ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ মো.শাহদাত
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মো.শাহদাত (২৩) নামে এক ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতার পরিবারের অভিযোগ যারা গুলি ছোড়ে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শাহাদাত খিলপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন এবং একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
গুলিবিদ্ধ শাহাদাতের বড় ভাই যুবদল নেতা মো.হাবীব অভিযোগ করে বলেন, শাহাদাত ছাত্রদল ও আমি খিলপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। ওই স্ট্যাটাসের জের ধরে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের দুই ভাইকে নানা ভাবে হুমকি ধমকি দেয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মফিজ ভূঞা ও রহিম হাজীর ইন্ধনে কিছু যুবলীগ নেতা শাহাদাতের সাথে বাকবিন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে যুবলীগ নেত জাবেদ, মোরশেদ,মাসুম ও রিয়াদের নেতৃত্বে শাহাদাতকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে শাহাদাত তলপেট ও উরুতে ২৬টি ছররা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
অভিযোগের জানতে অভিযুক্ত মফিজ ভূঞা ও রহীম হাজীর মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, বিকেলে এলাকার কিশোরদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে রাতে অভিভাবকরা দুই পক্ষ হয়ে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, শাহাদাতের পরিবার গুলিতে আহত হওয়ার অভিযোগ করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে গুলি ছোড়ার কোনো আলামত পায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রওনা হন বাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সব তছনছ হয়ে গেছে জাহাঙ্গীরের। দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরের ছোট মেয়ে জাইফার প্রাণ গেছে। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী নুরুন নাহার। ছোট বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ জাহাঙ্গীরের বড় মেয়ে জান্নাতুল ও ছেলে মোহাম্মদ। হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাতুল ও মোহাম্মদ।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় স্বজনরা ভিড় করে আছেন জাহাঙ্গীরের পাশে। অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা জাহাঙ্গীর কোনো কথা বলতে পারছেন না। তার পাশেই রয়েছেন জাহাঙ্গীরের ১৬ বছর বয়সি মেয়ে জান্নাতুল ও ৭ বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জান্নাতুল বলেন, গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে ইউনিক বাসে রওয়ানা দিই সবাই। আমরা ভাই-বোন বসেছিলাম বাসের বাম পাশে। আর ছোট বোন জাইফাকে নিয়ে ডান পাশে বসে ছিলেন বাবা মা। হঠাৎ দেখলাম একটা মোটরসাইকেল বাসের সামনে এদিক-ওদিক যাচ্ছে। বাসের সামনে বারবার চক্কর দিচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করে একটা খুঁটিতে গিয়ে বাস ধাক্কা খেয়েছে এমনটা মনে হয়েছিল। এরপর আর কিছু বলতে পারি না।
জান্নাতুলের প্রতিবেশী সামিয়া বেগম বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডিপুল এলাকায় গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করেন। শুক্রবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হয়। পরে আহতাবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২) এবং ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩)। দুর্ঘটনার পর তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. অপু মিয়া জানান, দুই বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো শেরপুর হাইওয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখছেন নিঝুম খান
‘আজকে থানা আপনাদের (বিএনপির নেতা-কর্মীদের) কথা শোনে না। পুরো সন্দ্বীপ থানা মাদকের সঙ্গে জড়িত হয়ে গেছে। সন্দ্বীপের ১২ জন এসআই সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।’
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় কর্মরত উপপরিদর্শকদের (এসআই) বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বিএনপির একটি সভায় এভাবেই বক্তব্য দিয়েছেন যুবদলের এক নেতা। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই যুবদল নেতার নাম নিঝুম খান। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক। গত বুধবার উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন।
উপজেলা কমপ্লেক্সের কবি আব্দুল হাকিম মিলনায়তনে সভাটি হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের। সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলের নেতা-কর্মীর উদ্দেশে নিঝুম খান বলেন, ‘আজকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি। কিন্তু আমি যদি মাদকের ব্যবসা করি, আমি যদি সন্ত্রাস লালন করি, তাহলে মাদক বন্ধ করব কীভাবে? আজকে আমাদের বিএনপির অনেক ভালো ছেলেপেলে মাদকে জড়িয়ে যাচ্ছে।’
আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোছাইন। নিঝুম খানের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিঝুম খান একজন দায়িত্বশীল ছেলে। হতে পারে সে মাদক নির্মূলে থানার সব এসআইয়ের প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথা বলতে চেয়েছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন হালদার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘সন্দ্বীপ থানায় বর্তমানে এসআই আছে আটজন। ১২ জন এসআই থানায় নেই। এ বিষয়ে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।’
জানতে চাইলে নিঝুম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্দ্বীপ থানায় ১২ জন উপপরিদর্শক হয়তো এ মুহূর্তে কর্মরত নেই। তবে আমি বলতে চেয়েছি, ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ছাড়া সবাই মাদক বিস্তারে জড়িত। পুরো সন্দ্বীপ মাদকের করাল গ্রাসে পর্যুদস্ত। এর বিরুদ্ধে সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে। সন্দ্বীপে থেকে কেন মাদক নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না, বিষয়টি খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।’
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে দুর্গাপুর এম.এ. মতিন দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন, সহকারী শিক্ষক মো. ইব্রাহীম, সহকারী শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রতন চন্দ্র দে এবং শিক্ষার্থী উদয়সহ মোট ২৪ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুপুরে লক্ষীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ চৌমুহনী মোদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় বনাম দুর্গাপুর এম.এ মতিন দাখিল মাদরাসার খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে রেফারিং ও খেলা পরিচালনার অব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ক্রীড়া শিক্ষকের পরিবর্তে গণিতের শিক্ষককে দিয়ে খেলা পরিচালনা করে ক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে লক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে দুর্গাপুর এম.এ মতিন দাখিল মাদরাসার ৪জন শিক্ষক, ১৫জন শিক্ষার্থী ও ১ কর্মচারীসহ দুই পক্ষের ২৪জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে বেগমগঞ্জ লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে খেলা শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মধ্যেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কায়েসুর রহমান বলেন, ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। আমাদের তদন্তে গুরুতর কোনো সংঘর্ষ বা আহতের তথ্য মেলেনি। খেলার মাঠে ছোটখাটো ঘটনা ঘটে
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেম (৬০) কে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াছিন সেন্টু (৪৫)।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূলগলির ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ ও ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিক ঘটনার কারণ কোন কারণ জানাতে পারেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেম রাজনীতির পাশাপাশি চৌমুহনী বাজারের নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিেটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি চৌমুহনী বাজারে জাতীয় হর্কাস মার্কেটের অফিসে বসেন। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি তার সহযোগী সেন্টুসহ অফিস থেকে বের হয়ে যান। একপর্যায়ে তারা দুজন হাঁটতে হাঁটতে হর্কাস মার্কেটের মুলগলির ওবায়দুলের চা দোকানের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কাশেমের হাতে গুলির আঁচড় লেগে সেন্টুর বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হাবীবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
যোগাযোগ করা হলে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) আনম ইমরান খান বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। তা লক্ষ্যভ্রষ্ট লাগল সহযোগীর বুকে।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুর জন্য শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহার দেওয়া হয়
নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সকালে হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন আন্নাবিউল উম্মি। আন্নাবিউল উম্মি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার আজাহার আলীর মেয়ে এবং কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সকালে হঠাৎ প্রসবব্যথা শুরু হলে দ্রুত আন্নাবিউল উম্মিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক সেবা নেওয়ার পর তিনি পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে দুপুরে তিনি পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
আন্নাবিউল উম্মি বলেন, ‘অনেক কষ্ট হচ্ছিল, তবু পরীক্ষা মিস করতে চাইনি। এক বছরের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়, তাই এ অবস্থায়ই পরীক্ষা দিতে এসেছি। সবার কাছে আমার ও আমার নবজাতক সন্তানের জন্য দোয়া চাই।’
সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শাহীদ শাহাব বলেন, ওই দিন সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থীর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তাঁকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুর জন্য শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহারও দেওয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশনে ঢোকার সময় ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতি কম থাকায় বড় ধরনের হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশনের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এ সময় ইঞ্জিনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়েছে। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাইন মেরামত করে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দুর্ঘটনাস্থলে রিলিফ ট্রেন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।