মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন। তিনি এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, কিন্তু আমার মনে হয় দুই-এক দিনের মধ্যে আমরা তাঁকে চেয়ারম্যান করতে পারব। কারণ, অলরেডি আমাদের দেশনেত্রী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই জায়গা আমাদেরকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে।’
রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথাগুলো বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এ মতবিনিময় হয়।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন, আমরা আশা করি, এবারও তা হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সকলের প্রত্যাশা তিনি (তারেক রহমান) সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।’ দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীরা নিজেরা অত্যন্ত সচেতন ও সজাগ এবং তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই যতটুকু পারেন চেষ্টা করছেন। আমি বিশ্বাস করি যে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে কিছুদিন থেকে অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকে এক বছরে একটা কালচার হয়েছে, যেটা মব ভায়োলেন্স, মবোক্রেসি। যেটা গণতন্ত্রকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখান থেকে সচেতনভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেটা সম্ভব একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যদি আমরা উঠতে পারি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা করতে পারি, তাহলেই সম্ভব।’
সভা সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, এম এ মালিক ও এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উড়োজাহাজে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। সেখানে তাঁকে দলীয় নেতা–কর্মীরা স্বাগত জানান। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বিএনপির মহাসচিব উড়োজাহাজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সাবেক মন্ত্রী ও নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী (এমএ) খাঁনের নামে সিলেট নগরে বিজ্ঞান জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের চণ্ডীপুল চত্বরের নামকরণও এমএ খানের নামে করা হবে। এছাড়া সাবেক এই মন্ত্রীর নামে সিলেটে বেশ কিছু স্থাপনা ও সড়কের নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এম এ খানের মৃত্যু বার্ষিকীতে রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনটি জানান। সাবেক মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খাঁন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমান তাঁর কনিষ্ট মেয়ে। তিনি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।সিলেটের দক্ষিণ সুরমা বাসিন্দা এমএ খানের নামে সিলেটের লামাকাজিতে সেতু রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বরের নাম পাল্টে ‘এমএ খান চত্বর’ নামকরণ করে স্থানীয় কিছু লোক।
বৃহস্পতিবার এম এ খানের মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরো বলেন, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান একজন খ্যাতিমান ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে এতোদিন উপেক্ষিত ছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে সিলেটে ইতিপূর্বে তেমন কিছুই করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এম এ খাঁনের নামে সিলেট নগরে একটি বিজ্ঞান জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের চণ্ডীপুল চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন করে তাঁর নামে নামকরণ হবে। পাশাপাশি, এই গুণী ব্যক্তির স্মৃতি রক্ষায় সিলেটে বেশ কিছু স্থাপনা ও সড়কের নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাহফিলে উপস্থিত সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী পাঠ্যপুস্তকে এম এ খানের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সিলেটের সিলাম এলাকায় এম এ খানের বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সিলেট বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ বরাদ্দ অনুমোদন পেলে আগামী এক বছরের মধ্যে সিলেটের রাস্তাঘাট ও হাটবাজারের দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।
এদিকে,সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বাদ যোহর নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের দেশের প্রতি অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজ হাতে শিরনি বিতরন করেন।
সিলেট প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের দমন-পীড়ন, গুম, হত্যা ও গুলির মুখেও গণতন্ত্রকামী মানুষ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। এম. ইলিয়াস আলীসহ অন্তত ৬৬৬ জন গুমের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী শহীদ ও আহত হয়েছেন। সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই - আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক আরো বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শুধু দুই মাসের কোনো আন্দোলন নয়; এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফসল। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “বীর শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে অপশাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। জাতি তাঁদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন্ নূর বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এ দিন দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থেই মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।”
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. ফয়ছল আলম, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শুয়াইবুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক নূর আহমদ ও ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।
আলোচনা সভায় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন,পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, সহ - সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ,নির্বাহী সদস্য আনাস হাবিব কলিন্স, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, সেলিম আউয়াল, সিন্টু রঞ্জন চন্দ, শেখ আব্দুল মজিদ, একে কাওছার, লবীব আহমদ, মো. তাজুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, লোকমান আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ ও প্রশাসকের পিএস মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক।
দেশব্যপী তীব্র গ্যাস সংকট, অসহনীয় লোডশেডিং,গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট ১১ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুৃপুরে জেলা প্রশাসক রফিকুল হক এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা দ্রুত স্মারকলিপিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর প্রেরণ করব।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে চলমান অর্থনৈতিক ও নাগরিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকট, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে।
১১ দফা দাবিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পেলেও অনেক গ্রাহককে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয়ে সরকার প্রধানকে দ্রুত নজর দিতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়েতে সেক্রেটারী ও সমন্বয়ক, ১১ দলীয় ঐক্য মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারি সেক্রেটারী কফিল উদ্দিন আহাম্মদ, এনসিপির জেলা সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল বিন হায়দার, এনসিপির জেলা যুগ্ন আহ্বায়ক সামসুল আলম। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা ফজলে রাব্বী মোর্তজাবীসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা জাায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্য শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী
জামালপুরের মাদারগঞ্জে কার্যক্রম রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী নামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। রাজনীতি ছেড়ে বাকি জীবন কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক চলতে চান বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (০৬ জুলাই) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ ঘোষণা দেন গোলাম রব্বানী।রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া ওই নেতা পৌর শহরের বালিজুড়ী পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল আলীম মির্জা কাশেম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক।
জানা গেছে, আশির দশক থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন গোলাম রব্বানী। পরে মাদারগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের ৩ বারের সভাপতি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য, সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নেই।
পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবইলে বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে পবিত্র হজ পালনের সময় কাবাঘর ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম রাজনীতি থেকে বিদায় নিব। কারণ, রাজনীতি আমার জন্য না। এতদিন পদত্যাগ না করতে পারলেও আজ করলাম। আমি আওয়ামী লীগের আমলেও অআনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিদায় নিয়েছি।
তিনি বলেন, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে পারিনি। এখন সুযোগ হয়েছে। তাই রাজনীতি থেকে বিদায় নিলাম। বাকি জীবন আমি কোরান সুন্নাহ মোতাবেক চলতে চাই। এ নিয়ে কেউ অহেতুক বিভ্রান্ত হবেন না। আমি যা করেছি, স্বজ্ঞানে করেছি।
প্রসঙ্গত, গোলাম রব্বানীর বর্তমানে বয়স চলছে ৫৮ বছর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর নাশকতা,বিস্ফোরকসহ কয়েকটি মামলা জর্জিত হোন তিনি। আদালতে আত্মসমর্পণ করে টানা সাড়ে ৩ মাস কারাগারভোগ করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
জীবদ্দশায় চল্লিশার আয়োজন করেছেন জামালপুরের ইসলাম উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ (৭০)।
বুধবার (৫ আগস্ট) নিজ বাড়িতে দুই হাজারের অধিক মানুষ নিয়ে চল্লিশার আয়োজন করেন তিনি। সামাদ আলী (৭০) ওই এলাকার মৃত শুকর আলীর ছেলে।
দাওয়াত খেতে আসা একই এলাকার নুরুল ইসলাম (নুর) বলেন, সামাদ সংসার জীবনে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। তার সংসারে রয়েছে ৩ মেয়ে ও ৪ ছেলে। এলাকায় বিত্তশালী কৃষক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা কেউ বিয়ে করে আলাদা আবার কেউবা লেখাপড়া করছেন।
তিনি আরও বলেন, সামাদ চিন্তা করেন নিজের জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়ে দেবেন। এরপর অপেক্ষা পরপারে চলে যাওয়ার। এর মধ্যে মাথায় আসে তিনি মারা গেলে সন্তানরা যদি চল্লিশা না করে। এ জন্য তিনি নিজের চল্লিশা জীবিত অবস্থায় করে যেতে মনস্থির করেন।
নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তাদের সম্মতিতে আয়োজন করেন চল্লিশা। এজন্য তিনি বেশ কয়েক দিন সময় নিয়ে লোকজনকে দাওয়াত দেন। বুধবার দুপুরে বাড়িতে সামিয়ানা টানিয়ে দুই হাজারের অধিক নারী-পুরুষকে খাওয়ান।
দাওয়াত খেতে আসা আব্দুল কদ্দুস বলেন, জীবিত ব্যক্তি নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন সেটি ব্যতিক্রম ঘটনা। তৃপ্তি সহকারে আমরা খেয়েছি।
সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছায় তিনি জীবিত অবস্থায় এ মেজবানির আয়োজন করেন। তাই আমাদেরও সম্মতি ছিল। তবে বাবা না থাকলেও আমরা তার আত্মার শান্তির জন্য এটা করতাম।
মেয়ে সাজেদা বলেন, বাবার একটা সন্দেহ দূর করতেই এ আয়োজনে সবার সম্মতি ছিল। এতে আমাদেরও ভালো লাগছে। তবে আমার ভাইয়েরা সাধ্যমতো অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন।
বৃদ্ধ সামাদ আলী বলেন, আমি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। নামাজ ছাড়া এখন তেমন কোনো কাজকর্ম করি না। সবার সঙ্গে কথা বলে এ আয়োজন করেছি। চল্লিশার জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু, ২০ হাজার টাকার একটি খাসি কিনেছি।
ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ দুইজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ডিবি (দক্ষিণ)-এর ওসি মুহাম্মাদ মাহবুবুল হকের নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) বিপুল কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ২৫ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানার রঘুরামপুর ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ হাজার টাকা। এ সময় রঞ্জন দাস (৪৮) ও মিঠুন চন্দ্র কর (৩৫) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা উভয়েই রঘুরামপুর ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত আলামতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।