ফজলে হুদা বাবুল (ডানে) ও আব্দুস সাত্তার নান্নু (বামে) একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে এবার চরম প্রতিকুল পরিস্থিতি রাজনৈতিক কুটকৌশল আর সাহসীকতার সাথে মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত ভূমিধ্বস বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে দারুণ চমক দেখালেন বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল।
অপর সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিকে ডিঙ্গিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৪৭ হাজার ৪৬৮ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান। জামায়াত ছাড়া অপর ছয় জন প্রার্থীর কেউই জামানত বাজেয়াপ্ত না হবার মত ভোট পাননি।
তার এই বিজয়ে শুরু থেকেই নেপথ্যে মনস্তাত্ত্বিক কারিশমা দেখিয়ে মাঠে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেছে নির্বাচনের সময় গঠন করা কৌশলী সংগঠন মহাদেবপুর ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী। তাই নতুন এমপির সাথে এখন মহাদেবপুরে আলোচনায় রয়েছেন ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী গঠনের কর্ণধার মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীতা ঘোষণা করে গতবছর ৩ নভেম্বর। নওগাঁ-৩ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুলকে। পরদিন সন্ধ্যায় তিনি মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে প্রচার প্রচারণায় সহযোগীতা কামনা করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেটও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ২০১৮ এর নির্বাচনে এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পীকার মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নুর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাই তিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
মহাদেবপুরে জনিকে না পেয়ে তার প্রতিনিধি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নুর সাথেও দেখা করে নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগীতা চান ফজলে হুদা বাবুল। এসময় ফজলে হুদা বাবুল আর আব্দুস সাত্তার নান্নুর একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ঢাকা থেকে ফিরে ৮ নভেম্বর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধন থেকে বয়কট বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট শ্লোগান দেয়া হয়। জনি তার বক্তব্যে মনোনয়ন পরিবর্তন করে তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।
বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নুর নেতৃত্বে, বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম সাগর, হাজী আক্কাস, সেকেন্দার আলী, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্র ও তাদের অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরা আগের দিন জনির পক্ষ ত্যাগ করে ফজলে হুদা বাবুলের পক্ষে যোগ দেন।
এতে জনি মূলত, নেতাশূন্য হয়ে পড়েন। কিন্তু জনির কর্মীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তারা প্রায় প্রতিদিনই মহাদেবপুর সদর, মোল্লাকুড়ি মোড়, নওহাটা মোড়, মাতাজীহাট প্রভৃতি স্থানে কাফনের কাপড় পড়ে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি ১০টি ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে চুড়ান্ত মনোনয়নপত্রে দলের প্রধানের স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র ধানের শীষের প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এই সময়ের মধ্যে মনোনয়ন পরিবর্তন করে রবিউল আলম বুলেটকে মনোনয়ন দেয়া হয় কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৮ নভেম্বর উপজেলা বিএনপি মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করে। এরকম পরিস্থিতিতে ধানের শীষের প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মহাদেবপুর উপজেলা ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী গঠন করা হয়। পরে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যন্ত এর কমিটি বিস্তৃত করা হয়।
পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তবে রবিউল আলম বুলেট মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।
২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দিন থেকেই মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুলের পক্ষে প্রচারণা শুরু করে। তারা ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠীকে নিস্ক্রিয় করার দাবি জানালেও প্রার্থী তা করেননি। কারণ অনেকেরই সন্দেহ ছিল প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারণা চালালেও গোপনে অন্য কারও পক্ষে কাজ করতে পারেন।
এরকম একটি অবিশ্বাস দানা বেঁধে ওঠে। কিন্তু এসবকে তোয়াক্কা না করে ফজলে হুদা বাবুল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকলকে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত কষ্টার্জিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। অল্পদিনেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এক্ষেত্রে ফজলে হুদা বাবুলের বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য হলো তিনি বিবাদমান সব গ্রুপকে কৌশলে ধানের শীষের প্রচারণায় আনতে সক্ষম হন। উপজেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মী শেষদিকে ধানের শীষের প্রচারে অংশ নেন।
বিজয় পরবর্তী সমাবেশে রবিউল আলম বুলেট বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সব ভেদাভেদ ভুলে মনপ্রাণ দিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন এবং ভোট দিয়েছেন জন্যই আমাদের এই বিজয়।
আর আব্দুস সাত্তার নান্নু বলেছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে যা কিছু উচিৎ তিনি করেছেন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর বাফলা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিস।
সোমবার(০৩ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ব্রীজে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জালগুলো ভস্মিভূত ও জরিমানা করা হয়। উদ্ধারকৃত জালের মূল্য আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আব্দুস সালাম(অ:দা:) জানান, ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর বাফলা পশ্চিম পাড়া হতে উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে চেংমারী ব্রীজ এলাকায় জালগুলো ভস্মিভূত করা হয়েছে। একই সাথে জালের মালিক সোলায়মান গণির ৫০ হাজার টাকা ও ইউনুছ আলীর ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।
অর্থদন্ডপ্রাপ্তরা হল রণচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর বাফলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের তাহেরের ছেলে সোলায়মান গণি ও আব্দুল হামিদের ছেলে ইউনুছ আলী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ লক্ষ টাকার চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করে দুই জনের ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধারকৃত জাল ভস্মিভূতও করা হয়। জীব বৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছ রক্ষায় চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা কর্তৃক সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে স্কুল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (৩-আগস্ট) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুখ্য অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (উপমহাব্যবস্থাপক) মোহাম্মদ ইউছুফ খান।
উপস্থিত ছিলেন মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, উপস্থিত ছিলেন বিকেবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন (এজিএম) ও সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুখ্য অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (উপমহাব্যবস্থাপক) মোহাম্মদ ইউছুফ খান বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর। আজ যারা ছোট ছোট সঞ্চয় করছে, তা একদিন দেশের বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।
তরুণ প্রজন্মকে অর্থনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে এই আয়োজনটি প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা জমানো যেকোনো মাটির ব্যাংক বা ঘরে টাকা রাখার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। সন্তানদের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ী হতে শিক্ষকরা ক্লাসে এবং অভিভাবকরা ঘরে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাজেট এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা সন্তানদের দেওয়া জরুরি। তিনি এই চমৎকার ক্যাম্পেইনটি সফলভাবে আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং স্কুল প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিরতন করা হয়।
নওগাঁয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান
নওগাঁয় অবৈধভাবে সুগন্ধি চাল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে দুই চালকল মালিকের জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে শহরের ইয়াদ আলীর মোড় ও জবার মোড়ে অভিযান চালিয়ে বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকের বিরুদ্ধে এই জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় নওগাঁ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিপণন কর্মকর্তা সোহাগ সরকার ও জেলা পুলিশের একটি দল তার সঙ্গে ছিলেন।
রুবেল আহমেদ বলেন, “বাজারে সুগন্ধি ও আতপ চালের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চাল মজুতের সঠিক তথ্য দিতে না পারা এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখায় বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২০ হাজার টাকা ও টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।”
তিনি বলেন, “বাজারে সুগন্ধি চালের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ১৫০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০-২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মিল মালিক ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখতে পারবেন না। কিন্তু এই দুটি মিল কর্তৃপক্ষ তাদের মজুত করা চাল কত দিনের, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ার অজুহাতে মিলগেটে চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
শহীদ মিনহাজ আহমদ ও মিনহাজের মা-বাবা
সিলেটে জুলাই আন্দোলনে নিহত মিনহাজ আহমদ হত্যার বিচার নিয়ে দীর্ঘ সুত্রিতা দেখা দিয়েছে। মিনহাজের বৃদ্ধ পিতা তার পুত্র হত্যার বিচার চান। তিনিসহ মিনহাজের মাতা পুত্রকে হারিয়ে পাগল প্রায়। পুত্র হত্যার বিচার দেখতে চান মিনহাজের মা-বাবা, “আমার ছেলের কোন অপরাধ ছিল না। সে গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে গুলিবিদ্ধ হওয়া আহত লোকজনের উদ্ধার করতে গিয়ে সেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আমরা আমার পুত্র হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই।”-এমন কথাগুলো বলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শহীদ মিনহাজ আহমদের মা সিতাই বেগম।
ছেলে মিনহাজ আহমদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ মিনহাজ আহমদ পেশায় ছিলেন সিএনজিচালিত (অটোরিকশা) মেকানিক। এই ঘটনার ২বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই বলে তারা দাবি করেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উপজেলার পৌর শহরে শত শত ছাত্র-জনতার মিছিলে যখন উত্তাল, ঠিক তখনই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন অসংখ্য মানুষ। আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন সিএনজি (অটোরিকশা) ওয়ার্কশপের মেকানিক মিনহাজ আহমদ। তখন মুহুর্মূহ গুলি ছোড়ার কারণে তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শহীদ মিনহাজ আহমদের বাড়ি উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামে।
এ ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। শুরুও হয়নি বিচারকার্য। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন মিনহাজ আহমদের পরিবার।
সরোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল মালেক
ঝালকাঠির নলছিটিতে দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে দপদপিয়া ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক এবং কুলকাঠি ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নলছিটি উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. রফিকুল ইসলামকে বরগুনার তালতলীতে বদলি করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রশাসনিক তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব মারযুক রহমান রিফাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শোকজপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজভী আহমেদ সবুজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি দায়িত্বে কোনো অবহেলা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে শরীয়তপুরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি সহায়তার অর্থ তুলে দেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন।
এ সময় শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল হক মোল্লা, শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হলেন মোঃ আহম্মেদ রেজা আল মামুন, শরীয়তপুর জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি আলী আজগর কাজী, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. এনামূল হক এনাম, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ), শরীয়তপুর সদর-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত পরিবারগুলো সাময়িকভাবে হলেও উপকৃত হবে।