বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় এই সমাজকে আবার অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমাদের রাজনীতি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন না। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।”
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নওগাঁ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি শুধু বলতে চাই, আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে সক্রিয়তা ও পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি, তা সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গণতন্ত্র ফিরে পাইনি।”
তিনি বলেন, “জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল, আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল, তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতি বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকে এই অবস্থানে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। আমরা কেউ চাই না, আর দেশে কোনো গোলযোগ হোক।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবন, কাজ ও কবিতার বাইরের ব্যাপার ছিল। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সব ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি ‘গীতাঞ্জলি’ লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব মানবতার কবি। আমার প্রায়ই মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না।”
এর আগে মির্জা ফখরুল এখানে রবীন্দ্র কাচারিবাড়ির দেবেন্দ্র মঞ্চে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিশ^কবির জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ এ্যাড. এম রুহুর কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি, নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনের এমপি এনামুল হক, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের এমপি ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা: হরুন অর রশীদ, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু প্রমুখ এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ দিনব্যাপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: হারুন অর রশীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এছাড়া দেবেন্দ্র মঞ্চে জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজ সংস্কৃতি ও স্থানীয় রবীন্দ্র গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনভর ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ। সমগ্র অনুষ্ঠান যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন গোলাম সাকলাইন ও সিঁথি সাহা।
সরকারিভাবে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও স্থানীয়ভাবে আরো কয়েকদিন এ উৎসব চলে। এসময় পতিসর কাচারিবাড়িতে কবিগুরুর ভক্তদের পদচারণায় এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে পতিসরে বসে গ্রামীণ মেলা। আর এ দিনকে ঘিরে স্থানীয়দের বাড়িতে বাড়িতে চলে উৎসবের আমেজ।
উল্লেখ, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নাগর নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠা নিভৃত পল্লী পতিসর কাচারিবাড়ি। কবিগুরু জমিদারীপ্রাপ্ত হয়ে প্রথম পতিসরে আসেন ১৮৯১ সালে ১৫ জানুয়ারিতে। এরপর থেকে কবি ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত নাগর নদ দিয়ে বজরায় চড়ে নিয়মিত এই কুঠিবাড়িতে আসতেন। সবশেষ আগমণ ঘটে ১৯৩৭ সালের ২৭ জুলাইয়ে। এখানে বসেই রচনা করেন অনেক কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ। কবিগুরুর বিখ্যাত কবিতা আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে, তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, দুই বিঘা জমি, বিখ্যাত উপন্যাস গোড়াসহ অসংখ্য বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম এই পতিসরে বসেই রচনা করেছিলেন।#
সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিজ বসতঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
নিহতরা হলেন আহাত হাওলাদার (২২), তার মা মনিরা বেগম (৫৫) এবং নানি রাশিদা বেগম (৮৫)। আহাত স্থানীয় বাসিন্দা আব্দার হাওলাদারের ছেলে। মনিরা বেগম মৃত রশিদ শেখের মেয়ে এবং রাশিদা বেগম মৃত রশিদ শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি অস্বাভাবিকভাবে নিস্তব্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যদের কাউকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের ভেতরে তিনজনের গলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
প্রতিবেশী বুলু বেগম বলেন, “বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো পশু মারা গেছে। পরে সন্দেহ হলে খোঁজ নিয়ে ঘরের ভেতরে মরদেহ দেখতে পাই। তখনই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”
খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায় এলাকায়।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহগুলো গলিত অবস্থায় থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন আর রশিদ বলেন, “একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের তিন সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ফলে ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা জড়িত এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে।
একই পরিবারের তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যুর এ ঘটনা বাগেরহাট জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ। তবে মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং মরদেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।ছবি সংযুক্ত আছে।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৯ হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র্যাব-৭। তাদের পেট থেকে বিশেষ কায়দায় ইয়াবাগুলো বের করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ এর বাসিন্দা মো. শাহ আলম (৪৯) ও মো. রফিউল্লাহ (৩৫)।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাব-৭ চট্টগ্রামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার তৈলারের দ্বীপ সরকারহাট এলাকায় চট্টগ্রামমুখী সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে দুই যাত্রীকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে এক্স-রের মাধ্যমে পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।
পরবর্তীতে কয়েক ধাপে মলত্যাগের মাধ্যমে তাদের পেট থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো মোট ৯০টি পোটলা উদ্ধার করা হয়। এসব পোটলায় থাকা মোট ৯ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৭ লাখ টাকা।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিঃ (কেটিএল) বাস সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করেছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন।
সোমবার (৩ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার দেওপাড়া ফেরীঘাটের কে টি এল কাউন্টার সংলগ্ন কেটিএল সার্ভিসের চেয়ারম্যন সাদ্দাম মোড়লের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম।
উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জুয়েল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদি মোরসালিন, উপজেলা সমাজ সেবা আফরোজা বেগম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ্, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, ফরিদ আহমেদ মৃধা, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, পৌর বিএনপির আহবায়ক সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিআরটিসি বাস কর্তৃপক্ষ জানান, দেওপাড়া ফেরীঘাট হতে ৩০টি বাস প্রতিদিন গুলিস্থান পর্যন্ত চলাচল করবে। কে টি এল বাস সার্ভিসের ভাড়া ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এলাকাবাসীরা জানান, অনেক দিন পর কালীগঞ্জ বাসীর জন্য আরো একটি ভালো কাজ হলো এবং বর্তমান সাংসদ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর ঢাকার সাথে কালীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হয়েছে। পূর্বে কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের বাস চলাচল করলেও বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর আজ দুপুরে কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটে পূর্বের ঐতিহ্য নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কালীগঞ্জের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানার নভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কালীগঞ্জের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান এর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান।
স্বাগত বক্তব্য প্রদানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সফলতা তুলে ধরতেই এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে পার্টনার প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে সকলকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন আকাশ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান, উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান আলী, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক-কৃষাণী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উলিপুরে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়া-বুড়ি ইউনিয়নে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এনামুল হক কারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় সুধী সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী শ্যামলসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বুড়া-বুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব আঠারোপাইকা এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক কারী পাশের হিন্দু গ্রামের শ্যামলের স্ত্রী শ্রীমতী আতুশি রানীকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে এনামুল হককে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তারা অভিযুক্তের বিচার দাবি করলে এনামুল হক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। একই সঙ্গে বিচার বা মামলা করা হলে ভুক্তভোগী নারীকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হক কারীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের একটি রিসোর্টে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ এবং লুণ্ঠিত ছয়টি মোবাইল ফোন ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাজধানীর মিরপুর এলাকার শুক্কুর আলী (৪৮), আব্দুল আহাদ (৩৫), রুবেল হাসান (২৮), রাব্বি হোসেন (৩০), তানভীর আহমেদ (২৪) ও হোসেন আলী (৩৭)। তাদের ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৬৯৪০ নম্বরের একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোরে পূর্বাচল উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের ১০২ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর প্লটে অবস্থিত অরণ্য আবাস রিসোর্টে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে পিকনিকে আসা অতিথিদের ওপর ১৪ থেকে ১৫ সদস্যের একটি ডাকাত দল হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অতিথিদের কাছ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন ও নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয় তারা।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার টহল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিসোর্টটি ঘিরে ফেলে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই শুক্কুর আলী ও আব্দুল আহাদকে আটক করা হয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে রুবেল হাসান ও রাব্বি হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তানভীর আহমেদ ও হোসেন আলীকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের অভিযানে লুণ্ঠিত ছয়টি মোবাইল ফোন, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ছুরি এবং ডাকাতদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অরণ্য আবাস রিসোর্টের মালিক আবির রায়হান বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, "রিসোর্টে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"