুল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকলেও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দুটি পদই রয়েছে শুন্য। বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত মাত্র ২৫ জন। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষকদের জন্য ৮টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন ২ জন। গণিত শিক্ষকের ৮টি পদের বিপরীতে ৫ জন, ভৌতবিজ্ঞান শিক্ষকের পদ ৬টি পদই শুন্য। সামাজিক বিজ্ঞানে ৪টি পদের বিপরীতে ১ জন, ব্যবসায়ী শিক্ষা পদে ২ জনের বিপরীতে ১ জন শিক্ষক কর্মকর্ত আছেন। এ ছাড়া ইসলাম ধর্ম বিষয়ে ১ জন, শারীরিক শিক্ষায় ১ জন, কৃষি শিক্ষায় ১ জন, চারুকারুতে ২ জন, জীব বিজ্ঞানে ২ জন, ভুগোলে ২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বর্তমানে আইসিটি ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক নেই।
অপরদিকে, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদসহ বাংলা বিষয়ে ৬, ইংরেজিতে ১, গণিতে ১, সামাজিক বিজ্ঞানে ৪, ভৌত বিজ্ঞানে ৩, জীববিজ্ঞানে ৩, ব্যবসায় শিক্ষায় ২, ভূগোল ১, ইসলামি শিক্ষায় ১, চারু ও কারুকলায় ১, শারীরিক শিক্ষায় ১ জনসহ মোট ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এ দুটি স্কুলে ব্যাপক সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের। এতে ক্লাসে পড়া বুঝতে সমস্যা হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্কুল দুটির শিক্ষার্থীদের।
জিলা স্কুলের নমব শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঈশান বলেন- আমাদের স্কুলে ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ২৫ জন শিক্ষক আছেন। এ কারণে একই শিক্ষকদের অনেক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের কঠিন বিষয়গুলোর শিক্ষক নেই। এতে কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী আল হাসনাইন হামী বলেন- আমাদের স্কুলে আইসিটির কোনো দক্ষ শিক্ষক নেই। বাংলার শিক্ষক অথবা ধর্মের শিক্ষক আইসিটির ক্লাস নিচ্ছেন। তাদের থেকে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা লাভ করতে ও তাদের বোঝানোর ধরন সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছি না।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা ইসলাম বলেন- আমাদের একজন শিক্ষক একাধিক বিষয়ে পাঠদান করছেন। এতে আমারা পূর্ণাঙ্গ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ল্যাবটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক না থাকায়। আমরা চাই আমাদের সব বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এ স্কুলে আসুক।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী সাদিকা বলেন- স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি৷ আমাদের বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে পড়তে হয়। কিন্ত স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকলে ক্লাসে বসে আমাদের পড়া বুঝতে কোনো সমস্য হতো না।
শিক্ষক সংকটে এক শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের শিক্ষক মো. আল হাদী দুলাল বলেন- বর্তমানে আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের একাধিক ক্লাস নিতে হয়। আমরা প্রতিদিন সাতটা করে ক্লাস নিই। এই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কারণে আমরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রদের মধ্যে কিছু ঘাটতি থেকে যায়। আমরা শিক্ষকরা পরিশ্রম করি ঠিকই কিন্তু ছাত্রদের কাছ থেকে যে আউটপুট আমরা আশা করি সেটা আসলে কম পাচ্ছি। আর যেহেতু আমাদের সাইন্সের শিক্ষক নেই, সেই ঘাটতি অন্য কোনো শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বর্তমানে আমাদের সাইন্সের রেজাল্ট খুব ভালো হচ্ছে না। আর এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে হয়ে চলে আসছে।
চাকরির গ্রেড সমতায়ন না থাকায় মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকরা থাকছেন না জানিয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রাসেদুজ্জামান বলেন- সারা দেশেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আসলে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলো মেধাবী শিক্ষককদের ধরে রাখতে পারছে না। এর একমাত্র কারণ যথাসময়ে শিক্ষকদের পদ সমতায়ন না করা। আর এ কারণে মেধাবীরা এসেও আবার অন্য বিসিএস চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রমোশনসহ পদ মূল্যায়ন করা হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে আমি মনে করি।
বরগুনা জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন- স্কুলের শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। আমাদের আইসিটি শিক্ষক, কৃষি শিক্ষক ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা শিক্ষক নেই। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষক নেই। অবকাঠামগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছি। সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করানোর চেষ্টা করছি।
বরগুনার ঐতিহ্যবাহী সরকারি এ শিক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষক সংকটের বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার বলেন- স্কুল দুটিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। বিগত ১০ বছর আগে আরও বেশি সংকট ছিল। তবে গত তিন বছরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষক দেওয়ার কথা তা আমরা পাইনি। আর এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষা দেওয়া দরকার তা দিতে পারছি না। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বারবার শূন্য পদের তালিকা চেয়েছে এবং বারবারই দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের চাহিদা পূরণ হয়নি।
গাজীপুরে ন্যাশনাল রিপাবলিকান পার্টি‘র (এনআরপি) উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণে পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ্যাড. মোঃ সোহেল রানার সভাপতিত্বে আজ সোমবার ( ৩ আগস্ট) পার্টি কার্যালয় জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড শহীদ স্মৃতি স্কুল মার্কেটে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ ডা. একেএম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধো মোঃ হারু অর রশিদ, পার্টির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, আবুল কাশেম সেলিম, যুগ্ম মহাসচিব ডা. দিলসাদ শায়ন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ মোস্তফা জামান, ডা. আল-আমিন, রাশিদা আক্তার প্রমুখ।
পার্টির চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ ডা. একেএম ফজলুল হক তার বক্তব্যে শহীদদের স্মরণ করে বলেন ২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শৈ^র শাসক বিতারিত করতে ১৪শ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু ও আহত হয়েছেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। এই সরকারকে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে সহযোগিতা করে যাবো।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে দোয়া পরিচালনা করেন পার্টির সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল শহিদুল ইসলাম।
বরগুনায় চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বিদ্যুৎ বরাদ্দ, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং নিম্নমানের গ্রাহকসেবার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। হাজারো নারী-পুরুষ মিছিলে অংশগ্রহন করেন। বিক্ষোভকারীরা সোয়া ১০ টার দিকে বরগুনা ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) অফিস ঘেরাও করে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরগুনা জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সর্বোচ্চ ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মিলিয়ে দিন-রাত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। উপকূলীয় এই জেলার ওপর এমন বিদ্যুৎ বৈষম্য দ্রুত দূর করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল ৭ দফা দাবী তুলে ধরেন।
দাবীগুলো হচ্ছে- বরগুনায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের টাকায় মিটার কিনেও প্রতিমাসে ডিমান্ড চার্জ দিতে হচ্ছে, ডিমান্ড চার্জ বন্ধ করতে হবে। হঠাৎ করে প্রায় দ্বিগুন ইউনিট চার্জ বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। আগের মতো ইউনিট চার্জ নির্ধারণ, অথবা পূন:বিবেচনা করে ইউনিট চার্জ পূন:নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিমাসে মিটার না দেখে বিল করা যাবেনা, একত্রে বেশী ইউনিটের বিল করে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। মিটারবিহীন অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কোন ধরনের দুর্ব্যবহার করা যাবে না। বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস চালু করতে হবে।
ঘেরাও কর্মসূচি শেষে বরগুনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সচিব, চীফ হুইপ, বরগুনা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বরাবরে ৭ দফা দাবী নিয়ে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বরগুনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে বরগুনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা গ্রামে অন্যের মালিকানাধীন কৃষিজমিতে রাতের আঁধারে ট্রাকভর্তি বালু ফেলে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিকরা সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধল্লা গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী ও তার সন্তানদের মালিকানাধীন কৃষিজমি দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর ধরে তাদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। গত ১ আগস্ট সকালে একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ, সোহরাব মিয়া, আহসান মিয়া এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় দালাল ও ভূমিদস্যু হিসেবে অভিযুক্ত সলিম মিয়া, কামাল, নুরুল ইসলাম, ইকবাল, আফসার খান, সজিব খান, সুমন খান, আসান খানসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ সময় অভিযুক্তরা জমি দখলের উদ্দেশ্যে জমি পরিমাপ করেন। জমির প্রকৃত মালিকরা বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পরদিন গভীর রাতে জমির মালিকদের অজ্ঞাতসারে কয়েক ট্রাক বালু ফেলে কৃষিজমি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর নিরুপায় হয়ে জমির মালিকরা সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশ সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলে।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা প্রথমে দাবি করেন, জমিটি তারা পাবেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো বৈধ মালিকানার দলিল বা কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। পরে তারা দাবি পরিবর্তন করে জানান, তারা জমিটি অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে ক্রেতারাই ভালো জানেন।
এরপর পুলিশ কথিত ক্রেতা আফসার খান, সজিব খান, সুমন খান ও আসান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ভবিষ্যতে জমির কাগজপত্র তৈরি করা হবে—এমন একটি চুক্তির ভিত্তিতে তারা জমিটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে পুলিশকে তারাও কোনো বৈধ রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বা মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমান ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত সলিম মিয়া, কামাল মিয়া, নুরুল ইসলাম ও ইকবাল মিয়া জমির মালিকদের একজন ইউনুস মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় আহত ইউনুস মিয়া সিংগাইর থানায় পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই মামলায় অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে বেড়ান যে, পুলিশ বা আদালত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং তারা সবকিছু "ম্যানেজ" করতে সক্ষম। এসব হুমকির কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।