বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচনে জনগনের ভোটে আল্লাহ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় নিলে সকলের জন্য ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কারো দূর্নীতি মেনে নেয়া হবে না। একজন সাধারণ নাগরিক দূর্নীতি করলে লুটপাট করলে যেমন বিচারের আওতায় আনা হবে তেমনি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি দূর্নীতি করলে লুটপাট করলেও বিচারের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ছাত্ররা কোটার দাবীতে আন্দোলনে নামেছিল। এক দিনে আবু সাঈদসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয় এক পর্যায়ে আন্দোলন সরকারের পতন আন্দোলনে রুপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই আন্দোলনে বিরোধীরা ছাত্রীদের নির্যাতন করতেও বাদ দেয়নি। যার ফলে দেশের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয় হাজারো ছাত্র-জনতার লাশ ও রক্ত জাতিকে উপহার দিয়ে ৫আগষ্ট সেই সরকারের পতন হয়।
সরকার পতনের পর আরেক দল রাতারাতি চাঁদাবাজীর সকল দপ্তর নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নেয়। দেশের মানুষ আর আগের মতো সন্ত্রাস চাঁদাবাজী লুটপাট দেখতে চায় না। দেশের মানুষ সন্ত্রাস চাঁদাবাজী লুটপাটে জড়িতদের আগামী ১২ তারিখে লালকার্ড দেখাবে। দেশের মানুষ এখন মুক্ত ভাবে কথা বলতে পারে।
সভা সমাবেশে মা বোনেরা আসছে তাদের মতামত তুলে ধরছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা ১১দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনার আদলে দেশ গঠন করে জাতিকে উপহার দেয়া হবে। রাত দিন যেকোন সময় কোন নারী পথে বের হলে তাকে অসম্মানিত হতে হবে না। কেউ নারীকে অসম্মান করতে চেস্টা করলে তা কঠোর ভাবে দমন করা হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমার বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা বেকারদের সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করতে চাই। যুবকেরা যেন দেশে বিদেশে সব জায়গায় কাজ পায় এমন শিক্ষা দিতে চাই। তারা যেন গর্ব করে বলতে পারে আমিই বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমাদের যুবকেরা সাহসী উদ্যোমী উদ্যোগী, প্রয়োজন শুধু সুশিক্ষা আমরা সেটাই তাদের দিতে চাই। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫বছর পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর এবং ৬৫বছরের উর্দ্ধে সকল মানুষের সুচিকিৎসার দায়িত্ব নিবে সরকার। তিনি বলেন, এসব করতে বেশি টাকা লাগবে না। দেশে দূর্নীতি ব্যাংক লুট না হলেই সব করা যাবে, টাকার কোন সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ চাকুরীজীবী ও সাধারণ মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। সবাই আমরা ভাই ভাই, কেউ আমাদের বিরোধী নয়। এখন পে-স্কেলের জন্য আন্দোলন করতে হয়। এটা আর করতে হবে না। দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে। যার যার উপযুক্ত প্রাপ্য তা সঠিক ভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে।
প্রয়োজনীয় অর্থ সম্মান সুযোগ সুবিধা না দিয়ে আবার আগেই দুর্নীতির অভিযোগ করলেও হবে না। চোর চুরি করলে আগে দেখতে হবে তার মৌলিক চাহিদা পুরুনের ব্যবস্থা আছে কি না। আগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। খাবার না দিয়ে চোরের বিচার করতে বসলে হবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা করা।
তিনি বলেন, কিছু হলেই আমরা বিদেশে চাই চিকিৎসা নিতে। এটা যেন করতে না হয় তাই জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাটোরসহ ৬৪ জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রয়োজন মতো বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান মুসলিম সবাই একই বাগানের একেক টি ফুল। কাউকে আমরা কোন ভাবে বঞ্চিত করতে চাই না। বঞ্চিত করার সুযোগও কাউকে আর দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশে দূর্নীতি লুটপাট না থাকলে এই দেশ রকেটের গতিতে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের বিষয়ে কোন অবহেলা করা হবে না। ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশে ১১দলীয় জোটের জোয়ার শুরু হয়েছে। সত্যের পথে পুরুষের সাথে নারীরা রাস্তায় নেমে আসছে। প্রতিটি সভা সমাবেশে নারীরাও উপস্থিত হয়ে সেই কথাই জানান দিচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন শেষে ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দেশ প্রেমিক ছাত্রজনতার প্রতি আহবান জানান।
নাটোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ সাদেকুর রহমানের সঞ্চালনায় বৃহস্পতিবার বিকেলের ১১দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস এস এম ফরহাদ, নাটোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মোঃ ইউনুস আলী, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান, সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হাকিম ও আতিকুল ইসলাম রাসেল, এনসিপির আহবায়ক আব্দুল মান্নাফ. এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদ হাসান প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান নাটোর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, নাটোর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক মোঃ ইউনুস আলী, নাটোর-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম ও নাটোর-৩ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির জেলা সদস্য সচিব এস এম জার্জিস কাদির বাবুকে পরিচয় করিয়ে তাদের হাতে দলীয় পত্রিক তুলে দেন। এর আগে তিনি, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
কাশিমপুর ভূমি অফিস
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাদের বরখাস্ত করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হঠাৎ পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি ভূমি কর্মকর্তা ও সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিমসহ চারজনকে বরখাস্ত করেন। পরে তিনি সফিপুরে অপর একটি ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান।
ঝালকাঠির নলছিটিতে নাচনমহল বাজারে ভোক্তা অধিকারে অভিযানে ৫ টি দোকানে মোট ১৮০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রোজ সোমবার (৩ আগষ্ট) সকাল ১১ টায় নলছিটির নাচন মহল বাজারে এই জরিমানা করা হয়৷
এসময়ে মা মেডিকেল হল এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ১২০০০ টাকা, বিশ্বাস মেডিকেল হল এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ১০০০, লাইভ বেকারী এর মূল্য তালিকায় না থাকার কারনে ৩০০০, রাকিব ষ্টোর এর মূল্য তালিকা না থাকার কারনে ১০০০, শাহালম ষ্টোর এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ১০০০, মোট ৫ টি দোকানে ১৮০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানা পরিচালনা করেন সাফিয়া সুলতানা সহকারী পরিচালক ভোক্তা অধিকার ঝালকাঠি।
এসময়ে সাফিয়া সুলতানা বলেন নাচন মহল বাজারে কয়েকটি দোকানে মূল্য তালিকা না থাকার কারনে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ৫ টি দোকানে মোট ১৮০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাফিয়া সুলতানা বলেন এই অভিযান আমাদের অব্যাহত থাকবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের গনিপুর এলাকার চান মিয়া বাড়ির চাপরাশিয়া রাস্তার পাশে মাছের প্রজেক্টের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ৩ থেকে ৪ দিন পানিতে থাকায় হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে গেছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করায় সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল চক্রান্ত ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা,মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাভারে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারসহ বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এসআই নিয়ামত উল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে তার ধারাবাহিক তৎপরতায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।অভিযোগ রয়েছে,চিহ্নিত অপরাধী, মাদক কারবারি ও সুবিধাবঞ্চিত স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী সংগঠিত হয়ে এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে এসআই নিয়ামত উল্লাহ বলেন,“আমি সবসময় আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে আসছি।অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্ত শুরু করেছে।তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায় এবং আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি,এমন কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করা হোক।”
এদিকে,এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনায় সাভার মডেল থানার সহকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সচেতন মহলের দাবি,দায়িত্বশীল ও অপরাধ দমনে সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পরিকল্পিতভাবে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না,তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
"খেলা হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ বড়মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করেই একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে জাতীয় নেতৃত্ব খেলাধুলার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেনকে রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর এত দর্শকে ভরা একটি গ্রামীণ মাঠ তিনি প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি বলেন, যারা খেলাধুলা করে তারা তুলনামূলকভাবে ধৈর্যশীল, দেশপ্রেমিক ও সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। বর্তমান সময়ে তরুণদের মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরীর এ উদ্যোগকে তিনি একটি মডেল হিসেবে উল্লেখ করে দিনাজপুর জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম বলেন, মানুষের বিনোদনের পরিসর কমে যাওয়ায় অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে সমাজ থেকে মাদক অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। তিনি উপস্থিত সকলকে মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং বলেন, শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে মাদক নির্মূলে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান এবং বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোচাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আহ্বায়ক মো. মোকসেদ আলী মঙ্গোলিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুমন চৌধুরী, সদস্য সচিব মো. রায়হান রুবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহমুদুর রহমান ফেরদৌস, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হারেসুল ইসলাম, মো. জামাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. উজ্জ্বল, থানা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক, মো. আসাদুল চৌধুরী, যুবদল নেতা মো. ফাহীমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্যা মোছা. রাশেদা খানম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি বলেন, "যে যুবক মাঠে ঘাম ঝরায়, সে কখনো মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে যায় না।"অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে রংপুরের পীরগঞ্জ একাদশের মুখোমুখি হয় চিরিরবন্দরের রানীর বন্দর ফুটবল একাডেমি। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হওয়ায় খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রানীর বন্দর ফুটবল একাডেমি, চিরিরবন্দর। বিজয়ী দলের গোলরক্ষক সাজু ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। মাঠে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বক্তব্য, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং সার্বিক আয়োজন পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয় থেকেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খালগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল (২ আগস্ট) রবিবার উপজেলার সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটসংলগ্ন খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, নেট পাটা এবং পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ দখল অপসারণ করা হয়। ফলে খালগুলোতে যেমন স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে এনে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে পাশাপাশি পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা প্রশাসনের বেশ তৎপরতা দেখা যায়।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বটিয়াঘাটা উপজেলার সকল খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং খালগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি এবং প্রতি রবিবার নতুন দুটি খালে অভিযান শুরু করবো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে সপ্তাহজুড়ে এ সমস্ত অবৈধ দখল ও নেট পাটা উচ্ছেদ করা হবে। আজ এরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটের খালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে” বলে জানান তিনি।
অভিযান পরিচালনাকালের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান, ভূমি অফিসের কানুনগো রিয়াজ উদ্দিন, সার্ভেয়ার মো. মাহতাব হোসেন, নাজির সাইফুল্লাহ, পেশকার প্রসেনজিৎ দাস এবং জলমা ভূমি অফিসের নায়েব মো. কামরুজ্জামান।এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সহ অনেকেই অভিযানে অংশ নেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন যেকোনো অবৈধ স্থাপনা বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।