অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার

  • প্রকাশ : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ এএম

ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর সদর পেরিয়ে এখন গ্রামাঞ্চলের গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে এক নীরব কিন্তু মারাত্মক সংকট অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোন ও সস্তা ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এই অবৈধ কার্যক্রমকে অদৃশ্য স্রোতের মতো প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পৌঁছে দিয়েছে। এর প্রভাবে বাড়ছে আসক্তি, ভেঙে পড়ছে পারিবারিক বন্ধন, আর নিঃস্ব হয়ে পড়ছে অসংখ্য পরিবার।


সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় হাটবাজার, চায়ের দোকান কিংবা পাড়ার আড্ডাস্থলে মোবাইল ফোনে নিমগ্ন তরুণদের একটি বড় অংশ আসলে যুক্ত রয়েছে অনলাইন বেটিং, ক্যাসিনো গেম কিংবা ভার্চুয়াল জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। কয়েক বছর আগেও যেখানে গ্রামীণ জুয়ার পরিধি ছিল সীমিত, সেখানে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির হাত ধরে তা নিয়েছে ভয়াবহ রূপ।


স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেসবুক গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং নানা ধরনের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে মানুষ। শুরুতে অল্প পুঁজি দিয়ে খেলার প্রলোভন দেখানো হলেও, পরে বড় অঙ্কের টাকার লোভে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। লেনদেনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস; কিছু ক্ষেত্রে গোপন অনলাইন ওয়ালেটও ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।


এই সংকটের মানবিক চিত্র আরও স্পষ্ট হয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতায়। উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের এক গৃহবধূ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমার স্বামী আগে খুব ভালো ছিলেন। এখন সারাদিন মোবাইল নিয়ে থাকে। জুয়ার জন্য ঘরের জিনিসপত্র পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছে। সংসারে শান্তি নেই, সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।”


আরেক মা জানান, তার কলেজপড়ুয়া ছেলে জুয়ার আসক্তিতে পড়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ঋণও করেছেন, যা পরিশোধ করতে গিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জুয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও শিশুদের ওপর। সংসারে অশান্তি, আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়ছে।


ভালুকা পৌরসভার স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম বলেন, “ইসলামে জুয়া সম্পূর্ণ হারাম। এটি মানুষের নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয় এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।”


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করা হয়েছে। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ এর অধিকাংশ প্ল্যাটফরম বিদেশভিত্তিক। তবে নিয়মিত দালাল ও এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবুও সচেতনতার অভাবে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। অনলাইন জুয়া নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসঙ্গে এসব নিয়ে কাজ করতে হবে।”


ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন মাসুদ এ প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার আজ আমাদের তরুণ সমাজ ও পারিবারিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণরা খুব সহজেই এই আসক্তির ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”


তিনি আরও বলেন, “একসময় মাদক ছিল সমাজ ধ্বংসের প্রধান কারণ, এখন সেই জায়গায় ভয়ঙ্কর রূপে যুক্ত হয়েছে অনলাইন জুয়া। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। পরিবারে অশান্তি বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, এমনকি সামাজিক অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”


রুহুল আমিন মাসুদ বলেন, “এই সংকট মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাইকে একসঙ্গে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্ম বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”


তিনি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সন্তানদের রক্ষায় এখনই সচেতন হতে হবে। নতুবা অনলাইন জুয়ার এই নীরব মহামারি ভবিষ্যতে সমাজের জন্য আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।”


আইনগত দিক থেকে বাংলাদেশে জুয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রচলিত আইনে জুয়ায় সম্পৃক্ততার জন্য জেল ও জরিমানার বিধান থাকলেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এর প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে যা নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার এবং সামাজিক আন্দোলন সবকিছু একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবে এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।


সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায় এই অদৃশ্য জুয়ার জাল কি সময়মতো ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব? নচেৎ, নীরবে বিস্তারমান এই ডিজিটাল আসক্তি কেবল ব্যক্তিকে নয়, ধীরে ধীরে গ্রামবাংলার সামাজিক ভিত্তিকেই ভেঙে দিতে পারে যার প্রতিক্রিয়া বহন করতে হবে পুরো সমাজকে।

বাদশা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সৌজন্যে ভালুকা সরকারি কলেজে নতুন মাইক্রোবাস হস্তান্তর



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৫ পিএম

ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ দুইজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ডিবি (দক্ষিণ)-এর ওসি মুহাম্মাদ মাহবুবুল হকের নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) বিপুল কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ২৫ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানার রঘুরামপুর ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।


অভিযানকালে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ হাজার টাকা। এ সময় রঞ্জন দাস (৪৮) ও মিঠুন চন্দ্র কর (৩৫) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা উভয়েই রঘুরামপুর ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।


ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত আলামতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।


পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ পিএম

নাটোরের লালপুরে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে দিনে-দুপুরে অটো চার্জার ভ্যান থামিয়ে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ ছিনতাইকারী দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে লালপুর থানা পুলিশ। একই সাথে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামীদের আটক ও ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করা হয়। ​গ্রেফতারকৃতরা হলেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর বটতলা এলাকার মোঃ আলমাছ আলীর ছেলে মোঃ সবুজ আলী (২০) এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ভাদুর বটতলা (বাগানপাড়া) এলাকার মোঃ শরিফুল ইসলামের ছেলে মোঃ সোহাগ আলী (১৯)।


​পুলিশ জানায়, গত ০৪ আগস্ট সকাল ১১ টার দিকে ভুক্তভোগী মোছাঃ জেসমিন নাহার (৪০) ডাচ বাংলা ব্যাংক লালপুর শাখা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ভ্যানিটি ব্যাগে নিয়ে চার্জার ভ্যানযোগে নিজ বাড়ি বৈদ্যনাথপুরে যাচ্ছিলেন। পথে বৈদ্যনাথপুরস্থ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংলগ্ন সাঁকোর পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেলে এসে দুই ছিনতাইকারী তাঁর হাত থেকে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।


​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেসমিন নাহার  ওই দিনই বাদী হয়ে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই  ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ, পরবর্তীতে মেহেরপুর জেলার  বিভিন্ন এলাকার অভিযান পরিচালনা করে দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।


আজ (৬ আগষ্ট) দুপুরে ​লালপুর থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিত্যক্ত একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগাজান চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ওই ব্যক্তিকে বগাজান বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাঁর কথাবার্তা ও চলাফেরা দেখে স্থানীয়দের মনে হয়েছিল, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। এ সময় খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি ওই ব্যক্তির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে তাঁর পরিচয় শনাক্তে সহযোগিতা চান। পোস্টে কেউ তাঁকে চিনে থাকলে বগাজান বাজারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়।


স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে বাজারে অবস্থানকালে ওই ব্যক্তিকে ঘাস টেনে খেতেও দেখা যায়। পরে রাতে তিনি বাজারেই ছিলেন। বগাজান বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী দুলাল বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করার আগে তিনি ওই ব্যক্তিকে একটি রুটি খেতে দিয়েছিলেন।


ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাবিল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি পুকুরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।


তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


এসআই মো. মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। 


বুধবার (৫ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইউএনও রিপামনি দেবীর সভাপতিত্বে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: হুমায়ুন কবির, কৃষি অফিসার মোস্তাক আহমেদ, প্রকৌশলী মো: ফয়সাল, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: রোকনুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: ফজলুল হক, নির্বাচন কর্মকর্তা মো: শাজাহান মানিক, ওসি মো: মতিয়ার রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মাসুদ হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মো: পশিম উদ্দীন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমান জাহেদ, সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আব্দুর রহমান, সহ সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল, অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অত্র উপজেলার আহত পাঁচ জুলাই যোদ্ধা নাঈম উদ্দীন রাব্বু, জুলাই যোদ্ধা মিঠুনের মা হোসনে আরা বেগম, জুলাই যোদ্ধা মাসুদ এর বোন জেসমিন আক্তার, জুলাই যোদ্ধা মুরাদের বাবা মো: লিয়াকত আলী।


দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।

সর্বশেষ সব খবর

আসামি জাকির হোসেন ও শিশু ফাহিমা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

সিলেটের আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।


মামলার বাকী দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস দিয়েছেন আদালত।




আজ বৃহস্পতিবার সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু ওবায়দা এই রায় ঘোষণা করেন।


তবে মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও কালামকে খালাস দেওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণেই ভেঙে পড়েন ফাহিমার স্বজনরা। তাদের দাবি- মরদেহ গুমের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়ায় বিচার পূর্ণতা পায়নি।


শিশু ফাহিমা ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় রায় প্রদান করা হলো। এরআগে, মামলার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়। এতে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার ২ ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।


নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।


চলতি বছরের ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দু’দিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশি চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। মূলত ধর্ষণ চেষ্টা করে শিশুটি অজ্ঞান হওয়ায় গলাটিপে তাকে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তিতে জানায় জাকির।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেটের আদালতে একটি উদাহরণ সৃষ্টি হলো। এমন ঘৃণ্য অপরাধ করে কেউ ছাড় পায় না, আজকের রায় তারই প্রমাণ।


আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে চার বছরের ফাহিমাকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ধরা পড়ার ভয়ে তার গলা টিপে হত্যা করে জাকির। এরপর মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে দুই দিন নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখে। পরে গভীর রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।


এ ঘটনায় ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই বিচার শুরু হয়। মাত্র এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


রায় ঘোষণার আগে ও পরে আদালতে হাজির করার সময় জাকিরকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত মানুষ। এর আগেও একাধিকবার আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হন।


মামলার সাক্ষী আনসার আহমদ বলেন, যারা মরদেহ গুমে সহযোগিতা করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি, তারা খালাস পেয়েছে। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি।


ফাহিমার চাচা আবদুল হক বলেন, সব দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই বিচার অপূর্ণ থেকে যাবে।


ফাহিমার বাবা রাইসুল হক আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।


ফাহিমার বাবা রইসুল হক বলেন, আমার মেয়েকে আর ফিরে পাবো না। জাকিরের ফাঁসি কার্যকর হলে অন্তত মনে হবে, আমার সন্তানের হত্যার বিচার হয়েছে।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুবিনা বেগম বলেন, আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই কষ্ট কোনো দিন শেষ হবে না। আমি শুধু চাই, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সবাই যেন শাস্তি পায়।


বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান জানান, দুই আসামিকে খালাস দেওয়ার রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর খালাসের অংশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫০ পিএম

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।


 বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপকারভোগীদের মধ্যে মোট ২৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুদানের চেক বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির।


 অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না।


এ সময় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, চিকিৎসাবঞ্চিত রোগী এবং অসহায়-দুস্থ গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার লক্ষ্যে এই আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্যানসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তায় অনুদান দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


তিনি আরও বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা পরিষদের দায়িত্ব। শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে এবং অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।


অনুদানপ্রাপ্ত কয়েকজন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তি জানান, এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি। দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। জেলা পরিষদের দেওয়া এই অনুদানের টাকা দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তারা জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।


অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে চেক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনুদান কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর