ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনার জেরে সাত শিক্ষককে ওএসডির পর সংযুক্ত কলেজে বদলি ঠেকাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। 


এসময় বদলি হওয়া এক শিক্ষক আন্দোলন বন্ধ করতে অশ্রুসিক্ত শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন।


এসময় তারা ক্যাম্পাসে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সমাধান, শিক্ষাকদের বদলি স্থগিতসহ বিভিন ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন।




শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই’, ‘৭ শিক্ষকের অপরাধ কী, জবাব চাই’, ‘শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করুন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের দাবি, কলেজের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না করে শিক্ষকদের বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।


শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। হঠাৎ করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের কোনো কোনো বিভাগে ২-৩ জন শিক্ষক রয়েছে। এদের মধ্যে থেকে হঠাৎ করে বিনা কারণে শিক্ষকদের বদলি করা হলে ওই বিভাগে শিক্ষার মান তলানিতে নেমে যাবে।


তারা আরও বলেন, শুধু মহিলা কলেজ নয়, পুরো কুমিল্লা নগরীতেই জলবদ্ধাতার সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতায় শিক্ষকদের কোনো হাত নেই। তাহলে কেন তাদের বদলি করা হবে। আমরা এই বদলি মানি না। অবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শুধু মহিলা কলেজ নয়, আন্দোলন কুমিল্লাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।


ক্যাম্পাসে আন্দোলনের এক পর্যায়ে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলির আদেশ পাওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে বলেন। 


এসময় তাকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, আমি তোমাদের কাছে মাফ চাই। বদলি আমার চাকরির অংশ। তোমাদের কাছে অনুরোধ।’


এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কর্মসূচির ব্যানারটি হাতে নিয়ে দুমড়ে মুচড়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে কান্না করতে করতে শিক্ষার্থীদের হাত ধরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।


এবিষয়ে কুমিল্লা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজ ইচ্ছায় আন্দোলন করছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।




  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ এএম

দিনাজপুরের বিরলে তরুণ সমাজকে মাদক ও অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।



শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে বিরল সরকারী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদক ও মোবাইলভিত্তিক জুয়ার আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।


তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই ক্রীড়াচর্চা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


বিশেষ অতিথি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের নয়, একটি পরিবার ও সমাজের জন্যও হুমকি হয়ে ওঠে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি তরুণদের মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি।


সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন।


বিরল ও বোচাগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসারই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা (পিপিএম), জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বখতিয়ার আহমেদ কচি, বিরল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক।


উদ্বোধনী ম্যাচে বিরল উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২-১ গোলে হারায় নীলফামারী অভিনন্দন ফুটবল একাডেমি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে নীলফামারী দলের আল আমিন ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।


এছাড়া গোলদাতা খেলোয়াড়দেরও পুরস্কৃত করা হয়।


পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।


আয়োজকদের আশা, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের খেলাধুলামুখী করে তুলবে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগ ও স্ট্যাটাসের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) কলেজে  আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় বক্তব্য দেন গভর্নিং বডির সভাপতি মো. বজলুর রশিদ সিকদার।


লিখিত বক্তব্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলেজে চুরি, চাঁদাবাজি, নিয়মবহির্ভূত অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং আর্থিক অনিয়মের যেসব অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষাকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা এবং অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়।


বক্তারা আরও বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পরিবর্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার শিক্ষা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও তারা মন্তব্য করেন।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘তারেক রহমানের কাছে এত বড় গ্যাংস্টার বাংলাদেশে আছে। কি নাই তার কাছে? জিকে গউসের মত অস্ত্র আছে, আব্বাস সাহেবের মত অস্ত্র আছে, বুলু সাহেবের মত অস্ত্র আছে, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র‌্যাংকিংয়ে কম? কারো কারো কাছে মাদক, কারো কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের সাহেবের ছেলেরা এক জায়গায় বসা, খসরু ভাই আছে। এগুলো র‌্যাংকিং করলে ইতালির যেকোনো মাফিয়াকেও হার মানাবে।’ শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথাগুলো বলেন। 


কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশে যা  করতেছে, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য লজ্জার। তিনি রাজনীতির সংস্কৃতিকে অসংস্কৃত ও সহিংসতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, তার রাজনীতি করা ইচ্ছা নাই। ইতালিতে বড় বড় মাফিয়া গ্যাং থাকে না উনি সেই গ্যাংবাজি করছেন। তাহলে উনি বলে দিক যে, আমি আজকে থেকে গ্যাংবাজি করব, আমি রাজনীতি করব না।  রাজনীতিতে গ্যাংবাজি করার কি দরকার?  


আপনি কি ভয় পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভয় তো পাবোই। এত বড় গ্যাংস্টার বাংলাদেশে আছে। কি নাই তার কাছে? জিকে গউসের মত অস্ত্র আছে, আব্বাস সাহেবের মত অস্ত্র আছে, বুলু সাহেবের মত অস্ত্র আছে, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র্যাংকিংয়ে কম? কারো কারো কাছে মাদক, কারো কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের সাহেবের ছেলেরা এক জায়গায় বসা, খসরু ভাই আছে। এগুলো র্যাংকিং করলে ইতালির যেকোনো মাফিয়াকেও হার মানাবে।’


তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের এই ধরনের মাফিয়াগুলাকে ছেড়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসের রাজত্ব ছেড়ে দিয়েছে। আমার তো ভয় পাওয়া, মানুষও ভয় পাইতেছে, সবাই আমরা ভয় পাইতেছি । আমরা একটা টেরর রাজ্যে আসছি। মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পাটওয়ারী বলেন, ‘মামলায় হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ আনা হলেও সেসবের কোনো সত্যতা নেই। 


তিনি বলেন, আমি যে মামলাগুলো দেখেছি, সেখানে অনেক ইন্টারেস্টিং বিষয় লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে আমরা হামলা করেছি, হয়রানি করেছি, ছিনতাই করেছি। এসব কতটুকু সত্য, সেটা দেশবাসী দেখেছে।


মামলায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে আইফোন ছিনতাই হয়েছে। সেটি কি জি কে গাউসের আইফোন, নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? এসব অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক।’


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন বাদাম এলাকার ভিছারটেকের হাজী কালু মিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার এক শিক্ষক কর্তৃক দুই শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।


গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক হলেন মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ঘোষবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মকবুল হোসনে এবং মাতা রহিমা খাতুন। তিনি টঙ্গীর বাদাম এলাকার মুদাফা হাজী কালু মিয়া মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


এ ঘটনায় নির্যাতিত এক শিশুর পিতা রুবেল আহমেদ দূর্জয়, পিতা আব্দুল হামিদ, মাতা মনোয়ারা বেগম, সাভার উপজেলার ডেন্ডাবর এলাকার বাসিন্দা, টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজ ভোর প্রায় ৪টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার  দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুই শিশুশিক্ষার্থীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শিশু দুটি তাদের পরিবারের সদস্যদের জানালে তা দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাজারো মানুষ মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতের দিকে কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মাদ্রাসা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 


স্থানীয় বিএনপির টঙ্গী পশ্চিম থানা সভাপতি আসাদুজ্জামান (বিপি আসাদ) উপস্থিত থেকে জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ, এসআই শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। 


এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, স্পর্শকাতর এবং সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের। শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। কেউ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার দায়িত্বে থাকলেই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করি। প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চলবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।


ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের সঙ্গে এমন জঘন্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সাহস কেউ না পায়। 


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ পিএম

জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় টঙ্গীর গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। 


মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুরা থেকে এশিয়া পাম্প এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গাজীপুরা এলাকায় এসে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখেন। 


বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের বিরুদ্ধে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এত অভিযোগ থাকার পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন পর্যন্ত কেন মামলা দায়ের করেনি—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। 


তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রমে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।


অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান অভিযোগ করেন, উলামা লীগের নেতা ইসমাইল এবং গাছা থানা আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রহিমসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। 


হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা এবং হয়রানিমূলক মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জনগণ এসব আচরণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে না।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আরমান হোসেন, জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, এনসিপি গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ কাশেম মাস্টার, জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক এবং জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের মুখ্য সংগঠক আকাশ ঘোষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


পুরস্কার বিতরণ করেন এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ পিএম

নওগাঁর পার-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেছেন নওগাঁ সদর আসনের এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে এমপি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এমপি ওই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।


অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম রানা ও ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফতাবুল আলম মিন্টু বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোজাহারুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।