শুক্রবার দুপুরে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ) মসজিদে জুমার নামাজ আদায়, কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আমাদের পর্বত সমান অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। এছাড়া যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি সেগুলো সম্পর্কিতও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছি। আগামী দিনে কাজের মধ্য দিয়েই আমাদের চেষ্টার প্রতিফলন দেখবেন।
গত শুক্রবার দুপুরে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ) মসজিদে জুমার নামাজ আদায়, কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত দেড় দশকে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, অর্থনীতির মধ্যে গতি সঞ্চারের উদ্দীপনা থাকে তা ছিল না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই উদ্দীপনা ছিল অনুপস্থিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতির দেশ নয়, এটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। এখানে প্রতিবছর ২০-২২ লাখ লোক কাজের বয়সে প্রবেশ করে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য যে বিনিয়োগের দরকার তা হয়নি। ১২-১৩ বছর সেই বিনিয়োগ স্থবিরতা ছিল। গত তিন বছর সেই স্থবিরতা প্রকট আকার ধারণ করে, বিনিয়োগ ছিল শূণ্যের কোঠায়।
সিলেটের জন্য বিশেষ কি পরিকল্পনা আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমে মানুষ তাদের নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে পেরেছে। সেই সাথে মন্ত্রিপরিষদে দুজন মন্ত্রী আছি সিলেটের। আমাদের কাধে গুরু দায়িত্ব পড়েছে এটি প্রতি মুহুর্তে অনুভব করি, সে কারণে দায়িত্ব পেয়ে আনন্দ উপভোগের কোন সুযোগ নেই। সিলেটের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা বিশেষ করে মাদক, পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বহু চ্যালেঞ্জ আছে, এগুলো সঠিকভাবে এড্রেস করতে চাই। সিলেটবাসীর জন্য ও দেশের মানুষের জন্য গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা ইতোমধ্যে এলডিসি ডেফারের জন্য চিঠি দিয়েছি। ট্যারিফ স্ট্রাকচার পরিবর্তনের কারনে আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান চাপে আছে। বিগত সময়ে নানা কারনে শিল্পের যথাযথ বিকাশ হয়নি। এসময় বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বন্ধ শিল্প কারখানা দ্রুত চালু হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা শিল্প কারখানা দ্রুতই চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সাথে বসে পরিকল্পনা করবো। কাজের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করবো।
পরে মন্ত্রীদ্বয় হযরত শাহপরান (রহ) ও গাজী বুরহান উদ্দিন (রহ) এর কবর জিয়ারত করেন এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী টুকু
শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে একাধিক পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সে লক্ষ্যেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিড-ডে মিল একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা পরে ডিগ্রি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি কার্যক্রমও চালু করেছে। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে সব পর্যায়েই হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কোনোভাবেই টাঙ্গাইলে মাদক চলতে দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। যে মাদক যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অনেক পরিবার ধান, জমি কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করেও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করে। সেই সন্তান যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিবারের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী মাদক, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে মনোযোগসহকারে লেখাপড়া করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফুর রহমান মতিন, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান মোল্লা বক্তব্য রাখেন।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, মিড-ডে মিল কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশিত খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় হোটেল ব্লু পেয়ার এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল আল ইউসুফ খান টিপু।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম মারুফ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুজিবুর রহমান। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম স্বপন, সাংবাদিক এস এম শাহাদাত, পল্লী চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম দুলাল, জাকির হোসেন জুয়েল সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং পল্লী চিকিৎসকরা।
বক্তারা বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার এবং জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। সম্মেলনে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, পল্লী চিকিৎসকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
নওগাঁর পোরশায় বিষধর সাপের কামড়ে ফৌজিয়া বেগম (৪৬) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ধুলাডাঙ্গা গ্রামের ওসমান আলীর স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে তেঁতুলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ফৌজিয়া বেগম তার শোবার ঘরের মেঝেতে জোহরের নামাজ শেষে জায়নামাজের উপর ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তার ছেলের বউ তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এসময় সেখানে থাকা একটি বিষধর সাপ তাকে ছোবল দেয়। বাড়ির লোকজন সাথে সাথেই তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী
সিলেটের জৈন্তাপুরে জনসভা শেষ করে নগরীতে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বহন কারীতে গাড়িতে হামলা ও ঢিল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দলটির আহবায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে একটি ভিডিও সহ পোস্ট দেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি লিখেন, ‘তারেক রহমান, আমাকে রক্তাক্ত করে আপনি একটি ভয়াবহ ভুল করেছেন। আপনি সন্ত্রাসের পথে গেলেন। জৈন্তাপুর পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে…’ এরপর রাত ১১টা ১১ মিনিটে একই ভিডিওসহ পোস্ট দেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি লিখেন, ‘সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন আহত হন।’দুটি পোস্টেই চলতি গাড়ির ভিতর থেকে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে গাড়ির কাঁচ ভাঙা দেখা যায় এবং গাড়ির অভ্যন্তরে দুইজন ব্যক্তির রক্তাক্ত হাত দেখা যায়। তবে কারো চেহারা দেখা যায়নি।
এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় তাদের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এনসিপির গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ পুলিশ প্রটোকলের মধ্যে তাদের গাড়িগুলো উপজেলার শেষ সীমানায় পার্শ্ববর্তী থানার প্রটোকলে তুলে দিয়ে এসেছি। এ সময় যদি তাদের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটতো, তাহলে তারা অবশ্যই আমাদের অবগত করতেন কিংবা গাড়ি হাসপাতালে নেয়ার জন্য থামাতেন। কিন্তু সেরকম কিছু ঘটেনি।’
এদিকে,সিলেটের জৈন্তাপুরে জনসভা শেষে নগরীতে ফেরার পথে হরিপুর এলাকায় এনসিপির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ২জন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে পুলিশ।
জৈন্তাপুর থেকে নগরীতে ফিরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আজকে আমাদের তিনটি প্রোগ্রাম ছিল। স্টেজ থেকে নেমে গাড়ি কয়েক মিনিট ক্রস করার পর বিকট একটি শব্দ হয়। আমাদের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গিয়েছে, বড় একটি ইট পড়েছে, আমার হাতে ইটের আঘাতের দাগ আছে। মাথায় পড়লে মাথা ফাটতো নিশ্চিত।’ তিনি বলেন, “আজকে ইশরাক উস্কানি দিয়েছেন, রাশেদ খান উস্কানি দিয়েছেন। আমি জীবন নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি, আমি নিরাপদ নয়। তবে আমি দলকে বলে দিয়েছি যে তারেক রহমান আজকে রাজনৈতিক ভাবে একটি মস্তবড় ভুল করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, “শেখ হাসিনা আমাদের রিমাণ্ডে নিয়েছিলো। তাকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়েছি। তারেক রহমান আপনি মস্তবড় ভুল করেছেন, এজন্য আপনাকে কাফফারা দিতে হবে। এমন কাফফারা যা আপনি এক্সপেক্ট করবেন না। আপনি আমাকে পার্সোনাল রক্ত ঝরিয়েছেন। আপনি আমার বয়সে বড়, ছোট ভাইয়ের রক্ত প্রতিশোধ নিবে। আপনার থেকে আমি পার্সোনালি রক্তের প্রতিশোধ নিবো।’
“যার আসনে গিয়েছিলাম, তাকে বলেছিলাম, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সালাউদ্দিন সাহেবকে বলেছিলাম নিরাপত্তার শঙ্কার কথা, তিনি বলেছেন যে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না। ঠিক আছে, মারা যাবো।"
পুলিশের অস্বীকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার পিছনে এএসপির গাড়ি ছিল, সামনে পুলিশের গাড়ি ছিল। পাশে মোটরকেড ছিল। এখনো গাড়ি ভাঙা আছে, ইট আছে, আঘাত আছে। আমরা আশা করবো যে পুলিশ ভাইয়েরা তাদের চরিত্র পরিবর্তন করবে। আমরা এসপিকে জানিয়েছি, পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আদালতে বা কোথাও যাবো না, এটাকে পার্সোনালি নিলাম।’
ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার কাহালুতে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার নাম লুৎফর রহমান। তিনি হলেন ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে লুৎফর রহমান(৫০)। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। অন্য নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ থেকে মাছ বিক্রি শেষে একটি পিকআপ বগুড়ার দিকে ফিরছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা নওগাঁগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এবং কাহালু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক হেলপার পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক ও পিকআপ সরিয়ে নেয় এবং চারজনের মরদহ উদ্ধার করে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দিনাজপুরের বিরলে তরুণ সমাজকে মাদক ও অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে বিরল সরকারী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদক ও মোবাইলভিত্তিক জুয়ার আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই ক্রীড়াচর্চা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের নয়, একটি পরিবার ও সমাজের জন্যও হুমকি হয়ে ওঠে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি তরুণদের মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন।
বিরল ও বোচাগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসারই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা (পিপিএম), জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বখতিয়ার আহমেদ কচি, বিরল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক।
উদ্বোধনী ম্যাচে বিরল উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২-১ গোলে হারায় নীলফামারী অভিনন্দন ফুটবল একাডেমি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে নীলফামারী দলের আল আমিন ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
এছাড়া গোলদাতা খেলোয়াড়দেরও পুরস্কৃত করা হয়।
পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
আয়োজকদের আশা, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের খেলাধুলামুখী করে তুলবে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।