সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে জেলহাজতে থাকা ৬ জন ছাড়া অন্যরা উপস্থিত ছিলেন না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে আসামিপক্ষ এবং রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে অংশ নেন। আদালত পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ২৭ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক। শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবী এমদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম জানান, আরিফুল হক চৌধুরী ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নন বলে তার বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তিনি আরিফুল হকের পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন জেলহাজতে আছেন। তিনজন জামিনে আছেন এবং একজন পলাতক আছেন। আজ অনুষ্ঠিত শুনানিতে জামিনে থাকা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর উপস্থিত ছিলেন না।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে ২০০৪ সালের ২১ জুন একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য শুরু হয়।
অপরদিকে, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আজ সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ১৯ মে নির্ধারণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।
তিনি বলেন, মামলার সাক্ষী না আসায় মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেরুন নেছা পারুলের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে উপস্থিত হননি।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে একটি জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই হামলায় তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত এবং আহত হন অন্তত ৭০ জন।ঘটনার পরদিন হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইউমসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ওই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে মামলা পুনঃতদন্তের পর ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২৬ জনের নামে দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এটি নিয়েও আপত্তি জানায় নিহত কিবরিয়ার পরিবার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৭১ জন সাক্ষী রয়েছেন।
ঝালকাঠির নলছিটিতে ঝুঁকিপূর্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মেরামতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার( ৬ আগষ্ট) সকাল দশটায় নলছিটি ওজোপাডিকো অফিস সম্মুখ সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি ও পৌরসভার কান্ডপাশা,শংকরপাশা,দক্ষিণ গৌড়িপাশা,নান্দিকাঠী এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধনে ওই ইউনিয়নের ৭০ টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, দপদপিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ন লাইনে বারবার দূর্ঘটনা ঘটলেও কতৃপক্ষ লাইন মেরামতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বর্ষায় বিদ্যুৎ এর তার লিকেজ হয়ে বিভিন্ন গাছপালা বিদ্যুতায়িত হয়ে অহরহ দূর্ঘটনা ঘটছে। অনেক জায়গায় খুঁটি না থাকায় গাছের সাথে বিদ্যুৎ এর তার সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।এছাড়াও পৌরসভার কান্ডপাশা,শংকরপাশা,দক্ষিণ গৌড়িপাশা,নান্দিকাঠী,মালিপুর এলাকার ঝুলে থাকা ঝুকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইনও মেরামত এবং খুটি স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।তারা অতি দ্রুত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মেরামতের দাবি জানান।এ বিষয়ে মানববন্ধন করে পরবর্তীতে ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধন শেষে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত মালাকারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে নলছিটি ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার বলেন, বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সাবেক মন্ত্রী ও নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী (এমএ) খাঁনের নামে সিলেট নগরে বিজ্ঞান জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের চণ্ডীপুল চত্বরের নামকরণও এমএ খানের নামে করা হবে। এছাড়া সাবেক এই মন্ত্রীর নামে সিলেটে বেশ কিছু স্থাপনা ও সড়কের নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এম এ খানের মৃত্যু বার্ষিকীতে রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনটি জানান। সাবেক মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খাঁন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমান তাঁর কনিষ্ট মেয়ে। তিনি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।সিলেটের দক্ষিণ সুরমা বাসিন্দা এমএ খানের নামে সিলেটের লামাকাজিতে সেতু রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বরের নাম পাল্টে ‘এমএ খান চত্বর’ নামকরণ করে স্থানীয় কিছু লোক।
বৃহস্পতিবার এম এ খানের মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরো বলেন, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান একজন খ্যাতিমান ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে এতোদিন উপেক্ষিত ছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে সিলেটে ইতিপূর্বে তেমন কিছুই করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এম এ খাঁনের নামে সিলেট নগরে একটি বিজ্ঞান জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের চণ্ডীপুল চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন করে তাঁর নামে নামকরণ হবে। পাশাপাশি, এই গুণী ব্যক্তির স্মৃতি রক্ষায় সিলেটে বেশ কিছু স্থাপনা ও সড়কের নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাহফিলে উপস্থিত সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী পাঠ্যপুস্তকে এম এ খানের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সিলেটের সিলাম এলাকায় এম এ খানের বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সিলেট বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ বরাদ্দ অনুমোদন পেলে আগামী এক বছরের মধ্যে সিলেটের রাস্তাঘাট ও হাটবাজারের দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।
এদিকে,সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বাদ যোহর নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের দেশের প্রতি অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজ হাতে শিরনি বিতরন করেন।
সিলেট প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের দমন-পীড়ন, গুম, হত্যা ও গুলির মুখেও গণতন্ত্রকামী মানুষ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। এম. ইলিয়াস আলীসহ অন্তত ৬৬৬ জন গুমের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী শহীদ ও আহত হয়েছেন। সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই - আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক আরো বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শুধু দুই মাসের কোনো আন্দোলন নয়; এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফসল। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “বীর শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে অপশাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। জাতি তাঁদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন্ নূর বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এ দিন দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থেই মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।”
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. ফয়ছল আলম, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শুয়াইবুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক নূর আহমদ ও ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।
আলোচনা সভায় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন,পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, সহ - সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ,নির্বাহী সদস্য আনাস হাবিব কলিন্স, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, সেলিম আউয়াল, সিন্টু রঞ্জন চন্দ, শেখ আব্দুল মজিদ, একে কাওছার, লবীব আহমদ, মো. তাজুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, লোকমান আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ ও প্রশাসকের পিএস মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক।
দেশব্যপী তীব্র গ্যাস সংকট, অসহনীয় লোডশেডিং,গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট ১১ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুৃপুরে জেলা প্রশাসক রফিকুল হক এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা দ্রুত স্মারকলিপিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর প্রেরণ করব।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে চলমান অর্থনৈতিক ও নাগরিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকট, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে।
১১ দফা দাবিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পেলেও অনেক গ্রাহককে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয়ে সরকার প্রধানকে দ্রুত নজর দিতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়েতে সেক্রেটারী ও সমন্বয়ক, ১১ দলীয় ঐক্য মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারি সেক্রেটারী কফিল উদ্দিন আহাম্মদ, এনসিপির জেলা সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল বিন হায়দার, এনসিপির জেলা যুগ্ন আহ্বায়ক সামসুল আলম। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা ফজলে রাব্বী মোর্তজাবীসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা জাায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্য শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী
জামালপুরের মাদারগঞ্জে কার্যক্রম রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী নামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। রাজনীতি ছেড়ে বাকি জীবন কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক চলতে চান বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (০৬ জুলাই) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ ঘোষণা দেন গোলাম রব্বানী।রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া ওই নেতা পৌর শহরের বালিজুড়ী পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল আলীম মির্জা কাশেম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক।
জানা গেছে, আশির দশক থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন গোলাম রব্বানী। পরে মাদারগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের ৩ বারের সভাপতি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য, সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নেই।
পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবইলে বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে পবিত্র হজ পালনের সময় কাবাঘর ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম রাজনীতি থেকে বিদায় নিব। কারণ, রাজনীতি আমার জন্য না। এতদিন পদত্যাগ না করতে পারলেও আজ করলাম। আমি আওয়ামী লীগের আমলেও অআনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিদায় নিয়েছি।
তিনি বলেন, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে পারিনি। এখন সুযোগ হয়েছে। তাই রাজনীতি থেকে বিদায় নিলাম। বাকি জীবন আমি কোরান সুন্নাহ মোতাবেক চলতে চাই। এ নিয়ে কেউ অহেতুক বিভ্রান্ত হবেন না। আমি যা করেছি, স্বজ্ঞানে করেছি।
প্রসঙ্গত, গোলাম রব্বানীর বর্তমানে বয়স চলছে ৫৮ বছর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর নাশকতা,বিস্ফোরকসহ কয়েকটি মামলা জর্জিত হোন তিনি। আদালতে আত্মসমর্পণ করে টানা সাড়ে ৩ মাস কারাগারভোগ করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
জীবদ্দশায় চল্লিশার আয়োজন করেছেন জামালপুরের ইসলাম উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ (৭০)।
বুধবার (৫ আগস্ট) নিজ বাড়িতে দুই হাজারের অধিক মানুষ নিয়ে চল্লিশার আয়োজন করেন তিনি। সামাদ আলী (৭০) ওই এলাকার মৃত শুকর আলীর ছেলে।
দাওয়াত খেতে আসা একই এলাকার নুরুল ইসলাম (নুর) বলেন, সামাদ সংসার জীবনে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। তার সংসারে রয়েছে ৩ মেয়ে ও ৪ ছেলে। এলাকায় বিত্তশালী কৃষক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা কেউ বিয়ে করে আলাদা আবার কেউবা লেখাপড়া করছেন।
তিনি আরও বলেন, সামাদ চিন্তা করেন নিজের জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়ে দেবেন। এরপর অপেক্ষা পরপারে চলে যাওয়ার। এর মধ্যে মাথায় আসে তিনি মারা গেলে সন্তানরা যদি চল্লিশা না করে। এ জন্য তিনি নিজের চল্লিশা জীবিত অবস্থায় করে যেতে মনস্থির করেন।
নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তাদের সম্মতিতে আয়োজন করেন চল্লিশা। এজন্য তিনি বেশ কয়েক দিন সময় নিয়ে লোকজনকে দাওয়াত দেন। বুধবার দুপুরে বাড়িতে সামিয়ানা টানিয়ে দুই হাজারের অধিক নারী-পুরুষকে খাওয়ান।
দাওয়াত খেতে আসা আব্দুল কদ্দুস বলেন, জীবিত ব্যক্তি নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন সেটি ব্যতিক্রম ঘটনা। তৃপ্তি সহকারে আমরা খেয়েছি।
সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছায় তিনি জীবিত অবস্থায় এ মেজবানির আয়োজন করেন। তাই আমাদেরও সম্মতি ছিল। তবে বাবা না থাকলেও আমরা তার আত্মার শান্তির জন্য এটা করতাম।
মেয়ে সাজেদা বলেন, বাবার একটা সন্দেহ দূর করতেই এ আয়োজনে সবার সম্মতি ছিল। এতে আমাদেরও ভালো লাগছে। তবে আমার ভাইয়েরা সাধ্যমতো অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন।
বৃদ্ধ সামাদ আলী বলেন, আমি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। নামাজ ছাড়া এখন তেমন কোনো কাজকর্ম করি না। সবার সঙ্গে কথা বলে এ আয়োজন করেছি। চল্লিশার জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু, ২০ হাজার টাকার একটি খাসি কিনেছি।