পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বসানো হলে তা থেকে তাপ তৈরি হবে। সেই তাপে পানি থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে আর সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পাবনার রূপপুরে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হচ্ছে আজ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে কম খরচে দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ দেবে রূপপুর। দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করবে। এর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ। আজ সেই শক্তি ব্যবহার শুরু হচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছায় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। এরপর আসে আরও কয়েকটি চালান। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুত করে রাখা হয়েছে রূপপুরে।
পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগের শুরুটা ১৯৬১ সালে। রূপপুরে জমি অধিগ্রহণের কয়েক বছর পর প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। স্বাধীন দেশে এ নিয়ে আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক শক্তিকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও রুশ ফেডারেশন সরকারের মধ্যে একটি আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জেনারেল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন, কমিশনিং, পরীক্ষামূলক পরিচালনা, জনবলের প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রূপপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের কাঠামো তৈরি প্রায় শেষের দিকে। প্রথমটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সঞ্চালন লাইনের কাজও শেষ হয়ে গেছে। জ্বালানি প্রবেশ করানোর আগে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ শেষ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনপ্রক্রিয়া এক বছর ধরে চলতে পারে। এ সময়ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। নিতে হবে আন্তর্জাতিক সংস্থার ছাড়পত্র ও দেশের পরমাণু সংস্থার অনুমোদন।
পারমাণবিক জ্বালানি কী
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। প্রথমে ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো জ্বালানি দানা (প্যালেট) বানানো হয়। এগুলোর ব্যাস সাধারণত ৮ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এমন অনেক জ্বালানি দানা প্রায় চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি হয় জ্বালানি রড। আবার নির্দিষ্ট কাঠামোতে অনেকগুলো রড একসঙ্গে যুক্ত করলে তৈরি হয় জ্বালানি বান্ডিল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। রূপপুরে ব্যবহৃত প্রতিটি বান্ডিলে ৩১২টি জ্বালানি রড আছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই জ্বালানি বান্ডিল চুল্লির কেন্দ্রে বসানো হবে। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডিল ব্যবহারের কথা। ২০২৩ সালে অতিরিক্ত একটিসহ মোট ১৬৪টি বান্ডিল দেশে আনা হয়। একবার জ্বালানি বসালে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ব্যবহৃত জ্বালানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকে। তাই তা বিশেষ নিরাপত্তায় রাশিয়ায় নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে প্রতিটি জ্বালানি বান্ডিলের হিসাব থাকবে।
বাণিজ্যিক উৎপাদনে আরও এক বছর
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি দিতে হবে। জ্বালানিবর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, জ্বালানি প্রবেশ করাতে ৩০ দিন সময় প্রয়োজন হবে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে বিশেষ নজরদারিতে এটি করতে হবে। জ্বালানি প্রবেশ করানোর পর শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া। এ সময় পারমাণবিক বিকিরণ ঘটানো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে আরও ৩৪ দিন লাগবে। এরপর ধীরে ধীরে চুল্লিপাত্রের শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ৩, ৫, ১০, ২০, ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এতে আরও ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ করা সম্ভব হবে। এখান থেকে শুরু হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় গ্রিডে শতভাগ বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে।
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে পারমাণবিক শক্তিকে বিবেচনা করছে সরকার। কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে দুই কোটি টন এবং গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ৮০ লাখ টন কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করবে রূপপুর। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্মাণ চলাকালে দিনে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ কাজ করেছেন রূপপুরে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চুক্তি অনুসারে প্রথম তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানির দাম প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে বছরে জ্বালানি খরচ হবে এক হাজার কোটি টাকা। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বছরে কয়লা লাগবে প্রায় এক কোটি টন। আর জ্বালানি তেল লাগবে ১৯ কোটি গ্যালন। এ ছাড়া কয়লা বা জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ বছর। আর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলবে ৬০ বছর পর্যন্ত। প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে, বেড়েছে খরচ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মানেই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। সব নিরাপত্তা পরীক্ষা করেই এটি চালু করতে হবে। নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া পারমাণবিক বর্জ্য হাজার বছর পর্যন্ত তেজস্ক্রিয় থাকে। তাই এটাও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বেশি খরচ নিয়েও প্রশ্ন আছে।
ঠিকাদারের সঙ্গে করা মূল চুক্তি অনুসারে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। আর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ করার কথা ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল প্রকল্পের মেয়াদ।
এখন অতিরিক্ত চুক্তিতে প্রথম ইউনিটের জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময় নির্ধারণ করেছে সরকার। কাজ শেষ করার সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে একটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে গত বছরের ২০ জুন। গত জানুয়ারিতে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। তারা বাড়ায়নি। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ব্যাহত হয়েছে। আর্থিক লেনদেনে জটিলতা, যন্ত্রপাতি দেশে আনা, বিশেষজ্ঞদের আসায় জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ডলার–সংকটে বিল পরিশোধে দেরি মিলিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। এতে কাজ পিছিয়ে গেছে। রূপপুর প্রকল্পের খরচের জন্য বছরে বরাদ্দ করা মোট অর্থের ১০ শতাংশ দিতে হয় বাংলাদেশ সরকারকে। ডলার–সংকটের কারণে এটিও নিয়মিত পরিশোধ করা যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে আরও এক বছর লাগবে। কোনোভাবেই এর চেয়ে বেশি সময় নেওয়া ঠিক হবে না। জ্বালানি প্রবেশ বড় মাইলফলক। তবে মানুষ বিদ্যুৎ পাওয়ার পর পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের মূল অর্জন নিশ্চিত হবে।
শনিবার ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে এমপি বলেন, এমন জঘন্য ও পাশবিক অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধী যেই হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব।
এরপর দুপুর ৩টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রনি বেপারিকে (১৮) গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে ১০-১৫ জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল বাড়ি ঘেরাও করে জানালা ভেঙে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় দুর্বৃত্তরা। কিশোরীকে পাশের গ্রামের এক পুকুরপাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাত ৩টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে নিজ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে মোটরসাইকেলসহ ২ দুর্বৃত্তকে আটক করে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে তাদের। আটককৃতরা হলেন- ওই গ্রামের হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রংপুর শিশু হাসপাতাল
নির্মাণের সাত বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।
আরিফ আহমদ বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়, জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সকল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।
আরিফ আহমদ বলেন, হাসপাতালে আসবাবপত্রের জন্য এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন স্যাম্পল যাচাই বাছাই চলছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারব। প্রধানমন্ত্রী দু’এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে।
এরপর অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত সাত বছর আগে রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির মধ্যে নির্মাণ করা হয় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। এটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার সেই কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং কর্পোরেশন।
ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করা হয়। এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জনবল সংকট-অর্থ বরাদ্দে আটকা রংপুরের শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
নবনির্মিত এই হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এ ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। আছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুইতলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার। নিচে দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভবন।
শিশু হাসপাতালের মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড এবং কেবিন।
হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে দেওয়া যাবে এবং ভোগান্তি কমে আসবে বলে মনে করছেন রংপুরবাসী।
গ্রেপ্তার তিন আসামি হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭) । ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের সদরপুরে গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয়দের হাতে আটক দুজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। শনিবার (০১ আগস্ট) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুরে অভিযানে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭)।
ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, ঘটনার রাতে আমার মায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলাম। সঙ্গে ভাবিও ছিল। বাড়িতে ছিল দুই ভাতিজি আর ভাতিজা। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে ভাতিজিকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে ভাতিজিকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। পরে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক দুজন হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় জুয়া, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা বিরত হয়নি। দীর্ঘদিনের সেই উত্ত্যক্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
আরেক প্রতিবেশী বলেন, অভিযুক্তরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ছাড়াও ওই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে মনির খান, মিঠুন সরদার, ইমন বেপারীসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, শাশুড়ির অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনায় জড়িতরা নিয়মিত মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে।
সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। দুপুরের দিকে রনি বেপারী নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অপরাধীদের শাস্তির আশ্বাস এমপির
মাহমুদা মিতু
জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু। আজ শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, বিএনপি কথায় কথায় আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে- জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। তারা এগুলো বলে অপমান করতে চায়। এগুলো বলে বলে হাদিকে কিন্তু নিউজ ফিড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের নিয়েও আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি বলেন, জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে? ১১ দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল কতক্ষণ বলে? বরং তারা দমায়ে রাখে, যাতে ওরা না বলে। এসব অপমান গায়ে মাখবেন না।
মাহমুদা মিতু বলেন, জুলাইয়ের ব্যবসা করবেন। বিএনপি যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কী? আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, এটা স্নেহ, মায়া, মমতা, এটা দরদ। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখবো।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি এরপর বলেন, যেই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজকে সরকার গঠন করেছেন, তাদের মায়েরা তো আপনাদের কথা বলে না। তারা সংস্কারের কথা বলে, সংবিধান সংস্কারের কথা বলে, পুলিশ কমিশন, গুম কমিশন গঠনের কথা বলে। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই। ভালো রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার লড়াই।
হাজার বেকার তরুণ ভাইয়ের হাতে চাকরি তুলে দেওয়ার লড়াই। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই নারীর সম্মানের লড়াই। আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। এই পরিবর্তনগুলোই আমরা আনতে চাই। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।
মাহমুদা মিতু বলেন, আপনারা একটা লাঠি দিয়ে বারি দেবেন, একটা চোখ অন্ধ করে ফেলবেন; এগুলোর ভয় করি আমরা? আপনাদের মনে হয়, এই ছেঁচড়া গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে, ওই জিয়া সাইবার ফোর্সের গুন্ডাগুলা লেলিয়ে দিয়ে, নোংরা নোংরা ছবি এডিট করে, নোংরা কমেন্ট করে আমাদেরকে দামিয়ে রাখবেন। আমরা এসব পরোয়া করি না।
এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ।
আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব, জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলার আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী প্রমুখ।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। একই সঙ্গে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজও দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে জাফলংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পরে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য রুট পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জাফলংয়ের পাথর কোয়ারি উচ্চ আদালতের আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অনেকটাই জটিলতা নিরসনের পর্যায়ে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সিলেট-জাফলং রেললাইন চালু হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রবাসী কর্মসংস্থানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের এক কোটি মানুষকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে গোয়াইনঘাটে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে স্থানীয় যুবকদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে দালালমুক্ত ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রতিনিধিদল সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আমাদের কারিগরি কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। আমার বিশ্বাস অন্তত পাইলট প্রকল্প হিসেবে হলেও এ বছরের শেষের দিকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার আলো দেখতে পাবো। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প এবং তিস্তার নদী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুড়ি তিস্তা পূর্নখননে বিগত সরকার ১৩০ কোটি টাকা দিয়ে পাঁচটি গ্রুপে কাজটা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমরা ভুক্তভোগী মানুষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে মামলা প্রত্যাহারসহ বুড়িতিস্তার এই সমস্যার সমাধান করব।
এছাড়াও তিস্তা নদী তীরবর্তী ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী এলাকার তীব্র নদী ভাঙন পরিস্থিতি দেখে দ্রুত জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের কমিটমেন্ট একটাই, আমরা চাই না কোনো মানুষের একটি বাড়ি, একটি ঘর বা এক ইঞ্চি জমিও নদীতে বিলীন হয়ে যাক।