সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে ট্রাক ও ট্রাক্টরের সংঘর্ষে নিহত ৮ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে ছয় জনই সুনামগঞ্জ জেলার।সোমবার সকাল ৬ টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে দুই নারী ও সহোদর রয়েছেন।
নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুরের দুই ভাই আজির উদ্দিন ও আমিরউদ্দিন, ধর্মপাশার সরিষা গ্রামের নার্গিস আক্তার, দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম, দিরাই ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী, ভাটিপাড়া নূর নগরের ফরিদুল ইসলাম, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান।এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক। তারা একটি ডিআই পিকআপে করে নির্মাণ কাজের উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় মানুষ ও পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে আরও ৪ জন মারা যান।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, রবিবার সকাল ৬টার দিকে সিলেট থেকে একটি ডিআই পিকআপে করে বেশকিছু নির্মাণ শ্রমিক লালাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।দুর্ঘটনার পর থেকেই পিকআপ ও ট্রাকউভয় চালক পলাতক রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরের দিকে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম। এর আগে, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন, সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো.আনোয়ার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ওমর ফারুক, যুবদল নেতা শরীফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ওসমান গনি শিহাব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এনায়েত উল্লাহ রিফাত এবং শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদ।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় পিএল একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদকে যুবদলের নেতাকর্মীরা আটক করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত সোয়া ৮টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা রাজু ভূঁইয়া শিবিরের কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে ডাকেন।
সিরাজপুর ইউনিয়ন জায়াতের আমির আবুল হাসেম বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে রাত সোয়া ৮টার দিকে সিরাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মুজাহিদসহ কয়েকজন শিবির নেতাকর্মি দিনার দোকানের একটি চা দোকানে যান। তাৎক্ষণিক সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ফারুক ও সিএনজি চালক বেলালের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মিদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে আমি চলে আসার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কার্যালয় শুরু থেকেই বন্ধ ছিল এবং বিএনপির লোকজন নিজেরাই কার্যালয় ভাঙচুর করে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
তবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চু অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবির বহিরাগত লোকজন এনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দিনার দোকান এলাকায় বিএনপির কার্যালয় ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ফারুক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির দুজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
নওগাঁয় সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। শহরের নওজোয়ান মাঠে জেলা প্রশাসন ও জেলা বন বিভাগ এর আয়োজন করে। রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় সেখানে আয়োজিত সমাবেশে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।
এসময় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনিরুল ইসলাম পিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, নওগাঁ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিভিন্ন নার্সারি মালিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তির মোড় সংলগ্ন নওজোয়ান মাঠে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গাছের চারা নিয়ে মোট ৪৪টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত টানা সাত দিন এই বৃক্ষমেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সংগৃহীত ছবি
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘জিনের কথায়’ জীবিত ভেবে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে আবার দাফন করা হয়।
গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার চর মাহমুদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে মেলান্দহ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন। মৃত ৬৫ বছর বয়সী হালিমা খাতুন ওই গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার রাত ১টার দিকে হালিমা খাতুন মারা যান। গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তারা জানান, হালিমা খাতুনের মেয়ে সুলতানা আক্তারের ওপর ‘জিনের আছর’ রয়েছে। দাফনের পর তিনি দাবি করেন, ‘জিন’ তাকে জানিয়েছে তার মা জীবিত আছেন।
পরে পরিবারের লোকজন রাত ৯টার দিকে কবর থেকে হালিমার লাশ উত্তোলন করে প্রথমে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জামালপুর শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাতেই মরদেহ আবার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
চর মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, “হালিমা খাতুনের লাশ কবর থেকে লাশ তোলার খবর শুনে কয়েক গ্রামের হাজার হাজার তার বাড়িতে ভিড় করে। পরে মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আবারও তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর রাতেই তাকে আবার দাফন করা হয়।”
তিনি বলেন, “যার কথায় লাশ তোলা হয়েছে, তিনি ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’। এভাবে কবর থেকে লাশ তোলা ঠিক হয়নি।”
ওসি ওবায়দুর রহমান বলছেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি বা লিখিতভাবেও কিছু জানায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় বসবাসরত দরিদ্র পরিবারের দুই শিশু পড়াশোনার চাপ, মায়ের বকুনি ও সহপাঠীদের সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ট্রেনে চড়ে প্রায় শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তারা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পৌঁছায়।
পরবর্তীতে এক স্থানীয় হকারের সহায়তায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করেছে। ট্রেনে চড়ে আসা ওই দুই শিশুর নাম মোহাম্মদ সানি (১১) এবং সমবয়সী তোফায়েল আহমেদ। তারা মায়ের বকুনি এবং সহপাঠীদের সাথে ঝগড়া করে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এলাকা থেকে চলে আসে।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনে চড়ে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওরা কুলিয়ারচর রেলওয়ে স্টেশনে নেমে এদিক-ওদিক ঘুরতে থাকে। এ সময় স্থানীয় হকার হৃদয় মিয়ার (২৫) সন্দেহ হলে তিনি তাদের সাথে কথা বলেন। একপর্যায়ে হৃদয় ওদের তার বাড়িতে নিয়ে যান।
হৃদয় মিয়া জানান, শিশুরা জানিয়েছে লেখাপড়ায় অমনোযোগিতার কারণে ওরা পরিবারের বকুনি খেত। তা ছাড়া শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে ওরা খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে সহপাঠীদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। তাই পরিবারের শাসনের ভয়ে তারা এলাকা ছেড়ে দূরে কোথাও গিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে।
সানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের রুমেল মিয়ার ছেলে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে তার মা রহিমা আক্তার সুমি ছেলেকে নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে আসেন। রহিমা ধানমন্ডি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন।
অপর দিকে তোফায়েল ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের রিকশাচালক বাবুল মিয়ার ছেলে। দুটি পরিবারই ধানমন্ডি লেকপাড় এলাকায় বসবাস করে। সানি ও তোফায়েল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।
কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শিশুদের পরিবারকে ফোনে খবর দেওয়া হলে পরিবারের লোকজন এসে ওদের নিয়ে যায়।
কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, পরিবারের শাসনের ভয়ে শিশু দুটি এলাকা ছেড়ে চলে আসে। পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিস সমিতির আয়োজনে এবং নেপালের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। প্রতিটি থানায় এ ধরনের আই ক্যাম্পের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ অত্যন্ত উদ্যোগী ও পরিশ্রমী। তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। যেসব মানুষ সহজে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা পান না, তাদের জন্য এ ধরনের আই ক্যাম্প একটি বড় সুযোগ। এতে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিপ অব মিশন মি. প্রতীক কার্কি, এন এন আই এস এর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডাক্তার চেতরাজ প্রান্ত, বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান মি. পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল ,গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাজিদার রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ পয়গাম আলি সহ জেলার চিকিৎসক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
পাঁচ দিনব্যাপী এ চক্ষু ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হবে।
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন
চট্টগ্রামে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। খুন ও অস্ত্র উদ্ধারের পৃথক দুটি মামলায় পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুতাসিম বিল্লাহ এ আদেশ দেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ফটিকছড়ি থানার জামাল হত্যা এবং সম্প্রতি ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় ইমনকে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অস্ত্র উদ্ধারের মামলাটিতে মো. ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস, শামীমসহ ইমনের আরও চার সহযোগীরও পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এদিকে ইমনকে হাটহাজারী বড়দিঘির পাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসীম উদ্দীনের নির্মাণাধীন ভবনে ৫০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য হামলা-ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম এই আদেশ দেন।
সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় ইমনকে। আদালত প্রাঙ্গণে সকাল থেকে পুলিশি নিরাপত্তার জোরদার করা হয়। জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মুহাম্মদ নাজমুন নূর বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইমনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ইমন ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পরদিন বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন তাঁকে ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অপরজন মোহাম্মদ রায়হান। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবির জন্য বেশি ফোন করতেন ইমন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিনকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে। ইমন বলেন, ‘৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলব। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি।’
এ ছাড়া ‘এমনভাবে গুলি করা হবে যে পরিবারের লোকজন গণনাও করতে পারবে না’ কিংবা ‘গুলি করে পুরো শরীর ভোমরার বাসা করে দেওয়া হবে’—এ ধরনের হুমকি দিয়ে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে।
১৩ জুলাই নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইমনের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এর দুই দিন আগে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। মাসে দেবেন ১০ লাখ। এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।’
গ্রেপ্তারের আগে ২৫ জুলাই মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় ইমনের। সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, না হয় বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’
কে এই ইমন
ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন এলাকায় খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল।