• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ এএম

বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সুযোগ না থাকা এবং দলটি নিষিদ্ধ থাকায় মাঠে নেই তাদের প্রার্থী ও সাংগঠনিক কার্যক্রম।


এতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরগুনা-১ আসনে তৈরি হয়েছে ভোট দখলের লড়াই। তবে এই লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে মাঠে সক্রিয় বিএনপি ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।


মূল প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের বিপুল ভোটব্যাংক কার দখলে যাবে? বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন।


পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১১ জন। বরগুনা সদর ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন।


আমতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৪৮।


তালতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ২০। তিন উপজেলার এই বিশাল ভোটারদের বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পালটে জল গড়িয়েছে অনেক দূর।


শীর্ষ নেতারা পলাতক, কেউবা রয়েছেন জেলে। মামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের রাজনীতিতে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই৷


তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও ভোটারদের বেশিরভাগই বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।


দলটির অনুপস্থিতিতে এই কর্মী-সমর্থকদের ভোটগুলো কোন দিকে যাবে, সেটিই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


তাদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক এবার একমুখী হবে না। মধ্যপন্থী ভোটের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে। আবার ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে একটি অংশ ইসলামী আন্দোলনের দিকে যেতে পারে।


একই সঙ্গে একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা ভোট কেন্দ্রে গেলে ভোটের হিসেব পালটে যেতে পারে। বিএনপি এই আসনকে নিজেদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছে।


দলটি ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়েছে। বেগম জিয়ার মৃত্যু, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণদায়িত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে।


সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য বলে একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।


বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ‘এনপিবি’-কে বলেন, “রাজনীতির মাঠে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আমি জনগণের পাশে ছিলাম। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি দলকে এই আসনটি উপহার দিতে চাই। বরগুনাকে উন্নয়নে এগিয়ে নিতে চাই।


অন্যায়, অত্যাচার ও লুটপাটের রাজনীতি বরগুনা থেকে চিরতরে নির্মূল করতে চাই। সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্ম আমার প্রতি আস্থা রেখে, ইনশাল্লাহ ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।"


অপরদিকে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা ইসলামী শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কথা বলে ধর্মপ্রাণসহ সকল ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।


স্থানীয়ভাবে চরমোনাই নেতারা আশা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটের একটি বড় অংশ তাদের দিকে যাবে।


এরইমধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট রাজনীতির বাইরে থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে মাঠে রয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় মাহফিলকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা ধারাবাহিকভাবে ভোটার সংযোগ বাড়িয়েছে।


তরুণ ও কওমি ধারা, সনাতন ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রভাব দিন দিন বাড়ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে।


সেক্ষেত্রে চরমোনাই মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন কি আওয়ামীপন্থী ভোটারের একটা অংশ এরই মধ্যে তার পক্ষে মাঠে সক্রিয় হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।


জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ‘এনপিবি’ কে বলেন, "আমরা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আমাদের সঙ্গে কোনো দলের সংঘাত নাই, তাই আওয়ামী লীগের ভোটও আমরা পাবো বলে বিশ্বাস করি।


বিগত দিনে ভোটের স্বাধীনতা থেকে বার বার আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হলে সকল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আমি বিজয়ী হবো।”


বরগুনা-১ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত ভোটব্যাংক দখলের প্রতিযোগিতা।


প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের এই আসনে কারা এগিয়ে থাকবে, তা নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট ব্যবহারের সিদ্ধান্তের ওপর। উপকূলীয় এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বার্তা দিতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।


বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা(ধানের শীষ প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ(হাতপাখা প্রতীক), খিলাফাত মজলিস থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন(ঘড়ি প্রতীক) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মোঃ জামাল হোসাইন (বাই সাইকেল প্রতীক)।


এদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ।


এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন। পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ২৯৮ জন। আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৯০টি।




শনিবার ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ পিএম

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।


শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।


ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে এমপি বলেন, এমন জঘন্য ও পাশবিক অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধী যেই হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব।


এরপর দুপুর ৩টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দেন।


এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রনি বেপারিকে (১৮) গ্রেপ্তার করে।


উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে ১০-১৫ জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল বাড়ি ঘেরাও করে জানালা ভেঙে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় দুর্বৃত্তরা। কিশোরীকে পাশের গ্রামের এক পুকুরপাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাত ৩টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে নিজ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।


এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে মোটরসাইকেলসহ ২ দুর্বৃত্তকে আটক করে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে তাদের। আটককৃতরা হলেন- ওই গ্রামের হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।


সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


রংপুর শিশু হাসপাতাল

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

নির্মাণের সাত বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।


আরিফ আহমদ বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়, জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সকল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।


আরিফ আহমদ বলেন, হাসপাতালে আসবাবপত্রের জন্য এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন স্যাম্পল যাচাই বাছাই চলছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারব। প্রধানমন্ত্রী দু’এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে।


এরপর অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত সাত বছর আগে রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির মধ্যে নির্মাণ করা হয় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। এটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার সেই কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং কর্পোরেশন। 


ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করা হয়। এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জনবল সংকট-অর্থ বরাদ্দে আটকা রংপুরের শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। 


নবনির্মিত এই হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এ ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। আছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুইতলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার। নিচে দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভবন।


শিশু হাসপাতালের মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড এবং কেবিন।


হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে দেওয়া যাবে এবং ভোগান্তি কমে আসবে বলে মনে করছেন রংপুরবাসী।


গ্রেপ্তার তিন আসামি হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭) । ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ পিএম

ফরিদপুরের সদরপুরে গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয়দের হাতে আটক দুজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। শনিবার (০১ আগস্ট) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুরে অভিযানে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭)।


ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, ঘটনার রাতে আমার মায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলাম। সঙ্গে ভাবিও ছিল। বাড়িতে ছিল দুই ভাতিজি আর ভাতিজা। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে ভাতিজিকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।


তিনি আরও বলেন, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে ভাতিজিকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। পরে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক দুজন হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।


ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় জুয়া, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা বিরত হয়নি। দীর্ঘদিনের সেই উত্ত্যক্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।


আরেক প্রতিবেশী বলেন, অভিযুক্তরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ছাড়াও ওই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে মনির খান, মিঠুন সরদার, ইমন বেপারীসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে।


ভুক্তভোগীর মা বলেন, শাশুড়ির অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনায় জড়িতরা নিয়মিত মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে।


সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। দুপুরের দিকে রনি বেপারী নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।


 জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অপরাধীদের শাস্তির আশ্বাস এমপির


মাহমুদা মিতু

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০১ পিএম

জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু। আজ শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। 


ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, বিএনপি কথায় কথায় আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে- জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। তারা এগুলো বলে অপমান করতে চায়। এগুলো বলে বলে হাদিকে কিন্তু নিউজ ফিড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 


তিনি বলেন, জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের নিয়েও আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।


সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি বলেন, জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে? ১১ দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল কতক্ষণ বলে? বরং তারা দমায়ে রাখে, যাতে ওরা না বলে। এসব অপমান গায়ে মাখবেন না। 


মাহমুদা মিতু বলেন, জুলাইয়ের ব্যবসা করবেন। বিএনপি যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কী? আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, এটা স্নেহ, মায়া, মমতা, এটা দরদ। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখবো।


বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি এরপর বলেন, যেই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজকে সরকার গঠন করেছেন, তাদের মায়েরা তো আপনাদের কথা বলে না। তারা সংস্কারের কথা বলে, সংবিধান সংস্কারের কথা বলে, পুলিশ কমিশন, গুম কমিশন গঠনের কথা বলে। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই। ভালো রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার লড়াই। 


হাজার বেকার তরুণ ভাইয়ের হাতে চাকরি তুলে দেওয়ার লড়াই। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই নারীর সম্মানের লড়াই। আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। এই পরিবর্তনগুলোই আমরা আনতে চাই। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।


মাহমুদা মিতু বলেন, আপনারা একটা লাঠি দিয়ে বারি দেবেন, একটা চোখ অন্ধ করে ফেলবেন; এগুলোর ভয় করি আমরা? আপনাদের মনে হয়, এই ছেঁচড়া গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে, ওই জিয়া সাইবার ফোর্সের গুন্ডাগুলা লেলিয়ে দিয়ে, নোংরা নোংরা ছবি এডিট করে, নোংরা কমেন্ট করে আমাদেরকে দামিয়ে রাখবেন। আমরা এসব পরোয়া করি না। 


এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও  শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ। 


আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। 


অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব, জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলার আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী প্রমুখ।


প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ পিএম

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। একই সঙ্গে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজও দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে। 


আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে জাফলংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পরে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য রুট পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।


এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জাফলংয়ের পাথর কোয়ারি উচ্চ আদালতের আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অনেকটাই জটিলতা নিরসনের পর্যায়ে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, সিলেট-জাফলং রেললাইন চালু হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রবাসী কর্মসংস্থানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের এক কোটি মানুষকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে গোয়াইনঘাটে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে স্থানীয় যুবকদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে দালালমুক্ত ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।


পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রতিনিধিদল সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আমাদের কারিগরি কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। আমার বিশ্বাস অন্তত পাইলট প্রকল্প হিসেবে হলেও এ বছরের শেষের দিকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার আলো দেখতে পাবো। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে। 


শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প এবং তিস্তার নদী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 


পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুড়ি তিস্তা পূর্নখননে বিগত সরকার ১৩০ কোটি টাকা দিয়ে পাঁচটি গ্রুপে কাজটা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমরা ভুক্তভোগী মানুষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে মামলা প্রত্যাহারসহ বুড়িতিস্তার এই সমস্যার সমাধান করব। 


এছাড়াও তিস্তা নদী তীরবর্তী ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী এলাকার তীব্র নদী ভাঙন পরিস্থিতি দেখে দ্রুত জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের কমিটমেন্ট একটাই, আমরা চাই না কোনো মানুষের একটি বাড়ি, একটি ঘর বা এক ইঞ্চি জমিও নদীতে বিলীন হয়ে যাক।