অন্তরর্দহে নতুন করে আরেক দফা ভাঙলো উত্তরের জেলা নওগাঁর মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপি। এবার গঠন করা হলো নতুন নামে নতুন উপদল। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘‘ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠী”।
এনিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বিএনপিতে। দিনের পর দিন চলেছে প্রার্থীতা পরিবর্তনের দাবিতে নানান কর্মসূচি। ফলে এই আসনে এখন ফুরফুরে মেজাজে পুরোপুরি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াত। তারা বলছেন, এবার তারাই বিজয়ী হবেন এই আসনে। তবে বিএনপির নানা উপদল থেকে যে কেউ একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে পাল্টে যাবে ভোটের হাওয়া এমনটিই ভাবছেন এলাকার সাধারণ ভোটাররা।
এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ত্রিধাবিভক্ত। এর একটি গ্রুপে রয়েছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রবিউল আলম বুলেটের নেতৃত্বে উপজেলা ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বৃহৎ একটি দল, বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুলের নেতৃত্বে বদলগাছী উপজেলা ও উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি দল, আর অপর দলটি হলো বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, ১৯৯১ থেকে পরপর চার বার এই আসন থেকে নির্বাচিত এমপি, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নুর ছেলে গত নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনির নেতৃত্বে মহাদেবপুর উপজেলা ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ছায়া কমিটির নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি এ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নুর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ধানের শীষে সমর্থক গোষ্ঠী। এনিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। গত ৩০ নভেম্বর এরা মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডে ফজলে হুদা বাবুলের পক্ষে বিশাল সমাবেশ করে।
এখানে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে গত ৩ নভেম্বর ফজলে হুদা বাবুলকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়ায়। তাকে মনোনয়ন দেয়ায় ক্ষুব্ধ হন অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ও রবিউল আলম বুলেট। শুরু থেকেই তারা প্রার্থীতা পরিবর্তন করে নিজ নিজ নামে ধানের শীষের মনোনয়ন দাবি করে মশাল মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ করে একের পর এক সমাবেশ করে। সবশেষ বিষয়টি দলের উর্ধে উঠে পরিণত হয় আঞ্চলিকতায়। ফজলে হুদার বাড়ি বদলগাছী উপজেলায়। আর পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ও রবিউল আলম বুলেটের বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলায়। এখানকার ভোটার সংখ্যা বদলগাছীর প্রায় দ্বিগুন। মূলত: মহাদেবপুরের ভোটেই নির্ধারিত হয় জয় পরাজয়। তাই মহাদেবপুরবাসী চান প্রার্থী তাদের এলাকাতেই থাকুক।
প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ২০১৮ এর আগে মহাদেবপুরে ঢোকেন কৃষক দল গঠন করতে। কিন্তু এতে তিনি উপজেলা বিএনপিকে সম্পৃক্ত করেননি। কৃষক দলের সব প্রোগ্রাম করা হতো বিএনপিকে ছাড়াই, বিএনপিকে টেক্কা দিয়ে। ২০১৮ তে এই আসনে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনিকে মনোনয়ন দেয়া হলেও তিনি ধানের শীষের ভোট করেননি। তাই এখন উপজেলা বিএনপিও তাকে সমর্থন করছে না। গত দেড় মাস ধরে তারা প্রার্থীর সাথে প্রচারে নামেননি। এমন পরিস্থিতিতে এই উপজেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে ধানের শীষের প্রচার প্রচারণা। মহাদেবপুরের ভোটাররা তাই এখন বিকল্প খুঁজছেন। এই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর বাড়িও মহাদেবপুর। তাই তাদের সমর্থকের সংখ্যা বাড়ছে। ফুরফুরে মেজাজে প্রচার চালাচ্ছেন তারা। ইতিমধ্যেই ভীমপুর ইউনিয়নে ৫০ বিএনপি নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। মহাদেবপুরের ভোটাররা এখন বলছেন পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান তবে তার পাল্লাই ভারি হবে।
জানতে চাইলে রবিউল আলম বুলেট বলেন, ‘‘বছরের পর বছর জীবন বাজি রেখে বিএনপির সব কর্মসূচি সুচারুরুপে পালন করেছি। গুলি খেয়েছি, জেলে গিয়েছি।” “আর কত পরীক্ষা দিলে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া যাবে” তিনি প্রশ্ন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জনাব তারেক রহমান তাকেই চুড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন।
পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি বলেন, ২০১৮ সালে নওগাঁর ছয়টি আসনে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল এবারও তাদের দেয়া হয়েছে শুধু তাকে ছাড়া। অথচ সেবার তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। তিনিও আশাবাদী যে চুড়ান্ত মনোনয়ন তাকেই দেয়া হবে।
প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলেন, তিনি নিজে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে সভাপতি সম্পাদককে তার পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু তারা আসেননি। যে কেউ মনোনয়ন চাইতেই পারেন। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করছেন। তিনি আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত সকলে তার পক্ষেই প্রচারে নামবেন।
বিতর্কীত ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার নান্নু বলেন, চুড়ান্ত মনোনয়নের আগে অন্য দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা যেহেতু প্রচারে নামছেন না, তাই ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উপজেলা বিএনপি প্রচারে নামলে এর কার্যক্রম বিলুপ্ত করা হবে।
চিপসের প্যাকেটে ‘বোমা’
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি ও বোনের ছেলে ফাহিম।
আহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, সকালে বাসার পাশে বের হন ওই তিনজন। এ সময় নতুন একটি বাজারের ব্যাগ ও কিছু চিপসের প্যাকেট দেখতে পেয়ে তারা সেটি আনতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনই দগ্ধ হয়ে পাশের নদীতে ঝাপ দেন। পরে সেখান থেকে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাকেগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুরে ‘জিনের নির্দেশ’ দাবি করে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টায় মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিমা বেগম (৬৫) উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ওই নারীর মৃত্যু হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দাবি করা হয়, মৃত নারীর ছেলে ও মেয়ের ওপর জিনের আসর হয়েছে। তাদের মাধ্যমে জিনের নির্দেশ এসেছে যে, ওই নারী জীবিত আছেন এবং তাকে কবর থেকে উত্তোলন করতে হবে।
এ দাবির পর শনিবার রাতেই কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। প্রথমে তাকে মেলান্দহে নেওয়া হয়। পরে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারী মৃত বলে নিশ্চিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পুনরায় বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ক্যামেরা বা গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকরা। তবে এই অলৌকিক দাবি ও ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে ২২০ পিস ইয়াবা, ৯ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা সহ এক মাদক কারবারি আটক হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে শহরের শাহ্পাড়ায় অভিযান চালিয়ে মো: রাহেশ (৫৩) নামের ওই মাদক কারবারিকে আটক করে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আটক মাদক কারবারি রাহেশ ঠাকুরগাঁও পৌরসভাধীন শাহ্পাড়া এলাকার মৃত যাদু শেখ এর ছেলে।
সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: হারুন আর রশীদ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো আটক রাহেশ। আজ সকালে গোপন সংবাদে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তার বাসায় অভিযান চালালে ২২০ পিস ইয়াবা, ৯ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা সহ তাকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বহুতল ভবন আর আধুনিক মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষসহ পর্যাপ্ত ল্যাব থাকলেও শিক্ষক সংকটে ভুগছে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে একটি হল জিলা স্কুল ও অন্যটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে এ দু’টি স্কুলেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে আরেক বিষয়ের শিক্ষকের।
এতে ব্যাহত হচ্ছে স্কুল দু’টির শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান। তবে শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ১৯২৭ সালে বরগুনা এম.ই. স্কুল নামে বর্তমানের জিলা স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৩১ সালে মাধ্যমিক, ১৯৩৮ সালে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল এবং সবশেষ ১৯৭০ সালে সরকারি জিলা স্কুল হিসেবে রূপান্তরিত হয়। অপরদিকে জেলায় নারী শিক্ষার জন্য সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যায়ন শেষ করে অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বর্তমানে এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে কর্মরত। তবে বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে স্কুল দুটি। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বাইরের শিক্ষকদের কাছে।
বরগুনা জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে- বরগুনায় ছেলেদের জন্য একমাত্র সরকারি স্কুল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকলেও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দুটি পদই রয়েছে শুন্য। বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত মাত্র ২৫ জন। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষকদের জন্য ৮টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন ২ জন। গণিত শিক্ষকের ৮টি পদের বিপরীতে ৫ জন, ভৌতবিজ্ঞান শিক্ষকের পদ ৬টি পদই শুন্য। সামাজিক বিজ্ঞানে ৪টি পদের বিপরীতে ১ জন, ব্যবসায়ী শিক্ষা পদে ২ জনের বিপরীতে ১ জন শিক্ষক কর্মকর্ত আছেন। এ ছাড়া ইসলাম ধর্ম বিষয়ে ১ জন, শারীরিক শিক্ষায় ১ জন, কৃষি শিক্ষায় ১ জন, চারুকারুতে ২ জন, জীব বিজ্ঞানে ২ জন, ভুগোলে ২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বর্তমানে আইসিটি ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক নেই।
অপরদিকে, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদসহ বাংলা বিষয়ে ৬, ইংরেজিতে ১, গণিতে ১, সামাজিক বিজ্ঞানে ৪, ভৌত বিজ্ঞানে ৩, জীববিজ্ঞানে ৩, ব্যবসায় শিক্ষায় ২, ভূগোল ১, ইসলামি শিক্ষায় ১, চারু ও কারুকলায় ১, শারীরিক শিক্ষায় ১ জনসহ মোট ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এ দুটি স্কুলে ব্যাপক সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের। এতে ক্লাসে পড়া বুঝতে সমস্যা হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্কুল দুটির শিক্ষার্থীদের।
জিলা স্কুলের নমব শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঈশান বলেন- আমাদের স্কুলে ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ২৫ জন শিক্ষক আছেন। এ কারণে একই শিক্ষকদের অনেক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের কঠিন বিষয়গুলোর শিক্ষক নেই। এতে কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী আল হাসনাইন হামী বলেন- আমাদের স্কুলে আইসিটির কোনো দক্ষ শিক্ষক নেই। বাংলার শিক্ষক অথবা ধর্মের শিক্ষক আইসিটির ক্লাস নিচ্ছেন। তাদের থেকে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা লাভ করতে ও তাদের বোঝানোর ধরন সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছি না।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা ইসলাম বলেন- আমাদের একজন শিক্ষক একাধিক বিষয়ে পাঠদান করছেন। এতে আমারা পূর্ণাঙ্গ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ল্যাবটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক না থাকায়। আমরা চাই আমাদের সব বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এ স্কুলে আসুক।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী সাদিকা বলেন- স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি৷ আমাদের বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে পড়তে হয়। কিন্ত স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকলে ক্লাসে বসে আমাদের পড়া বুঝতে কোনো সমস্য হতো না।
শিক্ষক সংকটে এক শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের শিক্ষক মো. আল হাদী দুলাল বলেন- বর্তমানে আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের একাধিক ক্লাস নিতে হয়। আমরা প্রতিদিন সাতটা করে ক্লাস নিই। এই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কারণে আমরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রদের মধ্যে কিছু ঘাটতি থেকে যায়। আমরা শিক্ষকরা পরিশ্রম করি ঠিকই কিন্তু ছাত্রদের কাছ থেকে যে আউটপুট আমরা আশা করি সেটা আসলে কম পাচ্ছি। আর যেহেতু আমাদের সাইন্সের শিক্ষক নেই, সেই ঘাটতি অন্য কোনো শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বর্তমানে আমাদের সাইন্সের রেজাল্ট খুব ভালো হচ্ছে না। আর এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে হয়ে চলে আসছে।
চাকরির গ্রেড সমতায়ন না থাকায় মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকরা থাকছেন না জানিয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রাসেদুজ্জামান বলেন- সারা দেশেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আসলে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলো মেধাবী শিক্ষককদের ধরে রাখতে পারছে না। এর একমাত্র কারণ যথাসময়ে শিক্ষকদের পদ সমতায়ন না করা। আর এ কারণে মেধাবীরা এসেও আবার অন্য বিসিএস চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রমোশনসহ পদ মূল্যায়ন করা হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে আমি মনে করি।
বরগুনা জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন- স্কুলের শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। আমাদের আইসিটি শিক্ষক, কৃষি শিক্ষক ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা শিক্ষক নেই। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষক নেই। অবকাঠামগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছি। সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করানোর চেষ্টা করছি।
বরগুনার ঐতিহ্যবাহী সরকারি এ শিক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষক সংকটের বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার বলেন- স্কুল দুটিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। বিগত ১০ বছর আগে আরও বেশি সংকট ছিল। তবে গত তিন বছরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষক দেওয়ার কথা তা আমরা পাইনি। আর এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষা দেওয়া দরকার তা দিতে পারছি না। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বারবার শূন্য পদের তালিকা চেয়েছে এবং বারবারই দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের চাহিদা পূরণ হয়নি।
গাজীপুরে ন্যাশনাল রিপাবলিকান পার্টি‘র (এনআরপি) উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণে পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ্যাড. মোঃ সোহেল রানার সভাপতিত্বে আজ সোমবার ( ৩ আগস্ট) পার্টি কার্যালয় জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড শহীদ স্মৃতি স্কুল মার্কেটে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ ডা. একেএম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধো মোঃ হারু অর রশিদ, পার্টির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, আবুল কাশেম সেলিম, যুগ্ম মহাসচিব ডা. দিলসাদ শায়ন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ মোস্তফা জামান, ডা. আল-আমিন, রাশিদা আক্তার প্রমুখ।
পার্টির চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ ডা. একেএম ফজলুল হক তার বক্তব্যে শহীদদের স্মরণ করে বলেন ২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শৈ^র শাসক বিতারিত করতে ১৪শ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু ও আহত হয়েছেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। এই সরকারকে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে সহযোগিতা করে যাবো।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে দোয়া পরিচালনা করেন পার্টির সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল শহিদুল ইসলাম।
বরগুনায় চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বিদ্যুৎ বরাদ্দ, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং নিম্নমানের গ্রাহকসেবার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। হাজারো নারী-পুরুষ মিছিলে অংশগ্রহন করেন। বিক্ষোভকারীরা সোয়া ১০ টার দিকে বরগুনা ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) অফিস ঘেরাও করে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরগুনা জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সর্বোচ্চ ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মিলিয়ে দিন-রাত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। উপকূলীয় এই জেলার ওপর এমন বিদ্যুৎ বৈষম্য দ্রুত দূর করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল ৭ দফা দাবী তুলে ধরেন।
দাবীগুলো হচ্ছে- বরগুনায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের টাকায় মিটার কিনেও প্রতিমাসে ডিমান্ড চার্জ দিতে হচ্ছে, ডিমান্ড চার্জ বন্ধ করতে হবে। হঠাৎ করে প্রায় দ্বিগুন ইউনিট চার্জ বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। আগের মতো ইউনিট চার্জ নির্ধারণ, অথবা পূন:বিবেচনা করে ইউনিট চার্জ পূন:নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিমাসে মিটার না দেখে বিল করা যাবেনা, একত্রে বেশী ইউনিটের বিল করে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। মিটারবিহীন অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কোন ধরনের দুর্ব্যবহার করা যাবে না। বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস চালু করতে হবে।
ঘেরাও কর্মসূচি শেষে বরগুনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সচিব, চীফ হুইপ, বরগুনা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বরাবরে ৭ দফা দাবী নিয়ে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বরগুনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে বরগুনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।