• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ এএম

সিলেটে 'সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব' শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ, সিলেটের উদ্যোগে রবিবার বিকেলে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এর আয়োজন করা হয়।উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ সিলেটের সভাপতি ও সিংহবাড়ির সন্তান জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক ও লেখক সঞ্জয় কুমার নাথ ও বচিক শাশ্বতী ঘোষ সোমার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেটের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সম্মানিত বিশেষ অতিথি ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, রাজেশ ভাটিয়া ও দৈনিক আগামীর সময়ের আবাসিক সম্পাদক আহমেদ নুর।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপিস্থিত ছিলেন সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, উত্তরা ব্যাংকের অব. জি.এম, সমাজসেবী নিরেশ চন্দ্র দাশ, বিশিষ্ট লেখক-গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, গবেষক-সাংবাদিক সুমন কুমার দাশ, গল্পকার জামান মাহবুব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অব. পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুন চন্দ্র পাল, তথ্য চিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, অব. শিক্ষয়িত্রী শিলা সাহা, অধ্যাপক অনবীর রায়, এপেক্সিয়ান জিডি রুমু, কবি সুমন বনিক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জ্যোতিমোহন বিশ্বাস, সাংস্কৃতিকজন কৃষ্ণা তালুকদার কনিকা, কবি পুলিন রায়, এ্যাডভোকেট ফণী ভূষণ সরকার, লেখক বিনয় ভূষণ তালুকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক ম্যানেজার দীপক দাশ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জয়তী ঘোষ লোনা, শাবিপ্রবির সহকারী রেজিস্ট্রার অসিত কুমার সূত্রধর, অধ্যাপক কিরিটি পাল, সহকারী অধ্যাপক ইন্দ্রজিত রায়, অব. শিক্ষক নরেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ প্রাণদীশ দেব, সমাজ হিতৈষী রামাকান্ত গুপ্ত রুপু, সংগীত শিল্পী বিমান তালুকদার, চলন্তিকা প্রিন্টার্সের ম্যানেজার মোঃ আব্দুর রহিম, সংগীত শিল্পী মিনাক্ষী ভট্টাচার্য্য, সুমন চন্দ্র তালুকার, অপূর্ব কুমার দাস, আব্দুল হাই, শিপ্রা রানী নাথ, চম্পা রায়, নীলকণ্ঠ দাস ও শংকরী দাস প্রমুখ। সিংহবাড়ির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রভাতী সিংহ মজুমদার, পরমা সিংহ মজুমদার। এছাড়া সিলেটের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেটে অবস্থান করেছিলেন। এসময় তিনি নগরের চৌহাট্টাস্থ ঐতিহ্যবাহী সিংহবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, যা সিলেটবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়।


অনুষ্ঠানের সভাপতি জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন বলেন, কবি নজরুলের সিলেট আগমন শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কবির স্মৃতি, সাহিত্য ও সংগীতচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, 'বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ইতিহাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান চিরস্মরণীয়। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অগ্নিঝরা বাণী তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা আজও সমাজকে আলোকিত করছে। তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, দ্রোহ, মানবমুক্তি ও চেতনার কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


বক্তারা আরও বলেন, “১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কবির সিলেট আগমন এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে সিংহবাড়িতে তাঁর অবস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা আজও মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। সেই ইতিহাস ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব আয়োজন করা হয়েছে।


তারা বলেন, 'বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, অসহিঞ্চুতা ও সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্যে নজরুলের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাঁর রচনা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ন্যায়বোধ, ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ইতিহাস নতুনভাবে আলোচনায় আসবে।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে কবির বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরা হবে বলেও জানান তারা। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্ব শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। উদ্বোধনী সংগীত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর পরিবেশিত হয় নজরুল সংগীত । এতে দলীয় ও একক পরিবেশনায় অংশ নেন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সিলেট। শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হিমাংশু বিশ্বাস, সুকোমল সেন ও বিজন কুমার রায়। এছাড়া ললিতকলা একাডেমি, সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন, বিপ্রদাশ ভট্টাচার্য । সঙ্গীত নিকেতন সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন প্রদীপ দে। এ পর্বে আরও পরিবেশিত হয় ‘সুর ও বাণী, সিলেট এবং 'সুরের ভুবন, সিলেট'-এর পরিবেশনা। 


পরিচালনায় ছিলেন পদ্মীনী ইমন ও মনোজ কান্তি ভট্টাচার্য মান্না। নজরুল সংগীতের একক পরিবেশনায় অংশ নেন ডা. বর্ষা মজুমদার পাপড়ি ও অরুনিমা দাশ, আনন্দলোক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন জ্যোতি ভট্টাচার্য্য, পরিচালক চারুবাক এবং সুকান্ত গুপ্ত পরিচালক শ্রুতি । দলীয় নৃত্যে অংশ নেয় 'নৃত্যরথ'। পরিচালনায় ছিলেন পপি দাশ। নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন ললিত মঞ্জুরী। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন, জ্যোতির্ময় ধর সৌরভ, কী-বোর্ডে সুদীপ চক্রবর্তী এবং অক্টোপ্যাডে সুদীপ পাল, তবলায় প্রসেন রায়। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। এ পর্বে পরিবেশিত হয় স্বরচিত বন্ধনা। পরিবেশনায় ছিলেন, সিংহবাড়ির সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম প্রবাসী ড. শর্মিলা সেন ঊর্মি, একমাত্র কন্যা আনন্দী সেন ও একমাত্র পুত্র অনিরুদ্ধ সেন। তবলায় সহযোগিতা করেন ঊর্মির স্বামীর ড. অরিজিৎ সেন দীপ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সকলকে জলযোগে আপ্যায়িত করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে সিংহবাড়িতে কবি নজরুল শতবর্ষ স্মারক উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সরাসরি নজরুলের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন করুণ দাস কিরণ। অনুষ্ঠানে অতিথি ও শিল্পীদের উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।


এদিকে,সিলেটে কবি নজরুলের আগমন ও সিংহবাড়িতে অতিথেয়োতা গ্রহণের শতবর্ষ স্মরণোৎসবকে সামনে রেখে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন আয়োজকরা। বিকেল ৫টায় সিলেট নগরের জিন্দাবাজারস্থ হোটেল গোল্ডেন সিটির করফারেন্স কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


এ সভায় স্মরণোৎসবের আয়োজক উপেন্দ্র-বীণাপানি স্মৃতি পরিষদের সভাপতি জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন সাংবাদিকদের উদ্দেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘সিংহবাড়ি’ তেমনই এক স্মৃতিধন্য স্থান, যেখানে পদধূলি পড়েছিল বাংলা সাহিত্যের দুই মহাতারকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের। তাঁদের আগমন কেবল একটি পরিবারের গৌরব নয়; এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে ধারণ করে আমার পিতা-মাতার নামে গঠিত ‘উপেন্দ্র-বীণপাণি স্মৃতি পরিষদ’ কর্তৃক আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’। 


সিংহবাড়ির সঙ্গে কবি নজরুলের সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি জানান, গভীর মানবিকতাতেও ভরপুর হৃদয় নিয়ে ১৯২৬ সালে অসুস্থ অবস্থায় তিনি যখন সিলেটে অবস্থান করেছিলেন, তখন সিংহবাড়ির সদস্যদের আন্তরিক সেবা ও ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই সম্পর্কের উজ্জ্বল সাক্ষী হয়ে আছে সিংহবাড়ির কন্যা লীলাবতী মজুমদারের উদ্দেশ্যে তাঁর লেখা হৃদয়ছোঁয়া কবিতা। 


তিনি বলেন, আমার আপন জ্যেঠ্তুতো বোন লীলাবতী মজুমদারের সুরেলা কণ্ঠে গান শুনে কাজী নজরুল ইসলাম বিমোহিত হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক কবি লিখেছিলেন-‘তোমার কণ্ঠে বাঁধিয়াছে নীড় সুরের দেশের পাখি-সুরেশ্বরের হস্তে বাঁধুক তোমার সুরের রাখী।

উষসীর বাণী এনেছো বহিয়া আকুল কণ্ঠে পুরে ফুলঝুরি সম তৃষিত ধরায় পড়–ক তাহাই ঝরে।

হেম-গিরি তলে কাঁদে যে নিঝর প্রকাশের পথ খুঁজি, তোমার কণ্ঠে শুমরিছে আজো তারি আকুলতা বুঝি!


'সিলেটে সিংহবাড়িতে কবি নজরুল: শতবর্ষ স্মরণোৎস'- আয়োজন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এ মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন গদ্যলেখক ও শিক্ষক সঞ্জয় কুমার নাথ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকা শিলা সাহা, শিক্ষিকা শ্বাশতী ঘোষ সোমা, জয়তী ঘোষ লুনা প্রমুখ



সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতের গণমিছিল

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২১ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।


আজ শনিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জুলাই চত্বর হতে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন দলের নেতাকর্মীরা। 


জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর সভাপতিত্বে সমাবেশ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য এবং সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারী মোহাম্মদ আরমগীর, সহকারি জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ।


এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শহর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ শামীম, সদর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, সদর সেক্রেটারী এস.এম আদিউল ইসলাম প্রমুখ।


বক্তাগণ অবিলম্বে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবান এবং জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহব্বান জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে জামায়াত ঘরে থাকবে না বলেও সরকারের প্রতি হুশিয়ারি দেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

কেক কেটে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম এর ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করলেন অত্র সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 


আজ শনিবার (১লা আগষ্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল সদরস্থ পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কেক কেটে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম। 


এছাড়াও বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচির শুভ  উদ্ভোদন করেন তিনি প্রতিমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, সংগঠনের উপদেষ্টা সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তানভীর হাসান খান রুবেল, অত্র সংগঠনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোহিদুল ইসলাম মোহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক, ফরিদ মিয়া, কোষাধ্যক্ষ শারমিন শিমু, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, অনিক সরকার অভি, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক, আসাদ হোসেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বাবুল হোসেন, সদস্য জাহিদুল ইসলাম, আসিফ, জাহিদ বিন সুলতান, তারিকুল ইসলাম শাওন ও মোঃ সিয়াম।

সর্বশেষ সব খবর

পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৮ পিএম

পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা (মেডিকেল ক্যাম্পেইন) ও ঔষধ বিতরণ করেছে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।


আজ শনিবার (০১আগষ্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী আটোয়ারী উপজেলার ধামোরহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৮ বিজিবির  ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।


প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া। এসময় পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস সহ বিজিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিজিবি জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।




সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বিজিবি নিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে।


মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৪৫০-৫০০ জন দুঃস্থ, হতদরিদ্র ও অসহায় নারী, পুরুষ এবং শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রংপুরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

 

লক্ষ্যে শনিবার ( আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বার, অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।

 

তিনি রংপুরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে হাসপাতাল চালুর লক্ষ্যে নানা সংকটের কথা শোনেন। সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডাঃ ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

 

পরিদর্শন শেষে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আসবাবপত্র ক্রয়, জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।

 

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাসের মধ্যে সকল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। হাসপাতালে আসবাবপত্রের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন স্যাম্পল যাচাই বাছাই চলছে। আশা করছি মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দু-এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে।

 

অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৪ পিএম

নোয়াখালীতে ইসলামী মহাসমাবেশে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সমাগমে ‘হিজবুত তাওহীদ’-কে কালো তালিকাভুক্ত ঈমান বিধ্বংসী জঙ্গি সংগঠন উল্লেখ করে সংগঠনটি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে।


শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান।


ইসলামী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন- ঈমান বিধ্বংসী জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তওহীদ সেবার আড়ালে সুকৌশলে হাজার হাজার মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করছে। যার কারণে এদেশের হক্কানি ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার চেতনা ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে। দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা বিক্ষুব্ধ হচ্ছে ও তাদের ভিনদেশী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কারণে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সরকারের নিকট ‘হেযবুত তওহীদ’ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানান তিনি ।


সমাবেশের দুই অধিবেশনে জমাইয়াতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামী মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম, মাওলানা আজিজুল্লাহ নবাব, মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমূখ।


সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, নোয়াখালীর ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। 


সমাবেশে বক্তাগণ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের প্রণীত বইপত্র, প্রচারিত পত্রপত্রিকা প্রকাশ ও ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতে হবে। সারাদেশে  ‘হেযবুত তওহীদ’ কর্তৃক বিভিন্ন নিরীহ মুসলমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো প্রত্যাহার  করতে হবে।


মহাসমাবেশে ঘোষিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার সমন্বয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি পেশ ও আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত  হেজবুত তওহীদের স্বরূপ উন্মোচনে পর্যায়ক্রমে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ট্রিপল টেস্টেড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড সিমেন্ট আশা সিমেন্ট বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।


শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে এ উপলক্ষে নোয়াখালী মাইজদীর নোয়া কনভেনশন সেন্টারে “আশা সিমেন্ট: স্বপ্নযাত্রায় নব দিগন্ত” শীর্ষক প্রোডাক্ট লঞ্চিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আশা সিমেন্টের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মো. সজিবুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, আশা সিমেন্টের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মেহেরাজুল ইসলাম, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মাইন উদ্দিন হাসান জুয়েল এবং নোয়াখালী অঞ্চলের রিজিওনাল হেড মো. মুহাইমিনুন হক।


এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা, ডিলার, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আশা সিমেন্ট দেশের নির্মাণ খাতে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের গ্রাহকদের কাছে উন্নতমানের সিমেন্ট ও নির্ভরযোগ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশন, ব্যবসায়িক মতবিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র‍্যাফেল ড্র এবং অতিথিদের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা ছিল। পুরো অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।


প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আশায় গড়ি আগামী” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণসামগ্রী ও সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে আশা সিমেন্ট।

সর্বশেষ সব খবর