নাশকতার পরিকল্পনার সময় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নাশকতার পরিকল্পনার সময় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নাশকতার পরিকল্পনার সময় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নাশকতার পরিকল্পনার সময় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ২:৩৯ এএম

জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণাকে ঘিরে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নাশকতার পরিকল্পনার সময় ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জোড়গাছ বাজার এলাকা থেকে ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিলমারী মডেল থানার অফিসার (ওসি) ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার নেতার নাম মো. রাজু মিয়া (৫৯)। তিনি রমনা মডেল ইউনিয়ন যুবলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি ওই ইউনিয়নের জোরগাছ নতুন বাজার মণ্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশকে ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন ওই নেতা৷ পরে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষয় : যুবলীগ



ব্যবসা মন্দা, আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই

কারখানার ফটকে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৮ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির মধ্যেই এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ব্যবসায়িক মন্দার কথা। বৃহস্পতিবার কারখানার প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিভিন্ন সেকশনের মোট ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আজ শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে এসব শ্রমিকের ছাঁটাই কার্যকর হবে।


নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডে কর্মরত সব শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে বর্তমানে কারখানায় মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতার কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারখানার মোট ৫৬৫ জন শ্রমিককে ৮ আগস্ট  থেকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। 


নোটিশে বলা হয়েছে, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদকাল অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ মেনে তাদের যাবতীয় আইনগত পাওনা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে বা পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই করা এসব শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।  


শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস-সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কারখানাটি কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।


কারখানাটির ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম থাকা সুইং সেকশনের অপারেটর মো. জিয়ারুল হক বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় টানা তিন দিনের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তিনি ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান।


বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন সমকালকে জানান, ব্যবসায়িক মন্দা মালিকপক্ষের একটি বাহানা মাত্র। এভাবে ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই করা অমানবিক। তারা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে ছাঁটাই করা সব শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান।

টাঙ্গাইলের মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!

ডিজিটাল স্ক্রিন ছেড়ে ফসলের মাঠে শিক্ষার্থীরা


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ এএম

বর্তমান প্রজন্মে বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ফলে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ চরম মোবাইল আসক্তিতে পড়েছে।


সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যখন এমন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই এর সম্পূর্ণ বিপরীত ও ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে খুন্তি, কোদাল, কাস্তেসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ফসলি মাঠে নেমে হাতে-কলমে শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের নানা কৌশল।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যতিক্রমী এই জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মহিষমারা গ্রামে। ২০১৩ সালে গ্রামেরই এক আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মহিষমারা গ্রাম। অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং মধুপুরের বিখ্যাত আনারস চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক। অর্থাভাব ও দূরত্বের কারণে স্কুল শেষ করার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের কলেজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারতেন না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতেই কৃষক ছানোয়ার হোসেন এই কলেজটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে উৎপাদনমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই উদ্যোগটি এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। 


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলা সদর থেকেই পাকা সড়ক। অজপাড়াগাঁ পেড়িয়ে সোজা গারো বাজার। যাওয়ার পথে বিল সবুজ ধান ক্ষেতের অবারিত দিগন্ত। যেন চোখ জুড়ানো। গারো বাজারের পাশের বৃহত্তর গ্রামটির নাম মহিষমারা। মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্ণারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন।


কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন তাদের সবজি বীজ বোনার আগে মাটি তৈরি ব্যবস্থাপনা শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশনাতে মাটি তৈরির কাজ করছেন। 


জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। 


তিনি জানান, তার গ্রাম মহিষমারা এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।


আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার বাবার ৯৫ শতাংশ জমি আর তার নিজের ৪০ শতাংশ মিলে ১৩৫ শতাংশের উপর ২০১৩ সালে মহিষমারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।


কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্ণার গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে-কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতেও সবজি বাগান করতে পারেন।


কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কলেজের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কীটনাশকমুক্ত সবজি আবাদ শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছেন। এ কারণে তাদের পিতা-মাতা অনেক খুশি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় হয়ে কৃষি অফিসার হবে।


কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষিতে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কলেজে ক্লাসের বিরতিতে এবং ছুটির পর বিভিন্ন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজে অংশ নেয়। 


মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হানান, কলেজের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতেও মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করার মনোভাব সৃষ্টি তৈরি হচ্ছে।


কলেজের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ফলেই প্রান্তিক পর্যায়ের একটি কলেজ এত অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করলেই যে চাকরি পাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এসব শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাহলে কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ এএম

ছেলের সুন্নাতে খতনাকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একমাত্র ছেলে মো. সাফারাত ওয়াসিত বিন সালাউদ্দিনের খতনা উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারটি মাদরাসা ও এতিমখানার প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একবেলা খাবারের আয়োজন করেছেন তিনি।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার ধুলেরচর, বেবিস্ট্যান্ড, বাজিতপুর এবং ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের চারটি মাদরাসা ও এতিমখানায় এ খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার পরিবেশনের আগে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




এদিন দুপুরে ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইলে এসে ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের জামিয়া আল-হেরা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি তার ছেলের খতনা উপলক্ষে এ আয়োজনের কথা তুলে ধরেন।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে গুলশানের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করে। স্কুল হলেও সেখানে ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এ বছরই সে হেফজ পড়া শুরু করেছে। সম্প্রতি তার খতনা করিয়েছি। ইসলামে খতনা উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান না করার কথা বলা হয়েছে। তাই আজকের দিনে চারটি মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করেছি। আমিও আজ আপনাদের সঙ্গে বসে খাব।’


এ সময় তিনি তার ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের জন্য মুসল্লিদের কাছে দোয়া কামনা করেন।




জুমার নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী টুকু মাদরাসার প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খান। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য গরুর মাংস, ডাল ও দইসহ বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী নিজেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই খাবার গ্রহণ করেন।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য আব্দুল্লাহিল কাফিসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুসল্লিরা।


নিজ সন্তানের খতনা উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকতা ও জাঁকজমক এড়িয়ে এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর খাবার ভাগ করে নেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।



আজাদ হোসেন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩২ পিএম

নোয়াখালীর কবিরহাটে নিখোঁজের একদিন পর আজাদ হোসেন (৩৪) নামে এক যুবদল নেতার মরদেহ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গলায় দড়ি প্যাঁচানো এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের একটি ডোবায় মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।


নিহত আজাদ একই গ্রামের হানিফ মিয়ার বাড়ির মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।


পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে আজাদ হোসেন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।


নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, আজাদের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেন স্বজনরা।


নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, যুবদল নেতা আজাদ ব্যবসা করত। পাশাপাশি যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।


কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তার গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ পিএম

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯ নয়জনের মধ্যে ৫ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।তারা হলেন- সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় (প্রিয়ম) (২২), দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে জায়ফা (৪) ও কিশোরগঞ্জের চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী, কিশোরগঞ্জের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), ব্রাহ্মণবাড়িয়া বগডহর এলাকার মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন(৪৪)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।


রাতে মাজারে গান, সকালে সড়কে গেল প্রাণ


সংশ্নািষ্ট সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৭আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৭ জন মারা যান ও হাসপাতালে আরও ২ জন মারা যান।এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন।


আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ওয়াব (৪৫), মনসুর (৩৪), আতিকুল ইসলাম (৪৮), বাবুল (৪০), মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (৬৫), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল (৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০), রাজু (৫৫)।


সিলেটে এসেছিলেন ঘুরতে ৫ বন্ধুঃ ফেরার পথে দুর্ঘটনায় মারা যান সাইফুল


শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকা থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।এব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিতে পরিবারের লোকজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বরাবর আবেদন করলে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


'বেপরোয়া' এক মোটরসাইকেলের জন্য মুহূর্তে শেষ ৯ প্রাণ



নলছিটিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট"-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শহিদ খান। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ,  মাসুদ রানা শুভ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আই. কে. সজল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সুবিদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সদস্য সরদার মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য আ. আজিজ খান, সুবিদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন খান এবং ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ।


বক্তারা বলেন, "একমাত্র খেলাধুলাই পারে তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে বিরত রাখতে। তরুণদের মেধা, মনন ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।" তাঁরা এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়ামুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, "তরুণদের মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।"


উদ্বোধনী ম্যাচে "এসএসসি ব্যাচ-২০২২" এবং "The Turbo Titans" মুখোমুখি হয়। খেলাটি দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।


টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণকারী দল, অতিথিবৃন্দ, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আয়োজক কমিটি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে।